জাতীয়

জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০১ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।


সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়–এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।


এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক—কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে জনভোগান্তি না হয়।


তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে। লাইসেন্সগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার মধ্যে এক সমঝোতা, দুই দলিল বিনিময়

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ও মালায়েশিয়া। এছাড়া, সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করেছে উভয় পক্ষ।   সোমবার (২২ জুন) পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হয়।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান নিজ নিজ দেশের পক্ষে দলিল বিনিময় করেন।   ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে রোববার মালয়েশিয়া পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান সোমবার (২২ জুন) সকালে পরদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।   সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর প্রথমে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন দুই নেতা। পরে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি বিএনপি এমপি - রফিকুলের

ছবি: সংগৃহীত

‘মবক্রেসি’ শব্দ ঘিরে সংসদে তর্ক-বিতর্ক, এক্সপাঞ্জের দাবি নাকচ স্পিকারের

ছবি: সংগৃহীত
কাপ্তাই হ্রদে পানি কমে রাঙামাটির ৪ উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ

কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে চার উপজেলার লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনেও বেড়েছে খরচ ও দুর্ভোগ।   স্থানীয় সূত্র জানায়, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে হ্রদের পানি কমে গিয়ে নৌপথে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল ও নারিয়ারচর রুটে বর্তমানে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।   লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ইঞ্জিনচালিত বোট ও স্পিডবোটে যাতায়াত করছেন। তবে এতে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রা করতে হচ্ছে।   লঞ্চ মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে বাঘাইছড়ি রুটে প্রথম লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়। পরে পর্যায়ক্রমে জুরাছড়ি, বরকল ও নারিয়ারচর রুটেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়।   স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বড় পরিসরে ড্রেজিং না হওয়ায় পলি জমে বিভিন্ন স্থানে নাব্যতা কমে গেছে। ফলে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে একই ধরনের সংকট দেখা দেয়।   লঞ্চ মালিক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, পানির স্বল্পতায় প্রতিবছর কয়েক মাস লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও লঞ্চ মালিকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।   যাত্রীদের অভিযোগ, আগে যেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো যেত, এখন সেখানে দ্বিগুণ সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে নৌযান আটকে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষাও করতে হচ্ছে।   রাঙামাটি রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাটের দায়িত্বশীলরা জানান, বর্তমানে ছয় উপজেলার মধ্যে চারটির সঙ্গে লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে বাকি দুই রুটেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   স্থানীয়দের দাবি, কাপ্তাই হ্রদে দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হলে নাব্যতা ফিরবে এবং সারা বছর নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

অপতৎপরতার আশঙ্কায় কয়েক জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জন সম্ভব: বিইআরসি

ছবি : সংগৃহীত

সারাবছর দেওয়া যাবে আয়কর রিটার্ন, আগে দিলে ৫% ছাড়!

ছবি: পিআইডি
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: প্রাপ্তির খাতায় কী কী যুক্ত হলো?

প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় গিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু তার এই সফরে বাংলাদেশ কী পেল? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পরদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাদের লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল তাদের স্বাগত জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর প্রথমে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন দুই নেতা। পরে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করে দুই দেশ। তবে আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে। বিশেষ করে জনশক্তি রপ্তানি ও মুক্ত বাণির্জ্য চুক্তির বিষয়ে, যদিও স্পষ্ট কোনো সুখবর সেখানে আসেনি। জনশক্তি রপ্তানি তারেক রহমান বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি কর্মী নিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। সেই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধ করা এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও তিনি বৈঠকে তোলেন। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ার কর্মী দরকার। কিন্তু তার চেয়েও জরুরি হল কর্মী এবং তাদের পরিবারের সুরক্ষা। কারণ এই খাতটি নিয়ে অনেক বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মানবিক দিক, শ্রমিকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের শোষণ করা, তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা এবং কেবল নিজেদের স্বার্থে তাদের ব্যবহার করার এই চলমান প্রবণতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন, সশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক করার বিষয়ে দুই দেশই আলোচনায় জোর দিয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অব্যাহত, নিরাপদ এবং পারস্পরিক লাভজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখাকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরি করা হবে। এফটিএ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আনেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এমবিএফটিএ) আলোচনা। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার, এ বিষয়টি তুলে ধরে দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেয়। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা এগিয়ে নিতে দুই পক্ষই বৈঠকে সম্মত হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। এই কাউন্সিল দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াবে এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে। সেজন্য টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো বন্দর ও লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং অন্যান্য উচ্চ-মূল্যের শিল্পকে অগ্রাধিকারের খাত হিসেবে চিহ্নিত করে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়। জ্বালানি সহযোগিতা বৈঠকে বাংলাদেশের তরফে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এলএনজি সরবরাহ ও এলএনজি অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পেট্রোনাস এবং পেট্রোবাংলার মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক রয়েছে, তার সকল সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর দুই পক্ষই জোর দেয়। বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরের মত খনিজ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরসহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানায়। পাশাপাশি দুই দেশের জাতীয় জ্বালানি কোম্পানি এবং বেসরকারি খাতের স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। হালাল শিল্প বৈঠকে হালাল ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার দক্ষতা এবং ব্যাপক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে সহায়তার জন্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয় মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক নথি বিনিময়ের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। মালয়েশিয়ার ইসলামি উন্নয়ন বিভাগ (জাকিম) এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান সহযোগিতা আলো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি হালাল সার্টিফিকেশন, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাদারদের গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রশিক্ষণ, সেইসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা। ডিজিটাল ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ সুবিধা, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, মেধা উন্নয়ন, ব্যবসা ম্যাচিং এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে দুই দেশের সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা হয় বৈঠকে। দুই নেতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতার চালিকাশক্তি হিসেবে ডিজিটাল রূপান্তরের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, ফিনটেক, ডিজিটাল গভর্নেন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হন। ডিজিটাল উন্নয়নে মালয়েশিয়ার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি পার্ক এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে মালয়েশিয়ার বৃহত্তর বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও পরিসেবায় মালয়েশিয়ার দক্ষতা ও জ্ঞান বাংলাদেশের দ্রুত বাড়তে থাকা আইটি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সঙ্গে যুক্ত করতে সম্মত হন দুই প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের তরফে একটি দ্বিপক্ষীয় মেধা সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যার অধীনে উভয় দেশ বিশেষজ্ঞ বিনিময় করতে পারবে। শিক্ষা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনা হয়। দুই নেতা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব এবং যৌথ গবেষণা কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হন এবং দুই দেশের মধ্যে পর্যটন প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে সম্মত হন। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প অংশীদারত্বে কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারিত করতে দুই দেশের যে এমওইউ রয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করার বিষয়ে বৈঠকে প্রতিশ্রতি দিয়েছে দুই পক্ষ। এছাড়া একটি কাঠামোগত প্রতিরক্ষা রোডম্যাপ তৈরি করতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় জয়েন্ট কমিটির সভা ডাকার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়। যৌথ কৌশলগত মহড়া, মোতায়েন-পূর্ব প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এবং দক্ষতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন দুই নেতা। তারা গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, তথ্য আদান-প্রদান, সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ও সব ধরনের সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন। আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা মালয়েশিয়া আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের প্রভাবশালী সদস্য। আর বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আসিয়ানের সদস্য বা ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের আসিয়ান স্বপ্ন পূরণে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। এবার তারেক রহমানও একই পথ অনুসরণ করলেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার স্ট্যাটাস অর্জনের মাধ্যমে আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষার কথা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পুনর্ব্যক্ত করেন। “প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানান এবং আসিয়ান কাঠামোর মধ্যে ঢাকার আকাঙ্ক্ষাকে গঠনমূলকভাবে সমর্থন করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রস্তুতির কথা বলেন।” রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আসিয়ান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার বিষয়েও আলোচনা হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ আসিয়ান, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি), জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামসহ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে রোহিঙ্গা সংকট প্রশ্নে অব্যাহত সমর্থন এবং নীতিগত সহায়তার জন্য মালয়েশিয়ার প্রশংসা করে। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি ন্যায্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ওই অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানান।

মারিয়া রহমান জুন ২২, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

নকশা চূড়ান্ত, অনুকূলে রয়েছে পদ্মা ব্যারেজের পরিবেশগত অবস্থান: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

২০২৮ সালের মধ্যে সব প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা হবে : প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

ছবি : সংগৃহীত

ডিসি সারওয়ারের প্রত্যাহার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, মাজারের ঘটনার সম্পর্ক নেই: প্রতিমন্ত্রী

0 Comments