সারাদেশ

জনস্রোতে ভেসে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা এখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলছেন: জামায়াতের আমির

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের দুটি ভোট। প্রথম ভোটটা হবে গণভোট। গণভোটে “হ্যাঁ” মানে আজাদি, “না” মানে গোলামি। তাহলে ১২ তারিখে ইনশা আল্লাহ সমস্ত মানুষকে নিয়ে আমরা “হ্যাঁ” ভোটের পাল্লা তুলব। কেউ কেউ প্রথম দিকে রাজি হন নাই, “না” ভোটের পক্ষে তাঁরা শুরু করে দিয়েছিলেন অভিযান। পরে দেখেছেন জনস্রোতে ভেসে যাবেন, খবরেও থাকবেন না। তাঁরা এখন “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। অভিনন্দন, মোবারকবাদ।’

আজ বুধবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলা জামায়াত যৌথভাবে এ জনসভার আয়োজন করে। পরে লালমনিরহাটের তিনটি ও নীলফামারীর চারটি আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতের আমির।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দ্বিতীয় ভোটটা দেশ গড়ার ভোট। আগামীতে সরকার চালাবে কারা? যারা অতীতে ভালো মানুষ প্রমাণিত হয়েছে, তারা। যারা অতীতে নিজেকে ভালো মানুষ প্রমাণ করতে পারে নাই, তাদের নতুন করে আর দেখার কিছু নেই। আপনি দুর্নীতি করবেন আবার রাজনীতিও করবেন, এই দুইটা তো হয় না। রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা। ভালো নীতি নিয়ে আপনি রাজনীতি করবেন, দুর্নীতির সাথে রাজনীতির কী সম্পর্ক? দুর্নীতি যারা করে তারা তো ডাকাত, তারা তো চোর, তারা তো লুণ্ঠনকারী।’

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘অন্যান্য ধর্মের যে সমস্ত ভাইবোনেরা আছেন, আমরা ইনশা আল্লাহ বুকের চাদর দিয়ে তাঁদের আগলে রাখব। ইনশা আল্লাহ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশের বাগান সাজাব। আর কোনো বৈষম্য এখানে বরদাশত করা হবে না। ন্যায়বিচার কায়েম হবে ইনশা আল্লাহ। সেই ন্যায়বিচার কায়েম করতে গিয়ে বিচার বিভাগ দেখবে না কে সাধারণ মানুষ, আর কে দেশের প্রেসিডেন্ট। সাধারণ মানুষের যে অপরাধ করলে শাস্তি হবে, দেশের প্রেসিডেন্ট অপরাধ করলে একই পন্থায় তার বিচার হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত হবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যাঁরা আছেন, আমি জানি তাঁদের অনেকে যে বেতন দেওয়া হয়, যে সুবিধা দেওয়া হয়, চলার জন্য এটা মোটেই যথেষ্ট না। রাষ্ট্রই বাধ্য করছে তাঁদের দুর্নীতি করার জন্য। যে রাষ্ট্র তার কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি সম্মান দেখাতে পারে না, সেই রাষ্ট্র তার কর্মকর্তা-কর্মচারী অপরাধ করলে কোনো বিচারেরও অধিকার রাখে না। আগে তাঁকে সম্মানটা দিতে হবে, সম্মানজনকভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিতে হবে, তারপরে যদি অপরাধ করে, অবশ্যই তাকে সেভাবে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এর আগে নয়। এ জন্য আমরা সবাইকে বলি, এটা আমার দেশ, এটা আপনারও দেশ। সবাই মিলে আমরা গড়ব ইনশা আল্লাহ আগামীর নতুন বাংলাদেশ।’

নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘কিছু ভাই ভুল করে হোক অথবা মাথা গরম করে হোক, আমাদের মায়ের গায়ে হাত দেয়। আমরা ওদের পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, প্রয়োজনে জীবন দেব; কিন্তু মায়ের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেব না। এ দেশের ৯ কোটি নারী আমাদের মা। এই মায়েদের আমরা শ্রদ্ধার আসনে বসাতে চাই। তারা শিক্ষা নেবে, তারা দেশ গড়ায় অংশ নেবে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে। ইনশা আল্লাহ ঘরে, রাস্তায় এবং কর্মস্থলে তারা নিরাপদ থাকবে। তারা কাজ করবে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে। আমরা নারী জাতির জন্য সেটা নিশ্চিত করব ইনশা আল্লাহ।’

তিস্তা সমস্যা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা তো এ অঞ্চলের মানুষের অহংকার হওয়ার কথা ছিল। এখন তিস্তার নাম একসাগর দুঃখ। আমরা কথা দিচ্ছি, এই তিস্তাকে ইনশা আল্লাহ আমরা জীবন দেব। এই তিস্তার পথঘাট আর মরুময় থাকবে না। এই তিস্তা হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। এখান থেকে হাইড্রো পাওয়ার হবে। এখানকার পানি সারা উত্তরবঙ্গকে উর্বর করে তুলবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কোস্টগার্ডের বিশেষ অভিযান: আড়াই লাখ পিস ইয়াবাসহ বোট জব্দ

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বহিঃনোঙ্গরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত একটি বোটও জব্দ করা হয়েছে। জব্দ ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা।     সোমবার (১০ আগস্ট) কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।     কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার (৯ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে পতেঙ্গা বহিঃনোঙ্গরে ‘অপারেশন সমুদ্র প্রহরা’ পরিচালনা করে কোস্টগার্ড জাহাজ কুতুবদিয়া ও আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা।     অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন বোট পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কোস্টগার্ডের সদস্যরা ধাওয়া করে সেটি আটক করেন। পরে বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত বোটটি জব্দ এবং এর সঙ্গে জড়িত দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।       লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সদস্য। চক্রটি মিয়ানমার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে সমুদ্রপথে চট্টগ্রামে পাচার করছিল। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে চক্রটির গতিবিধি শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে ইয়াবার বড় এই চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে।     তিনি আরও বলেন, জব্দ ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। এ ছাড়া ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত বোটটিও জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা ইয়াবা, বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।     মাদকের বিস্তার রোধ ও সমুদ্রপথে মাদক পাচার বন্ধে কোস্টগার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সাব্বির আলম সুজন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গলায় দা ঠেকিয়ে এমপির বাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ, আদালতে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

সন্ধ্যার আগেই শেষ করতে হবে কোচিং, সূর্যাস্তের পর শিক্ষার্থীদের আড্ডা নিষেধ

রাজধানীর হাজারীবাগে থানা সংলগ্ন টি জে কর্পোরেশনের একটি ডাইং কারখানায় অভিযান চালিয়ে দুটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত

হাজারীবাগে কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে সিসিআরএসবিডির সেমিনার

বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে শুধু একটি প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে দেখলে হবে না। ইতিহাস, জাতিগত বৈচিত্র্য, সীমান্ত, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূরাজনীতির নানা বিষয় এ অঞ্চলকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় পরিণত করেছে।     প্রতিবেশী দেশগুলোর কৌশলগত স্বার্থ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতিও এর সঙ্গে যুক্ত। রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম : ইতিহাস, পরিচয় রাজনীতি, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অবস্থান ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিয়নাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী চৌধুরী।     প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ। মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্নভাবে বোঝার সুযোগ নেই। মিয়ানমারের রাখাইন সংকট, রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি, চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ড—সবকিছু মিলিয়ে এ অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্তঃগোষ্ঠী সংঘাত, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, সীমান্তপাড়ের যোগাযোগ, মাদক ও মানবপাচারের মতো নানা সমস্যা রয়েছে।   এর সঙ্গে তথ্যযুদ্ধ, বিদেশি প্রভাব ও করিডর রাজনীতির মতো বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) স. ম. মাহবুব-উল-আলম, খাগড়াছড়ির কমিউনিটি লিডার কুমার সুই চিং প্রু সাইন, সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা বিশেষজ্ঞ নাজমুল ইসলাম চৌধুরী।     বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, পরিচয় রাজনীতি, সাংবিধানিক অবস্থান ও বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে অঞ্চলটির নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় নীতি ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযান: ৫৫ লাখ টাকার পণ্য আটক

ছবি: সংগৃহীত

৯ দফা দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজত

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় রক্ষা পেল হাসপাতাল-ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরুলি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া (২০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।    তিনি চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার মুড়ইছড়া বস্তি এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে।   রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।   বিজিবির এই কর্মকর্তা জানান, রবিবার ভোর ৪টার দিকে কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে ভারতের মাগুরুলি এলাকায় একদল চোরাকারবারি যাওয়ার সময় বিএসএফ গুলি চালায়। এতে তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।   তিনি আরও জানান, নিহত তারা মিয়ার বিরুদ্ধে চোরাকারবারের একটি মামলাও রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রোববার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

ছবি: সংগৃহীত

দেশলাইয়ের কাঠি বাঁচানোর শহরে এবার এলএনজির অপেক্ষা

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের অনুষ্ঠানে উপস্থাপক আবু ওবাইদাহ অরিন। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের উপস্থাপক অরিনকে ঘিরে সাতক্ষীরায় তুমুল আলোচনা

0 Comments