আন্তর্জাতিক

জনসমক্ষে অনুপস্থিত খামেনিকে ঘিরে বাড়ছে রহস্য

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রহস্যময় প্রকাশ্য অনুপস্থিতি তেহরানের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে তার অনুপস্থিতি এবং শান্তি আলোচনা নিয়ে নীরবতা খোদ ইরানের শাসক মহলেই অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে এক বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার স্ত্রী, সন্তান ও বাবা সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। এরপর থেকে মোজতবার পক্ষ থেকে কেবল কিছু লিখিত বার্তা এবং ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের দাবি, সেসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি অথবা পরিবর্তন করা।

 

মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতিতে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ফাটল দেখা দিচ্ছে। যুদ্ধের সময় তারা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তারা এখন দ্বিধাবিভক্ত। ইয়েল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ আরশ আজিজি বলেন, খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতি তার কট্টরপন্থি সমর্থকদের বিচলিত করছে। তারা এই শান্তি আলোচনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষ করে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মতো মধ্যপন্থি নেতাদের ওপর তারা ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনেক বেশি নতি স্বীকার করছেন।

 

কট্টরপন্থি অনেক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির কাছে অন্তত একটি অডিও বার্তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তিনি এই আলোচনার প্রতি নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেন।

 

ইরানের ইতিহাসে জাতীয় নিরাপত্তার মতো বড় সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। মোজতবার দুই পূর্বসূরি প্রায়ই জনসমক্ষে এসে বিভিন্ন পক্ষের বিবাদ মেটাতেন। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধ থামানোর সময় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যাকে তিনি ‘বিষের পেয়ালা’ পানের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। মোজতবার বাবা আলী খামেনিও ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আগে জনসমক্ষে আলোচনার সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন।

 

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে মোজতবার নতুন কোনও ছবি প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি তার এক্স অ্যাকাউন্টের ছবি বা তেহরানের রাজপথের বিশাল বিলবোর্ডগুলোও এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। তার কোনও কণ্ঠস্বর না পাওয়ায় অনেক ইরানি নাগরিক প্রশ্ন তুলছেন, তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না।

 

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থেই মোজতবা খামেনি নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। ইসরায়েলের ‘হিট লিস্টে’ তার নাম শীর্ষে থাকায় সুরক্ষার খাতিরে এই গোপনীয়তা। তবে গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রথমবার দাবি করেন, তিনি খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার একটি বৈঠক করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা যে মৃত নন, বরং নিরাপত্তার কারণে লুকিয়ে আছেন; সমর্থক ও বিরোধীদের তা বোঝাতেই পেজেশকিয়ান এই বার্তা দিয়েছেন।

 

এদিকে শুক্রবার রাতে খামেনির আঘাতের বিবরণ দিয়ে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবার পিঠ ও হাঁটু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। মোজতবার কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাজাহের হোসেনি বলেন, ‘শত্রুরা নানা অজুহাতে তার অডিও বা ভিডিও রেকর্ড পাওয়ার চেষ্টা করছে যাতে সেটির অপব্যবহার করা যায়। উপযুক্ত সময়ে তিনি নিজেই আপনাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

 

তবে এসব সরকারি বিবৃতিতে ধোঁয়াশা কাটছে না। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে কী আলোচনা হয়েছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তাদের সাক্ষাতের ধরণ, আর কবে কোথায় এই বৈঠক হয়েছে সে সম্পর্কেও কিছু জানানো হয়নি।

 

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জাপানে রেকর্ড সংখ্যক সেলুন দেউলিয়া

জাপানের এক সময়ের স্থিতিশীল হেয়ার সেলুন শিল্প বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক ২৩৫টি সেলুন দেউলিয়া হওয়ার আবেদন জানিয়েছে।    এর আগে ২০২৪ সালে ২১৫ জন হেয়ার স্টাইলিস্টের দেউলিয়া হওয়ার যে রেকর্ড ছিল, এটি তাকেও ছাড়িয়ে গেছে।    ব্যবসায়িক এই ধসের প্রভাব পড়েছে সেলুনগুলোর গড় আয়ুষ্কালের ওপর। ২০২৪ সালে একটি সেলুনের গড় আয়ু যেখানে ছিল ১৪.১ বছর, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ বছরে। বর্তমানে সচল থাকা সেলুনগুলোর মধ্যে প্রায় ৪৯ শতাংশেরই বয়স ১০ বছরের কম।  আশ্চর্যের বিষয় হলো, বর্তমান পরিস্থিতি কোভিড-১৯ মহামারিকালীন সময়ের চেয়েও ভয়াবহ।    মহামারির সময় সরকারি ভর্তুকি এবং সুদমুক্ত ঋণের কারণে এই খাতটি টিকে ছিল, যার ফলে ২০২১ সালে দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা সর্বনিম্ন ৬৮-তে নেমে এসেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার মিল পাওয়া গেলেও অবশ্য এবারের কারণগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন।    ২০০৮ সালের মন্দার সময় মানুষ খরচ কমাতে শুরু করলে ‘কিউবি হাউস’-এর মতো ডিসকাউন্ট হেয়ার কাটিং ব্র্যান্ডগুলো বাজারে আসে। এতে উচ্চমূল্যের প্রতিষ্ঠিত সেলুনগুলো চাপে পড়ে যায় এবং দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়।    বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষ আবারও সস্তা বিকল্প খুঁজছে। তবে সেলুন মালিকদের জন্য এবারের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে চুলের প্রসাধনী—সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা মূল্য কমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।    আর্থিক সংকটের পাশাপাশি যোগ হয়েছে তীব্র কর্মী সংকট। দক্ষ স্টাইলিস্টরা এখন ছোট বা মাঝারি সেলুনের চেয়ে বড় চেইন শপ বা নামিদামি ব্র্যান্ডগুলোতে কাজ করতে বেশি আগ্রহী। ছোট সেলুনগুলো সাধারণত বিউটি স্কুল থেকে সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেয়, কিন্তু তাদের বেশিরভাগই নিজেদের নতুন সেলুন খোলার স্বপ্ন নিয়ে দ্রুত কাজ ছেড়ে দেয়।    বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই সংকটের মূল কারণ হলো বাজারের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সেলুনের উপস্থিতি। ফলে এই প্রতিযোগিতার ভিড়ে টিকে থাকা সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।    সূত্র: জাপান টুডে 

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

জনসমক্ষে অনুপস্থিত খামেনিকে ঘিরে বাড়ছে রহস্য

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ ইস্যুতে দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

‘জনি জনি ইয়েস পাপা’ শিশুদের ভুল বার্তা দেয়, দাবি উত্তর প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ইউরেনিয়ামের কাছে গেলেই উড়িয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্প

ইরানের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কাছাকাছি কেউ যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ‘উড়িয়ে’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কাছে যদি কেউ যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা সঙ্গে সঙ্গেই জেনে যাবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনী তাদের ‘উড়িয়ে দেবে’।   সাংবাদিক শেরিল অ্যাটকিসন গত কয়েক বছরে তার অনুষ্ঠানের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। আজকের এই সাক্ষাৎকারে ইরানের পারমাণবিক উপকরণের ওপর কড়া নজরদারি এবং সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্প তার প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনরায় ব্যক্ত করলেন।   সূত্র: সিনহুয়া

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ইস্যুর টানাপড়েন পেরিয়ে তুরস্কের দিকে ঝুঁকছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানলে হরমুজে ‘সমস্যা’ হবে: ইরানের হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই একাধিক ঘোষণা থালাপতি বিজয়ের

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিল ইরান: ‘সংযমের সময় শেষ’

ইরানের পার্লামেন্টের বৈদেশিক নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, এতদিন যে ধৈর্য ও সংযম তেহরান দেখিয়েছে, তা আর অব্যাহত থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি ট্যাংকার বা জাহাজে হামলা চালায়, তবে জবাবে মার্কিন স্বার্থ ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর হামলা চালানো হবে।   রোববার (১০ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রেজাই বলেন, ইরানের জাহাজের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ ও সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী হামলার মাধ্যমে।   তিনি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে ‘বোকামি না করার’ পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো পরাজয় মেনে নেওয়া এবং নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়া।   এর আগে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আক্রামি নিয়া সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে যেসব দেশ সহযোগিতা করবে, তাদের জাহাজ ওই প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে। পরে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা ৪০ দিনের সংঘাত চলে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে।   সূত্র: আলজাজিরা

আক্তারুজ্জামান মে ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সড়কে স্ত্রীকে মারধর করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার যুবক, ভিডিও ভাইরাল

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী চিরতরে বন্ধের হুঁশিয়ারি, বাহরাইনকে কঠোর বার্তা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

সব জটিলতার অবসান, তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজয়

0 Comments