ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে ‘বাংলাদেশ লেবার পার্টি’। এর ফলে জোটটি আবারও ১১ দলীয় জোটে রূপ নিল।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লেবার পার্টিকে জোটে যুক্ত করার তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম বলেন, ‘আমরা একটি ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক ও আধিপত্যবিরোধী একটি দেশ গড়তে চাই। আমরা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জোটে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। এর মাধ্যমে আমাদের জোটটি ১১ দলীয় জোটে পরিণত হলো।
এ সময় বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার কর্মী হিসেবে ১১ দলীয় জোটে যুক্ত হয়েছি। আমরা একটি অর্থবহ পরিবর্তন চাই। যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা আজ নতুনভাবে শুরু করছি।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত ও প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
খাবারের স্বাদ বাড়াতে লবণের তুলনা নেই। ভাত, ভাজি, তরকারি থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত ও রেস্টুরেন্টের খাবার- সবখানেই লবণ ব্যবহার হয়। অল্পতেই খাবারের স্বাদ বাড়ায়, আবার দীর্ঘদিন সংরক্ষণেও সাহায্য করে এই উপাদান। কিন্তু খাবারে লবণ যতটা দরকার, তার চেয়ে বেশি খেলেই শুরু হয় নানা বিপদ। হিউস্টন মেথডিস্ট হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান আমান্ডা মিডোস বলছেন, লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরের জন্য জরুরি একটি খনিজ। এটি পেশির সংকোচন, স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শরীরের জলীয় ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সোডিয়াম গ্রহণ করলে শরীরে নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হয়। লবণ বেশি খেলে কী হয় অনেকেই লবণাক্ত খাবার খাওয়ার পর তৃষ্ণা বেড়ে যাওয়া, হাত-পা ফোলা বা মাথাব্যথার অভিজ্ঞতা পান। এগুলো সাময়িক মনে হলেও আসল ক্ষতি শুরু হয় কিডনিতে। অতিরিক্ত লবণ প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে শরীরে সোডিয়াম জমা হতে থাকে। তখন শরীর পানি ধরে রাখে, রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ ওঠে। বিশেষজ্ঞ আমান্ডা জানান, ঘন ঘন অতিরিক্ত লবণ খেলে হৃৎপিণ্ড ও কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। রক্ত বেশি পাম্প করতে গিয়ে হৃৎপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনির রোগ কিংবা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। কতটা লবণ বেশি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও খাদ্যতালিকাগত নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম বা প্রায় এক চা চামচ লবণ গ্রহণ করা উচিত। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের গড় নাগরিক প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম গ্রহণ করেন। কিন্তু শরীরের সঠিকভাবে কাজের জন্য দরকার হয় মাত্র ৫০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম। কেন আমরা বেশি খাই আমাদের দৈনন্দিন লবণ গ্রহণের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে প্রক্রিয়াজাত বা প্রস্তুতকৃত খাবার থেকে। মূলত খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য অজান্তেই আমরা বেশি লবণ খেয়ে ফেলি। চিপস, সস, স্যুপ, টিনজাত বা হিমায়িত খাবারের মতো সহজলভ্য খাবারগুলোতেই লবণের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত লবণ এড়াতে করণীয় ডায়েটিশিয়ান আমান্ডা কয়েকটি সহজ উপায়ের পরামর্শ দিয়েছেন— খাবারের লেবেল পড়ুন : কেনা খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ কত, তা অবশ্যই দেখে নিন। কম সোডিয়াম লেখা মানেই একেবারে স্বাস্থ্যকর নয়, বরং সাধারণের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম সোডিয়াম থাকতে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন : টিনজাত স্যুপ, হিমায়িত খাবার বা রেস্টুরেন্টের অনেক খাবারেই লবণের মাত্রা বেশি থাকে। তাই যতটা সম্ভব ঘরে রান্না করা ও তাজা ফল-সবজি খাওয়াই ভালো। স্বাদের বিকল্প খুঁজুন : লবণের বদলে স্বাদ বাড়াতে লেবু, ভেষজ, মশলা কিংবা ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। লবণাক্ত খাবারে সাবধান : সস, ড্রেসিং, চিপস বা স্ন্যাকস- এসব খাবার খাওয়ার আগে দুবার ভাবুন। লবণ শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও বেশি লবণ আসলে নিঃশব্দে শরীরের ক্ষতি ডেকে আনে। তাই অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে ও খাবারে সচেতনতা বাড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘লবণ খাবেন, তবে সীমিত পরিমাণে- তাহলেই শরীর থাকবে ভালো।’
আরবি মোরাকাবা শব্দের অর্থ নজরে রাখা, পর্যবেক্ষণ করা, ধ্যান করা। এর প্রতিশব্দ হলো তাফাক্কুর, অর্থ চিন্তা করা, গভীরভাবে চিন্তা করা। ইংরেজিতে মোরাকাবাকে গবফরঃধঃরড়হ বলে। সব নবী-রসুল মোরাকাবার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ইসলামের আত্মিক অনুশীলনের মাধ্যম হচ্ছে মোরাকাবা। হজরত রসুল (সা.) দীর্ঘ ১৫ বছর হেরা গুহায় মোরাকাবা বা ধ্যান করে আল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। মোরাকাবারত অবস্থায় তাঁর কাছে পবিত্র কোরআনে সুরা আল আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিল হয়। মোরাকাবার মাধ্যমেই রসুল (সা.) আল্লাহর পরিচয় লাভ করেন। রসুল (সা.) বলেন, ‘একবার আমি দীর্ঘ এক মাস হেরা গুহায় অবস্থান করলাম। অবস্থান শেষে গুহা থেকে বের হয়ে আমি খোলা ময়দানে চলছিলাম। পথিমধ্যে আমাকে আহ্বান করা হলো। আমি একে একে সামনে ও পেছনে, ডানে ও বামে তাকাতে লাগলাম। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। অতঃপর আমাকে পুনরায় আহ্বান করা হলো। এবারও আমি কাউকে দেখলাম না। পুনরায় আহ্বান করা হলে, আমি মাথা তুলে দেখলাম- আমার মহান মালিক ঊর্ধ্বাকাশে আরশের ওপর অবস্থান করে আমাকে ডাকছেন। আমার শরীরে ভীষণ কম্পন শুরু হলো। আমি খাদিজা (রা.)-এর নিকট পৌঁছালাম এবং বললাম, আমাকে কম্বল দ্বারা আচ্ছাদিত করো। অতঃপর আমাকে কম্বল দ্বারা আচ্ছাদিত করা হলো। তারপর আমার ওপর পানি ছিটানো হলো। এ সময় আল্লাহ নাজিল করেন ‘হে কম্বলাবৃত রসুল! উঠুন, সতর্ক করুন এবং আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন।’ (তাফসিরে কুরতুবি-২১ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫৫)। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মোরাকাবার ফজিলত : আল্লাহ বলেন, ‘(তাঁরাই তত্ত্বজ্ঞানী) যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহর জিকির করে এবং আসমান জমিন সৃষ্টির বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে।’ (সুরা আলে ইমরান : আয়াত ১৯১) মোরাকাবার ফজিলত সম্পর্কে রসুল (সা.) বর্ণিত বহু হাদিস রয়েছে। তিনি বলেন, ‘গভীরভাবে চিন্তা করা বা মোরাকাবার সমতুল্য কোনো ইবাদত নেই’ (তাফসিরে মাজহারি, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০০)। তিনি আরও বলেন, ‘রাত ও দিনের পরিবর্তনকারী আল্লাহকে নিয়ে এক ঘণ্টা মোরাকাবা করা ৮০ বছরের ইবাদতের চেয়ে উত্তম’ (তাফসিরে মাজহারি, চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১০)। মোরাকাবার মাধ্যমে বান্দার অন্তরে তাকওয়া বা খোদাভীতি তৈরি হয়। এতে ইবাদতের একাগ্রতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। রসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় করার পদ্ধতি ৪টি। ১। গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর মোরাকাবা করা, ২। কল্যাণজনক কাজ করা, ৩। কিয়ামতের ব্যাপারে চিন্তা ও গবেষণা করা এবং ৪। আল্লাহর সমীপে মোনাজাত করা। (কালিমাতুর রাসুলিল আজম (সা.), পৃষ্ঠা ৯৪)। মোরাকাবার ফজিলত সম্পর্কে হজরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, ‘এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করলেন, ওই আয়াতগুলো সম্পর্কে, যে আয়াতগুলো তাঁর কাছে অস্পষ্ট মনে হচ্ছিল, মহান আল্লাহর বাণী- ‘এরূপ লোকেরাই বেহেশতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদের দেওয়া হবে অফুরন্ত রিজিক।’ হজরত আলী (রা.) জবাবে বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহর ফরমান, ‘আমার সম্মান প্রদর্শন হয়েছে অথবা আমার বন্ধুত্ব অবধারিত হয়েছে তাদের জন্য, যারা আমার মোরাকাবা করেছে, আমার শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি মহব্বত রেখেছে, কিয়ামত দিবসে তাদের চেহারা নুরানি হয়ে যাবে, তারা নুরের মিম্বরে অবস্থান করবে। তাদের দেহে থাকবে সবুজ পোশাক। আরজ করা হলো, ইয়া রসুল (সা.) তারা কারা? তিনি বলেন, তারা নবীও নন, শহীদও নন, বরং তারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ভালোবাসা স্থাপন করেছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন স্বীয় রহমতে আমাদের তাদের দলভুক্ত করে দেন (মুসনাদে ইমাম আলী, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৩ ও ২২৪)। হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) তাঁর ‘গুনিয়াতুত তালেবিন’ কিতাবে উল্লেখ করেন- ‘মোরাকাবা দ্বারা মুজাহাদার পরিপূর্ণতা সাধিত হয়। ফেরেশতা জিবরাইল হুজুরে পাক (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করেন যে, ইহসান কী? হুজুরে পাক (সা.) জবাবে বলেন, তুমি এমনভাবে ইবাদত করো, যেন আল্লাহ দেখছেন। আর যদি তোমার অবস্থা তেমনটা না হয়, তবে মনে করবে যে, আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে দেখছেন। মোরাকাবা এটিই, বান্দা ইয়াকিন রাখবে যে, আল্লাহ তার সবকিছুরই খবর রাখেন। সদা-সর্বদা বান্দার মনে এই কথাটা জাগ্রত থাকার নামই মোরাকাবা। বান্দার জন্য যত রকম ভালো এবং কল্যাণকর বস্তু রয়েছে, সবকিছুর মূল হলো মোরাকাবা। সালেকের গন্তব্যস্থলে পৌঁছার জন্য মোরাকাবা হলো প্রধান অবলম্বন।’ (গুনিয়াতুত তালেবিন, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৬ ও ২৫৭)। প্রখ্যাত ইসলামিক দার্শনিক ড. কুদরত এ খোদা বলেন, ‘যে ধ্যানের মাধ্যমে আল্লাহ ও রসুল (সা.)-এর পরিচয় জানা যায়, তাদের নির্দেশমতো চলা যায় ও সৃষ্টির তত্ত্ব সম্বন্ধে অবগত হওয়া যায়, তাকেই মোরাকাবা বলে।’
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে নির্বাচনি জনসভায় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুপক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ভাতশালা গ্রামে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সমর্থনে নির্বাচনি জনসভা চলছিল। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি জনসভায় উপস্থিত হতে পারেননি। জনসভার শেষ পর্যায়ে কাস্তুল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম কিসমতের নেতৃত্বে একটি মিছিল জনসভাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। তা একপর্যায়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। অষ্টগ্রাম থানার ওসি সোয়েব খান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।