বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন আশার বার্তা নিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও শক্তিশালী অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংস্কার, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শের পথে রয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জিত হলে তা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপ, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের ফলে ডলারের ওপর চাপ কমেছে। এর ফলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে শক্তিশালী ভিত্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) BPM-6 পদ্ধতিতে হিসাব করলেও রিজার্ভের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার এই শক্তিশালী অবস্থান দেশের আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিজার্ভ ৫১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হলে তা শুধু একটি পরিসংখ্যানগত অর্জনই হবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ সহজ হবে, মুদ্রাবাজারে আস্থা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ যে পুনরায় শক্তিশালী রিজার্ভ গঠনের পথে এগোচ্ছে, তা দেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতেই দেশের রিজার্ভ নতুন ইতিহাস গড়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশের বড় শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স পতন হয়েছিল প্রায় ২৬ পয়েন্ট। এর ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ জুলাই) পতনের মাত্রা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪৪ পয়েন্টে। টানা এই পতনের মধ্যেও রোববার ৯ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায়, অর্থাৎ দিনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মূল্যবৃদ্ধির ঘরে গিয়ে লেনদেন হয়েছে এসব শেয়ারের দর। সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের, যার ইউনিট দর ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সায়। দিনভর ফান্ডটির প্রায় ৩০ লাখ ৪৫ হাজার ৭৮৮টি ইউনিট হাতবদল হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৯.৮১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৬০ পয়সায়। কোম্পানিটির দিনভর প্রায় ১৪ লাখ ৯১ হাজার শেয়ারের হাতবদল হয়, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর ৯.৬২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের দর ৮.৯৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ৮.৭০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ টাকায়। এর বাইরে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (আইএলএফএসএল) শেয়ারদর সমান হারে ৮.৩৩ শতাংশ বেড়ে যথাক্রমে ১ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। পাশাপাশি ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএসএল) শেয়ারদরও একই হারে ৭.৬৯ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৪০ পয়সায় উঠেছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সার্কিট ব্রেকারে স্পর্শ (হল্ট) করা তালিকার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই মিউচুয়াল ফান্ড এবং তুলনামূলক কম মূল্যের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে কয়েকটি জেড ক্যাটাগরিভুক্ত। সার্বিক বাজারে দরপতনের মধ্যেও এসব কম মূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হওয়ায় সেগুলো দিনের সর্বোচ্চ সীমায় উঠে লেনদেন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারলেও আরেক বড় বাজার জাপানে মোটেই ভালো করতে পারছে না। জাপানে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় এগারো বছর ধরে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের মধ্যেই আটকে আছে। এমনকি জাপানের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) পরও রপ্তানি বাড়ছে না; উল্টো কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপানে ১৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম। আর রপ্তানির ওই পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। গেল অর্থবছর জাপানে পণ্য রপ্তানি করে পাওয়া ১৩৬ কোটি ডলারের মধ্যে ১১৬ কোটি ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে আয়ের অংক ছিল ১৪১ কোটি ১৬ লাখ (১.৪১ বিলিয়ন) ডলার। আর ২০২৫-২৬ আর্থবছরে জাপানে পণ্য রপ্তানি করে ১৬৭ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল অন্তবর্তী সরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসে জাপানে পণ্য রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা এসেছিল ২০২২-২৩ অর্থবছরে। ওই আর্থবছরে জাপানে ১৪৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১২৫ কোটি ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক থেকে। বিভিন্ন সময়ে সরকার ও রপ্তানিকারকদের পক্ষ থেকে জাপানে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্খিত সুফল মেলেনি। অথচ এ বাজারে তৈরি পোশাকেরই চাহিদা রয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলারের মত। এর মাত্র ৫ শতাংশের মত রপ্তানি করতে পারেন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা। বিশ্বের অন্যান্য বাজারের মত জাপানে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে পারলে বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ অবস্থান আরও মজবুত হত। বিগত অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গত বছর মে মাসে জাপান সফর করেন। ওই সফরে রপ্তানি বড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করে বাংলাদেশ। কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের চুক্তি এটাই প্রথম। বাংলাদেশের তখনকার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও টোকিওতে ওই চুক্তি সই করেছিলেন। ইপিএর ফলে জাপানের বাজারে ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্যের শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তার পরও সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে না। অথচ দেশ হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঋণ-সহায়তা আসে জাপান থেকেই। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সত্যি কথা বলতে কি, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর দিকে যতটা নজর দিয়েছি, বড় মার্কেট হওয়ার পরও জাপানের দিকে তেমন মনোযোগ দিইনি। এতে সরকারের দিক থেকে যেমন ব্যর্থতা আছে, আমাদের রপ্তানিকারকদের দিক থেকেও আছে। সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে জাপানে আমাদের রপ্তানি অবশ্যই বাড়ত; সেটা ৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছত হয়ত; কিন্তু আমরা দেড় বিলিয়ন ডলারও ছাড়াতে পারিনি। এই অবস্থা পাল্টাতে জাপানের সঙ্গে করা অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি খুব বেশি সুফল দেবে বলে মনে করেন না প্লামি ফ্যাশনস ও জেসিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক। তিনি বলেন, জাপানে আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য হল তৈরি পোশাক। তৈরি পোশাকে আমরা আগে থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছি। তবে এই চুক্তির ফলে পোশাক খাতে সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন একটা বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। ঘরে বসে থাকলে রপ্তানি বাড়বে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বড় মার্কেট হওয়ার পরও কেন এতদিন রপ্তানি বাড়েনি; কোথায় ভুল ছিল, সেটা উদঘাটন করে নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে আমাদের এই বাজার ধরতে হবে। সামগ্রিকভাবে রপ্তানির অবস্থা যে ভালো নয়, সেই বাস্তবতা তুলে ধরে এই ব্যবসায়ী বলেন, “ট্রাম্পের শুল্কসহ নানা কারণে গত অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ২ শতাংশের মত কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারের আগের অবস্থা আর নেই। এখন জাপানের বাজারটা যদি ভালো থাকত, তাহলে কিন্তু সামাল দেওয়া যেত। একই সুরে কথা বললেন ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান, যিনি বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জাপানে আমাদের রপ্তানি পণ্যের ধরনে পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন নতুন প্রোডাক্ট সংযোজন করতে হবে। যেমন—জাপানে প্রচৃর স্পোর্টস আইটেমের চাহিদা রয়েছে; আমাদের সেগুলো রপ্তানি করতে হবে। ইউরোপ-আমেরিকায় আমরা যেসব পোশাক রপ্তানি করি, সেগুলো দিয়ে জাপানের মার্কেটে সুবিধা করা যাবে না। অনেকে বলেন, জাপানিরা বেশি দামের পোশাক ব্যবহার করে; এ ধারণা ঠিক নয়। তারা এখন কম দামি পোশাকও কেনে। মোদ্দা কথা হল, তাদের চাহিদা ও পছন্দের পোশাক রপ্তানি করতে হবে। তাহলে রপ্তানি বাড়বে। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “জাপানের ফ্যাশন অগ্রগামী এবং মান সচেতন বাজার যদি আমরা ধরতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য নতুন পথ খুলতে পারে। যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আগে থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত, সেটা ঠিক। কিন্তু সেবা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ইপিএর আলাদা গুরুত্ব থাকছেই। “আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এতদিন জাপানের বাজার ভালোভাবে ধরতে পারিনি। এখন এই বাজারের দিকে নজর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ইপিএর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য এই চুক্তিতে একটি সুখবরও রয়েছে। চুক্তির আগে জাপানের বাজারে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে ট্রান্সফরমেশন রুলস অব অরিজিন অনুসরণ করতে হত। অর্থাৎ, জাপানে কোনো পণ্য রপ্তানি করতে হলে ওই পণ্যের কমপক্ষে দুটি ধাপ বাংলাদেশে সম্পন্ন হতে হত। “এখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য সিঙ্গেল-স্টেজ ট্রান্সফরমেশন রুলস অব অরিজিন অনুসরণ করেই রপ্তানি করা যাবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে যে কোনো একটি উৎপাদনের ধাপ সম্পন্ন হলেই ওই তৈরি পোশাক জাপানের বাজারে রপ্তানি করা যাবে। আমাদের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য এটা একটা বড় সুবিধা।” মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাপান ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও বর্তমানে খুব অল্প পণ্যই সেখানে রপ্তানি হচ্ছে। “বাংলাদেশকে এর পুরো সুবিধা পেতে হলে নিজস্ব সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী করা জরুরি।" প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষের দেশ জাপানে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ নিতে হবে সরকার ও রপ্তানিকারকদের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন। “আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাপানে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। আর সেজন্য যা যা করা দরকার তা সরকার ও বেসরকারি খাত মিলে করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গড়ে ওঠা জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরেও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতির এই বিশ্লেষক। রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইপিএ না হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর জাপানের বাজারে সমস্যা পড়ত বাংলাদেশ। কারণ যেসব পণ্য এখন শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়, চুক্তি না হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হত। তিনি বলেন, জাপান একটি উন্নত দেশ এবং বৈশ্বিকভাবে প্রভাবশালী দেশ। তাই জাপানের সঙ্গে ইপিএ অন্য দেশগুলোকেও বাংলাদেশের সঙ্গে একই ধরনের আলোচনায় আগ্রহী করে তুলতে পারে।
মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিন ধরনের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সঙ্গে পণ্যগুলোর সব ধরনের বিপণন ও বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এসব পণ্য ক্রয় বা গ্রহণ না করার জন্য ভোক্তাদেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ আদেশ জারি করে। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া খাদ্যপণ্য ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইষ্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইষ্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’, ইষ্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইষ্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং আরবোটিং ফুড কোম্পানি লিমিটেডের ‘আরবোটিং ফুড স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’। বিএফএসএ জানায়, ল্যাব পরীক্ষায় এই তিনটি খাদ্যপণ্যে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর মাত্রায় প্রিজারভেটিভের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে তাদের নির্দিষ্ট পণ্যগুলো বাজার থেকে দ্রুত তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানায় সরকারি এই সংস্থাটি। বিএফএসএ বলেছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।