ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ডের জন্য নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা অ্যালবানিজের ওপর ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক কর্তৃক স্থগিত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি এই ঘটনাকে মানবাধিকার নিয়ে আমেরিকার দ্বিমুখী নীতির এক বড় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের অপরাধ ঢাকা না পড়া পর্যন্তই কেবল আমেরিকার অভিধানে মানবাধিকারের অস্তিত্ব টিকে থাকে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ফার্সি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইরানি এই কূটনীতিক বলেন, এটি মূলত সেই একই দ্বিমুখী নীতি, যা বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে জিম্মি করে রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য যখনই ইসরায়েলি শাসন বা তার মিত্রদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি ওঠে, তখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা, হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেয়। আমেরিকার মানবাধিকার নীতির আসল রূপটি হলো—শত্রুদের জন্য মানবাধিকারের কড়াকড়ি আর মিত্রদের জন্য সম্পূর্ণ দায়মুক্তি।
জাতিসংঘের ইতালীয় কর্মকর্তা ফ্রান্সেসকা অ্যালবানিজে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি প্রশাসন এবং তার সমর্থকদের জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টার কথা উল্লেখ করে ঘারিভাবাদি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এখন ওয়াশিংটনের হাতে আধিপত্য বিস্তারের একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই আইনকে কেবল তখনই বৈধ মনে করে, যখন এটি তাদের মিত্রদের গায়ে কোনো আঁচ লাগতে দেয় না। যেকোনো প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ বা সংস্থা যদি ইসরায়েলের অপরাধের খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ওপরই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, ওয়াশিংটন কর্তৃক ইসরায়েলি প্রশাসনকে জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা করার এই ভীতির কারণে জাতিসংঘের ম্যান্ডেটের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অনাক্রম্যতা এবং সত্য ও ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি ভুক্তভোগীদের অধিকারকে কোনোভাবেই বলি দেওয়া উচিত নয়। মার্কিন বিচারকের এই সাম্প্রতিক রায়ের পর আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির নৈতিকতা নিয়ে আবারও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্র: প্রেস টিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নিজেদের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাতারে সংলাপ শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা ইরনাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। এই চ্যানেল খোলার মূল উদ্দেশ্য হবে আগামী ৬০ দিন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির কোনো ধারা বা শর্ত লঙ্ঘন হলে উভয়পক্ষ যেন তাৎক্ষণিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছে কাতার সংলাপ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং তারপর টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত শেষে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং এ কারণেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। তারপর ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি দল শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে ইসলামাবাদ যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধি দল। কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও ব্যর্থ হয় সেই বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষর না করেই নিজ নিজ দেশে ফিরে যান দুই দেশের প্রতিনিধিরা; চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ায় ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে যুদ্ধবিরতি। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এমন অবস্থা চলার পর মে মাসের মাঝামাঝি ১৪টি ধারা সম্বলিত একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া ইরানকে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক মাস সেই খসড়া পর্যালোচনা করার পর গত ১৫ জুন চুক্তিতে স্বাক্ষরে সম্মতি দেয় ইরান। তারপর ১৭ জুন ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বা ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইসলামাবাদ চুক্তির মূল শর্তগুলো হলো— চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৬০ দিন পর্যন্ত ইরানে হামলা মুলতবি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ক আলোচনাকে এগিয়ে নেবে। এছাড়া এই সময়সীমায় ইরানের তেল রপ্তানির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে না এবং বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ফ্রিজড অবস্থায় থাকা অর্থের একটি অংশ ইরান পাবে। তবে এসবের বিনিময়ে ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কোনো জাহাজ থেকে তেহরান টোল আদায় করতে পারবে না বলেও উল্লেখ রয়েছে চুক্তিতে। সূত্র : এএফপি, ফার্স্টপোস্ট
আইভরি কোস্টে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বন্যায় অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাণহানির আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের। বুধবার (১ জুলাই) দেশটির সরকারের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনা আরও বেড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানী আবিদজানে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সরকারের মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি সাংবাদিকদের বলেন, চলতি বছরে বন্যায় ৫৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে সর্বশেষ বন্যায় ঠিক কতজন মারা গেছেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। সোমবার ঘানা ও আইভরি কোস্টের রাজধানী এলাকায় কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে দুই দেশ মিলিয়ে অন্তত ২৪ জন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘানার রাজধানী আক্রায় বন্যার পানিতে বহু সড়ক ও ভবন তলিয়ে যায়। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী তেমা শহরেও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আইভরি কোস্টে কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে রাজধানী আবিদজানের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। দেশটির জাতীয় সংহতি বিষয়ক মন্ত্রী মাইস বেলমন্দে দোগোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় ১২ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই আবিদজানের আতেকুবে ও ইয়োপুগন পৌর এলাকার বাসিন্দা। সরকারের মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি নাগরিকদের সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকার যেসব এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেখান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে মহাদেশটির অবদান তুলনামূলকভাবে খুবই কম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে প্রতিবছরই প্রাণঘাতী বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটছে। সূত্র: এবিসি নিউজ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘হত্যার লক্ষ্যবস্তু’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। এর পরপরই এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সবার জন্য প্রকাশ্য উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিবে তার ‘পোষ্যদের’ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু তারা যদি তাদের প্রভুর নির্দেশ অমান্য করে, তাহলে ইরান তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আরাগচি। এর আগে গত সোমবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেন, ইরানিরা ‘দক্ষ ব্যবসায়ী’, যারা আলোচনার মাধ্যমে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না। এর জবাবে আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের জনগণ ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।’