জাতিসংঘে গতকাল শুক্রবার এক গণশুনানিতে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিবেশ বজায় থাকেনি। এদিন কূটনৈতিক সৌজন্য ভুলে গিয়ে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি তুমুল বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
গতকাল ছিল ‘সংঘাতে যৌন সহিংসতা নির্মূলবিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস’। এ উপলক্ষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে এক গণশুনানির আয়োজন করা হয়। গণশুনানির এক পর্যায়ে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমীলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন।
প্যাটেন সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সেখানে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়। ড্যাননের অভিযোগ, প্যাটেন পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ইঙ্গিত করে ড্যানন বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর ব্যাপারে মহাসচিবের যে একধরনের ঝোঁক রয়েছে, আপনি (প্যাটেন) সেটার কাছে নতি স্বীকার করেছেন।’
জাতিসংঘের আরেক কর্মকর্তা ভ্যানেসা ফ্রেজার তখন পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে শুরু করেন। তিনিও জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক প্রতিনিধি এবং ইসরায়েলকে কালোতালিকাভুক্ত করা পৃথক একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
ড্যানি ড্যাননকে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান ফ্রেজার। তিনি বলেন, তাঁর কাছে ‘যাচাই করা তথ্য–প্রমাণ’ আছে।
এর জবাবে ড্যানন বলেন, ফ্রেজারের চুপ থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি সদস্যরাষ্ট্র, আর আপনি জাতিসংঘের কর্মী। এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি চুপ থাকবেন... আপনি এবং আপনার লজ্জাজনক প্রতিবেদনও।’
একসময় জাতিসংঘে মাল্টার দূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন ফ্রেজার। তিনি সম্প্রতি মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে সতর্ক করে বলা হয় যে শিশুদের বিরুদ্ধে অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকে বৈশ্বিক কালোতালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে গুতেরেস ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ‘উদ্বেগজনকভাবে’ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার অঙ্গীকার করেছে। ১০ বছর দায়িত্ব পালনের পর এ বছরের শেষ নাগাদ তিনি পদ ছাড়ছেন।
দুটি প্রতিবেদনেই ইসরায়েলের চিরশত্রু হিসেবে বিবেচিত সংগঠন হামাসকেও কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
লোহিত সাগরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা। এতে অন্তত ছয়জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো হুথিদের জাহাজে হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল মাখা বন্দরের দক্ষিণে জাহাজটিতে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয়সহ চার নাবিক নিহত হন। পরে ইয়েমেনের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, দ্বিতীয় একটি প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজটি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হুথিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে কোনো জাহাজের ওপর গোষ্ঠীটির এটিই প্রথম প্রাণঘাতী হামলা। গত মাসে হুথিরা সৌদি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা শুরু করে। এই অঞ্চলে সংঘাত পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এ সময়ে একটি যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। হুথিদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে সৌদি ট্যাংকার ও তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথি এবং সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি গত মাসে ভেঙে যাওয়ার পর সর্বশেষ এই হামলা হয়েছে। হুথিরা উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। রাজধানী সানা হুথিদের দখলে থাকায় সরকার দক্ষিণে অবস্থিত এডেন থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিবিসি ভেরিফাই কর্তৃক যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে ইয়েমেনের উপকূলের কাছে লোহিত সাগরের মোহনায় অবস্থিত বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ দেখা গেছে। এক বিবৃতিতে ইয়েমেন সরকার বলেছে, জাহাজটি খাদ্য বহন করছিল। বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলা হুথিদের আগ্রাসনের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এর আগে এক বিবৃতিতে সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানায়, জাহাজটিকে সহায়তা করতে গিয়ে ইয়েমেনি নৌবাহিনী হামলার শিকার হয়েছে। এতে আরও তিনজন আহত হয়েছেন। কাছ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জাহাজটির নাম ‘তিহামাহ’। জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ওয়ার্নার পয়েন্টের কাছে লোহিত সাগরে রয়েছে। ভ্যানগার্ড জাহাজটিকে তানজানিয়ার পতাকাবাহী হিসেবে শনাক্ত করেছে। অন্যদিকে, শিপিং ওয়েবসাইট মেরিনট্র্যাফিক বলছে, এটি একটি মিশরীয় অপারেটরের মালিকানাধীন। সূত্র : বিবিসি
গত শুক্রবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব নিজেদের মধ্যে মক্কা চুক্তি নামে একটি সামরিক চুক্তি করে। ন্যাটোর আদলে করা এ চুক্তিতে বলা আছে, তিন দেশের এক দেশের ওপর অন্য কোনো দেশের হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ নিয়ে আজ কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। যেহেতু পাকিস্তানের ওপর কোনো হামলা হলে এখন তুরস্ক ও সৌদি তাদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে তাই এ বিষয়টির স্পর্শকাতরতা উল্লেখ করে জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। জবাবে এ কূটনীতিক জানান, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে এবং রক্ষা করে যাবে। তিনি বলেন, “এ চুক্তির ব্যাপারে, আমরা এটির প্রভাব ভারতের জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিক দিয়ে পরীক্ষা করছি। ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পরিপূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।” এদিকে তুরস্ক জানিয়েছে, এ চুক্তিটি সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক। অর্থাৎ তারা কোনো দেশকে টার্গেট করে চুক্তিটি করেনি তারা। দেশটি বলেছে, মক্কা চুক্তির লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। তিন সুন্নি মুসলিম দেশের এ চুক্তিকে রাজনীতির নতুন মেরুকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ পাকিস্তানের আছে পারমাণবিক শক্তি। তুরস্কের আছে সৈন্য ও আধুনিক সমরাস্ত্রের শক্তি। অপরদিকে সৌদির আছে অঢেল অর্থ ও আকাশ শক্তি। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবেরই সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিমান রয়েছে। সূত্র: দ্য হিন্দু
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পর্যায়ে ব্যস্ততার মধ্যে মঙ্গলবার এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ত্রিবেদী। এর পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। আবার একইদিন বিকেলে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন ভারতীয় এই দূত। ওই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং বাংলাদেশ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রত্যাশা জানায়। এ বিষয়ে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট যে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারতের প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’ সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই দেশ আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।