আন্তর্জাতিক

ইসরাইলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর ঐতিহাসিক অর্জন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের ভোট গণনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের চমক দেখা যাচ্ছে। মোট প্রদত্ত ভোটের ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ গণনার পর দেখা যাচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির সুসংগঠিত আরব দলগুলোর নজিরবিহীন সাফল্য।

 

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাডি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে নেসেটের দুটি আরব নেতৃত্বাধীন দল যৌথভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ নিশ্চিত করার পথে রয়েছে, যা ইসরাইলের নির্বাচনী ইতিহাসে আরব দলগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ও অভূতপূর্ব সাফল্য। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে আরব দলগুলো সর্বোচ্চ ১৫টি আসন লাভ করেছিল। এবার জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১২টি আসন এবং মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম লাভ করেছে ৭টি আসন। হিসাব অনুযায়ী, প্রধান আরব শহরগুলোতে ভোটদানের হার রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদায়ী সরকারÑযাকে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে চরমপন্থী ও আরববিরোধী সরকার হিসেবে গণ্য করা হয়Ñতাকে ক্ষমতার বাইরে পাঠাতেই অণগ্রসর আরব সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে এই গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।

 

আরব দলগুলো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করলেও নতুন সরকারে তারা সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে কিনা তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা রয়েছে। রা’আমের নেতা মনসুর আব্বাসের দল নেতানিয়াহু বিরোধী ‘পরিবর্তন জোটে’ যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, ওই জোটের বেশ কিছু দল নীতিগতভাবে কোনো আরব দলের সাথে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে, ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের জয়েন্ট লিস্ট সরকারে সরাসরি যোগ না দিয়েও কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা ভোটদানে বিরত থেকে বা বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে সহায়তা করতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতে থাকার পরপরই জয়েন্ট লিস্টের সিনিয়র নেতা আহমেদ তিবি সামাজিক মাধ্যমে একটি বহুল আলোচিত মন্তব্য পোস্ট করেন। তিনি লেখেন: ‘হয় বিবি (নেতানিয়াহু), নয়তো তিবি।’ ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দুটি মূল জোটের কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, ডাবল-এনভেলপ বা বিশেষ ভোটগুলো গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অচলাবস্থা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

 

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর দেশটির সংসদীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ। মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার যোগ্য ভোটারের মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোট দিয়েছেন। এবারের ভোটদানের হার ২০২২ সালের নির্বাচনে রেকর্ড করা ৭০ শমিক ৬৩ শতাংশের তুলনায় প্রায় ৭ শমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ১৯৯৯ সালের নেসেট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৮ শমিক ৭ শতাংশ। ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। সম্প্রচারমাধ্যমটির দাবি, এই হার ১৯৯৯ সালের রেকর্ডের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক।

 

সূত্র : আল-জাজিরা, দ্য টাইমস অব ইসরাইল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ইসরাইলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর ঐতিহাসিক অর্জন

ইসরাইলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের ভোট গণনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরণের চমক দেখা যাচ্ছে। মোট প্রদত্ত ভোটের ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ গণনার পর দেখা যাচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির সুসংগঠিত আরব দলগুলোর নজিরবিহীন সাফল্য।   ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাডি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে নেসেটের দুটি আরব নেতৃত্বাধীন দল যৌথভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ নিশ্চিত করার পথে রয়েছে, যা ইসরাইলের নির্বাচনী ইতিহাসে আরব দলগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ও অভূতপূর্ব সাফল্য। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে আরব দলগুলো সর্বোচ্চ ১৫টি আসন লাভ করেছিল। এবার জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১২টি আসন এবং মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম লাভ করেছে ৭টি আসন। হিসাব অনুযায়ী, প্রধান আরব শহরগুলোতে ভোটদানের হার রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদায়ী সরকারÑযাকে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে চরমপন্থী ও আরববিরোধী সরকার হিসেবে গণ্য করা হয়Ñতাকে ক্ষমতার বাইরে পাঠাতেই অণগ্রসর আরব সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে এই গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।   আরব দলগুলো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করলেও নতুন সরকারে তারা সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে কিনা তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা রয়েছে। রা’আমের নেতা মনসুর আব্বাসের দল নেতানিয়াহু বিরোধী ‘পরিবর্তন জোটে’ যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, ওই জোটের বেশ কিছু দল নীতিগতভাবে কোনো আরব দলের সাথে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অপরদিকে, ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের জয়েন্ট লিস্ট সরকারে সরাসরি যোগ না দিয়েও কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা ভোটদানে বিরত থেকে বা বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধী জোটকে সহায়তা করতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতে থাকার পরপরই জয়েন্ট লিস্টের সিনিয়র নেতা আহমেদ তিবি সামাজিক মাধ্যমে একটি বহুল আলোচিত মন্তব্য পোস্ট করেন। তিনি লেখেন: ‘হয় বিবি (নেতানিয়াহু), নয়তো তিবি।’ ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দুটি মূল জোটের কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, ডাবল-এনভেলপ বা বিশেষ ভোটগুলো গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অচলাবস্থা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।   এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর দেশটির সংসদীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ। মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার যোগ্য ভোটারের মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোট দিয়েছেন। এবারের ভোটদানের হার ২০২২ সালের নির্বাচনে রেকর্ড করা ৭০ শমিক ৬৩ শতাংশের তুলনায় প্রায় ৭ শমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ১৯৯৯ সালের নেসেট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৮ শমিক ৭ শতাংশ। ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। সম্প্রচারমাধ্যমটির দাবি, এই হার ১৯৯৯ সালের রেকর্ডের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক।   সূত্র : আল-জাজিরা, দ্য টাইমস অব ইসরাইল।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ২২ ভারতীয়ের মৃত্যু, নিশ্চিত করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সংগৃহীত

নতুন নির্বাচন এড়ানোর আহ্বান ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের

সংগৃহীত

যুদ্ধের চাপে দিশেহারা ইরানিরা, ‘টাকা নেই, ভবিষ্যৎ নেই, আশাও নেই’

সংগৃহীত ছবি
বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, রাজপথে বিক্ষুব্ধ জনতা

ইন্দোনেশিয়ায় অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি এবং ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।   বুধবার রাজধানী জাকার্তার কেন্দ্রস্থলে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন। দেশটির অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে।   ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের অনেকে ডিস্টোপীয় কাহিনি নির্ভর চলচ্চিত্র ও বইয়ের সিরিজ ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’-এর বিদ্রোহের প্রতীক তিন আঙুলের অভিবাদন প্রদর্শন করে। এ সময় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখা বিভিন্ন পোস্টারও বহন করেন। একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘ক্ষুধার্ত? ধনীদের খাও!’ দাবানলের কারণে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে।   অন্য একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের অধীনে নির্মল বাতাস নেই।’ আরেকটি পোস্টারে প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোকে অবমাননাকর নামে সম্বোধন করে লেখা হয়, ‘এই ওক! কেউ আমাদের টাকা দেয়নি। আমরা সবাই বিনা পয়সায় তোমাকে ঘৃণা করি।’   ৩৭ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী সেকার এএফপিকে বলেন, কয়েক মাস ধরে দাবানল ও ধোঁয়ার সঙ্গে লড়াই করা তার দেশের মানুষের দুর্দশা দেখে তার ‘হৃদয় ভেঙে গেছে’। এর পাশাপাশি তারা দুর্বল হয়ে পড়া মুদ্রা ও পণ্যের উচ্চমূল্যের প্রভাবও মোকাবিলা করছেন।   সেকার বলেন, ‘বিক্ষোভের ডাক দেওয়া শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশেই আমি বাড়ি থেকে এখানে এসেছি।’   তিনি বলেন, ‘যেসব পুলিশ কর্মকর্তা তাদের গায়ে হাত দেবেন এবং ধরে নিয়ে যাবেন, আমি তাদের খুঁজে বের করব। শিক্ষার্থীদের রক্ষায় সবার আগে আমিই এগিয়ে যাব।’   পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ১৪ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভের আয়োজক কমিটি নিজেদের নাম দিয়েছে ‘সাদার’। ইন্দোনেশীয় ভাষায় শব্দটির অর্থ ‘সচেতন’।   কমিটির ভাষ্য, ‘ঘোষিত বিপ্লবকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।   বিক্ষোভকারীরা দাবি জানিয়েছেন, বিস্তীর্ণ দ্বীপপুঞ্জজুড়ে দাবানল মোকাবিলায় অতিরিক্ত সম্পদ ও তহবিল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে সরকারকে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে।   বন উজাড়ের ওপর নজরদারিকারী সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে দাবানলে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে।   ইন্দোনেশিয়ান মাদার্স অ্যালায়েন্স নামের একটি বেসরকারি সংস্থার ৪৭ বছর বয়সী সদস্য ও বিক্ষোভকারী অ্যানেট মাউ বলেন, ‘দাবানলে লাখ লাখ মানুষ ভুগছেন।’   তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার শিশু স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। দাবানল থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় তারা শ্বাস নিতে পারছে না।’ দাবানল ও ধোঁয়াদূষণ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কেরও অবনতি ঘটিয়েছে। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণানের বুধবার জাকার্তায় প্রবোওর সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল।   এর আগের দিন বালাকৃষ্ণান বলেন, ধোঁয়াদূষণ ‘কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা নয়’ এবং দাবানল ‘মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্টি হয়েছে’।   অ্যানেট অভিযোগ করেন, সমস্যার সমাধান না করে সরকার বিষয়টি ‘ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে’।   বিক্ষোভের আয়োজকেরা এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, প্রবোওর শাসনামলে ‘জনগণের সার্বভৌমত্বের চেয়ে শাসক শ্রেণির সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে’।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘অলিগার্কি বা গুটিকয়েক প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থকে জনগণের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে।’   বিবৃতিতে ঋণের বোঝায় জর্জরিত অর্থনীতির অব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জ্বালানি সম্পদের শোষণের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত সংকট এবং আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের নির্বাচনে এবার ‘ডাবল খামের’ ভোট গণনা, বদলে যেতে পারে আসনের হিসাব

সংগৃহীত ছবি

যুদ্ধ অবসানে ইরানের কাছে কাতারের নতুন প্রস্তাব, থাকছে যেসব বিষয়

শারেন হাস্কেল। ছবি: সংগৃহীত

আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান ইসরাইলি ডানপন্থি নেত্রীর

সংগৃহীত ছবি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ওলেশকিতে দ্বিতীয় দিনেও বহাল যুদ্ধবিরতি, ত্রাণ পৌঁছানোর আশা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে কার্যকর হওয়া স্থানীয় যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় দিনেও কার্যকর রয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার উভয় পক্ষই এ তথ্য জানিয়েছে। এতে অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের কাছে জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানোর আশা জোরালো হয়েছে।   বার্তা সংস্থাটি জানায়, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রুশ দখলাধীন ওলেশকি শহরের বাসিন্দারা কয়েক মাস ধরে খাদ্য, পানি ও ওষুধের সংকটে ভুগছেন। দুই পক্ষের লড়াইয়ের মাঝখানে পড়ে তাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।   এখনো শহরটিতে থাকা মানুষের যোগাযোগ রয়েছে শহরের এমন সাবেক বাসিন্দারা এএফপিকে জানান, শহরটিতে এখনো অবস্থানরত আনুমানিক দুই হাজার মানুষের মধ্যে কেউ কেউ কবুতর শিকার করে তা খেতে বাধ্য হয়েছেন।   রাশিয়া ও ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক ন্যায়পালরা বুধবার জানান, মঙ্গলবার ভোরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।   ইউক্রেনের দিমিত্রো লুবিনেৎস বলেন, ‘ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির ৩০ ঘণ্টা পার হয়েছে, এ সময়ে একটি ঘটনাও ঘটেনি।’   রাশিয়ার ইয়ানা লানত্রাতোভাও প্রায় একই ভাষায় দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির ৩০ ঘণ্টায় কোনো সংঘাতের ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’   শহরটির বাসিন্দাদের ভাগ্য নিয়ে কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প পরিকল্পিত এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।   কতজন বাসিন্দা শহর ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, কিংবা তাদের কোন পথে যেতে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   দিনিপ্রো নদী বরাবর বিস্তৃত যুদ্ধরেখা পেরিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। রাশিয়ার নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাসিন্দাদের রুশ-অধিকৃত ক্রিমিয়া হয়ে যেতে হতে পারে।   রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, শহর ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক বেশির ভাগ মানুষ ইতোমধ্যে চলে গেছেন।   ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, শহরের অনেক মানুষই সেখানে থেকে যেতে চান।    তাই মানবিক সহায়তা শহরটিতে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই যুদ্ধবিরতির এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ২০২২ সালে রাশিয়ার হামলা শুরুর সময় ওলেশকি দখল করে নেয় রুশ বাহিনী। ২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা দাভিদ আরাখামিয়া এই যুদ্ধবিরতিকে ‘২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা প্রশমন’ বলে বর্ণনা করেছেন।   অর্থোডক্স ইস্টারের মতো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে এর আগে যুদ্ধ চলাকালে স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এসব বিরতিতে আকাশপথে হামলা কমলেও উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা

ছবি : রয়টার্স

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বহুমুখী কৌশলী রোডম্যাপ

ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইল নির্বাচনে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট, তবুও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

0 Comments