অন্যান্য

ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে রাখে, কীভাবে ঠিক হয় সেই নাম?

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়টির নাম ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে ঠিক করে, আর কেনই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের এমন আলাদা নাম রাখা হয়?

 

আসলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কোনও ব্যক্তি বা একটি দেশের ইচ্ছামতো করা হয় না। এর জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিয়ম ও আগাম প্রস্তুত করা নামের তালিকা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। 

 

ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখে কারা?

 

বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। এ ব্যবস্থায় ১৩টি দেশ নাম প্রস্তাব করে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

 

প্রতিটি দেশ আগাম কিছু নাম জমা দেয়। এরপর নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ব্যবহার করা হয়। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র (আরএসএমসি), যখন ঝড়টি নাম দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তীব্রতায় পৌঁছায়। 

 

বাংলাদেশও এই তালিকার জন্য নাম প্রস্তাব করে। যেমন— ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নামগুলোর একটি। তবে কোনও দেশ নাম প্রস্তাব করলেই সেই দেশের উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানবে, এমন নয়। নামের তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে নাম ব্যবহার করা হয়, আর ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ভর করে আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর।  

 

ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয় কেন?

 

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা এবং এর বিষয়ে সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শুধু অবস্থানাঙ্ক বা কারিগরি পরিচয় ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্দিষ্ট ঝড়টি মনে রাখা কঠিন হতে পারে। কিন্তু একটি পরিচিত নাম ব্যবহার করলে সংবাদমাধ্যম, আবহাওয়াবিদ, উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারেন কোন ঝড়ের কথা বলা হচ্ছে। 

 

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নামকরণের ফলে সতর্কবার্তা আদান-প্রদান সহজ হয়, একাধিক ঝড়ের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি কমে এবং দুর্যোগের প্রস্তুতি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ে। 

 

ধরা যাক, একই সময়ে একাধিক সামুদ্রিক ঝড় তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ঝড়ের আলাদা নাম থাকলে কোনটির গতিপথ কোথায়, কোন অঞ্চলে সতর্কতা জারি হয়েছে এবং কোন ঝড়ের প্রভাব কেমন হতে পারে এসব তথ্য আলাদা করে বোঝানো সহজ হয়।

 

নামগুলো কীভাবে বেছে নেওয়া হয়?

 

ঘূর্ণিঝড়ের নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম রয়েছে। নামগুলো সাধারণত সংক্ষিপ্ত, সহজে উচ্চারণযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার উপযোগী করে নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি নাম যেন অন্য নামের সঙ্গে সহজে গুলিয়ে না যায়, সেটিও বিবেচনা করা হয়।

 

উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে ব্যবহার করা হয়। একবার কোনও নাম ব্যবহার হয়ে গেলে এই অঞ্চলের তালিকায় সেটি আবার ব্যবহার করা হয় না। ফলে প্রতিটি নতুন ঘূর্ণিঝড়ের জন্য তালিকা থেকে পরবর্তী নামটি নেওয়া হয়। 

 

ঘূর্ণিঝড়ের নাম সব সময় কোনো ব্যক্তি বা জায়গার নামে রাখা হয়—এমন ধারণাও সঠিক নয়। নামের উৎস হতে পারে বিভিন্ন ভাষার শব্দ, প্রকৃতি কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশের প্রস্তাবিত অন্য কোনো নাম। তবে নামটি যেন আপত্তিকর না হয় এবং সহজে ব্যবহার করা যায়, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

নাম থাকলেই কি ঝড়ের ভয়াবহতা বোঝা যায়?

 

না। ঘূর্ণিঝড়ের নামের সঙ্গে এর শক্তি বা ধ্বংসক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক নেই। নামটি মূলত ঝড়টিকে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। একটি ঝড় কতটা শক্তিশালী, বাতাসের গতি কত, কোথায় আঘাত হানতে পারে এবং কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এসব জানতে আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে হয়।

 

কোনও ঘূর্ণিঝড়ের নাম পরিচিত বা আকর্ষণীয় হলেই সেটি বেশি শক্তিশালী, এমন নয়। আবার তুলনামূলক সাধারণ নামের ঝড়ও ভয়াবহ হতে পারে। তাই নামের চেয়ে ঝড়ের অবস্থান, তীব্রতা, সম্ভাব্য গতিপথ এবং সরকারি সতর্কবার্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

 

ঘূর্ণিঝড়ের নাম জানার পাশাপাশি সতর্ক থাকাও জরুরি

 

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুধু পরিচিতির জন্য নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যোগাযোগ সহজ করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। ‘অর্ণব’-এর মতো কোনও ঝড়ের নাম সংবাদে শুনলে সেই ঝড় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা, আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

 

সবশেষে, ঘূর্ণিঝড়ের নাম কোনও একক ব্যক্তি ঠিক করেন না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিয়মে নাম ব্যবহার করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, সতর্কবার্তা পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানো।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে রাখে, কীভাবে ঠিক হয় সেই নাম?

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়টির নাম ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের নাম কে ঠিক করে, আর কেনই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের এমন আলাদা নাম রাখা হয়?   আসলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কোনও ব্যক্তি বা একটি দেশের ইচ্ছামতো করা হয় না। এর জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিয়ম ও আগাম প্রস্তুত করা নামের তালিকা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।    ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখে কারা?   বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের দায়িত্ব উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। এ ব্যবস্থায় ১৩টি দেশ নাম প্রস্তাব করে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।   প্রতিটি দেশ আগাম কিছু নাম জমা দেয়। এরপর নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ব্যবহার করা হয়। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র (আরএসএমসি), যখন ঝড়টি নাম দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তীব্রতায় পৌঁছায়।    বাংলাদেশও এই তালিকার জন্য নাম প্রস্তাব করে। যেমন— ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নামগুলোর একটি। তবে কোনও দেশ নাম প্রস্তাব করলেই সেই দেশের উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানবে, এমন নয়। নামের তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে নাম ব্যবহার করা হয়, আর ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ভর করে আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর।     ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হয় কেন?   ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা এবং এর বিষয়ে সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শুধু অবস্থানাঙ্ক বা কারিগরি পরিচয় ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্দিষ্ট ঝড়টি মনে রাখা কঠিন হতে পারে। কিন্তু একটি পরিচিত নাম ব্যবহার করলে সংবাদমাধ্যম, আবহাওয়াবিদ, উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারেন কোন ঝড়ের কথা বলা হচ্ছে।    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নামকরণের ফলে সতর্কবার্তা আদান-প্রদান সহজ হয়, একাধিক ঝড়ের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি কমে এবং দুর্যোগের প্রস্তুতি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়ে।    ধরা যাক, একই সময়ে একাধিক সামুদ্রিক ঝড় তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ঝড়ের আলাদা নাম থাকলে কোনটির গতিপথ কোথায়, কোন অঞ্চলে সতর্কতা জারি হয়েছে এবং কোন ঝড়ের প্রভাব কেমন হতে পারে এসব তথ্য আলাদা করে বোঝানো সহজ হয়।   নামগুলো কীভাবে বেছে নেওয়া হয়?   ঘূর্ণিঝড়ের নাম বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম রয়েছে। নামগুলো সাধারণত সংক্ষিপ্ত, সহজে উচ্চারণযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার উপযোগী করে নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি নাম যেন অন্য নামের সঙ্গে সহজে গুলিয়ে না যায়, সেটিও বিবেচনা করা হয়।   উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে ব্যবহার করা হয়। একবার কোনও নাম ব্যবহার হয়ে গেলে এই অঞ্চলের তালিকায় সেটি আবার ব্যবহার করা হয় না। ফলে প্রতিটি নতুন ঘূর্ণিঝড়ের জন্য তালিকা থেকে পরবর্তী নামটি নেওয়া হয়।    ঘূর্ণিঝড়ের নাম সব সময় কোনো ব্যক্তি বা জায়গার নামে রাখা হয়—এমন ধারণাও সঠিক নয়। নামের উৎস হতে পারে বিভিন্ন ভাষার শব্দ, প্রকৃতি কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশের প্রস্তাবিত অন্য কোনো নাম। তবে নামটি যেন আপত্তিকর না হয় এবং সহজে ব্যবহার করা যায়, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।   নাম থাকলেই কি ঝড়ের ভয়াবহতা বোঝা যায়?   না। ঘূর্ণিঝড়ের নামের সঙ্গে এর শক্তি বা ধ্বংসক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক নেই। নামটি মূলত ঝড়টিকে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। একটি ঝড় কতটা শক্তিশালী, বাতাসের গতি কত, কোথায় আঘাত হানতে পারে এবং কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এসব জানতে আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে হয়।   কোনও ঘূর্ণিঝড়ের নাম পরিচিত বা আকর্ষণীয় হলেই সেটি বেশি শক্তিশালী, এমন নয়। আবার তুলনামূলক সাধারণ নামের ঝড়ও ভয়াবহ হতে পারে। তাই নামের চেয়ে ঝড়ের অবস্থান, তীব্রতা, সম্ভাব্য গতিপথ এবং সরকারি সতর্কবার্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   ঘূর্ণিঝড়ের নাম জানার পাশাপাশি সতর্ক থাকাও জরুরি   ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুধু পরিচিতির জন্য নয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যোগাযোগ সহজ করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। ‘অর্ণব’-এর মতো কোনও ঝড়ের নাম সংবাদে শুনলে সেই ঝড় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা, আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।   সবশেষে, ঘূর্ণিঝড়ের নাম কোনও একক ব্যক্তি ঠিক করেন না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিয়মে নাম ব্যবহার করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো ঝড়কে সহজে শনাক্ত করা, সতর্কবার্তা পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানো।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৯, ২০২৬

ঘূর্ণিঝড় অর্নবের প্রভাব বাংলাদেশেও

জয়-পুতুলসহ ৮ জনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, আজ ভারতের উপকূলে আঘাতের শঙ্কা

সংগৃহীত ছবি
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব নিয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বাংলাদেশে: আবহাওয়াবিদ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী তিন দিন থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বুধবার থেকে তাপমাত্রা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।     মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।     তিনি জানান, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এর সরাসরি বড় ধরনের প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে।   আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইসহ দেশের কয়েকটি উপকূলীয় এলাকার কিছু অংশে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। আগামী তিন দিন দেশের কিছু কিছু জায়গায় থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।     ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হলে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ। তার ভাষ্য, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা বেশি ছিল। তবে বুধবার থেকে বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে তাপমাত্রা কমতে পারে।     তবে এই বৃষ্টির পরপরই দেশে শীতের আমেজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি। নভেম্বরের শেষের দিকে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। বর্তমানে কার্তিক মাস হওয়ায় ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু এলাকায় হালকা শীত অনুভূত হওয়া এবং কুয়াশার মতো আবহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।     সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির ১২ নম্বর বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।     মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৩০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।     বুলেটিনে আরও জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।     এ পরিস্থিতিতে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন এলিজা জামান

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন আসিফ: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অভিযোগ নাহিদের

আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সঙ্গে আঁতাত করে দলটিকে ফিরিয়ে আনতে যা যা করা প্রয়োজন, বিএনপি সরকার তাই করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে দলের গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ বলেন, দেশে দলীয়করণ চলছে। রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে নিজেদের ব্র্যান্ডিং করছে বিএনপি। জনগণের রায়কে দলটি অবমাননা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।  এ পরিস্থিতিতে দেশ রক্ষায় জুলাইয়ের মতো আবারও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক। এ সময় দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচন হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, এমন কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।  সারাদেশে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬
পুরোনো ছবি

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় জামায়াত

সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু। ফাইল ছবি

এনসিপির জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক হলেন মাহমুদা মিতু

ছবি: সংগৃহীত

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে: সালাহউদ্দিন

0 Comments