আন্তর্জাতিক

ইসরাইলকে সতর্কবার্তা, হিজবুল্লাহর অভিজ্ঞতা মনে করালেন ইসমাইল ঘানি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল ঘানি সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর কাছে পরাজয় থেকে ইসরাইলকে অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে। 

 

শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গাজারও নিজস্ব প্লাবন রয়েছে। আমরা যখন বলেছিলাম হিজবুল্লাহর কাছে ‘মিরাসাদ’ (ড্রোন) আছে, তখন আপনারা পাত্তা দেননি এবং ফাঁদে পড়েছেন। এই একশত হতাহতের জবাব কে দেবে?’ 

 

ঘানি আরও বলেন, ‘গাজারও নিজস্ব প্লাবন রয়েছে। আপনারা যদি আপনাদের রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা অনুযায়ী চলেন, তবে ঝড়ের কবলে পড়বেন। সতর্ক থাকুন।’ 

 

‘মিরাসাদ’ হলো একটি ছোট চালকবিহীন আকাশযান যা লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

 

উল্লেখ্য, মিরাসাদ ইরানের একটি ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানেরও নাম। ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলের মদদপুষ্ট এমকেও বাহিনীর একটি আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছিল ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। সেই অভিযানে শত্রুপক্ষের ৪,৮০০-এরও বেশি সেনা হতাহত হয় এবং ১২০টি ট্যাংক ও ৪০০টি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছিল।

 

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক একটি অভিযানে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় একটি ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আলেকজান্ডার ফিলিন নামে এক ইসরাইলি সেনা নিহত এবং আরও সাতজন আহত হন। 

 

পৃথক আরেকটি হামলায়, রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার আঘাতে আরেকটি ইসরাইলি বাহিনী লক্ষ্যবস্তু হয়, যেখানে চারজন সেনা আহত হন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

হিজবুল্লাহ সম্প্রতি লেবাননের অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। 

 

গত শুক্রবার হিজবুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল শেখ নাঈম কাসেম বলেন, ‘আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না, আর এটিই বিজয়ের একটি অপরিহার্য উপাদান।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘শত্রু যখন আমাদের দিকে অস্ত্র তাক করবে, আমরাও অস্ত্রের মাধ্যমেই তার মোকাবিলা করব।’ 

 

কাসেম যুক্তি দেখিয়ে বলেন যে, প্রতিরোধ নিজেই বিজয়ের একটি রূপ। দখলদারিত্বকে প্রত্যাখ্যান করার প্রতিটি পদক্ষেপই একেকটি বিজয়। 

 

এদিকে, সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও লেবানন সীমান্তে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এই যুদ্ধ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। 

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঁধ নির্মাণে চীন, দুশ্চিন্তায় ভারত

তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা জোরদার করছে নয়াদিল্লি।   শুক্রবার (১৯ জুন) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প বর্তমানে নির্মাণাধীন। এর পালটা জবাব হিসেবে ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।   প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান।   তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। যেখানে চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, সেখানে ভারতের এসইউএমপি এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রমও এখনো শুরু হয়নি।   ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।   বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হঠাৎ ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।   ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।   নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানের সম্ভাব্য পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা। ফলে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি।   এদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও জোরদার করা হচ্ছে।  সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির সময়ও গাজায় শিশু হত্যার অভিযোগ, বলছে ইউনিসেফ

ছবি : সংগৃহীত

ইসরাইলকে সতর্কবার্তা, হিজবুল্লাহর অভিজ্ঞতা মনে করালেন ইসমাইল ঘানি

ছবি : সংগৃহীত

আমি না থাকলে ইসরায়েল টিকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা বন্ধে বাধ্য করতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে বলল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে ইরান। তবে এর জন্য লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে বলে জানায় তেহরান।   আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু চুক্তির শর্ত মেনে ইসরায়েল যাতে লেবাননে হামলা বন্ধ করে, তা নিশ্চিত করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।   এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির খবরের মধ্যেই শুক্রবার ভোর থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী শুধু ইরান নয়, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার দায়িত্বও ওয়াশিংটনের রয়েছে। তাই লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।   অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় গড়ে প্রতিদিন একজন করে ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় গতি: সুইজারল্যান্ডে ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফ

ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনে মুখোমুখি ট্রেন দুর্ঘটনা: চালক নিহত, আহত অন্তত ৮৯

ছবি : সংগৃহীত

শেষ মুহূর্তে থমকে গেল আলোচনা: যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?

ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   শুক্রবার (১৯ জুন) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল একই দিনে বিকাল ৪টা থেকে।   যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কূটনীতিক সংবাদমাধ্যমকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইরানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল লেবাননে সংঘাত কমিয়ে আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।   তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শুরু হওয়ার পরপরই দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ১২টি বিমান হামলা ও ধারাবাহিক গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।   এক গালফ কূটনীতিক এএফপিকে জানান, দুই পক্ষ শত্রুতা বন্ধে সম্মত হয়েছে, তবে এটি কঠোরভাবে মেনে চলা না হলে পরিস্থিতি আবারও অবনতি হতে পারে। একই সময়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে বলে তারা ধারণা করছে।   হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ইসরাইল যদি চুক্তি মানে, তবে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে। অন্যদিকে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ হামলা না করলে আমাদের জন্য এটি যুদ্ধের সময় নয়।   তবে বাস্তবে হামলা অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ লেবাননের মানুষ যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।   লেবাননের টাইর শহর থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট বলেন, এটিকে সত্যিকারের যুদ্ধবিরতি বলা কঠিন। প্রতিবারই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলে নতুন করে হামলা শুরু হয়।   এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, লেবানন-ইসরাইল আলোচনা আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, যে কোনো আলোচনার ভিত্তি হতে হবে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি।   জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক যুদ্ধবিরতির খবরকে স্বাগত জানিয়ে উভয় পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ ও সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   সূত্র: আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানে আফগানিস্তানের বিমান হামলা

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments