ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অংশ হিসেবে ৬০ দিনের একটি লাইসেন্স জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
এতে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহের অনুমতি পেল তেহরান।
সোমবার (২২জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান ফলপ্রসূ শান্তি আলোচনা পর এই অনুমোদন দেওয়া হলো।
নিষেধাজ্ঞা মওকুফের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ‘ভালো ভিত্তি’ তৈরি হয়েছে।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের হামলা শুরু করে।
জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে দীর্ঘ
আলোচনার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া আলোচনায় আরো গতি পাবে বলে জানান বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যা ইরানি তেলের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির অনুমোদন দেয়।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে সীমিত হয়ে পড়া তেল রপ্তানির সুযোগ পুনরুদ্ধার হওয়ায় এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচকরা হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকট কমানোর লক্ষ্যে ইরানকে রাজি করাতে এই ছাড়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে আগে থেকে কার্যকর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিষিদ্ধ লেনদেনগুলো সাময়িকভাবে অনুমোদিত থাকবে।