ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজতে একটি শান্তিচুক্তির জন্য চলতি সপ্তাহের শেষে পাকিস্তানে বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওই বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তান সফর করতে পারেন। তার সঙ্গে প্রশাসনের আরও শীর্ষ কর্মকর্তারাও যেতে পারেন।
তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, সফরের সময়সূচি, স্থান এবং অংশগ্রহণকারীদের তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, সবকিছুই পরিবর্তনশীল।
তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিকল্প স্থান হিসেবে তুরস্কের নামও সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা ইসলামাবাদই তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
এই পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্কও এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখছে।
বুধবার হোয়াইট হাউসে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। গতকাল বুধবার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে এ শুভেচ্ছা জানান। শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, ভারতের সরকার, জনগণ ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাদের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আপনাকে এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ভারত ও বাংলাদেশ একটি অভিন্ন ইতিহাস, সুগভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ ও দীর্ঘস্থায়ী ভাষাগত ঐতিহ্যের মাধ্যমে আবদ্ধ, যা আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের ভিত্তিটিকে রূপদান করে। এতে আরও বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে আমরা সংযুক্তি, বাণিজ্য, উন্নয়ন অংশীদারত্ব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, শিক্ষাসহ প্রধান খাতগুলোতে জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে সীমান্তের উভয় পাশের নাগরিকদের কাছে বাস্তবিক সুফল পৌঁছে দিয়েছি। অনুগ্রহ করে ফের আমার সর্বোচ্চ বিবেচনার আশ্বাস এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক শুভ কামনা গ্রহণ করুন।
মধ্যপ্রাচে চলমান উত্তেজনার সময় ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্প পুরোপুরি সচল হতে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম এই এলএনজি কমপ্লেক্সটির মেরামত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। বুধবার (২৫ মার্চ) নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি এই তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির দুটি এলএনজি উৎপাদন ইউনিটে হামলার কারণে তা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাঠামোগত বাধা তৈরি হয়েছে। রেফ্রিজারেশন কম্প্রেসার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস টারবাইনগুলোর সরবরাহে বিশ্বজুড়ে দুই থেকে চার বছরের বেশি সময় লাগবে। রিস্টাড এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতির কারণে কাতারের এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে। এর পরিমাণ বছরে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টন। উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা মূলত অর্থায়নের ওপর নির্ভর করছে না, বরং সরবরাহ ব্যবস্থা এখানে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান এলএনজি কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বড় আকারের টারবাইন তৈরি করে। ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ এবং কয়লার ব্যবহার থেকে সরে আসার বৈশ্বিক প্রবণতার কারণে এই সরবরাহকারীদের ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্রয়াদেশে পূর্ণ রয়েছে। এর ফলে, তাৎক্ষণিকভাবে মূলধন বিনিয়োগ করা হলেও শুধু যন্ত্রপাতি সংগ্রহের বিলম্বের কারণেই এই কেন্দ্রটি আংশিক সচল হতে কয়েক বছর এবং পুরোপুরি সচল হতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। রিস্টাড এনার্জির সাপ্লাই চেইন রিসার্চ বিভাগের প্রধান আউডুন মার্টিনসেন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে রাস লাফান প্রকল্পের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে। কাতারের এই সংকট মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৃহত্তর আঞ্চলিক জ্বালানি বিপর্যয়ের একটি অংশ। এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলএনজি প্ল্যান্ট, শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিস্টাড এনার্জি ধারণা করছে, এখন পর্যন্ত মেরামতের খরচ কমপক্ষে আড়াই হাজার কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাতে পারে এবং তা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু স্থাপনা কয়েক মাসের মধ্যে পুনরায় চালু হতে পারে। তবে বিশেষায়িত আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল অন্য স্থাপনাগুলো বছরের পর বছর ধরে বন্ধ থাকতে পারে। রাস লাফানে দীর্ঘমেয়াদি এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী এলএনজি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং এশিয়ার বাজারগুলো, যা কাতারি রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা এর ভুক্তভোগী হবে। কারণ আর্থিক সক্ষমতার চেয়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতিই এই পুনরুদ্ধারের পথে প্রধান বাধা।
পশ্চিমবঙ্গে আরও এক মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যটির ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ১৮৪ থেকে ১৯৪টি আসন জিততে পারে বলেও আভাস মিলেছে একটি জনমত জরিপে। সর্বভারতীয় গণমাধ্যম ‘সিএনএন-নিউজ ১৮’ দ্বারা প্রকাশিত ভোট-ভাইব নামে একটি সংস্থার জরিপ অনুসারে, ২০২১ সালের নির্বাচনি সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে আসন্ন নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন পেতে পারে। যদিও মমতা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে তারা অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে। প্রাক-নির্বাচনি জরিপ অনুযায়ী, কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টসহ অন্য দলগুলো মাত্র ১ থেকে ৩টি আসন পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস শতকরা ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে বিজেপি ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেতে পারে। এর অর্থ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রবণতার প্রতিফলন ঘটবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সম্প্রদায়-ভিত্তিক প্রবণতা অনুযায়ী, মুসলিমদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি এখনও ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। জরিপ বলছে, শতকরা ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ মুসলিমের প্রথম পছন্দ ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল। আবার তফসিলি উপজাতিদের মধ্যে বিজেপির প্রতি জোরালো সমর্থন রয়েছে, যার শতকরা হার ৫১ শতাংশ। যদিও মতুয়া সম্প্রদায়, তফসিলি জাতি ও দলিত ভোটারদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ রয়েছে, যেখানে ৪৩ শতাংশ ভোটার বিজেপিকে এবং ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার তৃণমূলকে সমর্থন করছে। বাম এবং কংগ্রেস সম্মিলিতভাবে মাত্র ৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেতে পারে। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার পাল্লাই ভারী। রাজ্যটির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের তালিকায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই আছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী, যার সমর্থন ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ। সিপিআইএম নেতা মোহাম্মদ সেলিম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী ৩ দশমিক ৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছেন। রাজ্যের পুরুষদের (৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ) তুলনায় নারী ভোটাররা (৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ) মমতার প্রতি সামান্য বেশি সমর্থন দেখিয়েছেন। মুসলিম সম্প্রদায় মমতার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি, যাদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ তাকে সমর্থন করেন, অন্যদিকে তপশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং উচ্চবর্ণের হিন্দুদের ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ শুভেন্দু অধিকারীর দিকে নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। যে যে ইস্যুগুলোতে এবারের নির্বাচন হতে চলেছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা বেকারত্ব। ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, বেকারত্বই সবচেয়ে জরুরি উদ্বেগ হিসেবে তালিকায় উঠে এসেছে। এরপরই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা এবং নারী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি। ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতার অভিমত এ দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পিছনে রয়েছে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ, কসবা আইন কলেজে নারী ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ। ১০ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, মূল্যবৃদ্ধি এবং ১০ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, দুর্নীতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক এবং ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র (এজেইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির একটা বড় কারণ হতে পারে বলে জরিপে উঠে এসেছে। শতকরা ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তৃণমূলের মুসলিম ভোটের ভাগ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এর পিছনে রয়েছে নতুন দল গঠন করে হুমায়ুন কবিরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। সর্বোপরি এজেইউপির সঙ্গে আবার জোটসঙ্গী হয়ে ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’ (এআইএমআইএম) দলের নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষণা দেওয়া। যদিও শতকরা ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে হুমায়ূন কবির বিজেপির সমর্থনপুষ্ট। মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতার অভিমত হুমায়ূনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে তৃণমূলের হাত। বিগত পাঁচ বছরে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের কর্মক্ষমতার বিষয়টিও নির্বাচনি ইস্যু হতে পারে। সরকারের কর্মক্ষমতা নিয়ে ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা ‘খুব ভালো’ বা ‘ভালো’ বলে রেটিং দিয়েছেন, যেখানে ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা একে ‘খারাপ’ বা ‘খুব খারাপ’ বলে অভিহিত করেছেন। আর এই ছবিতেই পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে, সরকারের কর্মক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও ব্যাপক অসন্তোষ আছে। জরিপ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল বিজেপিও বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। ১৭ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতার অভিমত, দলে একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতার অভাব। প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার মনে করেন, দলটি বাংলার সংস্কৃতি, অস্মিতা বোঝে না। ১০ দশমিক ১ শতাংশের অভিমত দুর্বল সংগঠন এবং ১২ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের অভিমত, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে বিজেপি দলের মর্মস্পর্শী বার্তার অভাব দলটির সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২ আসনে এবং দ্বিতীয় ও শেষ দফায় ২৯ এপ্রিল ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৪ মে।