প্রবাসী

মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশিদের বড় ভূমিকা, তবুও নিয়োগে অনিশ্চয়তা

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি- সংগৃহীত
ছবি- সংগৃহীত

মালয়েশিয়া বরাবরই কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ। কৃষি সেক্টরকে চালিত করার জন্য ব্রিটিশ ভারত থেকে কর্মী নিয়োগ করে। একই সঙ্গে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য চীন থেকে কর্মী নিয়োগ করে।

 

ভারত উপমহাদেশ এবং মালয়েশিয়া একই ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ছিল এবং তখন মাদ্রাজ, কলকাতা বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় আখ ও রাবার চাষের জন্য কর্মী নিয়োগ করে। এভাবে ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কর্মী নিয়োগ করে।

ব্রিটিশ ভারতের বাংলাভাষী জনগণ বিশেষ করে কলকাতা, বিহার ও ঢাকা অঞ্চলের বেশ কিছু অধিবাসী ব্রিটিশ সরকারের অধীনে মালয়েশিয়ায় আসে। পোর্ট ডিকসনের বাঙালি পাড়া সে সাক্ষ্য বহন করছে। কালক্রমে বাঙালিদের কয়েক প্রজন্ম চলে গেছে, অনেকেরই পূর্বসূত্র বহাল নেই। সবাই এখন মালয়েশিয়ান।

শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, মালয়েশিয়ার স্বাধীনতার সময় মালয়দের সঙ্গে এক হয়ে তারা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে। তার স্বীকৃতিস্বরূপ মালয়েশিয়া তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছে।

৭০ এর দশকে মালয়েশিয়া কৃষি নির্ভর থেকে শিল্পনির্ভর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা শুরু করে। এরপর ৮০, ৯০ দশক পেরিয়ে একটি উন্নত ও শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এই উদ্বোধনের পেছনে রয়েছে মালয় সরকারের পরিকল্পনা এবং বিদেশি অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ।

 

 

বাংলাদেশ শ্রম বিনিয়োগ করে মোটামুটি ৯০ দশক থেকে। বলা হয়, মালয়েশিয়ার প্রতিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর সাথে বাংলাদেশির ঘাম, শ্রম, মেধা, দক্ষতা ও আন্তরিকতা মিশে আছে।

বাংলাদেশিদের এমন শ্রম, ঘাম, মেধা, দক্ষতা, আন্তরিকতা ও সততা জড়িয়ে আছে মালয়েশিয়ার কৃষি, প্ল্যান্টেশন, নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা, খনিজ সেক্টরে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কাসহ ১৪টি দেশের শ্রমকে সঠিক ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে এসব দেশ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ ও বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে যা ওইসব দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার যে শ্রমনির্ভর সম্পর্ক গড়ে ওঠে তা এখন বিনিয়োগ অংশীদার এ উপনীত করেছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ৮ম বৃহত্তর বিনিয়োগ অংশীদার।

আরামদায়ক আবহাওয়া, খাবারের সাদৃশ্য, স্থানীয়দের আতিথেয়তা ও ভ্রাতৃসুলভ ব্যবহার এবং ধর্মীয় মিল থাকায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশিদের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা দিয়েছে। দিয়েছে আয়ের নিশ্চয়তা। ফলে, বাংলাদেশের প্রতি মালয়েশিয়ার এই আন্তরিকতা ও সহানুভূতি বিশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশ স্মরণ করে। তবে বেশ কিছু ফ্যাক্টর উভয় দেশের সম্পর্ককে হোঁচট খেতে হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম কর্মী নিয়োগ শুরু ও বন্ধ করে দেওয়া।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে অতিরিক্ত কর্মী আগমনকে কেন্দ্র করে কাজ, খাবার ও আবাসন না পেয়ে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে সতর্ক মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে।

 

 

এরপর ২০০৯ সালের ১০ মার্চ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিকর্মী নিয়োগে জারীকৃত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর জি-টু-জি পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু মাত্র একটি প্ল্যান্টেশন সেক্টরে ১০ হাজারের কম কর্মী নিয়োগ করে। পরে ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে ‘জি টু জি প্লাস’ নামের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এতে সকল সেক্টরে (৬টি) কর্মী নিয়োগের জন্য খুলে দেয়। মালয়েশিয়া প্রান্তে প্রাইভেট এজেন্সি না থাকা, ১০টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির জোট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আবারও সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং কাজ না পাওয়ার অভিযোগে নিয়োগ বন্ধ করে মালয়েশিয়া।

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটাদাগে কয়েকটি অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বারবার এসেছে, যেমন অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, কাজ ও বেতন না পাওয়া।

 

 

দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়া অভিযোগগুলো থেকে বের হবার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার এবং মানবপাচারের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেটিং মান উন্নত করার প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। এজন্য মালয়েশিয়া সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার শর্তগুলো পরিপালন করা, সহজ অভিযোগ দেওয়ার পদ্ধতি চালু করা, শ্রম বিভাগ কর্তৃক কর্মীদের কর্ম ও আবাসস্থল পরিদর্শন করা, সমস্যা সমাধান করা, নিয়োগকর্তাদের নিয়ম কানুন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা, আমেরিকার শ্রম অডিট কর্তৃক অডিট সম্পাদন করা, নিয়োগকর্তাদের আন্তর্জাতিক রেটিং অর্জন করা, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অভিবাসন ব্যয় নিয়ে রয়েছে পুরোনো অভিযোগ। সর্বশেষ জাতিসংঘ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, এক্ষেত্রে উভয় দেশেই দুর্নীতি হয়েছে। মালয়েশিয়া বিভিন্নভাবে তদন্ত করে নিশ্চিত করেছে, অভিবাসন ব্যয় বেশি হলেও কোনো দুর্নীতি হয়নি। এমন কি তৎকালীন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বিন মোহাম্মদ নিজেও পার্লামেন্টে বলেছেন, সিস্টেম ঠিক আছে। কিন্তু এই সিস্টেমের পেছনের মানুষদের নিয়ে তার সন্দেহ আছে। এই সন্দেহ থেকেই ‌‘সিন্ডিকেট’ শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা যায়।

 

শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা এন্ডি হল এবং মালয়েশিয়ার এনজিওগুলোও অনেক বার অনুরূপ দুর্নীতি, শ্রম শোষণ ও মানবপাচারের কথা বলে আসছে। এসব নিয়ে মালয়েশিয়া সরকার অবস্থান পরিষ্কার করলেও, অদ্যাবধি বাংলাদেশ পক্ষে এসব নিয়ে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তদন্ত করছে এবং দুদক মামলা করেছে যা আদালতে আছে। ২০১৭ সালের সিন্ডিকেট নিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে কিন্তু দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার হয়নি। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গন এবং মালয়েশিয়াকে ধোঁয়াশার মধ্যে রেখে দিয়েছে। তাই, নতুন করে কর্মী নিয়োগের পরিষ্কার কোনো বার্তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা বলছেন।

 

মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সরকারিভাবে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়া প্রান্তের যাবতীয় খরচ এবং বিমান ভাড়া নিয়োগকর্তা বহন করে বাংলাদেশ প্রান্তে পাসপোর্ট, মেডিকেল স্ক্রিনিং, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স, ভিসা ফি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির ফিশ ব্যতীত কোনো খরচ না থাকায় সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। কিন্তু মালয়েশিয়ার কিছু কিছু নিয়োগকর্তা অভিবাসন ব্যয়ের অর্থ কর্মীকে ফেরত দেবার ঘোষণা দিলে কর্মীরা সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় নয় তাদের প্রকৃত যে ৪/৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে সেটি ফেরত পেতে দাবি করে এবং অসহযোগ আন্দোলন পর্যন্ত করে। তখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রেতা, শ্রম অধিকার সংস্থা ইত্যাদির দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

 

সিস্টেমের বাইরে গিয়ে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বা ইচ্ছা থেকে অনেক নিয়োগকর্তা পিছু হটতে বাধ্য হয়। ৩১ মে ২০২৪ তারিখের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রবেশের ডেডলাইন দেয় মালয়েশিয়া। কিন্তু সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও ফ্লাইট না পাওয়ায় মালয়েশিয়ায় যেতে না পারাদের পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রেরণের উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ সরকার যেতে না পারাদের বিষয়টি একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি দিয়ে তদন্ত করে প্রমাণ পায় যে, সরকার নির্ধারিত ৮০ হাজার টাকার অতিরিক্ত ৩/৪/৫ লাখ টাকা রিক্রুটিং এজেন্সিকে দিয়েছে।

 

 

খোদ সরকার তদন্তে অতিরিক্ত অর্থ দেবার প্রমাণ পেলেও সরকারি আদেশ অমান্য করা বা ভঙ্গ করার বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয়নি। তবে কেউ অভিযোগ করলে সরকার রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে সার্ভার লক শাস্তি আরোপ করেছে মর্মে জানা যায়। যদি অভিযোগকারীকে অর্থ ফেরত দেয় ও মীমাংসা করে তাহলে সার্ভার আনলক করে। সার্ভার লক করার অর্থ রিক্রুটিং এজেন্সি কোনো দেশে কর্মী প্রেরণ করতে ক্লিয়ারেন্স পাবে না।

 

এ ধরনের অনেক অভিযোগ, সিআইডি, দুদক ও আদালতে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার সেগুলো নিষ্পত্তি করার তাগাদা দিয়েছে বলে মিডিয়ায় এসেছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ জানতে চায়, মালয়েশিয়া সরকার কীভাবে কোন কোন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলোর রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাবদ্ধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার সুনির্দিষ্ট করে ১০টি শর্ত প্রেরণ করে সকল কর্মী প্রেরণকারী দেশের নিকট।

 

নেপাল, পাকিস্তান জানিয়ে দেয়, একতরফাভাবে নির্ধারিত ১০টি শর্ত তাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসের আয়তন, বিদেশে কর্মী প্রেরণ সংখ্যা এবং নিজস্ব ট্রেনিং সেন্টার থাকার শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব দেয় কিন্তু মালয়েশিয়া পক্ষ কোনো প্রতি উত্তর না দিলেও বাংলাদেশ উক্ত তিনটি বাদ দিয়ে সাতটি ও ছয়টি শর্ত পূরণ করেছে এমন রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের নিকট হস্তান্তর করেছে মর্মে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।

 

এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। ধারণা করা হয়েছে, কর্মী নিয়োগের প্রাক্কালে মালয়েশিয়া রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা প্রকাশ করবে। তবে শোনা যায় সীমিত রিক্রুটিং এজেন্সি পদ্ধতি অনুসরণ করবে মালয়েশিয়া। অভিবাসন ব্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে মালয়েশিয়া বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।

 

ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ভিজিটিং প্রফেসর,ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে থাকা কর্মীর কাছ থেকে নিয়োগের পূর্বেই অর্থ নেওয়া হয় বিধায় বিষয়টি বাংলাদেশকেই ক্লিয়ার করতে হবে, ভবিষ্যতে মার্কেট খুললে বাংলাদেশ অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি না। অন্যদিকে নিয়োগকর্তা সকল খরচ প্রদান করে থাকলে কর্মীর নিকট থেকে পাসপোর্ট, বিমান ভাড়া, মেডিকেল স্ক্রিনিং, ভিসা গ্রহণ বাবদ টাকা নেওয়ার বিষয়টি উভয় দেশকে যাচাই করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দাবিও আছে। বিষয়গুলো পরিষ্কার করা দরকার।

 

সীমিত রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে অনেকে বলে থাকেন, ১০, ২৫ বা ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নয়, মালয়েশিয়ার উচিত জাপানের কর্মী নিয়োগ মডেল অনুসরণ করা তাহলে কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়াকে বারবার হোঁচট খেতে হবে না।

জাপানের সরকারি সংস্থা ওটিআইটিতে প্রদর্শিত তথ্যমতে, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্টকে তালিকাভুক্ত করে তাদের মাধ্যমেই কর্মী নিয়োগ করছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে যে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি এই তালিকাভুক্ত হতে পারে। সেখানে ৯৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি তালিকাভুক্ত দেখা যায়।

 

অভিবাসী কর্মীদের নিয়ে কাজ করা পুরস্কারপ্রাপ্ত কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য যেতে এত টাকা কেন লাগে, এই প্রশ্ন শুধু বাংলাদেশ নয়, মালয়েশিয়াতেও উত্থাপিত হয়েছে বারবার। বাংলাদেশি কর্মীরা নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ইত্যাদি দেশের কর্মীদের সাথে কাজ করতে গিয়ে জানতে পারে কে কত টাকা খরচ করে এসেছে। যখন বাংলাদেশি কর্মী নিজের অতিরিক্ত খরচের তথ্য জানতে পারে, তখন সে উচ্চারণ করে কেন এত টাকা? কারণ এই অতিরিক্ত চাপিয়ে দেওয়া টাকা জোগাড় করতে ঋণ করতে হয়, যে ঋণ কখনোই শোধ হয় না। এর ফলে যে শ্রম দেয় সেটিকেই আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে জোর জবরদস্তি শ্রম, আর অধুনা একে বলা হয়েছে মানবপাচার।

 

সানওয়ে ইউনিভার্সিটির বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. খালেদ শুকরান বলেন, বাংলাদেশকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, দেশটি তার নাগরিককে জোর জবরদস্তি ও মানবপাচারের মধ্যে ফেলে দেবে, না কি স্বস্তির জায়গা দেবে। যে দেশ লক্ষ লক্ষ নাগরিককে চাকরি ও আয় রোজগারের ব্যবস্থা ও সুযোগ দিয়েছে, সে দেশকে স্বস্তির উপায় দেবে কি না এবং এর ওপর নির্ভর করছে মালয়েশিয়ায় আগামীর কর্মসংস্থান।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি- সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশিদের বড় ভূমিকা, তবুও নিয়োগে অনিশ্চয়তা

মালয়েশিয়া বরাবরই কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ। কৃষি সেক্টরকে চালিত করার জন্য ব্রিটিশ ভারত থেকে কর্মী নিয়োগ করে। একই সঙ্গে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য চীন থেকে কর্মী নিয়োগ করে।   ভারত উপমহাদেশ এবং মালয়েশিয়া একই ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ছিল এবং তখন মাদ্রাজ, কলকাতা বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় আখ ও রাবার চাষের জন্য কর্মী নিয়োগ করে। এভাবে ব্রিটিশ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কর্মী নিয়োগ করে। ব্রিটিশ ভারতের বাংলাভাষী জনগণ বিশেষ করে কলকাতা, বিহার ও ঢাকা অঞ্চলের বেশ কিছু অধিবাসী ব্রিটিশ সরকারের অধীনে মালয়েশিয়ায় আসে। পোর্ট ডিকসনের বাঙালি পাড়া সে সাক্ষ্য বহন করছে। কালক্রমে বাঙালিদের কয়েক প্রজন্ম চলে গেছে, অনেকেরই পূর্বসূত্র বহাল নেই। সবাই এখন মালয়েশিয়ান। শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, মালয়েশিয়ার স্বাধীনতার সময় মালয়দের সঙ্গে এক হয়ে তারা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে। তার স্বীকৃতিস্বরূপ মালয়েশিয়া তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছে। ৭০ এর দশকে মালয়েশিয়া কৃষি নির্ভর থেকে শিল্পনির্ভর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা শুরু করে। এরপর ৮০, ৯০ দশক পেরিয়ে একটি উন্নত ও শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এই উদ্বোধনের পেছনে রয়েছে মালয় সরকারের পরিকল্পনা এবং বিদেশি অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ।     বাংলাদেশ শ্রম বিনিয়োগ করে মোটামুটি ৯০ দশক থেকে। বলা হয়, মালয়েশিয়ার প্রতিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর সাথে বাংলাদেশির ঘাম, শ্রম, মেধা, দক্ষতা ও আন্তরিকতা মিশে আছে। বাংলাদেশিদের এমন শ্রম, ঘাম, মেধা, দক্ষতা, আন্তরিকতা ও সততা জড়িয়ে আছে মালয়েশিয়ার কৃষি, প্ল্যান্টেশন, নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা, খনিজ সেক্টরে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কাসহ ১৪টি দেশের শ্রমকে সঠিক ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে এসব দেশ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ ও বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছে যা ওইসব দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার যে শ্রমনির্ভর সম্পর্ক গড়ে ওঠে তা এখন বিনিয়োগ অংশীদার এ উপনীত করেছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ৮ম বৃহত্তর বিনিয়োগ অংশীদার। আরামদায়ক আবহাওয়া, খাবারের সাদৃশ্য, স্থানীয়দের আতিথেয়তা ও ভ্রাতৃসুলভ ব্যবহার এবং ধর্মীয় মিল থাকায় মালয়েশিয়া বাংলাদেশিদের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা দিয়েছে। দিয়েছে আয়ের নিশ্চয়তা। ফলে, বাংলাদেশের প্রতি মালয়েশিয়ার এই আন্তরিকতা ও সহানুভূতি বিশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশ স্মরণ করে। তবে বেশ কিছু ফ্যাক্টর উভয় দেশের সম্পর্ককে হোঁচট খেতে হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম কর্মী নিয়োগ শুরু ও বন্ধ করে দেওয়া। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে অতিরিক্ত কর্মী আগমনকে কেন্দ্র করে কাজ, খাবার ও আবাসন না পেয়ে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে সতর্ক মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে।     এরপর ২০০৯ সালের ১০ মার্চ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিকর্মী নিয়োগে জারীকৃত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর জি-টু-জি পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু মাত্র একটি প্ল্যান্টেশন সেক্টরে ১০ হাজারের কম কর্মী নিয়োগ করে। পরে ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে ‘জি টু জি প্লাস’ নামের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে সকল সেক্টরে (৬টি) কর্মী নিয়োগের জন্য খুলে দেয়। মালয়েশিয়া প্রান্তে প্রাইভেট এজেন্সি না থাকা, ১০টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির জোট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে আবারও সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং কাজ না পাওয়ার অভিযোগে নিয়োগ বন্ধ করে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটাদাগে কয়েকটি অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বারবার এসেছে, যেমন অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, কাজ ও বেতন না পাওয়া।     দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়া অভিযোগগুলো থেকে বের হবার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার এবং মানবপাচারের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেটিং মান উন্নত করার প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। এজন্য মালয়েশিয়া সরকার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার শর্তগুলো পরিপালন করা, সহজ অভিযোগ দেওয়ার পদ্ধতি চালু করা, শ্রম বিভাগ কর্তৃক কর্মীদের কর্ম ও আবাসস্থল পরিদর্শন করা, সমস্যা সমাধান করা, নিয়োগকর্তাদের নিয়ম কানুন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা, আমেরিকার শ্রম অডিট কর্তৃক অডিট সম্পাদন করা, নিয়োগকর্তাদের আন্তর্জাতিক রেটিং অর্জন করা, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। অভিবাসন ব্যয় নিয়ে রয়েছে পুরোনো অভিযোগ। সর্বশেষ জাতিসংঘ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, এক্ষেত্রে উভয় দেশেই দুর্নীতি হয়েছে। মালয়েশিয়া বিভিন্নভাবে তদন্ত করে নিশ্চিত করেছে, অভিবাসন ব্যয় বেশি হলেও কোনো দুর্নীতি হয়নি। এমন কি তৎকালীন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বিন মোহাম্মদ নিজেও পার্লামেন্টে বলেছেন, সিস্টেম ঠিক আছে। কিন্তু এই সিস্টেমের পেছনের মানুষদের নিয়ে তার সন্দেহ আছে। এই সন্দেহ থেকেই ‌‘সিন্ডিকেট’ শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা যায়।   শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা এন্ডি হল এবং মালয়েশিয়ার এনজিওগুলোও অনেক বার অনুরূপ দুর্নীতি, শ্রম শোষণ ও মানবপাচারের কথা বলে আসছে। এসব নিয়ে মালয়েশিয়া সরকার অবস্থান পরিষ্কার করলেও, অদ্যাবধি বাংলাদেশ পক্ষে এসব নিয়ে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তদন্ত করছে এবং দুদক মামলা করেছে যা আদালতে আছে। ২০১৭ সালের সিন্ডিকেট নিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে কিন্তু দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার হয়নি। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গন এবং মালয়েশিয়াকে ধোঁয়াশার মধ্যে রেখে দিয়েছে। তাই, নতুন করে কর্মী নিয়োগের পরিষ্কার কোনো বার্তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা বলছেন।   মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সরকারিভাবে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়া প্রান্তের যাবতীয় খরচ এবং বিমান ভাড়া নিয়োগকর্তা বহন করে বাংলাদেশ প্রান্তে পাসপোর্ট, মেডিকেল স্ক্রিনিং, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স, ভিসা ফি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির ফিশ ব্যতীত কোনো খরচ না থাকায় সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়। কিন্তু মালয়েশিয়ার কিছু কিছু নিয়োগকর্তা অভিবাসন ব্যয়ের অর্থ কর্মীকে ফেরত দেবার ঘোষণা দিলে কর্মীরা সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় নয় তাদের প্রকৃত যে ৪/৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে সেটি ফেরত পেতে দাবি করে এবং অসহযোগ আন্দোলন পর্যন্ত করে। তখন বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রেতা, শ্রম অধিকার সংস্থা ইত্যাদির দৃষ্টি আকর্ষণ করে।   সিস্টেমের বাইরে গিয়ে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বা ইচ্ছা থেকে অনেক নিয়োগকর্তা পিছু হটতে বাধ্য হয়। ৩১ মে ২০২৪ তারিখের মধ্যে মালয়েশিয়া প্রবেশের ডেডলাইন দেয় মালয়েশিয়া। কিন্তু সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও ফ্লাইট না পাওয়ায় মালয়েশিয়ায় যেতে না পারাদের পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রেরণের উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ সরকার যেতে না পারাদের বিষয়টি একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি দিয়ে তদন্ত করে প্রমাণ পায় যে, সরকার নির্ধারিত ৮০ হাজার টাকার অতিরিক্ত ৩/৪/৫ লাখ টাকা রিক্রুটিং এজেন্সিকে দিয়েছে।     খোদ সরকার তদন্তে অতিরিক্ত অর্থ দেবার প্রমাণ পেলেও সরকারি আদেশ অমান্য করা বা ভঙ্গ করার বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয়নি। তবে কেউ অভিযোগ করলে সরকার রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে সার্ভার লক শাস্তি আরোপ করেছে মর্মে জানা যায়। যদি অভিযোগকারীকে অর্থ ফেরত দেয় ও মীমাংসা করে তাহলে সার্ভার আনলক করে। সার্ভার লক করার অর্থ রিক্রুটিং এজেন্সি কোনো দেশে কর্মী প্রেরণ করতে ক্লিয়ারেন্স পাবে না।   এ ধরনের অনেক অভিযোগ, সিআইডি, দুদক ও আদালতে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার সেগুলো নিষ্পত্তি করার তাগাদা দিয়েছে বলে মিডিয়ায় এসেছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ জানতে চায়, মালয়েশিয়া সরকার কীভাবে কোন কোন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কর্মী প্রেরণকারী দেশগুলোর রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাবদ্ধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া সরকার সুনির্দিষ্ট করে ১০টি শর্ত প্রেরণ করে সকল কর্মী প্রেরণকারী দেশের নিকট।   নেপাল, পাকিস্তান জানিয়ে দেয়, একতরফাভাবে নির্ধারিত ১০টি শর্ত তাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসের আয়তন, বিদেশে কর্মী প্রেরণ সংখ্যা এবং নিজস্ব ট্রেনিং সেন্টার থাকার শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব দেয় কিন্তু মালয়েশিয়া পক্ষ কোনো প্রতি উত্তর না দিলেও বাংলাদেশ উক্ত তিনটি বাদ দিয়ে সাতটি ও ছয়টি শর্ত পূরণ করেছে এমন রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের নিকট হস্তান্তর করেছে মর্মে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।   এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। ধারণা করা হয়েছে, কর্মী নিয়োগের প্রাক্কালে মালয়েশিয়া রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা প্রকাশ করবে। তবে শোনা যায় সীমিত রিক্রুটিং এজেন্সি পদ্ধতি অনুসরণ করবে মালয়েশিয়া। অভিবাসন ব্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে মালয়েশিয়া বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ভিজিটিং প্রফেসর,ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে থাকা কর্মীর কাছ থেকে নিয়োগের পূর্বেই অর্থ নেওয়া হয় বিধায় বিষয়টি বাংলাদেশকেই ক্লিয়ার করতে হবে, ভবিষ্যতে মার্কেট খুললে বাংলাদেশ অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি না। অন্যদিকে নিয়োগকর্তা সকল খরচ প্রদান করে থাকলে কর্মীর নিকট থেকে পাসপোর্ট, বিমান ভাড়া, মেডিকেল স্ক্রিনিং, ভিসা গ্রহণ বাবদ টাকা নেওয়ার বিষয়টি উভয় দেশকে যাচাই করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দাবিও আছে। বিষয়গুলো পরিষ্কার করা দরকার।   সীমিত রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয়ে অনেকে বলে থাকেন, ১০, ২৫ বা ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নয়, মালয়েশিয়ার উচিত জাপানের কর্মী নিয়োগ মডেল অনুসরণ করা তাহলে কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়াকে বারবার হোঁচট খেতে হবে না। জাপানের সরকারি সংস্থা ওটিআইটিতে প্রদর্শিত তথ্যমতে, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্টকে তালিকাভুক্ত করে তাদের মাধ্যমেই কর্মী নিয়োগ করছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে যে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি এই তালিকাভুক্ত হতে পারে। সেখানে ৯৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি তালিকাভুক্ত দেখা যায়।   অভিবাসী কর্মীদের নিয়ে কাজ করা পুরস্কারপ্রাপ্ত কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য যেতে এত টাকা কেন লাগে, এই প্রশ্ন শুধু বাংলাদেশ নয়, মালয়েশিয়াতেও উত্থাপিত হয়েছে বারবার। বাংলাদেশি কর্মীরা নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ইত্যাদি দেশের কর্মীদের সাথে কাজ করতে গিয়ে জানতে পারে কে কত টাকা খরচ করে এসেছে। যখন বাংলাদেশি কর্মী নিজের অতিরিক্ত খরচের তথ্য জানতে পারে, তখন সে উচ্চারণ করে কেন এত টাকা? কারণ এই অতিরিক্ত চাপিয়ে দেওয়া টাকা জোগাড় করতে ঋণ করতে হয়, যে ঋণ কখনোই শোধ হয় না। এর ফলে যে শ্রম দেয় সেটিকেই আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে জোর জবরদস্তি শ্রম, আর অধুনা একে বলা হয়েছে মানবপাচার।   সানওয়ে ইউনিভার্সিটির বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. খালেদ শুকরান বলেন, বাংলাদেশকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, দেশটি তার নাগরিককে জোর জবরদস্তি ও মানবপাচারের মধ্যে ফেলে দেবে, না কি স্বস্তির জায়গা দেবে। যে দেশ লক্ষ লক্ষ নাগরিককে চাকরি ও আয় রোজগারের ব্যবস্থা ও সুযোগ দিয়েছে, সে দেশকে স্বস্তির উপায় দেবে কি না এবং এর ওপর নির্ভর করছে মালয়েশিয়ায় আগামীর কর্মসংস্থান।  

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসে স্বপ্নভঙ্গ, কাজহীন হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল সালামিতে প্রতারণা, মালয়েশিয়ার ক্ষতি ৭৩ হাজার কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসের ঈদ: হাসির আড়ালে লুকানো না-পারার বেদনা

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান ঘিরে আইন-মানবিকতার তীব্র বিতর্ক

ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে মালয়েশিয়ায় বিদেশিদের ওপর পরিচালিত ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ অভিযান নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের সময় এ ধরনের অভিযান কতটা সংবেদনশীল—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।   সাবেক আইনমন্ত্রী জায়েদ ইব্রাহিম বলেন, উৎসবমুখর সময়ে কঠোর আইন প্রয়োগ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক বিদেশি কেবল বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে হারি রায়া উদযাপন করতে চান, এ সময় তাদের ওপর অভিযান চালানো অমানবিক মনে হতে পারে।   ‘অপস ওমনিপ্রেজেন্ট’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে বাস টার্মিনাল, শপিংমলসহ জনবহুল এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এর লক্ষ্য বিদেশিদের কাগজপত্র যাচাই করে তাদের অবস্থানের বৈধতা নিশ্চিত করা। তবে একযোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের ওপর এমন তল্লাশি চালানো নিয়ে সমালোচনা উঠেছে, বিশেষ করে উৎসবের প্রাক্কালে।   জায়েদ ইব্রাহিম আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতি কেবল ব্যক্তির দায় নয়, এটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ফল। তিনি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান।   সমালোচনার জবাবে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, এ অভিযান নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।   ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলী বলেন, উৎসবের সময় হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। বৈধ কাগজপত্র থাকা বিদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, অভিযান পরিচালিত হয় কেবল আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে।   তিনি বলেন, আইন প্রয়োগে শিথিলতা দেখালে অবৈধ অভিবাসনসহ নানা অপরাধ বাড়তে পারে, তাই নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।   সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন জানান, পেটালিং জেলার কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩৭ জনকে যাচাই করা হয়েছে, তবে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। শাহ আলমের তামান শ্রী মুদা বাজার, দাতারান অটোমোবিল ও টার্মিনাল ১৭-সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালিত হয়।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলছেন, আবার কেউ উৎসবের সময় মানবিক সংবেদনশীলতার অভাব হিসেবে দেখছেন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনে চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতের জয়

ছবি: সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রেকর্ড প্রাণহানি

ছবি : সংগৃহীত

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরল পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি

ছবি : সংগৃহীত
জার্মানিতে জমজমাট প্রবাসী ঈদ, ছিল নানা আয়োজন

জার্মানির বাণিজ্যিক শহর ফ্রাঙ্কফুর্টে বন্দন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উদ্যোগে ঈদ উৎসব হয়েছে। গালুস অডিটোরিয়ামে শনিবার নানা আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশীরা আনন্দঘন সময় কাটান।   সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বন্দন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর নব নির্বাচিত সভাপতি কাইউম চৌধুরীর বর্ণালী উপস্থাপনায় ঈদের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অডিটোরিয়ামটিতে উৎসব ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে আগত সব শ্রেণিপেশার প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নাচ-গানসহ ছিল নানা আয়োজন। এ দিন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কালাম চৌধুরী, পপি নুপূর, নজরুলসহ অন্য সদস্যদের বাঙ্গালির রসনা বিলাসের আপ্যায়নে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রবাসীরা। শেষে হলিউডের নৃত্যের স্বাদ নিয়ে মুগ্ধ হয়ে বাড়ি ফেরেন সবাই।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসে দুঃস্বপ্নের দিন-রাত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

ছবি : সংগৃহীত

সাইপ্রাসে যুদ্ধ ও বেকারত্বে বিপর্যস্ত বাংলাদেশিরা!

ফিনল্যান্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন

0 Comments