ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে তিন ফিলিস্তিনি নারী ও ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে এক বিদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার চিকিৎসকরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
জেরুজালেম থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানায়, বুধবার গভীর রাতে হেবরনের কাছে বেইত আউয়া শহরে একটি হেয়ার সেলুনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এতে করে সেখানে তিন নারী নিহত হন।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইরানি হামলায় এটিই প্রথম ফিলিস্তিনি মৃত্যুর ঘটনা।
ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী মাইস গাজি মাসালমেহ রয়েছেন।
রেড ক্রিসেন্ট জানায়, এই হামলায় অন্তত আরও আট জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওয়াফা জানায়, সেলুনটি একটি বাড়ির পাশে ধাতব কাঠামোর ক্যারাভানে স্থাপন করা হয়েছিল।
এএফপির ছবিতে দেখা যায়, ক্যারাভানের ভেতরে উদ্ধার কর্মীরা কাজ করছেন। ওপরের ছাদে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছিদ্র হয়ে গেছে। ভেতরে কার্পেট ও বিছানার চাদরে রক্তের দাগ দেখা যায়।
বার্তা সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইসরাইলের সেনাবাহিনী নতুন করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানানোর পর হেবরন শহরসহ ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ে।
এর কিছুক্ষণ পর ইসরাইলি চিকিৎসকরা জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরাইলে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে চলমান যুদ্ধে ইসরাইলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইসরাইলের জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে নিহত ব্যক্তি একজন ‘বিদেশি শ্রমিক।’
দেশটির গণমাধ্যম জানায়, তিনি ছিলেন কৃষিখাতে কর্মরত একজন থাই নাগরিক।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে এক থাই কৃষি শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলি সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা জানায়, তেল আবিবের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ও পশ্চিম তীর থেকে আট কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত মোশাভ আদানিম শহরে তিনি নিহত হন।
ইসরাইলের স্বীকৃত জাতীয় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড আদমের এক বিবৃতিতে সংস্থাটির চিকিৎসক ইদান শিনা বলেন, ঘটনাস্থলে ধাতব ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিল এবং ওই ব্যক্তিকে গুরুতর শেলের আঘাতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এর আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে ও সেগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।
এরপর থেকে সেনাবাহিনী আরও কয়েক দফা ইরানি হামলার কথা জানায়। এতে ইসরাইলের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ও পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিতে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডস এক বিবৃতির ইরানের ফারস ও আইএসএনএ বার্তা সংস্থা জানায়, তারা ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যম জানায়, রাতভর কিছু হামলায় ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করা হয়েছে, যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়।
ইরান ও ইসরাইল আগে পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ফিলিস্তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখকে ফোন করে প্রাণঘাতী ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর পর থেকে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের একাধিক হামলার শিকার হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বিমানটি একটি মিশনে থাকার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে অবতরণ করানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, যুদ্ধবিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতের আকাশসীমায় তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এ ছাড়া ইরাকে একটি রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু নিহত হন। সৌদি আরবেও কয়েকটি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে।
মাত্র ৩৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন যুক্তরাজ্যের তারকা অভিনেতা জর্ডান রাইট। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি নর্দমা থেকে। থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ ফুকেটে ঘটে এ ঘটনা। দুদিন ধরে এ অভিনেতার মরদেহ নর্দমায় পড়েছিল বলে ধারণা পুলিশের। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ মার্চ দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে ফুকেটের ব্যাং তাও সৈকতের কাছে একটি নর্দমায় জর্ডান রাইটের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এক বার্মিজ শ্রমিক। তিনি দেখেন উপুড় হয়ে পড়া একটি দেহ। পরনে একটি ধূসর শার্ট ও কালো প্যান্ট। পায়ে জুতা নেই। পুলিশকে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মরদেহ তারকা অভিনেতা জর্ডান রাইটের বলে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে এলোমেলোভাবে ছোটাছুটি করছিলেন জর্ডান রাইট। তার শরীরে কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত বা নির্যাতনের চিহ্ন ছিল না। জর্ডান রাইট যে হোটেলে উঠেছিলেন সেখানেও খোঁজখবর নিয়ে ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তেমন কোনো সন্দেহজনক আলামত পায়নি পুলিশ। তার রুমে তল্লাশি চালিয়েও কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। হোটেলের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি একাই চেক-ইন করেছিলেন এবং গত ১৩ মার্চ চেক-আউট করার কথা ছিল তার। কিন্তু কর্মচারীরা জানিয়েছেন, জর্ডান রাইট চেক-আউট করেননি। যে কারণে জর্ডান রাইটের মৃত্যুর কারণ জানার জন্য স্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। চেং থালের পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুথিরাক জানিয়েছেন, ধারণা করছি মরদেহ খুঁজে পাওয়ারও দু’দিন আগে মৃত্যু হয়েছে জর্ডান রাইটের। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করছি এবং সে পর্যন্ত মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। যুক্তরাজ্যের এসেক্সের বাসিলডেন বাসিন্দা জর্ডান রাইট ব্যক্তিজীবনে ব্রিটিশ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, রেডিও উপস্থাপক ও লেখক ভিকি প্যাটিসনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। ২০১৭ সালে ‘এক্স অন দ্য বিচ’-এর আটটি পর্বে এবং ২০১৮ সালে ‘টিওডব্লিউআইই’-এর ১৭টি পর্বে অভিনয় করেন জর্ডান রাইট। সুঠাম দেহের এই অভিনেতা একজন দমকলকর্মী। নিজের সাবেক প্রেমিক মাইলস বারনেটের সঙ্গে শোয়ের ইতিহাসে পর্দায় প্রথমবারের মতো মারামারি করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন জর্ডান। এরপর জানা যায়, শোটির দৃশ্যধারনের জন্য লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড থেকে বেতনসহ অসুস্থতাজনিত ছুটি নিচ্ছিলেন—এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে আইটিভি সিরিজটি থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে তিনি দমকলকর্মী হিসেবে নিজের কাজে ফেরার জন্য টিভি ইন্ডাস্ট্রি একদম ছেড়ে দেন।
চলতি বছরের শুরুর অস্থিরতায় পুলিশ সদস্যদের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত তিন জনকে বৃহস্পতিবার ফাঁসি দিয়েছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ থেকে সারা দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। এ-সংক্রান্ত এটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘দেই (জানুয়ারি) মাসের অস্থিরতায় হত্যাকাণ্ড এবং জায়নিস্ট শাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অপারেশন পরিচালনার অভিযোগে দোষী তিন ব্যক্তিকে আজ সকালে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’ মিজান জানায়, তারা দুই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য হত্যায় জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ‘মাহারেবেহ’ বা ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ মতো মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর, এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে তা ‘বিদেশি প্ররোচনায় দাঙ্গায়’ রূপ নেয়, যেখানে হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুর ঘটে। তেহরান স্বীকার করেছে, এ অস্থিরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ পথচারীসহ ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তারা এই সহিংসতাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলেছে, নিহতের সংখ্যা সাত হাজারের বেশি। তাদের মতে, নিহতদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী। তারা আশঙ্কা করছে যে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।