ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তির খসড়া দেখা ও পর্যালোচনার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল তেলআবিব। তবে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সম্পর্কে অবগত নয় ইসরাইল।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সই হতে যাওয়া চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো জানে না ইসরাইল। যদিও এ ধরনের কোনো অনুরোধ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। খবর আনাদোলুর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) দেখতে চেয়ে ইসরাইলের করা একটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে রয়েছে ইসরাইল।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা স্মারকটি দেখার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা। তবে সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনাদোলুকে তিনি বলেন, তেলআবিব যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে ‘এ ধরনের কোনো অনুরোধই’ জানায়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ওই প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াজুড়ে ইসরাইলসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সমন্বয়’ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকটির ‘প্রতিটি শব্দ’ পর্যালোচনা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এই নথির বিষয়বস্তু কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার কোনো আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকে ১৪টি ধারা রয়েছে।
এসব প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ধারাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরান পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনাও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি সই হবে এবং এর পর হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান— কোনো পক্ষই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মিয়ানমারের সামরিক সরকার (জান্তা) চারটি নতুন অফশোর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের দাবি করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের (এমওআই) তথ্যমতে, নতুন আবিষ্কৃত ক্ষেত্রগুলোতে মোট প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। সোমবার জান্তা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির অবস্থান তানিনথারিই গভীর সমুদ্রাঞ্চলে। এতে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আইয়ারওয়াডি অঞ্চলে আবিষ্কৃত আরেকটি গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। যদিও সরকার নতুন ক্ষেত্রগুলোর নাম প্রকাশ করেনি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তানিনথারিই অঞ্চলের ব্লক এম-১৫ প্রকল্প এই ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিবিসি বার্মিজ এক প্রতিবেদনে জানায়, আন্দামান সাগরে কাদান দ্বীপের কাছে অবস্থিত ব্লক এম-১৫-এ প্রায় ৯৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসভান্ডারে পরিণত হতে পারে। প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের ওই ব্লকের জন্য ২০১৫ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কানাডিয়ান ফরসাইট গ্রুপ (সিএফজি) দরপত্রে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের (এমওজিই) সঙ্গে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে। বিবিসি বার্মিজের বরাত দিয়ে জানা যায়, সিএফজির ২০১৭ সালের এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ সমপরিমাণ রাজস্ব আসতে পারে। তৎকালীন বাজারমূল্য অনুযায়ী ব্লকটির গ্যাসের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে গত বছর এমওজিই এবং থাইল্যান্ডভিত্তিক গালফ পেট্রোলিয়াম মিয়ানমার (জিপিএম) ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম অফশোর গ্যাস উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে। মত্তামা উপসাগরের মিন ইয়ে থু (ব্লক এম-১০) প্রকল্পের জন্য ২০২৫ সালের ৩০ মে নেপিদোতে এ চুক্তি হয়। জান্তা সরকারের দাবি, এসব গ্যাস প্রকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা ও শিল্প খাতের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র এমওজিইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সামরিক সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় উৎস এবং এর অর্থ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’ দাবি করেছে, জিপিএমের মূল প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন গালফ পেট্রোলিয়াম বারমুডা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ও সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত একাধিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে সামরিক সরকারের কাছে অর্থ স্থানান্তর করে থাকতে পারে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় জ্বালানি কোম্পানি মিয়ানমার থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। এর মধ্যে ছিল ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস, অস্ট্রেলিয়ার উডসাইড এনার্জি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন। টোটালএনার্জিস ও শেভরন দেশটির বৃহত্তম গ্যাস প্রকল্প ইয়াদানা থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যায়। জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলায় সামরিক সরকার নতুন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এসব সম্ভাবনাকে কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
নিট প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম এবং তরুণদের বেকারত্বের প্রশ্নে বুধবার রাজস্থানের কোটা শহরে বড় কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ছাত্র সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কর্মসূচি শুরুর আগেই বিজেপি সরব হয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে। শাসক দলের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে কংগ্রেস। ভারতের অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোটা শহরের দশেরা ময়দানের শ্রীরাম রঙ্গমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে এই ছাত্র সম্মেলন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের বিষয়গুলোই সভার মূল আলোচ্য হবে। গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর কেন্দ্রের মোদি সরকারকে একাধিকবার আক্রমণ করেছে বিরোধীরা। সেই ইস্যুকেই আরও জোরালোভাবে সামনে আনতে চাইছে কংগ্রেস। সম্মেলনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের প্রতিটি তরুণের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে লাখ লাখ তরুণের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, কোটার কর্মসূচি শুধু একটি সমাবেশ নয়। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী ছাত্র ও যুব আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি শুরু করতে চায় দলটি। বিভিন্ন রাজ্যে পর্যায়ক্রমে ছাত্র সম্মেলন, প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং জনসংযোগ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরব হওয়ার চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী। কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং পরীক্ষায় অনিয়মের মতো বিষয়কে সামনে এনে তিনি যুবসমাজের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন। তবে কংগ্রেসের এই উদ্যোগকে ভালোভাবে নিচ্ছে না বিজেপি। কর্মসূচির কয়েক ঘণ্টা আগেই দলটির নেতারা প্রকাশ্যে এর সমালোচনা করেছেন। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া অভিযোগ করেছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা বলে আসলে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে কংগ্রেস। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন তাদের রাজনীতির ময়দানে টেনে আনা উচিত নয়। তিনি আরও দাবি করেন, পুরো আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে এবং এর মাধ্যমে তরুণদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপির এই তীব্র প্রতিক্রিয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তাদের মতে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান এখন দেশের তরুণদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। ফলে এই প্রশ্নে বিরোধীদের সরব অবস্থান শাসক দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। কোটা সম্মেলনে কত সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয় এবং রাহুল গান্ধীর বক্তব্য কতটা সাড়া ফেলে, সেদিকেই এখন নজর জাতীয় রাজনীতির। তবে কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো নিট প্রশ্নফাঁস এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এমন একটি সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে। তবে ইসরায়েলের অনেক নেতা এই সমঝোতার সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল থাকত না। আর আমি না থাকলেও ইসরায়েল থাকত না, কারণ আমি যা করেছি, তা করতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট প্রস্তুত ছিলেন না। নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে এখন লেবাননের বিষয়ে নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি আরও বলেন, লেবানন ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণ আমার ভালো লাগেনি। তাদের আরও দ্রুত কাজটি শেষ করা উচিত ছিল। বিষয়টি অনেক বেশি দীর্ঘায়িত হয়েছে। এমন হলে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সমঝোতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের খুব বেশি আর্থিক মূল্য না থাকলেও, মনস্তাত্ত্বিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সেই মজুতকৃত ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত। তার মতে, ইরানের পুরো পারমাণবিক স্থাপনাই ধ্বংস হয়ে গেছে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া একটি জটিল কাজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, এ ধরনের কাজ করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম শুধু চীনের কাছেই রয়েছে। তবে যেভাবেই হোক, এই কাজটি করা প্রয়োজন। সূত্র : বিবিসি