আন্তর্জাতিক

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৭৪

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ২৯, ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রচণ্ড ট্রপিক্যাল ঝড় এবং মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ, হাজারো পরিবার গৃহহীন এবং উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়। 

 

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি)-এর প্রধান সুআরিয়ানতো জানান, উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে এখন পর্যন্ত ১১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৪২ জনকে এখনো খোঁজা হচ্ছে। এছাড়াও আচেহ প্রদেশে ৩৫ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রায় ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মোট ৭৯ জন এখনো নিখোঁজ এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত।

 

সুমাত্রার পদাং পারিয়ামান অঞ্চলে পানির উচ্চতা ছিল এক মিটারেরও বেশি। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছাতেও পারেনি। 

 

উত্তর সুমাত্রার বাটাং তোরু শহরে সাতজন অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ গণকবরে দাফন করা হয়। ট্রাকে করে এনে কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো পচে যাওয়া লাশগুলো মাটিতে নামানো হলে আশপাশের মানুষ নাকে রুমাল ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন।

 

দুর্গত অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাস্তা থেকে ভূমিধসের মাটির ধস সরানোর কাজ চলছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, আকাশপথে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।

 

অন্যদিকে, পশ্চিম সুমাত্রায় ৫৩ বছর বয়সী মিসনিয়াতি জানান, ভোরে নামাজ পড়ে ফেরার সময় রাস্তায় পানি দেখে তিনি দ্রুত বাড়ির দিকে ছুটে যান। বাড়িতে গিয়ে দেখে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে চলমান বন্যা, ঝড় ও ভূমিধস জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ভয়াবহতাকে আবারও স্পষ্ট করেছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া থেকে শ্রীলঙ্কা—প্রতিটি দেশই মানবিক সংকট মোকাবিলায় লড়াই করছে। নিখোঁজদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং জরুরি সহায়তা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীন ইসলামিক দেশ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : থাই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা

থাইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলের আলাদা স্বাধীন ইসলামিক দেশ না গড়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)’। দুদিন আগে বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন দলটির প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র নিকামাতুল্লাহ সেরি।   “যতদিন আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হচ্ছে, আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চলবে।”— বলেন নিকামাতুল্লাহ।   ১৯৬০ সাল থেকে থাইল্যান্ডের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে ইসলামিক দেশ গঠনের জন্য লড়ে যাচ্ছে বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের যোদ্ধারা। মাঝে এটি থেমে গেলেও ২০০৪ সাল থেকে তারা নতুন করে আবারও লড়াই শুরু করেন।   তাদের থামাতে ২০১৩ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনালের সঙ্গে আলোচনা করছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা থমকে গেছে। বিশেষ করে গত জুলাইয়ে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা বাতিল করে ব্যাংকক সরকার। ওই সময় মুসলিম অঞ্চলটিতে পাঁচ থাই নাগরিক নিহত হন। এতে করে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়।   মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুরের একটি হোটেলে বসে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে নিকামাতুল্লাহ আরও বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য একই রয়ে গেছে। সেটি হলো স্বাধীনতার দাবি।”   থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে আগে মালয়-মুসলিম পাতানি সুলতানাতের শাসন ছিল। তবে ১৯০০ সালের শুরুর দিকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ড এ অঞ্চলটি অধিগ্রহণ করে। ওই সময় থাইল্যান্ডের নাম ছিল সিয়াম।   ২০০৪ সাল থেকে এই স্বাধীনতা সংগ্রামে ৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে স্থানীয় যোদ্ধা, দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক মানুষ রয়েছেন।   সম্প্রতি সেখানে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে নিকামাতুল্লাহ এর পেছনে তার দলের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেননি আবার প্রত্যাখ্যানও করেননি।   শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে নিকামাতুল্লাহ বলেছেন, তারা দক্ষিণাঞ্চলে আলাদা স্বাধীন দেশ করে সেখানকার রাজনৈতিক ক্ষমতা চান। এরপর সেখানে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে। যা শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এরপর ১০ বছর পর গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।   নিকামাতুল্লাহ বলেন, “আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতা চাই। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে (মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশ) সরকার চালাতে দেওয়া উচিত। এটি শরিয়াহ পুলিশ ও আদালত দিয়ে চলবে। তবে শুধুমাত্র মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।” সূত্র: এএফপি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইমরান খানের বোনকে গ্রেপ্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ছাড়াল ৪৫ বিলিয়ন ডলার

ইমরান খান ও তার বোন আলিমা খান। ছবি: সংগৃহীত

ইমরানের বোন আলিমা খানকে আটক করেছে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ অবকাশ থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরে এলেন ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে সতর্কতা জারি

ক্যাম্প ডেভিডে সাপ্তাহিক ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা একদিন আগেই বাতিল করে, শনিবার সন্ধ্যায় অকস্মাৎ ওয়াশিংটন ডিসি-তে ফিরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   হোয়াইট হাউসের এক পুল রিপোর্ট অনুসারে, রাত ৮টার আগমুহূর্তে দি এলিপসে অবতরণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার থেকে তার নেমে আসার একটি ভিডিও শেয়ার করেছে হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট।   ট্রাম্পের ফেরার কথা ছিল রোববার। ঠিক কী কারণে তিনি এমন আগেভাগেই ফিরে এলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলেনি হোয়াইট হাউস।   তবে শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এভাবে হুট করে অবকাশ যাপন থেকে ফিরে এলেন।    সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নতুন হামলার খবরের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আমেরিকানদের 'সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন' করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো সময় বিমানযাত্রা ব্যাহত হতে পারে বলে আগাম প্রস্তুত থাকতে বলেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।   সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, 'এই সামরিক সংঘাতের পরিসর দ্রুত বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা আমেরিকানদের এই অঞ্চলে যাতায়াতের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। যারা এ অঞ্চলে যাতায়াত করবেন, তাদের বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সের প্রতি মুহূর্তের খবরাখবরের ওপর নজর রাখতে হবে।'   সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সৌদি আরব নিশ্চিত করেছে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করেছিল।   হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদির রাজধানী রিয়াদ এবং ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে 'বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র' এবং ড্রোনের সাহায্যে এই হামলা চালানো হয়েছে।   চলমান ইরান যুদ্ধে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত মাথাচাড়া দেওয়ার পর রিয়াদকে লক্ষ্য করে হুথিদের এটাই প্রথম হামলা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি না রাখলে হরমুজ খুলবে না : গালিবাফ

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে হুতি হামলার পর মক্কা চুক্তি কার্যকরের ইঙ্গিত তুরস্কের

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৮, ধ্বংস একাধিক জাহাজ

ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আর্টিলারি হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে অন্তত ৮ জন নিহত ও বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপজুড়ে ১৭৪টি ড্রোন এবং রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল থেকে দুটি জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার।   টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে বিমানবাহিনী আরও জানিয়েছে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪১টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস বা জ্যাম করেছে। ১৫টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং নয়টি অঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শত্রুর জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।’   এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানতে গেরান-৪ সিকার ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজ দুটির একটি ওডেসাগামী ইউক্রেনীয় বাল্ক ক্যারিয়ার এবং অন্যটি ওডেসা বন্দরে নোঙর করা একটি ট্যাংকার। উভয় জাহাজেই সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে রাশিয়া।   খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিহুভভ নিশ্চিত করেছেন, ১৪টি লোকালয়ে রাশিয়ার হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। এতে বালাকলিয়া ও লিপকুভাতিভকার মতো শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।   খারসন অঞ্চলের গভর্নর ওলেকসান্দর প্রকুদিনের মতে, ২৫টি এলাকা লক্ষ্য করে চালানো গোলাবর্ষণে তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। তিনি জানান, এই হামলায় বহুতল আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি, একটি মোবাইল টাওয়ার এবং একটি গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   দনেপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেকসান্দর গানজা জানান, ড্রোন, আর্টিলারি এবং এরিয়াল বোমা ব্যবহার করে ১০টিরও বেশি স্থানে ভারী হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা, গঠন হচ্ছে ‘এআই ফোর্স’

মোহসেন রেজাই। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ শর্ত দিল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ৮ দেশের জন্য এল ভয়াবহ সতর্কবার্তা

0 Comments