বিনোদন

ঈদে আসছে ‘মালিক’, ঝড় তুলল প্রথম আইটেম সং ‘গুলগুলি পিঠা’

মারিয়া রহমান মে ২৬, ২০২৬
‘গুলগুলি পিঠা’ আইটেম গানে মিম ও আরিফিন শুভ।
‘গুলগুলি পিঠা’ আইটেম গানে মিম ও আরিফিন শুভ।

এবারের ঈদের অন্যতম অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘মালিক’ আরিফিন শুভ ও মিম জুটি হয়ে এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ চার বছর পর একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল। এবার প্রকাশ পেল সিনেমাটির প্রথম আইটেম সং ‘গুলগুলি পিঠা’, যা যেন এক ঝটকায় বাড়িয়ে দিল ঈদের উৎসবের আমেজ।

সোমবার (২৫ মে) রাতে নিজের সামাজিক মাধ্যমে গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেন শুভ। প্রকাশের পরপরই সেটি ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। দর্শকদের মন্তব্যে বোঝা গেছে, গানটি ইতোমধ্যেই ঈদের অন্যতম আলোচিত গান হয়ে উঠেছে।

গানটির শুরুতেই দেখা যায় মিমের এক ভিন্ন ও মোহময় উপস্থিতি। ঝলমলে খয়েরি রঙের ট্র্যাডিশনাল ফিউশন পোশাকে তার উপস্থিতি, নাচের অভিব্যক্তি আর আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স পুরো গানের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে রাফ-টাফ লুকে শুভর এন্ট্রি যোগ করেছে বাড়তি উত্তেজনা। অনেক দর্শকের মতে, পুরো উপস্থাপনাতেই ছিল দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার গানের ঝাঁঝালো আবহ।

আদিত রহমান-এর সুর ও সংগীত আয়োজনে গানটির বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। গানটি শুনে অনেক শ্রোতাই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এবার সত্যিই ঈদ ঈদ মনে হচ্ছে।’

চমকপ্রদ এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় পপ তারকা মিলা এবং সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসান। গানটির কথা লিখেছেন লুৎফর হাসান। সুর, কথা আর চিত্রায়ণের সমন্বয়ে গানটি ইতোমধ্যেই দর্শক-শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

গানটি শেয়ার করে শুভও মজার ছলে লিখেছেন, ‘ঈদের গোস্ত তো খাইবেনই... আগে “গুলগুলি পিঠা” ট্রাই করেন। “মালিক” আইতাছে ঈদে।’

দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় এমন জমকালো আইটেম ড্যান্সে দেখা গেল মিমকে। একইসঙ্গে বহুদিন পর শুভ-মিম জুটির রসায়নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফলে সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে।

সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ মূলত এক জেদি মানুষের গল্প, যে নিজের অধিকার আদায়ের লড়াই করতে করতে ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের ক্ষমতাধর এক ব্যক্তিতে পরিণত হয়। ট্রেলারের পর এবার ‘গুলগুলি পিঠা’ গান প্রকাশের মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে-আসন্ন ঈদে দর্শকদের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ‘মালিক’।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চিরবিদায় নিলেন ‘রকি হরর’খ্যাত অভিনেতা টিম কারি

হলিউড ও মঞ্চের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা টিম কারি আর নেই। ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’-এর ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়া এই ব্রিটিশ অভিনেতা ২৫ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের তুলুকা লেকে নিজের বাসভবনে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।   পাঁচ দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে টিম কারি থিয়েটার, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ভয়েস অ্যাক্টিং ও ভিডিও গেম—বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর পরিচয় দিয়েছেন। ২০১২ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিকভাবে অনেকটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়লেও অভিনয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি।   ‘রকি হরর’ থেকেই বিশ্বজোড়া পরিচিতি: ১৯৭৩ সালে লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট থিয়েটারে রিচার্ড ও’ব্রায়েনের ‘দ্য রকি হরর শো’ নাটকে ড. ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন টিম কারি। দুই বছর পর নাটকটির চলচ্চিত্র সংস্করণ ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’ মুক্তি পেলে চরিত্রটি তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। মুক্তির পর সিনেমাটি ধীরে ধীরে কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা পায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর অন্যতম হয়ে ওঠে। ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে কারির অভিনয় আজও দর্শকদের কাছে স্মরণীয়।   ভয়ংকর চরিত্রেও ছিল আলাদা ছাপ: শুধু ‘রকি হরর’ নয়, ক্যারিয়ারে অসংখ্য ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছেন টিম কারি। স্টিফেন কিংয়ের ‘ইট’ উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৯০ সালের টেলিভিশন মিনিসিরিজে ভয়ংকর ক্লাউন পেনিওয়াইজ চরিত্রে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। এ ছাড়া ‘মুপেট ট্রেজার আইল্যান্ড’-এ লং জন সিলভার, ‘হোম অ্যালোন ২’-এ হোটেল ক্লার্ক এবং ‘ক্লু’, ‘অ্যানি’ ও ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’-এর মতো চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। মঞ্চেও সমান সফল ছিলেন এই অভিনেতা। ব্রডওয়ের বিভিন্ন প্রযোজনায় অভিনয়ের জন্য তিনবার টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।   অভিনয়ের পাশাপাশি ভয়েস ও গেমিংয়েও জনপ্রিয়: ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডের ওয়ারিংটনে জন্মগ্রহণ করেন টিম কারি। ১৯৬৮ সালের মিউজিক্যাল ‘হেয়ার’-এর মাধ্যমে তার পেশাদার অভিনয়জীবনের শুরু। এরপর থিয়েটার থেকে চলচ্চিত্র—সব ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ভয়েস অ্যাক্টিংয়েও তার উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে। বিভিন্ন অ্যানিমেশন ও ভিডিও গেমে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালের ভিডিও গেম ‘কমান্ড অ্যান্ড কনকার: রেড অ্যালার্ট ৩’-এ সোভিয়েত প্রিমিয়ারের চরিত্রে তার কণ্ঠ ও সংলাপ পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেট সংস্কৃতিতেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।   স্ট্রোকের পরও থামেননি: ২০১২ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর টিম কারিকে দীর্ঘদিন হুইলচেয়ারে থাকতে হয়েছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি ভয়েস অভিনয়সহ সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যান। গত বছর প্রকাশ করেন নিজের আত্মজীবনী ‘ভ্যাগাবন্ড’। তার মৃত্যুর খবরে সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অভিনেত্রী ক্যারল বার্নেট টিম কারির অভিনয় প্রতিভার প্রশংসা করে তাকে স্মরণ করেছেন। সহশিল্পী রব স্নাইডারও তার অভিনয়ের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে শোক প্রকাশ করেছেন। টিম কারির মৃত্যুতে চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও বিনোদনজগৎ হারাল এক বহুমুখী প্রতিভাকে, যার অভিনীত বেশ কিছু চরিত্র প্রজন্মের পর প্রজন্ম দর্শকদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল থেকে অপু বিশ্বাসের বার্তা, ‘ভালো আছি, চিন্তা করবেন না’

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পতাকার আদলে পোশাক পরে বিতর্কে উর্বশী

ছবি: সংগৃহীত

জীবন নিয়ে ফারিণের উপলব্ধি, আবেগঘন পোস্টে যা বললেন

ছবি: সংগৃহীত
চার বছর পর ঢাকার মঞ্চে ফিরছেন ওটিলিয়া ব্রুমা

চার বছর ফের ঢাকার মঞ্চ মাতাতে আসছেন রোমানিয়ান পপতারকা ওটিলিয়া ব্রুমা। বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে সরাসরি পারফর্ম করতে যাচ্ছেন জনপ্রিয় এই গায়িকা। এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশে এসে গানের তালে দর্শকদের নাচিয়েছিলেন।   ইমেকার্স বাংলাদেশের আয়োজনে আগামী ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ এই সংগীত আয়োজন। বাংলাদেশে আসার বিষয়টি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেই নিশ্চিত করেছেন এই রোমানিয়ান তারকা।   রোমানিয়ার সুসেভায় জন্ম নেওয়া ওটিলিয়া ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘বিলিয়নেরা’ গানটি তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। গানটি প্রকাশের পর ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছে যায় তার জনপ্রিয়তা।   ‘বিলিয়নেরা’র সাফল্যের পর ওটিলিয়ার কণ্ঠে আরও বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। বৈশ্বিক সংগীতাঙ্গনে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করা এই শিল্পী এবার ঢাকার মঞ্চে কোন কোন গান পরিবেশন করেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চঞ্চল চৌধুরীর ‘পদাতিক’ এবার ওটিটিতে, মুক্তি ২৮ আগস্ট

সংগৃহীত ছবি

১৯ বছর পর ফিরেই বাজিমাত, ২০০ কোটির পথে ‘আওয়ারাপান ২’

ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাস পর ঢাকার মঞ্চে ফিরছেন প্রীতম হাসান

ছবি: সংগৃহীত
‘জরিনা’ চরিত্রের পর কুরুচিকর প্রস্তাবে বিপাকে অনংশা

ভারতীয় ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এর ‘জরিনা’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন বাঙালি অভিনেত্রী অনংশা বিশ্বাস। তবে চরিত্রটির জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তিক্ত অভিজ্ঞতারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পর্দার চরিত্রের কারণে বাস্তব জীবনে পাওয়া নানা কুরুচিকর বার্তা ও প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।   ‘মির্জাপুর’-এর প্রথম সিজনে ‘জরিনা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন অনংশা। চরিত্রটির জন্য প্রশংসা পেলেও সিরিজটি মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল ও ব্যক্তিগত ইনবক্সে অশালীন মন্তব্য ও অনৈতিক প্রস্তাব পেতে শুরু করেন তিনি।   অভিনেত্রীর ভাষ্য, প্রথম সিজন মুক্তির পর পরিস্থিতি তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠেছিল। নতুন অভিজ্ঞতা হওয়ায় এসব বার্তা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।   অনংশা বলেন, প্রথম সিজনের পর তিনি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ইনবক্স—বিভিন্ন জায়গায় কুরুচিকর ভাষায় বার্তা আসত, যা দেখে তিনি নিজেই অস্বস্তিতে পড়ে যেতেন।   এসব ঘটনায় একসময় নিজের কাজ নিয়েও প্রশ্ন জাগত অনংশার মনে। তার প্রশ্ন ছিল, তিনি নিজের অভিনয়ের কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করলেও কেন কিছু মানুষ তাকে এ ধরনের অশালীন কথা বলছেন।   অভিনেত্রী জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যার একটি ছিল পর্দার চরিত্র এবং তার ব্যক্তিজীবনকে এক করে দেখা। ‘জরিনা’ চরিত্রটি যেমন ছিল, বাস্তব জীবনেও অনেকে তাকে তেমন ভাবতে শুরু করেন। এর জেরেই সরাসরি নানা ধরনের কুপ্রস্তাবের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।   অনংশা জানান, কেউ কেউ তাকে এক রাতের জন্য পারিশ্রমিক কত—এমন প্রশ্নও করতেন। আবার কেউ তাকে কয়েক দিনের জন্য বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তাব দিতেন। এ ধরনের বার্তায় তার ইনবক্স ভরে যেত।   এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন অনংশা। তার মতে, একজন অভিনেতা পর্দায় যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সেটি তার বাস্তব ব্যক্তিত্বের পরিচয় নয়। অভিনয়কে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার মানসিকতা পরিবর্তন করা জরুরি।   এদিকে বড় পর্দায় আসছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। সিনেমাটিতেও ‘জরিনা’ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে অনংশা বিশ্বাসকে। সিনেমাটি মুক্তির আগে পুরোনো সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শাহরুখ খানকে নিয়ে ডকুমেন্টারি বানাতে চান অস্কারজয়ী কেভিন ম্যাকডোনাল্ড

রেসিং ট্র্যাকে দুর্ঘটনায় দক্ষিণি সুপারস্টার অজিত কুমার, কেমন আছেন অভিনেতা

গোপাল ভাঁড় আর ভাত—কেন এই জুটি এত জনপ্রিয়?

0 Comments