বিনোদন

ঈদে আসছে ‘মালিক’, ঝড় তুলল প্রথম আইটেম সং ‘গুলগুলি পিঠা’

মারিয়া রহমান মে ২৬, ২০২৬
‘গুলগুলি পিঠা’ আইটেম গানে মিম ও আরিফিন শুভ।
‘গুলগুলি পিঠা’ আইটেম গানে মিম ও আরিফিন শুভ।

এবারের ঈদের অন্যতম অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘মালিক’ আরিফিন শুভ ও মিম জুটি হয়ে এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ চার বছর পর একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল। এবার প্রকাশ পেল সিনেমাটির প্রথম আইটেম সং ‘গুলগুলি পিঠা’, যা যেন এক ঝটকায় বাড়িয়ে দিল ঈদের উৎসবের আমেজ।

সোমবার (২৫ মে) রাতে নিজের সামাজিক মাধ্যমে গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেন শুভ। প্রকাশের পরপরই সেটি ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। দর্শকদের মন্তব্যে বোঝা গেছে, গানটি ইতোমধ্যেই ঈদের অন্যতম আলোচিত গান হয়ে উঠেছে।

গানটির শুরুতেই দেখা যায় মিমের এক ভিন্ন ও মোহময় উপস্থিতি। ঝলমলে খয়েরি রঙের ট্র্যাডিশনাল ফিউশন পোশাকে তার উপস্থিতি, নাচের অভিব্যক্তি আর আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স পুরো গানের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে রাফ-টাফ লুকে শুভর এন্ট্রি যোগ করেছে বাড়তি উত্তেজনা। অনেক দর্শকের মতে, পুরো উপস্থাপনাতেই ছিল দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার গানের ঝাঁঝালো আবহ।

আদিত রহমান-এর সুর ও সংগীত আয়োজনে গানটির বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। গানটি শুনে অনেক শ্রোতাই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এবার সত্যিই ঈদ ঈদ মনে হচ্ছে।’

চমকপ্রদ এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় পপ তারকা মিলা এবং সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসান। গানটির কথা লিখেছেন লুৎফর হাসান। সুর, কথা আর চিত্রায়ণের সমন্বয়ে গানটি ইতোমধ্যেই দর্শক-শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

গানটি শেয়ার করে শুভও মজার ছলে লিখেছেন, ‘ঈদের গোস্ত তো খাইবেনই... আগে “গুলগুলি পিঠা” ট্রাই করেন। “মালিক” আইতাছে ঈদে।’

দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় এমন জমকালো আইটেম ড্যান্সে দেখা গেল মিমকে। একইসঙ্গে বহুদিন পর শুভ-মিম জুটির রসায়নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফলে সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে।

সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ মূলত এক জেদি মানুষের গল্প, যে নিজের অধিকার আদায়ের লড়াই করতে করতে ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের ক্ষমতাধর এক ব্যক্তিতে পরিণত হয়। ট্রেলারের পর এবার ‘গুলগুলি পিঠা’ গান প্রকাশের মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে-আসন্ন ঈদে দর্শকদের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ‘মালিক’।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বিনোদন

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
টেইলর সুইফটের বিয়ের ‘আবর্জনা’ বিক্রি ১০০ ডলারে, ভক্তদের হুড়োহুড়ি

প্রবাদ আছে—কারো ফেলে দেওয়া আবর্জনা অন্য কারো কাছে মহামূল্যবান সম্পদ। পপ তারকা টেইলর সুইফটের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মার্কিন ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন টেইলর সুইফট। আর সেই বিয়ের রেশ ধরে ভেন্যুর চারপাশের রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নেওয়া সাধারণ আবর্জনা এখন বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে, যা লুফে নিচ্ছেন অন্ধ ভক্তরা।   নিউইয়র্কের কুইন্সের বাসিন্দা ও শিল্পী জাস্টিন গিগনাক গত ৩ জুলাই বিয়ের ভেন্যুর আশেপাশের রাস্তা থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। এরপর অত্যন্ত চমত্কারভাবে সেই আবর্জনার টুকরোগুলোকে ছোট ছোট স্বচ্ছ অ্যাক্রিলিক কিউবের ভেতর বন্দি করে ‘পকেট গার্বেজ’ নাম দিয়ে বিক্রির ঘোষণা দেন। প্রতিটি ছোট কিউবের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৫ ডলার। অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সবগুলো কিউব স্টক আউট হয়ে যায়।   শিল্পী জাস্টিন তার ওয়েবসাইটে লিখেছেন, অনুষ্ঠানের পর মেঝেতে বা রাস্তায় ময়লা পড়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে, টেলর ও ট্রাভিসের এই রূপকথার মতো বিয়ের একদম কাছ থেকেই এই আবর্জনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে—যা আমন্ত্রণপত্র ছাড়া তাদের বিয়ের ঠিক কতখানি কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব ছিল, তারই এক অনন্য স্মারক।   এই প্লাস্টিক কিউবগুলোর ভেতরে কী আছে তা জানলে যে কেউ চমকে উঠবেন। সাধারণ মানুষের ফেলে দেওয়া সিগারেটের ফিল্টার, চুইংগামের প্যাকেট, জুসের স্ট্র, একটি মাত্র এয়ারপড কিংবা ব্যবহৃত ওভুলেশন টেস্ট কিটের মতো জিনিসও স্থান পেয়েছে এই সংকলনে।    গিগনাক জানিয়েছেন, তিনি ২৫ ডলার মূল্যের ৫০টি ছোট কিউব তৈরির পাশাপাশি কিছু বড় আকারের কিউবও তৈরি করেছিলেন, যেগুলোর প্রতিটির মূল্য রাখা হয়েছিল ১০০ ডলার।   অবশ্য শিল্পী নিজেই স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে এই আবর্জনাগুলোর কোনোটিই সরাসরি টেলর সুইফট, ট্রাভিস কেলসি কিংবা তাদের আমন্ত্রিত অতিথিদের স্পর্শ করা বা তাদের ব্যবহৃত—এমন কোনো প্রমাণ নেই। এগুলো মূলত বিয়ের দিন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর চারপাশ থেকে কুড়ানো হয়েছে।    গিগনাক রসিকতা করে বলেন, দুর্ভাগ্যবশত তিনি বিয়ের মূল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন না, তাই ভেতরের ‘আসল ও খাঁটি’ আবর্জনাগুলো সংগ্রহ করার সুযোগ তার হয়নি। তবে ঠিক কোন স্থান এবং কোন ঐতিহাসিক সময়ে এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই আবেগটুকুই মূলত ভক্তদের আকর্ষণ করছে।   টেইলর সুইফটের ভক্তরা, যারা বিশ্বজুড়ে ‘সুইফটিজ’ নামে পরিচিত, প্রিয় তারকার সামান্যতম স্মৃতিচিহ্ন পেতে সবসময়ই বিপুল অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত। এর আগে সুইফটের রেকর্ড সৃষ্টিকারী ‘ইরাস ট্যুর’-এর ২ বিলিয়ন ডলারের টিকিট বিক্রিই তার প্রমাণ। বিয়ের আবর্জনা কেনার ক্ষেত্রেও সেই একই উন্মাদনা দেখা গেছে।    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সুইফটের ভক্তরা তার জন্য যেকোনো পর্যায় পর্যন্ত যেতে পারেন এবং কেবল ঘরে সাজিয়ে রাখার জন্যই অনেকে এই কিউবগুলো কিনছেন। অনেকে আবার এই শিল্পীর এমন অভিনব আইডিয়া ও উপার্জনকে খাঁটি নিউইয়র্ক ঘরানার ‘ব্যবসায়িক বুদ্ধি’ বলে প্রশংসা করেছেন।   শিল্পী জাস্টিন গিগনাকের জন্য অবশ্য এটি নতুন কিছু নয়। গত ২৫ বছর ধরে তিনি এই অদ্ভুত ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ২০০৯ সালের অভিষেক অনুষ্ঠান এবং ২০১২ সালের নিউইয়র্ক জায়ান্টসের সুপার বোল প্যারেডের পর রাস্তা থেকে কুড়ানো আবর্জনা কিউব বন্দি করে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসপ্রেমী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেছিলেন তিনি। এবার টেলর সুইফটের বিয়ের আবর্জনাকে পুঁজি করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুললেন এই দূরদর্শী শিল্পী। সূত্র: বিবিসি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আমার সম্মান নৈতিকতা ও চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে : পরীমনি

সংগৃহীত ছবি

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর নতুন চমক নেপালি অভিনেত্রী

অভিনেত্রী জয়া আহসান। ছবি: সংগৃহীত

নতুন সিনেমার প্রচারে কলকাতায় ব্যস্ত জয়া আহসান

সংগৃহীত ছবি
২০ ঘণ্টা পানির নিচে শুটিং, অভিজ্ঞতা জানালেন রাশমিকা

ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’ খ্যাত অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। তার আগামী সিনেমা ‘মাইসা’-র জন্য পানির নিচে একটি বিশাল মারপিটের (অ্যাকশন) দৃশ্যের শুটিং শেষ করেছেন তিনি। সিনেমার নির্মাতাদের দাবি, এটিই ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে কোনো নারী অভিনেত্রীর প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করা প্রথম ‘আন্ডারওয়াটার’ বা পানির নিচের ফাইট সিকোয়েন্স।   সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কোনো ডামি বা বডি ডাবল ছাড়াই রাশমিকা এই বিপজ্জনক স্টান্টগুলো নিজেই সম্পন্ন করেছেন।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিনেমার নির্মাতারা শুটিংয়ের বেশ কিছু নেপথ্যের (বিটিএস) ছবি ও একটি ঝলক প্রকাশ করেছেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই দিন ধরে প্রায় ২০ ঘণ্টা পানির নিচে কাটিয়ে রাশমিকা এই জটিল দৃশ্যটির শুটিং শেষ করেন। আপডেটটি শেয়ার করে নির্মাতারা লিখেছেন, রাশমিকা মান্দানার হাত ধরে ভারতের প্রথম নারীপ্রধান আন্ডারওয়াটার ফাইট সিকোয়েন্সের কাজ শেষ হলো। উপরিভাগ কখনোই আমাদের সীমানা ছিল না। ভারতীয় সিনেমা আগে কখনো দেখেনি, গভীর পানির নিচে এমন এক যুদ্ধের সাক্ষী হতে প্রস্তুত হোন।   পানির নিচের এই কঠিন ও রোমাঞ্চকর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও ভাগ করে নিয়েছেন রাশমিকা। এটিকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং কাজ আখ্যা দিয়ে তিনি লেখেন, আমি জানি বেশ কিছুদিন ধরে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলাম না, কারণ আমরা এই কাজটি নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। এটি আমার জীবনে করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। আমরা হয়তো একটু পাগলামি করেছি, কিন্তু এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত করেছে।   রাবিন্দ্র পুলে পরিচালিত এবং আনফর্মুলা ফিল্মস প্রযোজিত ‘মাইসা’ সিনেমাটিকে একটি উপজাতীয় অঞ্চলের পটভূমিতে নির্মিত আবেগঘন অ্যাকশন থ্রিলার হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এটি রাশমিকা মান্দানার ক্যারিয়ারের প্রথম নারীপ্রধান প্যান-ইন্ডিয়া (সর্বভারতীয়) অ্যাকশন ফিল্ম, যা চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।   সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
সিফাত নুসরাত। ছবি - সংগৃহীত

‘নীহারিকা সেন’-এর টিজারে প্রশংসায় ভাসছেন সিফাত নুসরাত

অভিনেত্রী গওহর খান (বাঁয়ে) ও লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

মেসিকে ‘বাজে অভিনেতা’ বললেন অভিনেত্রী

সংগৃহীত ছবি

মেসিই দেখালেন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের হৃদস্পন্দন: পূর্ণিমা

ছবি : সংগৃহীত
তারকাদের প্রভাবে কি পরকীয়া স্বাভাবিক হয়ে উঠছে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

যেকোনো সম্পর্কের দুটি মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও সম্মান। কিন্তু প্রতারণা হলো সেই উইপোকা, যা সম্পর্কের ভিত্তিকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয় এবং একপর্যায়ে তা ভেঙে পড়ে। বর্তমান যুগে পরকীয়াকে বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হলেও তারকারা যেন বিষয়টিকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তুলছেন।   সম্প্রতি বলিউড অভিনেতা রাম কাপুর বলেছেন, সম্পর্কের কঠিন সময়ে একজন মানুষ ‘ভুল করে’ সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করে বসতে পারে। এর আগে ‘টু মাচ’ অনুষ্ঠানে টুইংকেল খান্না ও কাজলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সময় সঞ্চালক বলেছিলেন, ‘রাত গায়ি, বাত গায়ি’ (রাত পোহালেই কথা শেষ)। অনলাইনে এ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।   দশকের পর দশক ধরে তারকাদের প্রেমের গুঞ্জন ট্যাবলয়েডগুলোর খোরাক জুগিয়ে আসছে। কিন্তু কেউ খেয়ালই করেনি যে, এ বিষয়গুলো ধীরে ধীরে পরকীয়া বা প্রতারণার প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে।   প্রতারণা বা পরকীয়া আসলে কী প্রতারণা বা পরকীয়ার বিষয়টি পুরোপুরি সাদা-কালো (স্পষ্ট) নয়। এর সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে। ভারতের এশিয়ান হাসপাতালের কনসালট্যান্ট-ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. দীপিকা শর্মা বলেন, ‘প্রতারণা বলতে মূলত সম্পর্কের পারস্পরিক নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করাকে বোঝায়, যা বিশ্বাসের অমর্যাদা করে। শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ছাড়াও পরকীয়া বিভিন্ন রূপ নিতে পারে। যেমন—আবেগের সম্পর্ক, গোপনে রোমান্টিক কথোপকথন, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের কথা লুকিয়ে রাখা, অনলাইনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানো বা এমন কোনো মেলামেশা গোপন করা, যা সঙ্গীর জানার কথা।’   ‘অ্যান্ডউইমেট’-এর প্রতিষ্ঠাতা শালিনী সিং জানান, প্রতারণা কেবল শারীরিক ঘনিষ্ঠতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, ‘মূলত প্রতারণা নির্দিষ্ট কোনো কাজের চেয়েও দুজন মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও প্রত্যাশা ভেঙে দেওয়ার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।’   প্রতারণা কি আগের চেয়ে বেশি সাধারণ বা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে? কোনো বিষয় যদি বারবার চোখের সামনে আসে, তবে এর প্রভাব কমতে থাকে এবং মানুষ বিষয়টির প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে। প্রতারণার ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটছে। তারকাদের পরকীয়া নিয়ে মজা করা, উপহাস করা বা এমনকি এর পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে নীরবে প্রভাবিত করছে।   গেটওয়ে অব হিলিং-এর প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও সাইকোথেরাপিস্ট ডা. চাঁদনি তুগনাইত বলেন, ‘তারকাদের বিভিন্ন মন্তব্য এবং হাই-প্রোফাইল পরকীয়ার খবর সমাজে কী স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য, সে সম্পর্কে মানুষের ধারণাকে প্রভাবিত করে। যখন জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি বলেন যে পরকীয়া কেবল একটি ভুল ছিল, তখন ধীরে ধীরে এটিকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা শুরু হতে পারে।’   এ প্রতিক্রিয়া শুধু প্রতারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি কীভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে তার ওপরও নির্ভর করে। এই সাইকোথেরাপিস্ট আরও বলেন, ‘তারকাদের আপস করে নেওয়া বা ক্ষমা করার বিষয়টির সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সরাসরি কোনো যোগসূত্র নিয়ে আনুষ্ঠানিক গবেষণা নেই। তবে এই প্রবণতা অস্বীকার করার উপায় নেই। যখন একজন নারী তার প্রতারক সঙ্গীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা করে দেন, তখন তার মহানুভবতার প্রশংসা করা হয়। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে একজন পুরুষ যখন ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তখন সেটাকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।’   খ্যাতি কি তারকাদের বাড়তি সুবিধা দেয়? যখন কোনো তারকার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়ায়, তখন মানুষ প্রায়ই পক্ষ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা অনেক সময় পুরো ঘটনা না জেনেই প্রতারণাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেক কট্টর ভক্তের কাছে তারকার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন আলাদা।   ডা. শর্মা জানান, ‘নিঃসন্দেহে তারকাদের প্রায়ই সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। যখন খ্যাতি, ক্ষমতা, অর্থ বা প্রতিভাধর কোনো ব্যক্তি তার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণার মতো ক্ষতিকর আচরণ করেন, তখন তাদের মর্যাদার কারণে সেই আচরণ অনেক সময় বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হতে পারে।’   ডা. তুগনাইত মনে করেন, যখন কেউ যথেষ্ট বিখ্যাত হন, তখন তার আচরণ বিশ্লেষণের চেয়ে সাফাই গাওয়া হয় বেশি। তিনি বলেন, পরকীয়া পরিণত হয় সম্পর্কের ‘কঠিন সময়ে’, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হয়ে যায় ‘জটিল পরিস্থিতি’। আর সাধারণ মানুষের জন্য যে নিয়ম প্রযোজ্য, তা নিঃশব্দে তাদের জন্য অকার্যকর হয়ে যায়।   আগুনে ঘি ঢালে সংবাদমাধ্যমের খবর। যখন কোনো ঘটনা বিক্রির জন্য রসালো গালগল্প হিসেবে প্রচার করা হয়, তখন এর আসল মানসিক পরিণতিগুলো ঢাকা পড়ে যায়। বিশ্বাসভঙ্গ, শোক ও মানসিক আঘাত প্রায়ই এই কোলাহলে হারিয়ে যায়। শালিনী সিং বলেন, ‘পিআর (জনসংযোগ) ন্যারেটিভ, গণমাধ্যমের খবর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবকিছুই কোনো ঘটনা কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তা প্রভাবিত করে। ভক্তদের মনে রাখা উচিত, তারা কেবল ঘটনার একটি সাজানো অংশ দেখছেন। পুরো পরিস্থিতি না জেনে কাউকে সমর্থন বা নিন্দা করতে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।’   বর্তমান যুগের যুগলেরা প্রতারণাকে কীভাবে দেখেন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া নতুন কোনো ধারণা নয়। সমাজে এর অস্তিত্ব বরাবরই ছিল। শালিনী সিং বলেন, ‘গত ১০ থেকে ২০ বছরে প্রতারণার বিষয়টি আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং ২৪ ঘণ্টার সংবাদপ্রবাহের কারণে প্রতারণা নিয়ে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে।’   ডা. তুগনাইত মনে করেন, বিশ্বাসভঙ্গের কারণে মানুষ এখনো আগের মতোই গভীর কষ্ট পায়, তবে এর ধরন ও কাঠামো বদলে গেছে। তিনি বলেন, ‘প্রতারণা বলতে আসলে কী বোঝায়, তা নিয়ে এখন অনেক বেশি আলোচনা হয়। আর এ অস্পষ্টতার বড় একটি অংশ মানুষ অনলাইন ও তারকা সংস্কৃতি থেকে সরাসরি গ্রহণ করছে।’   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রতারণা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও সম্পর্ক, তারকা সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে মানুষের এ পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়টিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
সালমান খানের আসন্ন ‘‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’’ চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি : সংগৃহীত

নতুন লুকে চমক দিলেন সালমান খান, মুগ্ধ ভক্তরা

সংগৃহীত ছবি

১৯ বছর পর মিসরে কনসার্ট করবেন শাকিরা

ছবি: সংগৃহীত

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্বে শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি

0 Comments