এবারের ঈদের অন্যতম অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘মালিক’ আরিফিন শুভ ও মিম জুটি হয়ে এই সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ চার বছর পর একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল। এবার প্রকাশ পেল সিনেমাটির প্রথম আইটেম সং ‘গুলগুলি পিঠা’, যা যেন এক ঝটকায় বাড়িয়ে দিল ঈদের উৎসবের আমেজ।
সোমবার (২৫ মে) রাতে নিজের সামাজিক মাধ্যমে গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেন শুভ। প্রকাশের পরপরই সেটি ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। দর্শকদের মন্তব্যে বোঝা গেছে, গানটি ইতোমধ্যেই ঈদের অন্যতম আলোচিত গান হয়ে উঠেছে।
গানটির শুরুতেই দেখা যায় মিমের এক ভিন্ন ও মোহময় উপস্থিতি। ঝলমলে খয়েরি রঙের ট্র্যাডিশনাল ফিউশন পোশাকে তার উপস্থিতি, নাচের অভিব্যক্তি আর আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স পুরো গানের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে রাফ-টাফ লুকে শুভর এন্ট্রি যোগ করেছে বাড়তি উত্তেজনা। অনেক দর্শকের মতে, পুরো উপস্থাপনাতেই ছিল দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার গানের ঝাঁঝালো আবহ।
আদিত রহমান-এর সুর ও সংগীত আয়োজনে গানটির বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। গানটি শুনে অনেক শ্রোতাই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এবার সত্যিই ঈদ ঈদ মনে হচ্ছে।’
চমকপ্রদ এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় পপ তারকা মিলা এবং সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসান। গানটির কথা লিখেছেন লুৎফর হাসান। সুর, কথা আর চিত্রায়ণের সমন্বয়ে গানটি ইতোমধ্যেই দর্শক-শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
গানটি শেয়ার করে শুভও মজার ছলে লিখেছেন, ‘ঈদের গোস্ত তো খাইবেনই... আগে “গুলগুলি পিঠা” ট্রাই করেন। “মালিক” আইতাছে ঈদে।’
দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় এমন জমকালো আইটেম ড্যান্সে দেখা গেল মিমকে। একইসঙ্গে বহুদিন পর শুভ-মিম জুটির রসায়নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফলে সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে।
সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘মালিক’ মূলত এক জেদি মানুষের গল্প, যে নিজের অধিকার আদায়ের লড়াই করতে করতে ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের ক্ষমতাধর এক ব্যক্তিতে পরিণত হয়। ট্রেলারের পর এবার ‘গুলগুলি পিঠা’ গান প্রকাশের মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে-আসন্ন ঈদে দর্শকদের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ‘মালিক’।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন মা হয়েছেন ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা ত্রিপাঠী। মঙ্গলবার তার স্বামী অভিনেতা বিবেক দাহিয়া ও দিব্যাঙ্কা সামাজিকমাধ্যমে এই সুখবর দেন। এই তারকা দম্পতি লেখেন ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন, 'আমরা সুখ চেয়েছিলাম, ঈশ্বর বললেন,ডাবল নাও!' এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ২০১৬ সালে সহ-অভিনেতা বিবেক দহিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা ত্রিপাঠীর। বিয়ের পর একাধিকবার মাতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন অভিনেত্রী। গত সাত মাস ধরে সেভাবে কোথাও দেখা মিলছিল না দিব্যাঙ্কার, ফলে শুরু হয় গুঞ্জন। চলতি বছরের মার্চ মাসে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনেন দম্পতি। মঙ্গলবার দিলেন সুখবর। ২৬ মে যমজ সন্তান এসেছে দিব্যাঙ্কা-বিবেকের সংসারে। এ যেন তাদের দাম্পত্যজীবনের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। দিব্যাঙ্কা মা হওয়ার পরে বিবেক লেখেন, ‘আমার করণ ও অর্জুন এসে গিয়েছে। আমাদের ছেলেরা এসে গিয়েছে। ওদের আগমনে আমাদের জীবনে খুশিতে ভরে গিয়েছে। দিব্যাঙ্কা এবং আমি আমাদের জীবনের নতুন একটা অধ্যায় শুরু করলাম। আপনাদের সকলের আশীর্বাদ কাম্য।’ ‘ইয়ে হ্যায় মহব্বতে’ খ্যাত এই অভিনেত্রী আগে জানিয়েছিলেন, জুন নাগাদ তাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হতে পারে। সেই সময় দিব্যাঙ্কা বলেছিলেন, 'বিবেক এবং আমি কেবল সন্তান চেয়েছিলাম, আমরা চেষ্টা করেছি এবং তা হয়েছে। আমরা ধন্য।'
বলিউডে এখন নতুন গুঞ্জন শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘কিং’ এ বিশেষ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে রণবীর সিংকে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে শাহরুখ খানের জায়গায় রণবীর সিংকে নেওয়ার ঘোষণার পর থেকেই দুই তারকাকে নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই নতুন করে শোনা যাচ্ছে ‘কিং’ ছবিতে ক্যামিও বা বিশেষ চরিত্রে থাকতে পারেন রণবীর। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ফ্যান পেজের দাবি আন্তর্জাতিক শুটিং সূচিতে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একটি বিশেষ দৃশ্যের শুটিং করেছেন রণবীর। এমনকি তাকে সিনেমার সেটেও দেখা গেছে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোন ও মেয়ে দুয়াকে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবেই সেটে গিয়েছিলেন রণবীর। তবে পরে তার ক্রু সদস্যদের সঙ্গে ছবি ভাইরাল হলে জল্পনা আরো বাড়ে। কিছু ফ্যান থিওরি বলছে রণবীরের চরিত্রটি শুধু ছোট ক্যামিও নয় গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশও হতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে তিনি এমন এক রহস্যময় চরিত্রে অভিনয় করবেন যেটি বিপদের মধ্যে পথ দেখাবেন সুহানা খানের চরিত্রকে। খবরটি সত্যি হলে এটি হবে শাহরুখ খানের সন্তানদের সঙ্গে রণবীরের দ্বিতীয় কাজ। এর আগে আরিয়ান খানের ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অব বলিউড’ এও তাকে দেখা গেছে। অ্যাকশনধর্মী সিনেমা ‘কিং’ এ শাহরুখ খান দীপিকা পাড়ুকোন সুহানা খান অভিষেক বচ্চন ও রানি মুখার্জিকে দেখা যাবে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে। সিনেমাটি শাহরুখের পরবর্তী বড় প্রজেক্ট হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
এবার আর অভিনয় বা পর্দার গল্প নিয়ে নয়, বরং নিজের ফুটবলপ্রীতি আর পছন্দের দল নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় মেতেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। চমৎকার অভিনয়শৈলী আর মিষ্টি হাসিতে কোটি দর্শকের মন জয় করা এই তারকা নাটক ও ওটিটি— দুই মাধ্যমেই দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ফুটবল ভালোবাসা এবং ব্রাজিলকে সমর্থন করা নিয়ে এক মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে নিজের ফুটবলপ্রেমের কথা জানাতে গিয়ে হিমি অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি মূলত খেলা অতটা না বুঝেই ব্রাজিল দল সাপোর্ট করেন। ছোটবেলা থেকেই তার বাবা ও ভাইকে ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক হিসেবে দেখে আসছেন, আর সেই পারিবারিক আবহ থেকেই তারও ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হওয়া। তবে এই দলটিকে সমর্থন করতে গিয়ে তাকে প্রায়ই বন্ধুমহলে কিংবা পরিচিতদের কাছে বেশ ট্রল বা ‘পচানি’ খেতে হয় বলে হেসে ফেলেন এই তারকা। ব্রাজিল দলের তারকা খেলোয়াড়দের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হিমি জানান, নেইমারের কারণেও তাকে বেশ পচানি খেতে হয়। তবে শৈশবের এক স্মৃতির কথা রোমন্থন করে তিনি বলেন, ছোটবেলায় যখন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার কাকা খেলতেন, তখন তার ওপর একপ্রকার ‘ক্রাশ’ খেয়েছিলেন তিনি। কাকার চমৎকার রূপ আর খেলার স্টাইল তাকে মুগ্ধ করেছিল। বর্তমান সময়ে কাজের প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে আগের মতো নিয়মিত খেলা দেখার সুযোগ না হলেও, হৃদয়ে ব্রাজিলের প্রতি সেই টানটা বরাবরই রয়ে গেছে বলে জানান হিমি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ‘রঙ-আরটিভি টুয়েন্টি টুয়েন্টি কালারস মডেল সার্চ’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে শোবিজে পথচলা শুরু করেন জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এরপর থেকেই নিয়মিত নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন এই সুহাসিনী অভিনেত্রী।