বিনোদন

ইবাদত শুধু অনুভূতি নয়, দায়িত্ব: পিয়া জান্নাতুল

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
পিয়া জান্নাতুল । ছবি : সংগৃহীত
পিয়া জান্নাতুল । ছবি : সংগৃহীত

দেশের অন্যতম শীর্ষ মডেল, অভিনেত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলের জন্মদিন পার হলো সদ্যই। গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালতের বারান্দা—সবখানেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব পরিহিত একটি ছবি শেয়ার করে নিজের বিশ্বাস, ধর্মচর্চা ও সমালোচকদের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই তারকা।

 

দ্বিতীয় তারাবি আদায়ের পরের দিন ছবিটি তুলেছেন জানিয়ে পিয়া তার পোস্টে লেখেন, “ইবাদত আমার কাছে শুধু অনুভূতি নয়, দায়িত্ব এবং চর্চা।” তিনি জানান, তার একাধিক পরিচয় রয়েছে; তিনি যেমন একজন ফ্যাশন মডেল, তেমনি একজন পেশাদার আইনজীবীও। আধুনিক চিন্তাভাবনা ও নিজস্ব মত প্রকাশের পাশাপাশি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করা তার ব্যক্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন এই তারকা।

ছবিটি পোস্ট করার পর মন্তব্যের ঘরে একজন নেইলপলিশ পরে নামাজ পড়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করেন। এর জবাবে পিয়া অত্যন্ত মার্জিতভাবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “আমার বা যেকোনো মানুষের কাজ আপনার পছন্দ হতে পারে, নাও হতে পারে—সেটা স্বাভাবিক। ভালো লাগলে সম্মান করুন, না লাগলে এড়িয়ে যান। কিন্তু সম্মানটা যেন সব সময় থাকে—সব মানুষের জন্য, সব ধর্মের জন্য, সবার বিশ্বাসের জন্য।” সবশেষে সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছাও জানান তিনি।

২০০৭ সালে ‘মিস বাংলাদেশ’ খেতাব অর্জনের মধ্য দিয়ে শোবিজে পা রাখেন পিয়া জান্নাতুল। এরপর মডেলিং দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়ার পর ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। বর্তমানে আইন পেশাতেও সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিনোদন

আরও দেখুন
মেহজাবীন চৌধুরী ও নুসরাত ইমরোজ তিশা । ছবি : সংগৃহীত
মেহজাবীনকে ছাড়ানোর নেপথ্যে কারা! মুখ খুললেন তিশা

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল বিদেশি মদসহ জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর আটকের খবরে যখন নেটদুনিয়া তোলপাড়, ঠিক তখনই সামনে এলো আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাস্টমসের সেই ‘রহস্যজনক’ ছাড়ের নেপথ্যে নাকি প্রভাব খাটিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোপন সূত্রের বরাতে এমনই বিস্ময়কর তথ্য মিলেছে। গোপন ওই সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশের এক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিসে আড্ডায় অংশ নেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সেখানে কথার প্রসঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরীর এই মদকাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে। আড্ডায় তিশা নিজেই নিশ্চিত করেন যে, মেহজাবীনের মদসহ আটকের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্যি। সূত্রমতে, বিমানবন্দরে আটকের পর মেহজাবীনের পক্ষ থেকে তিশা-ফারুকীর কাছে ফোনকল আসে এবং তারাই প্রভাব খাটিয়ে অভিনেত্রীকে কাস্টমসের জাল থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করেন বলে আড্ডায় স্বীকার করেন তিশা। প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন মেহজাবীন, তাঁর স্বামী আদনান আল রাজীব ও নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমসের তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে অ্যালকোহল বহনের দায়ে মামলা হওয়ার বিধান থাকলেও, অদৃশ্য ইশারায় মুচলেকা ছাড়াই তাদের সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় জব্দ পণ্যের রসিদ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্রটোকল দিতে আসা এভিয়েশন সিকিউরিটির দুই কর্মকর্তাও মুচলেকা দিয়ে জানান, মদের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। মদকাণ্ড ও কাস্টমসের ছাড়ের বিষয়টি শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ্যে আসার পর আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে মুখ খোলেন মেহজাবীন। সেখানে মদের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার বা স্পষ্ট না করলেও তিনি দাবি করেন, ক্যারিয়ারের এই সময়ে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে, এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই।’

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
ঈদে নান্দনিক ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এলো ‘ভারগো’ । ছবি : সংগৃহীত

ঈদে নান্দনিক ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এলো ‘ভারগো’

পিয়া জান্নাতুল । ছবি : সংগৃহীত

ইবাদত শুধু অনুভূতি নয়, দায়িত্ব: পিয়া জান্নাতুল

তানিয়া বৃষ্টি। ছবি - সংগৃহীত

অচিরেই শুটিংয়ে ফিরছেন না তানিয়া

চার নাটকের কোলাজ।  ছবি - সংগৃহীত
নাটকে নাটকে একুশের উচ্চারণ

ফেব্রুয়ারির হিমেল হাওয়ায় যখন শহীদ মিনারে জমতে শুরু করে মানুষের ঢল, ঠিক তখনই টেলিভিশনের পর্দাতেও জেগে ওঠে ভাষার গল্প। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন চ্যানেল আয়োজন করেছে বিশেষ নাটক, টেলিফিল্ম ও একক নাট্যপ্রযোজনা। একুশ মানেই শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, এ দিনটি বাঙালীর আত্মপরিচয়ের গভীরতম জায়গায় নাড়া দেয়। সেই আবেগ, ইতিহাস ও বর্তমান প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে নির্মিত হয়েছে একাধিক নাটক।   বাংলা ভাষার প্রতি বিদেশি মেয়ের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার গল্পে নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘সিদ্ধান্ত’। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভিতে) আজ রাত ৯টায় প্রচারিত হবে নাটকটি। কাজী আসাদের রচনায় নাটকটি প্রযোজনা করেছেন মামুন মাহমুদ। এতে অভিনয় করেছেন মাসুম বাশার, কাজী আসাদ, সালমান আরাফাত, তাবেদার ই রসুল চান্নু, এথেনা অধিকারী, জান্নাত-ই ফেরদৌসী তারা, কবির টুটুল, আরাফাত, আয়েশা, মৌসুমী ইকবাল, মাসুদ ও ইসমাইল হোসেন প্রমুখ। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আবু রায়হানের ছেলে আব্দুল মান্নান। আব্দুল মান্নানের দুই ছেলে আব্দুল হান্নান ও আব্দুর রহমান এবং মেয়ে রীমা রায়হান। হান্নান উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গিয়ে সেখানেই স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকে। এদিকে রহমান দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন। সুইডিশ নাগরিক এলিনা ব্রিটিশ ভারত বিভক্তি ও বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিষয়ে থিসিসের কাজে রহমানের সাহায্য চায়। এলিনাকে সাহায্য করতে গিয়ে তাদের পরস্পরের ভালো লেগে যায়। হান্নান স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দেশে বেড়াতে আসে। কিন্তু হান্নানের ছেলে-মেয়েরা বিকৃত বাংলায় কথা বলে এবং বাংলা ভাষার প্রতি অনীহা দেখায়। ভাষা আন্দোলকারী একজনের পরবর্তী প্রজন্মের বাংলা ভাষার প্রতি অনাগ্রহ ও অবহেলা তার দাদা আব্দুল মান্নানকে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। এ কষ্ট লাঘবের জন্য তিনি নাতি-নাতনিদেরকে বাংলা ভাষার জন্য মানুষের আত্মউৎসর্গ এবং মাতৃভাষার গুরুত বোঝানোর চেষ্টা করেন। বাবার উপদেশে হান্নানের বোধদয় হয়। তখন সে স্ত্রী-সন্তানসহ সুইডেনে ফিরে যাওয়া আপাতত স্থগিত রাখে। এদিকে এলিনা থিসিস শেষে দেশে ফিরে যাওয়ার আগে রহমানের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় আসে। বিদেশি মেয়ের বাংলা ভাষার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখে রহমানের পরিবারের সবাই মুগ্ধ হয়। এলিনা জানায়, সে বাংলা ভাষার উপর আরো লেখা-পড়া করতে চায় ও বাংলাদেশে থেকে যেতে চায়। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকর কাহিনী। এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে চ্যানেল আইয়ের জন্য নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘চিঠিওয়ালা’। এতেও একজন ভাষা সৈনিকের গল্প উঠে এসেছে। শফিকুর রহমান শান্তনুর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন হারুন রশীদ। এতে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, আহসান হাবিব নাসিম, সুষমা সরকার প্রমুখ। চ্যানেল আইতে আজ রাত ৭.৫০ মিনিটে প্রচার হবে নাটকটি। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, ভাষা সৈনিক বাবার লেখা একটি পুরোনো চিঠি নিয়ে হাশেম চাচা আসেন অনিন্দদের বাড়িতে। যে চিঠিকে কেউ গুরুত্ব দেয় না, সেই চিঠিই ধীরে ধীরে বদলে দেয় অনিকের মন আর ভাষা নিয়ে তার ভাবনা। একটি চিঠিই অনিকের মতো মানুষকে তার শিকড় আর পরিচয়ের কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও দীপ্ত টিভিতে আজ রাত ১১টা ৩৫মিনিটে প্রচার হবে বিশেষ প্রামান্য চিত্র ‘আমি কি ভুলিতে পারি’। ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক এবং সুফিয়া আহমেদের ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে অনুপ্রানিত হয়ে আবদুল গাফফার চৌধুরীর কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ রচনা এবং বিশিষ্ট শিফাবিদ ডঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ২১ শে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে বিশ্লেষনাত্নক বক্তব্য নিয়ে এই আয়োজন। দুরন্ত টিভি দিবসটি ঘিরে নানা আয়োজন রেখেছে। এরমধ্যে দুপুর ২টায় প্রচার হবে নাটক ‘ঝুটুম পাখির কথা’। ছোট্ট পিউর পাখি পোষার খুব শখ। বাসায় তার অনেক পাখি আছে। একটাই দুঃখ, পাখিদের ভাষা সে বোঝে না। তাই তার আবদারে মা-বাবা তাকে একটা টিয়া পাখি কিনে দেয়। বাড়ি ফিরে শুরু হয় টিয়াকে কথা শেখানোর প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। কিন্তু বিপদ হলো, মানুষের মতো করে কথা বলতে পারে না টিয়া। কিন্তু পিউ চেষ্টা চালিয়ে যায়। এমনই এক মধুর গল্পে সাজানো হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশেষ এ নাটক । নাটকটি রচনা করেছেন নূর সিদ্দিকী ও পরিচালনা করেছেন মনিরুল হোসেন শিপন। এতে অভিনয় করেছেন সাবিহা জামান, জিতু আহসান, সুষমা সরকার ও ঋদ্ধি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মাছরাঙায় আর রাত ৮টায় প্রচার হবে বিশেষ নাটক ‘আমার বর্ণমালা’। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেতা তারিক আনাম খান। সীমান্ত সজলের রচনা ও পরিচালনায় নাটকটি বিশেষভাবে টেলিভিশনে প্রচার হবে আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি)। নাটকটির গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ওহাব মাস্টারকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকাররা ওহাব মাস্টারের বাড়িতে আগুন দেয়। সেই বিভীষিকাময় রাতে শিশু ওহাবের হাতে একটি বর্ণমালার বই তুলে দিয়ে তার বাবা বলেছিলেন, ‘তুই আমার বর্ণমালা বাঁচা’। তখন বর্ণমালার বই হাতে ওহাব দৌড়ে বের হতে পারলেও তার বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা যায়। তারপর থেকে ওহাব তার বাবার দেওয়া ‘আমার বর্ণমালা’ বইকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব নেয়।গল্পের বাঁক বদল হয় যখন ওহাব মাস্টারের স্কুলে বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি মাধ্যম চালুর পরিকল্পনা করা হয়। মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তিনি। তবে এর পরিণতি হয় অত্যন্ত করুণ। একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে দেখতে পায় সেখানে পড়ে আছে ওহাব মাস্টারের নিথর দেহ।তারিক আনাম খানের পাশাপাশি এই নাটকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদসহ আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। ভাষা দিবসের বিশেষ আবহে নির্মিত এই নাটকটি দর্শকদের মনে দাগ কাটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্মাতারা বলছেন, কেবল অতীতের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা নয়, নাটকগুলোতে উঠে এসেছে ভাষার চর্চা, বিকৃতি, এবং ডিজিটাল যুগে বাংলার অবস্থানের প্রশ্ন। কোথাও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনের পুনর্নির্মাণ, কোথাও প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের ভাষা-সংকট, আবার কোথাও ব্যক্তিগত প্রেম ও সংগ্রামের ভেতর দিয়ে উঠে এসেছে একুশের চেতনা। বিনোদনের মোড়কে ইতিহাস ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে এবারের নাটকগুলো কতটা সফল হবে, তা দেখার অপেক্ষায় দর্শক। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ভাষার প্রতি ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে এই আয়োজনগুলোর প্রধান প্রেরণা।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
রমজানে লেবুর দামে আগুন, সেরা বিকল্প যা হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

রমজানে লেবুর দামে আগুন, সেরা বিকল্প যা হতে পারে

তানিয়া বৃষ্টি। ছবি : সংগৃহীত

ব্রেন টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার শেষে বাসায় তানিয়া বৃষ্টি

সংগৃহীত ছবি

ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করবেন যেভাবে

ছবি : সংগৃহীত
ইফতারে কাঁচা না সেদ্ধ ছোলা কোনটিতে বেশি পুষ্টি জানালেন পুষ্টিবিদ

রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে ছোলার উপস্থিতি প্রায় অবধারিত। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা রাখেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোনটিতে পুষ্টিগুণ বেশি? পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী, তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতার কথা ভেবে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্সের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ডালজাতীয় খাদ্য। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এসব উপাদান শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া ছোলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁচা (ভিজানো) ছোলা কীভাবে খাবেন পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ছোলা সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ছোলা খাওয়ার আগে তা অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, অথবা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করাও সহজ হয়। ভিজিয়ে রাখা ছোলা নরম হলে চাইলে এর খোসা ছাড়ানো যায়। এরপর এতে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই একটি পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এভাবে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি। আপনি কী জানেন কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী? ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। তবে সবার ক্ষেত্রে ভিজানো ছোলা সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরিমাণ বুঝে খাওয়াই ভালো। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেদ্ধ ছোলা কীভাবে খাবেন- ছোলা খাওয়ার আরেকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নেওয়া। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করতেও সুবিধা হয়। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি হজমেও সহায়ক হয়। সেদ্ধ ছোলা দিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। এভাবে খেলে এটি ইফতারের টেবিলে স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক একটি পদ হয়ে উঠতে পারে। আপনি কী জানেন সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী? সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে ছোলার দানাগুলো নরম হয়ে যায়, যা পেটের জন্য সহজপাচ্য হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকিও কম থাকে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা নিরাপদ ও উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার হজমের সমস্যার আশঙ্কাও কম থাকে। সবশেষে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুভাবেই ছোলা খাওয়া যায় এবং দুটিই পুষ্টিকর। যারা বেশি শক্তি ও ফাইবার পেতে চান, তাদের জন্য ভিজানো ছোলা ভালো বিকল্প। আর যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ছোলা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
সোহম চক্রবর্তী । ছবি : সংগৃহীত

‘টাকা ফেরত চাইলেই হুমকি’, সোহমের বিরুদ্ধে আত্মসাতের মামলা

‘ঘরোয়া ইফতার’ নিয়ে পর্দায় হাজির নিরব-বর্ষা-আশরাফুলরা । ছবি : সংগৃহীত

‘ঘরোয়া ইফতার’ নিয়ে পর্দায় হাজির নিরব-বর্ষা-আশরাফুলরা

বাবাকে হারালেন চিত্রনায়িকা মৌমিতা মৌ । ছবি : সংগৃহীত

বাবাকে হারালেন চিত্রনায়িকা মৌমিতা মৌ

0 Comments