খেলাধুলা

হাইতির বিপক্ষে সম্ভাব্য কৌশলী একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারে ব্রাজিল

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে যাত্রাটা আশানুরূপ হয়নি ব্রাজিলের। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের ফলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সমীকরণের মারপ্যাঁচে। সম্ভাব্য বিপদ এড়ানো এবং গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে অবস্থান করতে দ্বিতীয় রাউন্ডে হাইতির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই সেলেসাওদের। উদ্বোধনী ম্যাচে পূর্ণ পয়েন্ট পেতে ব্যর্থ হওয়া দলটির লক্ষ্যই এখন জয়ে ফেরা।

 

বিশ্বকাপ অভিযান কিছুটা ম্লানভাবে শুরু হলেও সার্বিকভাবে গুছানো দল নিয়েই হাইতির বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটার ম্যাচে যদিও দলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়রকে পাচ্ছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) নিশ্চিত করেছে, ডান পায়ের পেশির চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকায় তিনি এখনও ট্রেইনিং বেজেই পুনর্বাসনে আছেন।

 

মরক্কোর বিপক্ষে আশানুরূপ পারফরম্যান্স না হওয়ায় এই ম্যাচে শুরুর একাদশে কয়েকটি পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন আনচেলত্তি। নেইমারের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের সেন্ট্রাল পজিশনে দেখা যেতে পারে ম্যাথিউস কুনিয়াকে। গত ম্যাচে ৬১তম মিনিটে লুকাস পাকেতার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। সেক্ষেত্রে দুই উইং থেকে গতি ও সৃষ্টিশীলতা দিয়ে তাকে সাহায্য করবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রাফিনিয়া।

 

তরুণ প্রতিভাবান এনদ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তবে ম্যাচের শেষভাগে দলের শক্তি বাড়াতে সাইড বেঞ্চ থেকে তাদের নামানোর সম্ভাবনাই বেশি। অবশ্য ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি যা বলেছেন, তাতে এখনই এই তরুণ তুর্কির শুরুর একাদশে সুযোগ নাও মিলতে পারে।

 

মিডফিল্ডে অভিজ্ঞ কাসেমিরোকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্রুনো গিমারায়েসের সঙ্গী হিসেবে শুরুর একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন ফাবিনহো। মরক্কোর বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ভক্ত ও কোচের মন জয় করেছেন তিনি। বিশেষ করে রক্তাক্ত শরীর নিয়ে তার লড়াই করার মুহূর্তটি জানান দিচ্ছিল দলের প্রতি নিবেদন।

 

রক্ষণভাগ সামলানোর মূল দায়িত্বে অন্যতম দুই সৈনিক মার্কিয়োনোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস জুটির ওপরই ভরসা রাখতে যাচ্ছে ব্রাজিল। ফুলব্যাক পজিশনে সান্তোসের সঙ্গে দেখা যাবে দানিলোকে। গোলপোস্টের নিচে যথারীতি দেয়াল হয়ে থাকবেন আলিসন বেকার।

 

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ: আলিসন বেকার (গোলরক্ষক); দানিলো, মার্কিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল, সান্তোস; ফাবিনহো, গিমারায়েস, পাকেতা; রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস, কুনিয়া।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার খুব কাছে বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি বোলিংয়ে ঐতিহাসিক এক জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। প্রথম তিন দিন ম্যাচটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে চতুর্থ দিনে এসে অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।   চতুর্থ দিনের সেশন শুরু হতেই বাংলাদেশ দলকে চালকের আসনে বসান মেহেদী হাসান মিরাজ। দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই নিজের জোড়া আঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে ফেলে দেন এই অফস্পিন অলরাউন্ডার। ম্যাচের ৬০তম ওভারে সেট ব্যাটার অ্যালক্স ক্যারিকে ফেরান মিরাজ। ৭২ বলে ৩০ রান করে মিরাজের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ক্যারি।   পরে ম্যাচের ৬৭তম ওভারে আবারো মিরাজের আঘাত। এবার তার এক দুর্দান্ত ‘অফস্পিন মাস্টারক্লাস’ ডেলিভারিতে বোকা বনে যান বেউ ওয়েবস্টার। বল বাঁক নেবে ভেবে ফ্রন্টফুটে খেলতে গিয়ে সোজা আসা বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ৫ রানে সাজঘরে ফেরেন ওয়েবস্টার।   পানি পানের বিরতির আগে মিরাজের এই স্পিফায়ারিং স্পেলে স্বাগতিকদের টপ ও মিডল অর্ডার ধসে পড়ে। ৩ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া যখন খাদের কিনারায়, তখন ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন।   ৭১তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দলীয় রান ২০০ স্পর্শ করলেও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তখনও ২৮ রানে পিছিয়ে ছিল তারা। ৮ নম্বরে নামা অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ক্রিজে সেট হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এর আগে টেস্টে তিনটি ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬টি ফিফটি থাকা কামিন্সকে দ্রুত ফেরানোই ছিল বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।   ৭৪তম ওভারের শেষ বলে সেই সাফল্য এনে দেন মিরাজ। মিরাজের ঝুলিয়ে দেওয়া বলে শর্ট লেগে দাঁড়ানো সাদমান ইসলাম দারুণ এক শার্প ক্যাচ লুফে নিলে ৮ রানে বিদায় নেন কামিন্স। এটি ইনিংসে মিরাজের চতুর্থ এবং দিনের সেশনে তৃতীয় উইকেট। কামিন্সের পতন ঘটলে অস্ট্রেলিয়ার টেল-এন্ডার ব্যাটিংয়ে পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ৮১ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২২৯ রান। ক্রিজে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকা ক্যামেরন গ্রিনের ওপর ভর করে লড়াই টানার চেষ্টা করছে স্বাগতিকরা, অন্যদিকে নতুন ব্যাটার হিসেবে মাঠে নেমেছেন মিচেল স্টার্ক।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সাতসকালে মিরাজের ঝড়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পথে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন স্মিথ

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ‘বুড়ো’ দল নিয়ে পন্টিংয়ের কড়া সমালোচনা, পুনর্গঠনের ডাক

ছবি: সংগৃহীত
ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট, তবুও জয়সওয়ালের বিরল কীর্তি

আজ থেকে শুরু হয়েছে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা প্রথম টেস্ট। আর এই টেস্টে ভারতের হয়ে উদ্বোধনী ব্যাটার হিসেবে মাঠে নেমেই বিরল রেকর্ড গড়লেন যশস্বী জয়সওয়াল। তবে শুরুটা ভালো করলেও ভুল বোঝাবুঝিতে রান-আউট হয়ে ফিরতে হয়েছে ড্রেসিংরুমে। এর মধ্যেই অবশ্য স্বদেশী কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার এবং সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের এলিট ক্লাবে ঢুকে রেকর্ডবুকে নামও লিখিয়েছেন এই তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার।   ২০২৩ সালে ভারতের হয়ে অভিষেকের পর এই নিয়ে ৩০তম টেস্ট খেললেন যশস্বী। আর মজার বিষয়— এই প্রথম ৩০ টেস্টের প্রত্যেকটা ম্যাচ আলাদা আলাদা ভেন্যুতে খেলেছেন তিনি। ডমিনিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেকের পর দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ঘুরে এবার গলে পৌঁছালেন জয়সওয়াল।   ৩০ মাঠে ৩০টি ম্যাচ খেলে ভারতের দুই সাবেক তারকা ক্রিকেটারের রেকর্ডে ভাগ বসালেন যশস্বী। সঞ্জয় মাঞ্জরেকার তার ক্যারিয়ারের প্রথম ৩৩টি টেস্ট খেলেছিলেন ৩৩টি আলাদা মাঠে। অন্য দিকে শচীন টেন্ডুলকার প্রথম ৩২টি টেস্ট খেলেছিলেন ৩২টা আলাদা ভেন্যুতে। সেই এলিট তালিকায় এবার নাম লেখালেন যশস্বী।   মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারেই লাল বলের ক্রিকেটে ভারতের হয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। ৩০টি টেস্ট খেলে ৪৮.৪৩ গড়ে জয়সওয়াল করেছেন ২৫৬৭ রান। এর মধ্যে রয়েছে ৭ সেঞ্চুরি ও ১৩টি অর্ধশতরান। সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ২১৪।   শনিবার ৬০০তম টেস্ট খেলতে নেমেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। এই ঐতিহাসিক টেস্টে শুরুটা ভালো করেও মাত্র ৩২ রানে আউট হন যশস্বী। শুরু থেকেই স্বচ্ছন্দ দেখাচ্ছিল তাকে। কিন্তু ১২তম ওভারের শেষ বলে রান নিতে গিয়ে বোলার কেশারা নুয়ান্থার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় পড়েই গিয়েছিলেন নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা যশস্বী।   উঠে রান নেওয়ার ইঙ্গিত দেন কেএল রাহুলকে। কিন্তু পরে আবার পিছিয়ে আসেন। এই ভুল বোঝাবুঝিতে দুই ব্যাটারই নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে চলে আসেন। ফলে সহজেই উইকেটকিপার প্রভাত জয়সূর্য রান-আউট করেন জয়সওয়ালকে। ৩৭ বলে ৩২ করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন যশস্বী। টেস্টে এই নিয়ে তৃতীয়বার রান-আউট হলেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

আইন ভেঙে স্টার্কের ‘নো বল’, বড় লিডের পথে বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি

আজ শুরু লা লিগার নতুন মৌসুম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ঘিরে আজ টিভিতে যত খেলা

ছবি : সংগৃহীত
বিয়ের তিন দিন পরই মাঠে ফিরতে প্রস্তুত রোনালদো

নতুন মৌসুমে সৌদি প্রো লিগে আল নাস্‌রের প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিতভাবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফেরার পথ খুলে দিলেন অ্যাঞ্জ পস্তেকগ্লু। দলটির নতুন কোচ বললেন, পর্তুগিজ মহাতারকা ‘সবসময় প্রস্তুত।’   ঘরের মাঠে শনিবার আল ফাতেহর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে আল নাস্‌র। গত মাসে দলটির কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া পস্তেকগ্লুর প্রথম ম্যাচ হবে এটি।   পর্তুগালে গত মঙ্গলবার জর্জিনা রদ্রিগেসের সঙ্গে ১০ বছরের সম্পর্ককে বিয়ের বন্ধনে রূপ দেন রোনালদো। এর একদিন পরই, বৃহস্পতিবার আল নাস্‌রের অনুশীলনে ফেরেন ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ক্লাবের প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাকে স্বাগত জানান কোচ, “স্বাগতম এবং অভিনন্দন ক্রিস; তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য আশীর্বাদ রইল, বন্ধু।   প্রথম ম্যাচে রোনালদো খেলতে পারেন কি না, জানতে চাইলে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ান কোচ বলেন, “রোনালদো সবসময় প্রস্তুত।”   পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ২৫তম মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ফেরার পর রোনালদোকে নতুন ‘হেয়ারকাটে’ দেখা গেছে। এক হাজার ক্যারিয়ার গোলের পথে ছুটছেন তিনি। ক্লাব ও দেশের হয়ে এক হাজার ৩২৬ ম্যাচে তার গোল এখন ৯৭৬টি।   গত মৌসুমে সৌদি প্রো লিগে ২৮টি গোল করে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আসর শেষ করেন রোনালদো।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাবাকে হারানোর শোক নিয়েই অনুশীলনে মেসি, পাশে থাকার বার্তা কোচের

ছবি : সংগৃহীত

সমালোচনা না করে উৎসাহ দিন: নেইমার

ছবি: সংগৃহীত

নতুন মৌসুমে বদলে যাচ্ছে ফুটবলের একাধিক নিয়ম

0 Comments