ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে—এমনটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ নিলে ন্যাটোর জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে।
নতুন বছরের ঐতিহ্যবাহী সংবাদ সম্মেলনে মেলোনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি জোরদার করা হলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো ওই অঞ্চলে প্রভাব বাড়াতে পারে—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে উদ্বেগ রয়েছে, তা মোকাবেলা করা যাবে এবং ওয়াশিংটনের একতরফা পদক্ষেপের চাপ কমবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন মেলোনি বলেন, ‘আমি এখনো মনে করি না যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক অভিযান চালাবে—এমন কোনো সম্ভাবনায় আমি বিশ্বাস করি।
এমন একটি বিকল্পকে আমি স্পষ্টভাবেই সমর্থন করব না।’
গত সপ্তাহান্তে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক অভিযানের পর আর্কটিক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এবং ইউরোপের নিরাপত্তা নীতিতে ভূমিকা ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে; সেই প্রেক্ষাপটেই মেলোনির এই মন্তব্য আসে, যা গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ট্রাম্পের অভিপ্রায় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ উসকে দিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ নেতা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানে আটক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেও, মেলোনি বলেন তিনি ওই অভিযানকে সমর্থন করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা বিষয়ে আমি ট্রাম্পের সঙ্গে একমত।
গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে আমি একমত নই।’ তিনি আরো বলেন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানে থাকা এই বিশাল ভূখণ্ড দখল করা কারো স্বার্থেই হবে না।
তিনি যোগ করেন, ‘স্পষ্ট করে বললে, এটি যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থে হবে না।’
হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মেলোনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপ ন্যাটোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে—এটা ‘সবার কাছেই স্পষ্ট’; আর এ কারণেই তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত হুমকি বাস্তবায়ন করবে না।
তবে তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘অন্যান্য পক্ষের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ—যারা এমনকি শত্রুভাবাপন্নও হতে পারে—ঠেকানোর প্রয়োজন’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ তিনি বোঝেন।
মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং গত বছর ট্রাম্পের অভিষেকে উপস্থিত থাকা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন তিনি।
তার সমর্থকেরা আশা করেছিলেন, তিনি ট্রাম্পের কাছে বিশেষ প্রবেশাধিকার পাবেন এবং ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে উঠবেন।
তবে এখন পর্যন্ত তার পরামর্শে ট্রাম্প কান দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মেলোনি শুক্রবার বলেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে অনেক বিষয়ে আমার দ্বিমত আছে। উদাহরণ হিসেবে, আমি মনে করি আন্তর্জাতিক আইনকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা জরুরি। … যখন আমার দ্বিমত হয়, আমি তাকে তা বলি—এতে আমার কোনো অসুবিধা নেই।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থার চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি, ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দুর্দান্ত অর্থনৈতিক অর্জনে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘স্বদেশী’ পণ্য ব্যবহারের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। খবর এনডিটিভি। কিরগিজস্তান সফরকালে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় এড়াতে বিদেশে ঘুরতে যাওয়া, বিদেশে বিয়ে আয়োজন এবং অপ্রয়োজনে স্বর্ণ কেনা বন্ধ করার আহ্বান জানান। ‘বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, তবুও দ্রুত এগোচ্ছে ভারত’ সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, “বিশ্ব আজ যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে। চারদিকে কেবল যুদ্ধের খবর ও সংকট। ২০২০ সালের কোভিড পরবর্তী সময় থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে কোনও স্থায়িত্ব নেই। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের এই দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়া ১৪০ কোটি মানুষের কঠোর পরিশ্রম ও যৌথ শক্তির প্রতিফলন।” ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ ও স্বদেশী পণ্যের তাগিদ জিডিপি-র শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে মোদি বলেন, “পর্যটনের জন্য বিদেশে যাবেন না। বিদেশে গিয়ে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং আয়োজন করা বন্ধ করুন। আমাদের ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ (ভারতেই বিয়ে) মন্ত্র মেনে চলতে হবে। এছাড়া প্রয়োজন না থাকলে স্বর্ণ কেনা এড়িয়ে চলুন।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “সাধারণ মানুষ যত বেশি স্থানীয় (লোকাল) পণ্য ও সেবা গ্রহণ করবে, ভারত তত দ্রুত উন্নত দেশের অভিমুখে ধাবিত হবে। বিশ্ব সংকটের মুখে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘ভোকেল ফর লোকাল’ নীতি মেনে চলার তাগিদ দেন। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপনের সময় আজকের যুবসমাজকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘উন্নত ভারত’ উপহার দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রতিদিন রাতে প্রায় ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে চীন এখনো নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে ইরান যাতে আবার রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই সীমিত হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে সোমবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে একটি ঘটনার খবর তারা পেয়েছে। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: শাফাক নিউজ
নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া কর্মীদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। আটকা কর্মীদের কাছে পৌঁছাতে কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। দেশটির রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক কর্মী আটকা বা নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৯৩৩ জন কর্মী আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সুড়ঙ্গে অবস্থান করছিলেন। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি, সার্চলাইট ও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভেতরে যাওয়ার পথ পরিষ্কার করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষে এখনো বেশ কিছু অংশ পুরোপুরি আটকে থাকায় উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪২ জন কর্মী নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে সেনাবাহিনীর প্রকৌশলীরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সুড়ঙ্গের পথ পরিষ্কারের কাজ করছেন। আপার ত্রিশুলি-৩বি প্রকল্পেও ১২২ জন নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপরদিকে, আপার ত্রিশুলি-১ প্রকল্পের আশপাশ থেকে ইতোমধ্যে ২৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই প্রকল্পেও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে আটকা ও নিখোঁজ কর্মীদের স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। উদ্ধারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কাদা ও পাথরের স্তূপ। বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকে পড়ায় সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সুড়ঙ্গে বাতাস পৌঁছানোর জন্য পাইপ বসানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের পথ খুলে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের মধ্যেও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন সেনাসদস্য ও বিশেষজ্ঞ দলগুলো। নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে আটকা কর্মীদের উদ্ধারে নেপালের সঙ্গে চীন ও ভারত থেকেও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এখনও যেসব কর্মীর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি, তাদের স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের ফেরার খবরের জন্য। আর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারীরা চালিয়ে যাচ্ছেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই অভিযান।