জাতীয়

গৌরবময় বিজয়ের মাস শুরু

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০১, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শুরু হলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। যাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই মহত্তম বিজয় অর্জিত হয়েছে সেসব লাখো শহীদের প্রতি বিজয়ের মাসে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়।

 

প্রতি বছরের মতো এবারও বিজয়ের মাস নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনও নিজেদের কর্মসূচি পালন করবে।
স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বে আত্মপ্রকাশ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূখণ্ড আর লাল সবুজের পতাকা। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের যে বীজ রোপিত হয়েছিল, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এই দিনে।

হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হলেও এ মাস বেদনারও কারণ অগণিত প্রাণের বিসর্জন ও মা–বোনের অপমানের বিনিময়ে এসেছে এই স্বাধীনতা।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরু থেকেই পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালি বীর যোদ্ধাদের কাছে একের পর এক পরাজিত হতে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা নৃশংস হামলা চালালেও প্রতিরোধ থেমে থাকেনি। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই সামরিক সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, দখলদার বাহিনী শেষ মুহূর্তে ভয়াবহতা বাড়াতে থাকে।
অবশেষে পরাস্ত হয়ে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

 

 কর্মসূচি 

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকার বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী প্রচার ছাড়াও সারাদেশে বিশেষ আয়োজন থাকবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিধি-বিধান সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হলেও ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে আলোকসজ্জা বন্ধ থাকবে।
১৬ ডিসেম্বর সকালবেলায় ঢাকাসহ সব জেলা ও উপজেলায় একত্রিশ বার তোপধ্বনি দেওয়া হবে।

ভোরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যরা, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। জেলা–উপজেলাতেও একইরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সকাল ৯টা থেকে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সমাবেশ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ, বিভিন্ন ডিসপ্লে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা–উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলা আয়োজন করা হবে। সেখানে শিশুদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের বৃহৎ বন্দর ও ঘাটগুলোতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, হা-ডু-ডু সহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ছাত্র–ছাত্রীদের জন্য বিনা টিকিটে দেখার ব্যবস্থা থাকবে। জাদুঘর ও বিনোদনস্থানগুলো শিশুদের জন্য সারাদিন উন্মুক্ত রাখা হবে। দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে।

হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে। রাজধানীসহ সারাদেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও রঙিন নিশানে সজ্জিত করা হবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে।

দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য ও দেশের শান্তি–সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

 

 বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি 

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর সকালে কালো পতাকা উত্তোলন, অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কবরস্থান ও বিভিন্ন স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাত্রা করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


সকালে আলোচনা সভা এবং বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন, স্মৃতি চিরন্তন ও অন্যান্য স্থানে আলোকসজ্জাও করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি মা-বোনদের শিক্ষিত করার লক্ষ্যে মেয়েদের মেট্রিক পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে দেশ পরিচালনার সময় মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করা হয়েছিল।   তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শের দল হিসেবে তাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করা হবে, যাতে তারা উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পায়।   তিনি আরও বলেন, যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ আরও উৎসাহিত হয়।   বিস্তারিত আসছে...

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

এলপিজি কার্ড’ চালুর ঘোষণা, জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন উদ্যোগ

ছবি : সংগৃহীত

দেশের ৮টি বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ফাইল ছবি
সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৫৭৬৬ জন হজযাত্রী, ৪ জনের মৃত্যু

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে রবিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ৮৯টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৩৫ হাজার ৭৬৬ জন বাংলাদেশি। সৌদি পৌঁছে এখন পর্যন্ত চারজন হজযাত্রী মারা গেছেন। তারা চারজনই পুরুষ। এরমধ্য রয়েছেন—টাঙ্গাইল সদরের মো. আবুল কাশেম, জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মণ্ডল, দিনাজপুরের বিরামপুরের মো. খলিলুর রহমান, ময়মনসিংহের মো. সেরাজুল হক। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের মো. আবুল কাশেম হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। এ ছাড়া বাকি ৩ জন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। হজ বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমে সৌদি পৌঁছেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন হজযাত্রী। এ ছাড়া বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৩২ হাজার ৪৮২ জন হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন। বুলেটিন থেকে আরো জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩৮টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৩৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ১৫ হাজার ৭৪৮ জন হজযাত্রী। সৌদি এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ১২ হাজার ৪৬৯ জন হজযাত্রী।ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস পরিবহন করেছে ৭ হাজার ৫৪৯ জন হজযাত্রী। হজ বুলেটিনে আরো জানানো হয়, সৌদি আরবের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রদত্ত স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করেছে ২৮৫০ জন। এছাড়া সৌদি আরবের আইটি হেল্পডেস্ক থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে ৬৯২২টি।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

হকার উচ্ছেদ নয়, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাই সমাধান

ছবি : সংগৃহীত

যশোরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন আজ

সংগৃহীত

প্রশ্নপত্রে দাগ দেওয়ায় ৮ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, দুই শিক্ষককে অব্যাহতি

ছবি: সংগৃহীত
৩০০ ফিটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই বন্ধু

রাজধানীর জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) সড়কের জলসিঁড়ি চত্বরে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন মো. সাব্বির হোসেন (২১) ও মো. রিফাত (২২)। তারা দুজনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার একই গ্রামের বাসিন্দা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।   রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।   আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. মনির জানান, জলসিঁড়ি বিশ্বরোড এলাকায় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে দুই বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে রাজধানীতে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। আনন্দ ভ্রমণই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়।   নিহত সাব্বির হোসেন খিলগাঁও মডেল কলেজের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. আমির হোসেন এবং গ্রামের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শেখেরকান্দা গ্রামে। অপরদিকে মো. রিফাত একই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে এবং বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী ছিলেন।   ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ দুটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।   হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় দুই পরিবারের পাশাপাশি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন্ধুদের একসঙ্গে এমন করুণ মৃত্যু স্থানীয়দেরও ব্যথিত করেছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি রেশনিং প্রত্যাহার, জরুরি সেবায় স্বস্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠক আজ, অনুমোদনের অপেক্ষায় ১৭ প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত

৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা জাহাজ

0 Comments