ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে সহিংসতার মাত্রা নতুন করে উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতেই প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। অথচ হামলার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক তৎপরতা চোখে পড়েনি।
ঘটনার পরপরই বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও, আগাম সতর্কতা বা পূর্বপ্রস্তুতির অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে—ঘোষণা দিয়ে চালানো নাশকতা ঠেকাতে কেন আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয় ছিল—এমন ধারণা সঠিক নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, আগের মতো কঠোর দমননীতি এখন আর অনুসরণ করা হচ্ছে না। তার ভাষায়, “আগে কোনো ঘটনায় ক্রসফায়ার বা কঠোর অভিযান হলে মানুষ ভাবত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন সেই পদ্ধতি নেই। আমরা গুলি বা লাঠিচার্জ করছি না। জনগণকে বোঝানোর মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।” তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র। তারা জানায়, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও আগাম সতর্কতার ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সরকারি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শাহবাগ এলাকায় চলমান একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে কিছু দুষ্কৃতকারী রাজধানীর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনও হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মাধ্যমে কয়েকজনের ছবি ও পরিচয় পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান বা মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সরকার এ ধরনের অপরাধ দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
এদিকে ময়মনসিংহের ভালুকায় এক পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা এবং পরবর্তীতে মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় নতুন করে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা বিপুল সংখ্যক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার জানিয়েছেন, চলমান বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি খুব শিগগিরই দেশব্যাপী যৌথ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “বার্তা পরিষ্কার—সন্ত্রাস, দস্যুতা কিংবা ভোটে বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, যারা আবেগকে কাজে লাগিয়ে সহিংসতায় জড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মানবিকতা দেখানো হবে না।
এ সময় লক্ষ্মীপুরে ঘটে যাওয়া আরেকটি ভয়াবহ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল। সেখানে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আগুনে পুড়ে তার সাত বছর বয়সী কন্যাশিশুর মৃত্যু হয় এবং পরিবারের আরও কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হন। ঘটনাটি রাজনৈতিক সহিংসতার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।
ঢাকায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পকলা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার না হওয়ায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ক্ষেত্রে নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করছে। তার মতে, প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে হামলা, সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ড এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আগুন—এসবের দায় সরকার এড়াতে পারে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং শুধু বিবৃতি দিয়ে দায় সারা সম্ভব নয়।
দেশজুড়ে একের পর এক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা আদৌ যথেষ্ট ছিল কি না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং আলিয়া মাদরাসাসহ কয়েকটি এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে শুরু হওয়া এসব ঘটনার পর আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর শিক্ষা বোর্ডের সামনে লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক নেছারুদ্দীন রাব্বির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রদলের সাবেক নেতা সানাউল্লাহ গুরুতর আহত হন এবং তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত নেছারুদ্দীন রাব্বি দাবি করেন, তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি হামলাকারীদের ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে সন্দেহ করছেন। এদিকে, ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং দুই পক্ষের মাঝখানে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। আলিয়া মাদরাসা এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সানাউল্লাহকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর আগে ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকেও তিনজন আহত শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেলে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ঢাকা কলেজের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন এবং একজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাগুলোর পর রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশের যুব প্রতিনিধি হিসেবে রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গ শহরে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’-এ অংশ নেবেন হালিমা ইয়াসমিন মুক্তা। তিনি বর্তমানে লিথুয়ানিয়ার কাউনাস শহরে অবস্থিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিথুয়ানিয়ান স্পোর্টস ইউনিভার্সিটিতে ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে মাস্টার্স প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের ১৯১টি দেশের যুব প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে ফেস্টিভ্যালের আয়োজক রাশিয়ার কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সংস্থা ‘রসমোলোদিওঝ’ এবং ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তর। প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ায় সফল হয়ে ‘ফুল ফান্ডেড পার্টিসিপ্যান্ট’ হিসেবে নির্বাচিত হন মুক্তা। সৃজনশীল শিল্প, জনপ্রশাসন, বিজ্ঞান ও শিক্ষা, খেলাধুলা, উদ্যোক্তা, মিডিয়া, ডিজিটালাইজেশন ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং সামাজিক খাত—এই বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে আবেদন গ্রহণ করে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ‘সৃজনশীল শিল্প’ এবং ‘মিডিয়া, ডিজিটালাইজেশন ও আইটি’ ক্যাটেগরিতে আবেদন করে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক সম্পন্ন করার পর পর্যটন খাতে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে লিথুয়ানিয়ায় যান। বর্তমানে দেশটির লিথুয়ানিয়ান স্পোর্টস ইউনিভার্সিটিতে ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন পেশায় ব্যবসায়ী এবং মা রাজিয়া সুলতানা গৃহিণী। ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হালিমা ইয়াসমিন মুক্তা বলেন, এত বড় একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে পারব। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া সত্যিই গর্বের। আগামী ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক আয়োজনে মোট ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি অংশ নেবেন। এর মধ্যে পাঁচ হাজার প্রতিনিধি রাশিয়ার বাইরে বিশ্বের ১৯১টি দেশ থেকে আমন্ত্রিত হবেন। ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তরের প্রেস টিম জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে এবার মোট ৯০ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বাছাই প্রক্রিয়া এখনও চলমান থাকায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কতজন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, সে তথ্য জানাতে পারেনি সংস্থাটি।
রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ আবারও বেড়েছে। আইকিউএয়ারের সর্বশেষ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, আজ সকালে ঢাকার বাতাস ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) আইকিউএয়ারের সকাল ৭টা থেকে ৮টা সময়সীমার রেকর্ডে দেখা যায়, বিশ্বে সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৫ম আর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১১৩। রিয়েল-টাইম একিউআই স্টেশন র্যাঙ্কিংয়ে দেখা যায়, ঢাকার কিছু জায়গায় দূষণের মাত্রা সহনীয় থেকে সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় আছে। এর মধ্যে ধানমন্ডি এলাকার বাতাস সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় আছে। এলাকাটির আইকিউএয়ার স্কোর ১৫৩, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক। র্যাঙ্কিং তালিকায় আরও যেসব এলাকা রয়েছে— বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বারিধারা পার্ক রোড, বারিধারা লেকসাইড, গুলশান লেক পার্ক, গুলশানের বেজ এজওয়াটার আউটডোর, গোড়ান ও গুলশান ২-এর রব ভবন। বিশ্বজুড়ে বায়ুমান নিয়ে গবেষণা করা এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায়। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১৬৭, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক। আইকিউএয়ারের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে থাকা বিশ্বের অন্য শহরগুলো হলো— ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৬৫, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই (১৫৩, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর) ও পাকিস্তানের লাহোর (১৩৯, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর)। বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।