অনিয়ম রোধে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ট্র্যাকার বসবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রবিবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে দেশের সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সরকারের কার্যক্রম জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত তুলে ধরে সড়কমন্ত্রী বলেন, পরিবহন নিয়ন্ত্রণে জিপিএস সিস্টেম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জিপিএস সিস্টেম চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সব পরিবহন ও গণপরিবহনে জিপিএস থাকবে।
তিনি বলেন, জিপিএস থাকলে দেখবেন, পরিবহন আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, কে ট্রাফিক আইন মানছে না, কে মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে যাত্রী নিয়ে চলে যাচ্ছে, মানে টিকিট ছাড়াই যাত্রীদের তুলে তাদের ইচ্ছামতো ভাড়া নিয়ে চলে যাচ্ছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সকল বাস বা বাণিজ্যিক পরিবহনে জিপিএস ইন্সটল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জিপিএস ইন্সটল করলে যারা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাবে, তাদের প্রত্যেকের রেকর্ড ফুটেজ আমাদের কাছে আসবে। যে বাস বা যে পরিবহন এটা অমান্য করবে, সে অনুযায়ী জরিমানা চলে যাবে তার ঠিকানায়।
এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো পরিবহন রুট অমান্য করলে বা নির্দিষ্ট রুটের বাইরে গেলে এটি দিয়ে মামলা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দুই বছর পর পর একটা বাসের ফিটনেস চেক করতে হয়। ফিটনেস নিয়ে চালাতে হয়। এখন ওইটা আমাদের কাছে রেকর্ড আছে কারা কারা ফিটনেস নবায়ন করেনি। সে রাস্তায় না নামলে কিন্তু আমরা তাকে জরিমানা করতে পারি না। জরিমানা করলে বলে যে, আমি তো চালাইনি, আমি তো ফিটনেসের জন্য ওয়েট করছি, কিন্তু সে রাস্তায় নামালে ওই ফিটনেসবিহীন বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আনফিট বাসগুলো রাস্তায় নেমেছে কি না, জিপিএসের মাধ্যমে আমরা এটাও বের করতে পারব।
জিপিএস থাকা যানবাহন বিআরটিএসহ পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করবে। জিপিএসের কন্ট্রোল রেগুলেশন সফটওয়্যার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইতোমধ্যে ডিএমপি এবং হাইওয়ে পুলিশ সিসি ক্যামেরা রেকর্ড দ্বারা, স্পিড ক্যামেরা রেকর্ড দিয়ে কিন্তু ডিজিটাল সিস্টেমে মামলা চলমান আছে। অতএব, আস্তে আস্তে এটা শৃঙ্খলায় আসবে বলেও জানান মো. সরওয়ার। সূত্র : ইউএনবি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় কমপক্ষে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ জন রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে জড়িত চক্রকে চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। রোববার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, নিহত ও জীবিতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাস। তিনি জানান, ‘আমাদের মিশন থেকে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। মানবপাচারকারীরা লিবিয়া ও বাংলাদেশ- দুই জায়গাতেই সক্রিয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিপদসংকুল পথে পাঠাচ্ছে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকাটিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক থাকলেও বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশুও ছিলেন, যা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। জীবিতদের কেউ হাসপাতালে এবং কেউ শরণার্থী ক্যাম্পে রয়েছেন।’ বর্তমানে গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে তাদের অবস্থা জানার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। তবে স্থানীয় নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ ও পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে কিছুটা সময় লাগবে। শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের ভঙ্গুর অবস্থার চিত্র তুলে ধরে। যারা এই মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে-সেটি আন্তর্জাতিক আইনেই হোক বা দেশের আইনে।’ তিনি আরও জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-যাত্রাপথে ৬ থেকে ৭ দিন সাগরে থাকার মতো পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানি ছিল না। চরম অমানবিক পরিস্থিতিতে অনেকেই মারা যান এবং কিছু মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।’ বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য জীবিত বাংলাদেশিদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরবর্তীতে দেশে ফিরিয়ে আনা। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের মানবপাচার বন্ধে কার্যকর সমাধান বের করা জরুরি। এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।’
নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় পেট্রোল পাম্প ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৩) ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলার সকল পাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নড়াইল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম হিটু। তিনি বলেন, তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিহাদ মোল্যা (২৭) নামের পাম্পটির এক কর্মী গুরুতর আহত হন। ট্রাকচাপায় নিহত নাহিদ সরদার উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। আহত জিহাদ একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে ট্রাকের ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে পারেননি পাম্পটির ব্যবস্থাপক নাহিদ। তেল না পেয়ে ট্রাকচালক তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে ট্রাকচাপা দিয়ে নাহিদকে হত্যা করার হুমকি দেন সুজাত। পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেলে চড়ে নিজ গ্রামে যাচ্ছিলেন নাহিদ ও পাম্পের কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে একটু দূরে গেলে পেছন থেকে এসে সুজাত তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাহিদ। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেকেন্দর আলী বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত চালক ও ট্রাকটিকে আটকের চেষ্টা চলছে।
জেল হাজতে আটক শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়ার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ১০ ঘণ্টা পর রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এর আগে পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের এক ফলপ্রসু আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদ হুসাইন রাজু শ্রমিক নেতৃবৃন্ধকে আশস্থ করায় তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন। আলোচনা সভায় পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল ওয়াদুদ, রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান (আতু), সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মো. আব্দুল ওয়াদুদ ও রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, জ্বালানি তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্যাংকলরির চালকসহ তিন শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালত জেল জরিমানা করার প্রতিবাদে ও জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে পার্বতীপুরের রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে সকল ধরনের জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রেখে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা আন্দোলন কর্মসূচিতে নামে। এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। এর ফলে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।