জাতীয়

শিক্ষকদের গ্রীষ্ম-শীতকালীন ছুটি থাকছে না

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কলেজের বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের ভ্যাকেশন প্রথা বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের চাকরিকে নন-ভ্যাকেশন বিভাগ হিসেবে গণ্য করতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে শিক্ষকরা দীর্ঘ গ্রীষ্মকালীন বা শীতকালীন ছুটি আর পাবেন না। বরং সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের মতো বছরে নির্ধারিত ২০ দিনের অর্জিত ছুটির আওতায় আসবেন তারা।

 

রোববার (২৯ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত এক স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারি কলেজের শিক্ষকরা বর্তমানে ভ্যাকেশন বিভাগের সুবিধা ভোগ করলেও এ সংজ্ঞা পর্যালোচনা করে সংশোধনের বিষয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক স্মারকে এ সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয় এবং সে অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়। তবে ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ অনুযায়ী, অবকাশ বিভাগের কর্মচারীদের ছুটির বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান থাকায় এ বিধি সংশোধনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বলেও স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এটি মূলত দীর্ঘ ছুটি কমিয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশাসনিক বা একাডেমিক কাজে ব্যস্ত রাখার পদক্ষেপ। সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন পূর্ণ ছুটি ছাড়াও কলেজ বন্ধ থাকলে তারা অঘোষিত ছুটি ভোগ করেন।

এদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক পর্যায়ে শিক্ষা খাতকে সরাসরি নন-ভ্যাকেশন বিভাগ ঘোষণা করা যথাযথ হবে না বলে মত দেয়। তবে একই সঙ্গে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ও কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যসহ অন্যান্য শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি, গড় বেতনে অর্জিত ছুটিসহ অন্যান্য সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে ৪০ মিনিট অবস্থান বাধ্যতামূলক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রতিদিন সকালে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দপ্তরে ৪০ মিনিট অবস্থানসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এই নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে এই নির্দেশনা প্রতিপালনে ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হওয়ায় নতুন করে ১১টি নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১১ দফা নির্দেশনা হলো– ১. প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান করতে হবে। দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এই সময়সীমা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ২. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। জানালা, দরজা বা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে। ৩. অফিস চলাকালে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। ৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অবশ্যই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে। ৫. অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় বাতি, ফ্যান, এসি ও সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে। ৬. অফিসের করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমের মতো স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ৭. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও এসিসহ সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। ৮. সরকারি নির্দেশনা ব্যতিরেকে সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। ৯. জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হতে হবে। ১০. অফিস কক্ষ, করিডোর, টয়লেট, সিঁড়ি ও সিঁড়ির হাতল নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ১১. এসব নির্দেশনা প্রতিপালন ও পর্যবেক্ষণের (মনিটরিং) জন্য সকল দপ্তর, সংস্থা ও কার্যালয়ে একটি করে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করতে হবে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী আয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড: মার্চের ২৮ দিনে ৩৩৩ কোটি ডলার

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

শিগগিরই কুয়েত-সৌদি হয়ে ঢাকায় ফ্লাইট চলাচল শুরু

ছবি: সংগৃহীত
উপজেলায় গজ, ব্যান্ডেজ ও সিরিঞ্জ কেনার তহবিল নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নমূলক কাজ করার মতো পর্যাপ্ত তহবিল নেই। এমনকি উপজেলা পর্যায়ে গজ, ব্যান্ডেজ ও সিরিঞ্জ কেনার মতো অর্থও বর্তমানে সংকটাপন্ন।   রোববার (২৯ মার্চ) সংসদে ৭১ বিধিতে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার-এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে, যার কারণে বর্তমান সময়ে উন্নয়নমূলক কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের কিছু সম্পদও নষ্ট হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।   তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালের নির্মাণ কাজ পরিকল্পনাহীনভাবে করা হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, কিছু ২৫০ শয্যার হাসপাতালের নকশায় এমন ত্রুটি রয়েছে যেখানে প্রবেশপথের পাশেই বাথরুম রাখা হয়েছে, ফলে দুর্গন্ধে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তড়িঘড়ি করে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নিম্নমানের পরিকল্পনায় এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল।   দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বাজেটের পর সীমিত সম্পদ নিয়েই পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।   তিনি বলেন, “যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই আমরা করব—সীমিত সম্পদের মধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে বিরোধীদলীয় নোটিশ ঘিরে তীব্র হট্টগোল, উত্তপ্ত অধিবেশন

ছবি: সংগৃহীত

আমদানির চাপ বাড়ায় ফের ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে রিজার্ভ

ছবি: সংগৃহীত
চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে ভুট্টার উত্থান, বদলে যাচ্ছে গাইবান্ধার চিত্র

উত্তরের নদীবিধৌত জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষ এখন কৃষি অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। জেলার চরভিত্তিক উর্বর পলিমাটি ও কৃষকদের পরিশ্রমে সোনালি ভুট্টা বদলে দিচ্ছে মানুষের জীবনমান।   জেলার সাতটি উপজেলাতেই ভুট্টা চাষ হলেও সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৬৫টি চরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে। এই ফসল এখন হাজারো কৃষকের প্রধান জীবিকা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।   কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উর্বর মাটি, তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ এবং উচ্চ ফলনের কারণে গত এক দশকে ভুট্টার আবাদ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য শিল্পে চাহিদা থাকায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।   গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মেট্রিক টন।   চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ভরা বিস্তীর্ণ ভুট্টাক্ষেতের মধ্যে কৃষকরা সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত। অনেক জমিতে গাছে শীষ আসায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।   স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ১৫–১৮ হাজার টাকা, আর উৎপাদন হয় ৩৫–৪০ মণ পর্যন্ত। ফলে খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পাওয়া সম্ভব।   একজন কৃষক বলেন, ভুট্টা তাদের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। আরেকজন জানান, এই ফসল গবাদিপশুর খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, ফলে এর বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে।   তবে কৃষকদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, খরা ও ঝড়ের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। এছাড়া সংরক্ষণ ও বিপণনের সমস্যার কারণে অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।   কৃষকরা চরাঞ্চলে আধুনিক গুদাম ও সংরক্ষণাগার এবং স্থানীয় বাজার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।   সাদেকুল ইসলাম, গাইবান্ধার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক, বলেন উন্নত বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে ভুট্টার উৎপাদন বাড়ছে এবং এটি একটি লাভজনক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।   অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচে।” তিনি ভুট্টাকে জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে উল্লেখ করে কৃষকদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।   প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে সরকারের এটুআই কর্মসূচির আওতায় গাইবান্ধার ভুট্টা, মরিচ ও রসমঞ্জুরীকে জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

লিড সনদ পেল নতুন ৫টি কারখানা

ছবি : পিএমও

নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ অধিবেশনে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির নেপথ্যের চক্র খুঁজে বের করার নির্দেশ

0 Comments