দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সিভিল সোসাইটি নেতা, মানবিক সহায়তা কর্মী এবং দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাত থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলেন, বজ্রপাত বর্তমানে একটি বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে, যা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণহানির কারণ হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতি এখনো অনেক কম এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচিতে বিষয়টি খুব কমই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে, গ্লোবাল সাউথের স্থানীয় ও জাতীয় মানবিক সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্ক এবং গ্র্যান্ড বার্গেইন স্বাক্ষরকারী Alliance for Empowering Partnership (A4EP), বাংলাদেশের কোস্ট ফাউন্ডেশন, ভারতের জাতীয় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDMA), Climate Resilient Observing Systems Promotion Council (CROP-C) ও Humanitarian Aid International (HAI)-এর যৌথ উদ্যোগে আজ “বজ্রপাতজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ঝুঁকিগুলোর মধ্যে বজ্রপাত একটি অন্যতম দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে, বাংলাদেশ ও নেপালে বজ্রপাতে মৃত্যুহার ও ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ভারতেও বজ্রপাতের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বক্তারা বজ্রপাত মোকাবিলায় স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রসিডিউর (SoP), আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, কমিউনিটি-ভিত্তিক ঝুঁকি হ্রাস প্রটোকল, জনসচেতনতা, কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং সরকার-এনজিও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সিআরওপি-সি এর চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) সঞ্জয় শ্রীবাস্তব ওয়েবিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং তিনি বলেন, বজ্রপাতজনিত মৃত্যু কমাতে আগাম সর্তকতা ও কমিউনিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বজ্রপাতের ঘটনাও বাড়ছে এবং তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে বজ্রপাতের ঘটনা ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তিনি কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, স্থানীয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা, স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রসিডিউর (SoP) এবং শক্তিশালী জলবায়ু অভিযোজন নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বা নিজস্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পরামর্শ দেন এবং বজ্রপাত ঝুঁকি হ্রাসে কমিউনিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সুধাংশু এস. সিং বলেন, প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি নেটওয়ার্কগুলোর মাঝে জ্ঞান বিনিময়, নীতিমালা প্রণয়ন এবং বজ্রপাত নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে শক্তিশালী সহযোগিতার আহ্বান জানান। গওহর নঈম ওয়াহরা বাংলাদেশ সরকারের বজ্র নিরোধক স্থাপন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রশংসা করলেও বলেন, কার্যকর ঝুঁকি হ্রাসে কমিউনিটির অংশগ্রহণ এখনো সীমিত এবং তা আরও জোরদার করতে হবে।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের আটটি জেলায় একদিনে ১৪ জনের বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি মানুষের জীবন রক্ষায় সরকার, এনজিও ও কমিউনিটির সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান। ইকবাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের তুলনায় বজ্রপাতে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। তিনি বজ্রপাত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রসিডিউর (SoP) এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লে্খ্য যে, নেপাল, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও চীন থেকে মোট ৭০ জন অংশগ্রহণকারী এই ওয়েবিনারে অংশ নেন। তারা বজ্রপাতের সময় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কার্যকর সাড়া ও চিকিৎসা প্রটোকল উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মোঃ ইকবাল উদ্দিন ওয়েবিনার অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং HAI-এর জাহাবিয়া ডাক্তার ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মোঃ শাহিনুর ইসলাম আলোচনার সুপারিশসমূহ উপস্থাপন ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামীকাল ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। এই দীর্ঘ আয়োজনে কবর জিয়ারত, পদযাত্রা, আলোচনা সভা, সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কফিন মিছিল, ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকরাম হুসাইনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। একই দিন ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি সভা এবং উপজেলা পর্যায়ে ‘বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নে’ মাসব্যাপী পদযাত্রার রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। ২ থেকে ৮ জুলাই দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন এবং ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে জুলাই জাগরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। ৫ থেকে ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। এ ছাড়া মাসজুড়ে গণঅভ্যুত্থানে নারী, কৃষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং যুব কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের কবর জিয়ারত, দেশব্যাপী দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি রয়েছে। ১৭ জুলাই ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল এবং ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালন করা হবে। আগস্টের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে– দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম, সংবাদে গণঅভ্যুত্থান, জুলাইয়ের দ্রোহযাত্রা, গণঅভ্যুত্থান স্মরণিকা প্রকাশ, জনতার এক দফা, আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৫ আগস্ট বিজয়ের উল্লাস। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসূচি বাস্তবায়নে জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি নামে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাসনাত আবদুল্লাহকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে। দেশের পাশাপাশি এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের অংশগ্রহণে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জুলাই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে করা হয়েছিল। আমরা চেয়েছিলাম সমাজের সব পুরোনো অর্ডার পরিবর্তন হয়ে নতুন একটি অর্ডার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এই সরকার গণভোট বাস্তবায়নে বিপরীত অবস্থান নিয়েছে।’
কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা খালাস করতে না পারায় দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে পরিস্থিতির উন্নতির তথ্য সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সোমবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান কমে ৩৩৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। তবে আগের দিন বন্ধ হয়ে যাওয়া দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গতকালকে আমি পার্লামেন্টে একটা বক্তব্য দিয়েছিলাম দেশের একটা ক্রাইসিসের ব্যাপারে। আমাদের দুইটা পাওয়ার প্ল্যান্টের জেনারেশন বন্ধ হয়ে গেছিল, যার ফলে গতকালকে আমাদেরকে লোডশেডিং দিতে হয়েছিল।’ সোমবারের পরিস্থিতি তুলে ধরে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আজকে আনন্দের সাথে হাউসকে এবং জনগণকে জানাতে পারি, এখন আমাদের জেনারেশন ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট আর ডিমান্ড এখন ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। আমার লোডশেডিং হবে এখন ৩৩৯ মেগাওয়াট।’ এই ঘাটতিও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এই ৩০০ মেগাওয়াটকেও কমিয়ে নিয়ে আসার জন্য। কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং থাকবে। যাতে না থাকে, সেজন্য আমরা সচেষ্ট আছি।
বর্তমান জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ আখ্যায়িত করে গত সাড়ে ১৭ বছরে সংঘটিত সব গুম, খুন এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সাড়ে ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের বীররা, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মান জানাতে হবে। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।” বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চার মাস পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যে গতিতে বিচার প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে সেই অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। তিনি বলেন, “অপরাধী যত প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গুম, খুন ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সব আলোচিত ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা প্রয়োজন।