হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। এসব হামলা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা, জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় ড্যাব। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে একদল বহিরাগত অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এর মাত্র দুই দিন আগে, ১৫ আগস্ট মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন ও এক ওয়ার্ডবয় মারধরের শিকার হন। ড্যাবের দাবি, চলতি বছর কুমিল্লা, রংপুর, শরীয়তপুর, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সংগঠনটি বলছে, শুধু বড় হাসপাতাল নয়— জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ব্যক্তিগত চেম্বারেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত হামলা ও হুমকির মুখে পড়ছেন। অনেক ঘটনাই আবার প্রকাশ্যে আসে না।
ড্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬০০ চিকিৎসকের মধ্যে ৫৫ শতাংশ কর্মজীবনে কোনো না কোনো ধরনের সহিংসতার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ শারীরিক এবং ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ মৌখিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ড্যাব নেতারা বলেন, রোগীর মৃত্যু স্বজনদের জন্য নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কষ্টদায়ক। চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি স্থাপন এবং জরুরি বিভাগে নিয়মিত পুলিশি টহলের দাবি জানিয়েছে ড্যাব। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় পৃথক আইন প্রণয়নেরও আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ড্যাব নেতারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, করোনা মহামারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংকট ও দুর্যোগে চিকিৎসকরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অথচ কর্মক্ষেত্রেই যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, সহ-সভাপতি আবুল কেনান ও মোস্তাক রহিম স্বপন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন, ইএনটি হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফরসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে দেশটির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি’র সঙ্গে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হকের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো এবং দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি। এ ছাড়া কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি এবং দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আলোচনা দুই দেশের শ্রমবাজার সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় আপাতত বড় ধরনের রদবদল হচ্ছে না। তবে নতুন করে দুই সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে সরকারি উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে। সূত্র বলছে, বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবার মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন। আগামী ২০ আগস্ট তাঁদের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে তাঁরা শপথ নেবেন। কোন মন্ত্রণালয়ে কে? সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী এবং শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার আলোচনা কয়েক দিন ধরেই চলছিল। অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সাচিং প্রু জেরীর অন্তর্ভুক্তিকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং ওই অঞ্চলের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রপতির শপথের পর মন্ত্রীদের শপথ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে শপথ নিতে হবে। সে কারণে ২১ বা ২২ আগস্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়ার পরই দুই নতুন মন্ত্রীকে শপথ পড়ানো হবে বলে জানা গেছে। পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি গত ১ জুন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের প্রায় দুই মাস পর মন্ত্রণালয়টি নতুন পূর্ণমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে গাইবান্ধা-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এক লাখ ৪২ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে অপেক্ষা সরকারের একজন প্রভাবশালী সদস্য জানিয়েছেন, দুই নতুন মন্ত্রীর নাম ও দায়িত্ব ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ২০ আগস্ট দেওয়া হতে পারে এবং নতুন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেই তাঁরা শপথ নেবেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদসচিব বলতে পারবেন।” অন্যদিকে, সম্ভাব্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, “মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।” বর্তমান মন্ত্রিসভার চিত্র বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত উপদেষ্টা রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বঙ্গভবনে প্রস্তুতি চলছে। রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, ২০ আগস্ট ভোটের পর শপথ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করেছে। নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তিনিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবার চাইলে নিহতদের মরদেহ আনার খরচ সরকার বহন করবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কলকাতার হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে। এদের মধ্যে ৪ জন একই পরিবারের সদস্য। অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ যাবৎ এ অগ্নিকাণ্ডে মোট নয় জন মারা গিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এরা হলো, সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন এবং তাদের ছেলে শর্ণশিষ দত্ত নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম আলীও ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত অপর বাংলাদেশির নাম আহমেদ বাবু। তার বাড়ি সাভারের আমিনবাজার বেগুনবাড়িতে। এদিকে দুর্ঘটনার পর উপ-হাইকমিশন থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ছয় জন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।