বিশ্ব

এশিয়ার অর্থনীতিতে জ্বালানি সংকটের দ্বিতীয় ধাক্কা আসছে

মারিয়া রহমান মে ১২, ২০২৬
চীনের একটি বন্দরে সোমবার ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত তেল খালাস করা হয়। ছবি: এএফপি
চীনের একটি বন্দরে সোমবার ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত তেল খালাস করা হয়। ছবি: এএফপি

অর্থনীতির ইতিহাস দেখাচ্ছে, যতবারই তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, ততবারই বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম কিছুর আশা করা হচ্ছে না। ইতোমধ্যে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে ও মানুষ খরচ কমাতে শুরু করেছে। কর আদায় কমার শঙ্কায় কিছু দেশের সরকার আরো বেশি ঋণ করছে। যা এরইমধ্যে মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের বড় ভুক্তভোগী হতে যাচ্ছে এশিয়ার দেশগুলো। এ অঞ্চলে এরইমধ্যে জ্বালানি সংকটের দ্বিতীয় ধাক্কার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মুদ্রার মান কমে গেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এ অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের খাদ্য ও জ্বালানির দাম আরো বাড়বে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে মন্দার দিকেও ঠেলে দিতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিজনেস স্কুল ইনসিড-এর অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক দত্ত পুশান বলছেন, এশিয়া সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত অবস্থায় আছে। কারণ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বাদে এ অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশই বড় মাপের তেল আমদানিকারক। দেশগুলো শিল্পোন্নত হওয়ায় প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

যদি জুন মাসের শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির (এনটিইউ) সহযোগী অধ্যাপক চেন চিয়েন-মিং এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। এই প্রণালি প্রায় ৭০ দিন ধরে বন্ধ থাকায় বর্তমানে ঘাটতির পরিমাণ ১০০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি দাঁড়িয়েছে।

তবে আপাতত তেলের বাজার দর তুলনামূলক স্বাভাবিক। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দামও গত সপ্তাহে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। অধ্যাপক চেন বলছেন, বাজারে গা-ছাড়া ভাব দেখা গেলেও স্পষ্টতই তেলের ঘাটতি আছে। যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে- এমন আশায় দামের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বাজার বনাম বাস্তব পরিস্থিতি
জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার আগে বৈশ্বিক তেলের মজুত তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। এই মজুত মূলত একটি ‘শক অ্যাবজরবার’ বা অভিঘাত প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম খুব বেশি বাড়েনি।

অধ্যাপক চেন বলছেন, ‘দামের চাপ এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। আমরা এখনো এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছাইনি যেখান থেকে আর ফেরার পথ নেই।’ তবে সেই চরম সীমাটি দ্রুতই ঘনিয়ে আসছে। 

জেপি মরগানের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে মজুত থাকা ৮৪০ কোটি ব্যারেল তেলের মধ্যে মাত্র ৮০ কোটি ব্যারেল প্রকৃতপক্ষে ব্যবহারযোগ্য। এর বাইরে মজুতে হাত দিলে পুরো ব্যবস্থাটি চরম সংকটে পড়বে। এপ্রিলের শেষ নাগাদ বিভিন্ন দেশের সরকার এই যুদ্ধের প্রভাব সামাল দিতে ইতোমধ্যে ২৮ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে।

জেপি মরগানের বৈশ্বিক কমোডিটি রিসার্চ প্রধান নাতাশা কানেভার নেতৃত্বাধীন একটি বিশ্লেষক দল সম্প্রতি তাদের নোটে লিখেছে, স্থলভাগে মজুতের মাত্র একটি অংশ (প্রায় ৫৮ কোটি ব্যারেল) সহজেই ব্যবহার করা যায়। বাকি তেল মূলত পাইপলাইন পূর্ণ রাখতে, ট্যাংকের সর্বনিম্ন স্তর ধরে রাখা এবং অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে কার্যত আটকে আছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণও তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান সংকট সেই সংঘাতের চেয়ে গুণগতভাবে আলাদা। তখন তেলের দাম বেড়েছিল মূলত রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে। বর্তমানের মতো তখন সরবরাহ ঘাটতি ছিল না।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির এশিয়া-প্যাসিফিক রিফাইনিং ও তেল বিষয়ক গবেষণা পরিচালক সুশান্ত গুপ্ত বলছেন, রাশিয়া তখনো বিকল্প উপায়ে বাজারে তেল বিক্রি করেছিল। তাই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে ইরান সংঘাতের তুলনা করা ঠিক হবে না। 

একটি ‘ব্যাকওয়ার্ডেটেড’ বাজার
মজুত ব্যাপক হারে কমলেও সুশান্ত গুপ্তের মতে বাজার এখন ‘ব্যাকওয়ার্ডেটেড’ অবস্থায় আছে। এর অর্থ- তেলের বর্তমান দামের চেয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দাম কম। ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে ‘চাহিদা হ্রাসের’ বিষয়টি মাথায় রেখে দাম নির্ধারণ করেছেন। কারণ, উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তা ও কোম্পানিগুলো তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে।

এশিয়ার উন্নয়নশীল অনেক দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফিলিপাইন চারদিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে। থাইল্যান্ডের সরকার কর্মীদের হাফ হাতার শার্ট পরার এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর ওপরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহার কমানো এবং বাড়িতে বসে কাজ করার অনুরোধ করেছেন।

দ্বিতীয় ধাক্কা: খাদ্য সংকট, মুদ্রার পতন ও মন্দা
এশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকির বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এনটিইউ-এর অধ্যাপক চেন। তিনি বলছেন, অর্থনীতির ইতিহাস পর্যালোচলা করলে দেখা যায়, তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর প্রতিবারই মন্দা দেখা দিয়েছে। সবকিছুর দাম বেড়ে যায়, মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়, সরকারের ট্যাক্স আদায় কমে যায় এবং আরো বেশি ঋণ নিতে হয়। এই ঋণ আবার মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেয়। এটি একটি চক্রের মতো কাজ করে। এবারও ব্যতিক্রম হবে না।

ইনসিড-এর অধ্যাপক পুশানের পূর্বাভাস হলো, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ যেমন- থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের মুদ্রার মানে পতন ঘটতে পারে। তেল আমদানিকারক বড় দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ওই দেশের অর্থনীতির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবেন। নিজেদের অর্থ সরিয়ে নিতে শুরু করবেন। 

অধ্যাপক পুশান জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যে ভারতীয় রুপি, ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া এবং ফিলিপাইনের পেসোর মতো এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর মান রেকর্ড পরিমাণে কমেছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব কৃষিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপরও পড়তে পারে। ডিজেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা চাষাবাদ কমিয়ে দিতে পারেন, যা আশঙ্কাজনকভাবে খাদ্য সংকট তৈরি করবে। অধ্যাপক চেন সতর্ক করে বলছেন, এশিয়ায় শস্য রোপণের প্রথম মৌসুম আসছে। কিন্তু থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর কৃষকরা চাষাবাদের কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না, লোকসানের শঙ্কায় আছেন। অনাহারের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই পরিকল্পনা করা উচিত।

(আমেরিকান বিজনেস ম্যাগাজিন ফরচুনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে মঙ্গলবার।)

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ইউক্রেনের ৯০২টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি রাশিয়ার

রাতভর ইউক্রেনের ৯০২টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। এর মধ্যে রাজধানী মস্কোর আশপাশে ধ্বংস করা হয়েছে ১৮০টি ড্রোন।   বুধবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রাতভর প্রায় ২০টি অঞ্চল ও রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত রাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ৯০২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।’   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসার সময় ১৮০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মস্কোকে লক্ষ্য করে চালানো সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি এটি।   ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।    বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভনুকোভো বিমানবন্দরে আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল।   এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের অঞ্চল এবং খারকিভ অঞ্চলে জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্র দিয়ে ব্যাপক হামলা’ চালানো হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব স্থাপনা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতো।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নভেম্বরে আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে ম্যানিলা যাচ্ছেন ট্রাম্প

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে শান্তিচুক্তি মানার আহ্বান পাকিস্তানের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে নিয়ে বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে, স্বীকারোক্তি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত
গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের নির্দেশ ট্রাম্পের

হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া নিশ্চিত করেছেন, গ্রিসে নিযুক্ত বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গিলফয়েল ট্রাম্পের একজন ডোনারের কাছে টেক্সট বার্তার মাধ্যমে ছয় অঙ্কের ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে সহায়তা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার বিনিময়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   গিলফয়েল এই অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার আইনজীবীরা ওই টেক্সট বার্তাগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলেছেন, দাতা এরিক ডিটার্স বক্তৃতা ও পরামর্শমূলক কাজের জন্য গিলফয়েলের কাছে অর্থ পাওনা ছিলেন।   একসময় প্রেসিডেন্টের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে গিলফয়েলের বাগদান হয়েছিল। তবে কয়েক বছর আগে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।   রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে গিলফয়েল দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন এবং ফক্স নিউজের উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মোদির মন্ত্রিসভায় বড় ধাক্কা, পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলায় জাহাজডুবি, নিখোঁজ ১১ নাবিক; রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব

ছবি: সংগৃহীত

চীন-রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে বলে বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প

জাপানে সেরা ঘুমের প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১৪ হাজার ডলার

কর্মব্যস্ততা ও ঘুমের অভাবে ভোগা জাপানে এবার আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী এক প্রতিযোগিতা। কে সবচেয়ে দ্রুত ঘুমাতে পারেন এবং সবচেয়ে গভীর ও প্রশান্ত ঘুমে আচ্ছন্ন হতে পারেন, তা নিয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন কয়েক ডজন প্রতিযোগী।    সোমবার টোকিওতে গদি প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   ‘ম্যাট রেস’ নামের এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের ধরন ও মান পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ যন্ত্র পরিয়ে আরামদায়ক গদিতে শুয়ে পড়তে দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট ঘুমানোর এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর জন্য পুরস্কার রাখা হয় ২০ লাখ ইয়েনের বেশি, যা প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন ডলারের সমান।   প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা তত্ত্বাবধানকারী ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর রিইচিরো নাকামা বলেন, ‘জাপানকে প্রায়ই ঘুমের অভাবে ভোগা একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এখানকার মানুষও অত্যন্ত কর্মঠ।’   মৃদু আলোয় সাজানো একটি কক্ষে প্রতিযোগীরা মাথায় পর্যবেক্ষণযন্ত্র লাগিয়ে ঘুমান। তাদের কেউ কেউ বিছানায় নরম খেলনা বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।   নাকামা বলেন, ‘ঘুমকে এ ধরনের একটি আয়োজনে পরিণত করার মাধ্যমে মানুষকে একসঙ্গে ঘুমানোর সুযোগ করে দেওয়া এবং ঘুমের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব বলে আমি মনে করি।’   অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের মানুষ দিনে গড়ে ৭ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ঘুমান। ওইসিডির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এ সময় ছিল সবচেয়ে কম।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যাতায়াতে বেশি সময় ব্যয় ও রাতের ব্যস্ত বিনোদন জীবন জাপানিদের কম ঘুমানোর অন্যতম কারণ।   প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৩২ বছর বয়সী চিসাতো হোন্ডা এএফপিকে বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। ইশ্, যদি আরেকটু বেশি সময় ঘুমাতে পারতাম!’   তিনি আরও বলেন, ‘এটি ছিল আনন্দের একটি প্রতিযোগিতা।’   কত দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া যাচ্ছে এবং ঘুম কতটা গভীর ও প্রশান্ত হচ্ছে—এই দুই বিষয় বিবেচনা করে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।   প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সুইমি বলেন, ‘আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই। তাই পুরস্কারের অর্থ দিয়ে বাসা বদলের খরচ মেটানোর কথা ভাবছি।’   তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজকুমারীর মতো একটি বিছানাও চাই। তাই সেই বিছানাটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৩, ২০২৬

এল নিনোর কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হতে পারে: কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ, বাতিল ৬১ ফ্লাইট: ভোগান্তিতে ৯ হাজারের বেশি যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

হুথিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে, মন্তব্য ট্রাম্পের

0 Comments