জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক নওশাবা মুকতার সিয়ামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) দলীয় ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে তাকে এ নোটিশ দেয় জেলা শাখার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কমিটি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির নেত্রী পরিচয়ে নওশাবা মুকতার সিয়ামকে ঘিরে একাধিক বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এসব সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং দলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছে দলটি।
এ বিষয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ হোছাইন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়, দলের একজন দায়িত্বশীল পদধারী হিসেবে তার কর্মকাণ্ড দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রত্যাশিত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান।
নওশাবা মুকতার সিয়ামকে নোটিশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সম্প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘‘গণভোট ব্যর্থ হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। তার মতে, গণভোটের রায় নিয়ে সরকার ভুল পথে আছে। এ পথ পরিহার করে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৫ জুলাই সিলেটের সমাবেশের আগেই এ দাবি মেনে নিন, অন্যথায় ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে একই সমাবেশে জামায়াত আমিরের সুরেই কথা বলেছেন দলটির অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত কিংবা কর্মকাণ্ডে অনিয়ম বা ভুলত্রুটি হলে সংসদীয় বিরোধী দল তার যৌক্তিক সমালোচনা করতে পারে। কিন্তু জামায়াত আমিরের এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাঁর এই বক্তব্য কতটা যুক্তিসঙ্গত, জামায়াত কীভাবে সরকারকে ব্যর্থ করবে? ২৫ জুলাই সিলেটের সমাবেশের আগে যদি জামায়াতের দাবি মেনে না নেওয়া হয়—তাহলে ঢাকায় দলটির মহাসমাবেশে কী ঘোষণা আসবে? জামায়াত কি বড় কোনও আন্দোলনের পথে যাবে? এক্ষেত্রে জামায়াতের সক্ষমতাই বা কতটুকু? তারা কী সত্যিই সরকারকে বড় কোনও ধাক্কা দিতে পারবে, নাকি আমিরের বক্তব্য কেবল কথার কথা? রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গণভোটের বিষয়টি পরে আসি। বিরোধী দল হিসেবে সংসদ বাণিজ্যচুক্তি ও বাজেট নিয়ে তেমন জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেনি তারা। এখন আবার জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে মাঠ গরম করতে চায়। আমরা মনে করি, গণভোটে রাষ্ট্রপতির নামে যে ধরনের অধ্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ বিদ্যমান সংবিধান তো স্থগিত করা হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের পর তো এটি বাতিলও করা হয়নি। তাই সরকার ও বিরোধী দল পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের ‘রাজনীতি’ করছে। আর এখানে জামায়াতের যে অবস্থান, সেটিও বিতর্কিত। তবে আমরা মনে করি—তারা যদি হুঙ্কার দিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটা ভালো কথা। কিন্তু বাস্তবে দলটির সে ধরনের সামর্থ্য আছে বলে মনে হয় না। জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারকে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশন চায় না। তারা আগের ফ্যাসিবাদী ধারায় সব কিছু রাখতে চায়। এ জন্যই গণভোটের রায় মানতে চায় না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—এ রায় বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন হবেই। তিনি আরও বলেন, জনগণকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছে, তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। আমরা সংসদে ও রাজপথে লড়াই করবো। সংসদে দাবি আদায় হলে ভালো, আর না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। একবিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না। জামায়াত আমির বলেন, ‘‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। কোনও টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের অনেক লোভ দেখানো হয়েছে, কিন্তু আমরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করবো না, তাদের রায়কে অপমান করবো না। যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারাবে। সেই ধিক্কারের পাত্র বিরোধীদল হতে চায় না। সরকারকে কড়া সতর্কতা নাহিদের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের একই সমাবেশে সরকারকে কড়া সতর্ক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হলে আবারও গণঅভ্যুত্থানের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। এখনও হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রয়োজনে যেকোনও সময় এমন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে।’’ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যান গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালালেও নির্বাচনের পর এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে এনসিপি'র আহ্বায়ক বলেন, ‘‘দেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে, তার মানে এই নয় যে যা খুশি তা-ই করবেন।’’ জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি মূলত গণতন্ত্রের জন্য নয়, ক্ষমতার জন্য আন্দোলন করেছে। সরকারকে ব্যর্থ করতে জামায়াতের পরিকল্পনা কী জামায়াত সরকারকে কীভাবে ব্যর্থ করবে জানতে চাইলে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘ক্ষমতার মালিক জনগণ, আর গণভোটের রায় দিয়েছে জনগণ। এই গণরায় যদি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে জনগণ তো কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ক্ষমতায় কে আছে সেটা জনগণ দেখবে না। মালিক যদি ইচ্ছে করে তাহলে প্রতিনিধি পাল্টে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি গণভোটের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে। জনগণের মূল্যবান রায় বাস্তবায়নের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দল সংসদের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে আগেও বলেছি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে আমরা (জামায়াত) জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামবো। সরকারের উচিত কোনও ধরনের টালবাহানা না করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা। জামায়াত আমিরের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত আমির তো ভুল কিছু বলেননি। গণভোট যদি ব্যর্থ হয়, জনগণের রায় যদি কার্যকর না হয়—তাহলে জনগণ তো প্রতিরোধ গড়ে তুলবেই। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান তার সাক্ষী। জনগণ চাইলে সবকিছু সম্ভব। সেহেতু সরকারের উচিত সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা। আমিরের বক্তব্যকে কীভাবে দেখছে বিএনপি? গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের বিষয়ে লক্ষীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এই সংসদ হলো জামায়াত আমিরের ভাষায় ‘মজলুমের সংসদ’। এখানে যারা আছেন, সবাই গত ১৭ বছরে কোনও না কোনোভাবে নির্যাতিত। এখানে সংসদ সদস্য আরমান সাহেবের মতো মানুষ আছেন, যিনি ৮ বছর গুম ছিলেন। এখানে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী আছেন, যিনি আয়নাঘরে ছিলেন। এখানে মিনিমাম ১৫ জন এমপি আছেন, যারা গুম হয়েছেন। ওনার কথা ধরেই আমি বলবো, এটা মজলুমের সংসদ। অতএব, উনি জ্ঞানী মানুষ, ওনার একটা বিরাট দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি, এই দায়িত্ব উনি পালন করবেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজনীতির মাঠে অনেকে অনেক কথা বলেন, উনিও অনেক কথা বলেন। কিন্তু অবশ্যই উনি জাতীয় ঐকমত্য যেটা সবাই চাচ্ছেন, উনি চাচ্ছেন, আমরাও চাচ্ছি। উনি নিজেই সুন্দর বনের মধু ঠোঁটে লাগিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। অতএব, আমি মনে করি এগুলো মাঠের কথা। এগুলো আমাদের সংসদকে কার্যকর করার জন্য যে ভূমিকা, মানুষের আকাঙ্ক্ষার যে সংসদ, সেই সংসদে একজন সত্যিকারের বিরোধীদলের নেতা হিসেবে উনি ভূমিকা রাখছেন এবং আগামী দিনেও রাখবেন, এটাই আমি বিশ্বাস করি।’ অপরদিকে জামায়াতের আমিরের বক্তব্যকে ভিন্নভাবে দেখছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘বিরোধীদলীয় নেতা নিজেদের দাবি আদায়ে যেকোনও বক্তব্য দিতে পারেন। তবে কোনও কিছুই যেন বাড়াবাড়ির পর্যায়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। তিনি জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে রাজনৈতিক হিসেবেই দেখতে চান। বিএনপির এই নেতা বলেন, গণভোট, জুলাই সনদ সবগুলোর ব্যাপারেই সরকার পজিটিভ। কিন্তু বিরোধী দল কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না যে এগুলো সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। এটা বিরোধী দলের সমস্যা।’’ জামায়াত আমিরের বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান সাহেব একটু আগ বাড়িয়েই কথা বলছেন বলে আমার ধারণা। উনি ধৈর্যহারা হচ্ছেন। আর ওনার যদি এত ক্ষমতা থাকে বা থাকতো, তাহলে তো উনিই সরকারই গঠন করতেন।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করতে দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। নির্বাচনের আগে আমরা জনগণকে বলেছিলাম, আমাদের ফ্রিতে ভোট দিন, আমরা ফ্রিতে সার্ভিস দেব। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছি। সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে পিরোজপুর সিও অফিস চত্বর থেকে শুরু করে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত পাঁচ মাসে সংসদে কোনো রক্ত চক্ষুকে ভয় পাইনি। মিডিয়া মাফিয়া, ভূমি খেকো, ব্যাংক ডাকাত ও ভোটচোরদের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে কথা বলে যাচ্ছি। আগে এস আলম ব্যাংক ও দেশের সম্পদ লুট করেছে, কেউ বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি করেছে। জনগণের সম্পদ লুটের এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। সমাবেশে বক্তব্য দেন- এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির, পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপির এমপি প্রার্থী শামীম হামিদী প্রমুখ। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ পিরোজপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব মইনুল আহসান মুন্নাকে পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র পদে দলের প্রার্থী ঘোষণা করেন।
যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সরকার গঠনের পর এই প্রথম যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। তবে এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ মিত্র জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। বৈঠকে অংশ না নেওয়ার বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন দলটির মহাসচিব মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দী। সোমবার দুপুরে যুগান্তরকে তিনি বলেন, শরিক দল হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত পেয়েছি। তবে দলীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে আমরা আজকের বৈঠকে যাচ্ছি না। তবে ঠিক কী বিশেষ কারণে জমিয়ত বৈঠক বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মঞ্জরুল ইসলাম আফেন্দী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তকে চারটি আসনে ছাড় দিয়েছিল বিএনপি। তবে এসব আসনের একটিতেও তারা জয়লাভ করতে পারেনি। সরকার গঠনের পর থেকে বিএনপি তাদের আগের মতো মূল্যায়ন বা গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন জমিয়ত নেতারা। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে তেমন কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখা হয়নি। এমনকি কুশল বিনিময় বা একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকও হয়নি। তার অভিযোগ, জোটের অন্য শরিকদের গুরুত্ব দেওয়া হলেও জমিয়তকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছেড়েছিল তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দল। আসনগুলো হলো— নীলফামারী-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, সিলেট-৫ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। এর মধ্যে সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, নীলফামারী-১ (ডিমলা ও ডোমার) আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে দলটির জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী প্রার্থী হয়েছিলেন। তারা সবাই বিএনপির পূর্ণ সমর্থন সত্ত্বেও জয় ঘরে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্র দল ও জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে তাদের ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। সব শরিককেই ডাকা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। এমনকি নির্বাচনের আগে দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তাদেরও ডাকা হয়েছে। পরস্পরের সঙ্গে হৃদ্যতা বাড়ানোই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। সবার মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়, মূলত সে ব্যাপারেই শরিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান।