প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক গঠন কাঠামোর কারণে গ্রিনল্যান্ডে সোনা ও লোহা থেকে শুরু করে তামা ও গ্রাফাইট পর্যন্ত নানা মূল্যবান আকরিক ও খনিজের ভাণ্ডার রয়েছে। তবে দ্বীপটির দুর্গমতা, কঠোর আবহাওয়া, পরিবেশ সংরক্ষণ নীতি এবং খনিশিল্পের মূল্য সংবেদনশীলতার কারণে এসব সম্পদের বড় অংশই এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। খবর এনবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা–ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় কোনো খনি না থাকা অঞ্চল বা দেশের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজের মজুত এখন গ্রিনল্যান্ডেই। বিরল মৃত্তিকার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডে উচ্চপ্রযুক্তি প্রয়োগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি খনিজ জার্মেনিয়াম ও গ্যালিয়ামেরও বিপুল মজুত রয়েছে। খবর এনবিসি নিউজের।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ব্যাপারে আগ্রহের প্রকাশ করেন। কারণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবির পর আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য বহু খনিজে সমৃদ্ধ দেশটি নতুন করে ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
-696cfe64baff0.jpg)
গত সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য হিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ জাতীয় নিরাপত্তার, সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ এবং আরও অনেক কিছু জড়িত।
এ মতপার্থক্য সত্ত্বেও সবাই একটি বিষয়ে একমত যে, গ্রিনল্যান্ডে এখনো অনাবিষ্কৃত বিরল খনিজ উপাদানের বড় ভাণ্ডার রয়েছে। তবে এসব খনিজের প্রকৃত পরিমাণ কত এবং সেগুলো উত্তোলনে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিনিয়োগ করা আদৌ সার্থক হবে কিনা- তা এখনো স্পষ্ট নয়।
খনিজ অনুসন্ধান বিশেষজ্ঞ ও ডুরিন মাইনিং টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা টেড ফেল্ডম্যান বলেন, রাশিয়া ও চীনের মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বাড়ানো একটি দারুণ ধারণা।
তবে শুধুমাত্র খনিজের জন্য গ্রিনল্যান্ডকে অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে বলেন, দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের টানব্রিজ ভাণ্ডারকে বিশ্বের অন্যতম বড় বিরল খনিজ ভাণ্ডার বলা হয়। কিন্তু সেখানে মূল্যবান ধাতুর অনুপাত এতই কম যে সেটি পরিবহণ করা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নাও হতে পারে।
-696cfe73d3463.jpg)
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ৬০টি খনিজকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিখাতে ব্যবহৃত চুম্বক ও মোটর তৈরিতে অপরিহার্য ‘বিরল মৃত্তিকা উপাদান’ নামে পরিচিত খনিজ নিওডিমিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়াম। অন্যদিকে, কিছু বিরল খনিজের প্রয়োজন আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিপ্লবকে চালিত করা সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরিতে।
বিরল খনিজের প্রাপ্যতাকে বর্তমানে বহু উচ্চপ্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘চোক পয়েন্ট’ হিসেবে দেখা হয়। প্রযুক্তিখাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন বর্তমানে বিরল খনিজ উত্তোলন ও পরিশোধন বাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে। বেইজিং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় এ খনিজের প্রবেশাধিকারকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এমতাবস্থায়, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের আইনপ্রণেতারা বিরল খনিজের জন্য ২৫০ কোটি ডলারের একটি কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিল উত্থাপন করেছেন।
জার্মেনিয়াম ফাইবার-অপটিক তার তৈরির প্রধান উপাদান। গ্যালিয়াম ব্যবহৃত হয় সেমিকন্ডাক্টরে, যা কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, ডেটা সেন্টার এমনকি কোয়ান্টাম ডিভাইসেও প্রয়োজন। বর্তমানে চীন বিশ্বব্যাপী গ্যালিয়ামের প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং জার্মেনিয়ামের প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। খনিজ উত্তোলনের পর সেগুলো পরিশোধনের ক্ষেত্রেও চীনের আধিপত্য রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় তারা এ প্রভাবকে কাজে লাগায়।
অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দিন দিন বিরল খনিজের সহজ প্রাপ্যতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে আরও জরুরি হয়ে পড়ছে। গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা এর সমাধান করতে পারে বলেই বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ইনস্টিটিউটের সহসভাপতি জ্যাক লিফটন বলেন, বিশ্বজুড়েই বিরল খনিজ রয়েছে, কিন্তু সমস্যা হলো সেগুলো পরিশোধন করা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ পরিশোধনে দক্ষতার ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন।
লিফটন আরও বলেন, মার্কিন বিরল খনিজ শিল্প-সংশ্লিষ্টরা সংখ্যায় এতই কম যে, প্রতীকী অর্থে একটি বড় বাসের ভেতরে অনায়াসে তাদের সবাইকে ঢোকানো যাবে।
গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে ১৪০টির বেশি সক্রিয় খনিজ লাইসেন্স থাকলেও বাস্তবে আজ সেখানে মাত্র দুটি খনি চালু আছে। এই দুটি খনির একটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আমারক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী এলদুর ওলাফসন বলেন, দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে তার কোম্পানির সোনার খনি প্রমাণ করে যে সঠিক পদ্ধতি থাকলে গ্রিনল্যান্ডে খনিশিল্প সম্ভব।
ওলাফসন এনবিসি নিউজকে বলেন, ডেনমার্ক মূলত প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর অর্থনীতির দেশ নয়। ফলে এ পর্যন্ত খনিজ খাতে পুঁজির সহায়তা পর্যাপ্ত ছিল না, যার কারণে আরও বেশি খনি গড়ে ওঠেনি। খনির জন্য শুধু অর্থ নয়, মানুষও প্রয়োজন। মানুষকে বাস্তবে সেখানে নিতে হয়। সড়ক, সেতু, বন্দরের মতো অবকাঠামো গড়তে হয়।
মেরু অঞ্চলে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ডের আবহাওয়া যেমন বৈরী, তেমনি জনসংখ্যাও খুব কম। পুরো অঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস করে। তবে এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের খনি সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহী ওলাফসন।
-696cfe90a2893.jpg)
তিনি বলেন, মনে রাখা জরুরি, আলাস্কা, কানাডা, নরওয়ে, সুইডেন ও রাশিয়ায় আর্কটিক অঞ্চলে বড় বড় খনি রয়েছে। এগুলো বিশ্বের সেরা খনিগুলোর মধ্যে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবসময় নতুন খনি এলাকা দরকার। নতুবা আসন্ন এআই ও একই ধরনের প্রযুক্তির সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিরল ধাতু রিইসাইকেল করতে হবে।
কোনো খনি চালু হওয়ার পর খনিজের দামের ওঠানামার কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যেমনটা হয়েছিল পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের মারমোরিলিকে ব্ল্যাক অ্যাঞ্জেল সিসা-দস্তা খনির ক্ষেত্রে। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চালু থাকা এই খনিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মজুত ছিল। কিন্তু বিশ্ববাজারে দস্তার কম দামের কারণে সেটি আর পুনরায় চালু হয়নি।
মার্কিন বিরল খনিজ শিল্পকে সহায়তা এবং এই মূল্য সংবেদনশীলতা মোকাবিলায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর গত জুলাইয়ে দেশটির খনি কোম্পানি এমপি ম্যাটেরিয়ালসের সঙ্গে একটি ব্যতিক্রমী ১০ বছর মেয়াদি সরকারি-বেসরকারি চুক্তি করে। এর লক্ষ্য হলো, কলোরাডোর একটি রেয়ার আর্থ খনি উন্নয়নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ শৃঙ্খল জোরদার করা এবং চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো।
মার্কিন প্রশাসনের শুধু গ্রিনল্যান্ডের দিকেই নজড় পরে থেমে থাকেনি, নজর পরেছে ভেনেজুয়েলার দিকেও। গত সপ্তাহে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলায় ইস্পাত আছে, খনিজ আছে সব গুরুত্বপূর্ণ খনিজই আছে। একসময় দেশটির খনিশিল্পের গৌরবময় ইতিহাস ছিল, যা এখন মরচে ধরেছে।
-696d0682160c4.jpg)
তবে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ইনস্টিটিউটের লিফটন এ দাবির বিষয়ে সন্দিহান। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় বিরল খনিজ আছে কিনা, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমি কয়েক দশক ধরে এই খাতে আছি, ভেনেজুয়েলাকে কখনো বিরল খনিজ উপাদানের উৎস হিসেবে শুনিনি।
লিফটনের মতে, ভেনেজুয়েলায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের প্রসঙ্গ তোলা রাজনৈতিক অজ্ঞতারই প্রতিফলন। তিনি বলেন, যারা বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানে না, তারাই ভেনেজুয়েলায় বিরল খনিজের কথা বলছে। সত্যি বলতে, এটা হাস্যকর।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরানের ২০০ কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইসফাহানের একটি টানেলে সংরক্ষিত থাকতে পারে। সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরও ইসফাহানের ওই টানেলে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষিত ছিল। গ্রোসি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে ওই ইউরেনিয়াম এখনো সেখানেই থাকতে পারে। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল। এর প্রায় অর্ধেকই ইসফাহানে সংরক্ষিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে সর্বশেষ পরিদর্শনের সময়ও সেখানে ২০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আইএইএ প্রধান।
ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে পড়তে শুরু করেছে। এতে জাহাজে পণ্য পরিবহনের খরচ দ্রুত বাড়ছে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বের অন্যতম বড় শিপিং কোম্পানি মার্স্কের প্রধান নির্বাহী ভিনসেন্ট ক্লার্ক। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রাহকদের সঙ্গে আগেই চুক্তি করা থাকে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি গ্রাহক এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। ভিনসেন্ট ক্লার্ক আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বে পরিবাহিত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার হুমকির কারণে এই রুট এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ নৌবাহিনীর পাহারায় জাহাজ চলাচলের প্রস্তাব দিলেও মার্স্কের প্রধান জানিয়েছেন, কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে জাহাজ পাঠাতে তারা আগ্রহী নন। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এ অভিযানের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে তারা। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: বিবিসি
ইরানে যুদ্ধের প্রথম দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার ঠিক ৯ দিনের মাথায়, গত রোববার, খামেনির ছেলে মুজতাবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেয় ইরান। এরপর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, কিন্তু জনসম্মুখে তার দেখা মেলেনি। কোথায় তিনি, তা জানা যায়নি। না কোনও ভাষণ, না সাংবাদিক সম্মেলন, না খামেনির মতো বাসভবনের বারান্দা থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করার ছবি বা ভিডিও। এমনকি মুজতাবা বা তার কার্যালয় থেকে কোনও লিখিত বিবৃতিও প্রকাশ পায়নি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো জনগণের সামনে মুজতাবাকে পরিচয় করাতে তার আর্কাইভের ছবি ব্যবহার করছে। এছাড়া এআই ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে তাকে দেখানো হচ্ছে। তাকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মুজতাবা ‘জীবিত না মৃত’। কেউ মনে করছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হয়ত তিনি কোনো বাংকারে লুকিয়ে আছেন। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি জানিয়েছে, মুজতাবা বেঁচে আছেন, তবে আহত। এতে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে যে, আহত হওয়ার কারণে তিনি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছেন না। তবে তার কাছ থেকে কোনো লিখিত বিবৃতির অভাব থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি। রাষ্ট্রীয় টিভি কেবল জানিয়েছে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিক। কোনো ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয়নি। তিনি সামনে না আসার আরেকটি কারণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হতাশা ও হুঁশিয়ারি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খামেনি ছাড়াও তার স্ত্রী, জামাই, ছেলের বউ এবং নাতি নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলাতেই মুজতাবা আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি তাদের প্রতিবেদনে মুজতাবাকে যুদ্ধে আহত সৈনিক বলে দেখিয়েছে যেন চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। মুজতাবাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার পর ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বলেন, খামেনির ছেলেকে আমার পছন্দ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ ছাড়া নেতা বেছে নেওয়া হলে তিনি বেশিদিন টিকবেন না। ইরানের রাজধানী তেহরান এবং সামরিক স্থাপণাগুলোতে চলতে থাকা হামলার মধ্যে মুজতাবার অনুপস্থিতি নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় বাড়িয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি নেতাদের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে। যদিও মুজতাবা জনসম্মুখে নেই, ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গন যুদ্ধের মেজাজে কার্যকর রয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর সংস্কারপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির প্রকাশিত বিবৃতির মতো আনুগত্য প্রকাশ করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতার পদ খালি না থাকলেও যুদ্ধের গতিতে চলমান কার্যক্রম চালানোর জন্য এই পরিস্থিতিই যথেষ্ট মনে হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন/ইন্ডিয়া টুডে