আন্তর্জাতিক

‘ধন্যবাদ ডার্লিং’ বলে মাইক্রোফোন খুলে সাক্ষাৎকার থেকে চলে গেলেন ট্রাম্প

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

‘আজ এখানেই শেষ করা যাক। কারণ অনেক হয়েছে। ধন্যবাদ, ডার্লিং।’ ঠিক এই কথাগুলো বলেই এনবিসি নিউজের সঙ্গে চলা একটি উত্তপ্ত সাক্ষাৎকার মাঝপথেই বর্জন করে বেরিয়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এবং এর সপক্ষে সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের বারবার প্রমাণ চাওয়ার জেরে তৈরি হওয়া তীব্র বাদানুবাদের পর ট্রাম্প এই নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটান।

 

এনবিসি নিউজের বিখ্যাত অনুষ্ঠান মিট দ্য প্রেস-এর জন্য নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা কারচুপির শিকার বলে নিজের পুরোনো দাবির সপক্ষে সাফাই গাইছিলেন ট্রাম্প। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার চলমান ভোট গণনা এবং সামগ্রিক নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের করা দাবির সপক্ষে ক্রিস্টেন ওয়েলকার যখন বারবার প্রমাণ চান, তখন আলোচনাটি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে নিজের গায়ের মাইক্রোফোন খুলে সাক্ষাৎকার কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার পর এই বাদানুবাদের সূত্রপাত হয়। সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকার ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৮০ কোটি ডলারের অ্যান্টি-উইপোনাইজেশন ইনিশিয়েটিভ সম্পর্কে জানতে চান। পূর্ববর্তী প্রশাসনের অন্যায্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে যারা মনে করেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এই তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এই বিষয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, এই উইপোনাইজেশন ফান্ডের মাধ্যমে একদল নিরপেক্ষ ও বুদ্ধিমান মানুষকে দায়িত্ব দেওয়া হতো, যাদের যে কেউ বেছে নিতে পারত। তারা প্রতিটি মামলা বা ঘটনা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখত।

তিনি আরও বলেন, এখন আমি জানি না এই ফান্ডের কী হবে। তবে আইডিয়াটা আমার দারুণ পছন্দ। কারণ আপনাদের মতো ‘ফেক ডার্টি প্রেস’, এই ‘ক্রুকেড প্রেস’ (দুর্নীতিবাজ গণমাধ্যম) এবং বাইডেনের মতো বোকা মানুষ, যার চারপাশে কী ঘটছে তা বোঝার মতো বুদ্ধি নেই, তাদের চারপাশের মানুষগুলো ওভালের অফিসের সেই সুন্দর রেজলুট ডেস্কের চারপাশে বসে মানুষের জীবন ধ্বংস করেছে। তারা এমন সব মানুষকে জেলে পাঠিয়েছে যারা কোনও অপরাধই করেনি।

জবাবে সঞ্চালক ওয়েলকার তাৎক্ষণিকভাবে মনে করিয়ে দেন যে, ট্রাম্পের এসব অভিযোগের পেছনে কোনও বাস্তব প্রমাণ নেই।

এ কথা শুনে ট্রাম্প আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমার কথা শুনুন: এর পেছনে ব্যাপক প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণ ছাড়া আর কিছুই নেই। ওই নির্বাচনটি কারচুপির ছিল। ওটি একটি নোংরা নির্বাচন ছিল এবং ঠিক একই ঘটনা এখন আবার ক্যালিফোর্নিয়াতেও ঘটছে।

তবে ওয়েলকার যুক্তি দিয়ে বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটগুলো পরেও গ্রহণ করা হয় এবং তা গণনা করা হয়। আর এই কারণেই সাধারণত সেখানে ভোট গণনায় কিছুটা বেশি সময় লাগে।

কিন্তু ট্রাম্প এই ব্যাখ্যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আপনি জানেন তারা কেন এমনটা করছে? কারণ তারা নির্বাচনে জালিয়াতি করছে।

ওয়েলকার যখন এর সুনির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ আছে কি না জানতে চান, তখন ট্রাম্প উত্তর দেন, ‘আমাকে শুধু চোখ কান খোলা রাখতে হবে। আমি শুধু দেখি এবং মানুষের কথা শুনি, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।’

আলোচনা যত এগোচ্ছিল, দুজনেই বারবার একই প্রশ্নে ফিরে আসছিলেন, ট্রাম্পের এই গুরুতর অভিযোগগুলোর পেছনে আদৌ কোনও প্রমাণ আছে কি না। একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্টো সঞ্চালককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রশ্ন করেন যে, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার এই নির্বাচন পদ্ধতিকে সঠিক মনে করেন কি না।

ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, ‘আপনার কি মনে হয় এটি কোনও সঠিক পদ্ধতি যে ভোট নেওয়ার কয়েক দিন পরও তারা বিজয়ী নির্ধারণের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারে না?’ জবাবে ওয়েলকার বলেন যে, নির্বাচন কর্মকর্তারাও ভোট গণনার এই ধীরগতির কথা স্বীকার করেছেন।

এরপরই ট্রাম্প সরাসরি গণমাধ্যমকে আক্রমণ করা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘না, তারা দুর্নীতিবাজ। তারা ঠিক আপনার মতোই দুর্নীতিবাজ। আপনার প্রেস দুর্নীতিবাজ এবং মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানটিও দুর্নীতিবাজ।’

ওয়েলকার পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করে বলেন, ‘ন্যায়সঙ্গতভাবে বলতে গেলে, আমি মোটেও দুর্নীতিবাজ নই, তবে চলুন আমরা...’, কিন্তু তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই ট্রাম্প মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘তাই নাকি? আচ্ছা, আপনি তাহলে তাদের হাতের পুতুল হয়ে খেলছেন। আপনি হয় দুর্নীতিবাজ, না হয় অত্যন্ত বোকা।’

এরপরও আরও কয়েক মিনিট আলোচনা চলে, যেখানে ট্রাম্প আমেরিকার বড় বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে একপেশে প্রচার এবং নির্বাচন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।

ট্রাম্প ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের নির্বাচন ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত, আপনিও দুর্নীতিবাজ এবং মিট দ্য প্রেস-ও দুর্নীতিবাজ। একই অবস্থা এবিসি, সিবিএস ও সিএনএনেরও। আপনারা সবাই একপেশে ও দুর্নীতিগ্রস্ত নেটওয়ার্ক।’

এর কিছু মুহূর্ত পরেই ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে তিনি আর সাক্ষাৎকার দেবেন না। ‘আজ এখানেই শেষ করা যাক। কারণ অনেক হয়েছে। ধন্যবাদ, ডার্লিং’, এই কথা বলতে বলতেই তিনি নিজের গায়ের মাইক্রোফোনটি খুলে ফেলেন।

ওয়েলকার তাকে থেকে যাওয়ার এবং সাক্ষাৎকারটি শেষ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে, তিনি এই সাক্ষাৎকারের জন্য বিশেষ অনুরোধে উইসকনসিন থেকে এসেছেন।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইতোমধ্যে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাকে অনেক সময় দিয়েছি। আপনাদের উচিত নিজেদের গণমাধ্যমকে সংশোধন করা। কারণ মনে রাখবেন, একটি অসৎ গণমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে কোনও দেশ কখনও মহান হতে পারে না।’

এরপরই তিনি আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান এবং সাক্ষাৎকার কক্ষ ত্যাগ করেন, যার ফলে একটি বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকারের অত্যন্ত নাটকীয় ও আকস্মিক সমাপ্তি ঘটে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জানতামই না উনি এত ভালো খেলেন’, বিজয়ের দাবার চালে মুগ্ধ চ্যাম্পিয়ন প্রজ্ঞানন্দ

একজন সদ্যই নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসাবে খেতাব জিতেছেন। অন্যজন ‘কিস্তিমাত’ করেছেন রাজনৈতিক মঞ্চে। প্রথম জন রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। দ্বিতীয় জন থলপতি বিজয়। সোমবার দেখা হল দুই ‘চ্যাম্পিয়ন’-এর। প্রজ্ঞানন্দ যেভাবে দেশ ও রাজ্যকে গর্বিত করেছেন, তার ‘পুরস্কার’ হিসেবে তাঁকে ৫০ লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কার দিলেন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। এরই পাশাপাশি দাবাও খেললেন। এবং চমকে দিলেন প্রতিভাবান ভারতীয় তারকা দাবাড়ুকে! খেলার শেষে প্রজ্ঞানন্দ বলতে বাধ্য হলেন, ”জানতামই না উনি এত ভালো খেলেন।   জানা গিয়েছে, বিজয় আগেই প্রজ্ঞানন্দকে জানিয়েছিলেন তিনি যেন দাবার বোর্ড সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। এরপর সত্যিই প্রজ্ঞানন্দকে সম্মানিত করার ফাঁকে তাঁর সঙ্গে দাবাও খেললেন টিভিকে সুপ্রিমো। ২০ বছরের দাবাড়ুর সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা নাগলক্ষ্মীও। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রজ্ঞানন্দ বলেন, ”আমি সত্যিই এটা প্রত্যাশা করিনি। আমি শুনিইনি উনি দাবা খেলেন। উনি বলে দিয়েছিলেন যেন বোর্ড নিয়ে আসি। আমরা পরে খেলেছিও। আমিই জিতেছি। কিন্তু জানতাম না উনি এত ভালো খেলেন। জিজ্ঞেস করলাম, কার সঙ্গে দাবা খেলেন। বিজয় জানিয়েছেন, বন্ধুদের সঙ্গে তিনি প্রায়ই খেলেন।” সম্প্রতি নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসাবে খেতাব জিতে নজির গড়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। প্রতিযোগিতার শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। শেষ দিনে ১৫ পয়েন্ট পেয়ে তিনি ছিলেন তৃতীয় স্থানে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ সামলে কিস্তিমাত করেন ভারতীয় দাবাড়ু। এদিকে তামিলনাড়ুর দ্বিমুখী লড়াইকে কার্যতই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বিজয়। ২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু কোনও দল বা জোটই তা ছুঁতে পারেনি। বিধানসভা ভোটে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও জাদুসংখ্যা থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিল বিজয়ের দল টিভিকে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০৮। এদিকে বিজয় দু’টি আসনে জয়ী হওয়ায় তাঁদের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭-এ। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক সমর্থন করেন টিভিকে-কে। দুই বাম দলের চার বিধায়কও বিজয়ের পাশে দাঁড়ান। পরে ভিসিকে, মুসলিগ লিগের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন বিজয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীনের ইভি কোম্পানি বিওয়াইডি যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায়

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হামলা চললে ইসরায়েলকে একা লড়তে হবে : ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা: জিম্মি সংকট মূল কারণ

ছবি: সংগৃহীত
জাপানের পর নেপালও ভারতীয় আমে নিষেধাজ্ঞা, জানাল কারণ

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ভারতের আম (Mango) গোটা বিশ্বে বিখ্যাত। খুব কমই হয়তো দেশ এমন আছে যেখানে ভারতের মতো আমের এরকম বিপুল ফলন ও উৎপাদন হয়। ভারতবাসীর অন্যতম গর্বের জিনিস হল এই আম। কিন্তু এবার এই আম নিয়েই চরম সিদ্ধান্ত নিল বিশ্বের দুটি বড় দেশ। তাঁরা আর ভারত থেকে আম না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সকলকে চমকে দিয়েছে। সেই দুটি দেশ হল জাপান ও নেপাল। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন।   নেপালের কৃষি ও পশুপালন মন্ত্রক জানিয়েছে যে, ভারত থেকে আমদানি করা আমের কিছু চালানে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি পরিমাণে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, এপ্রিল-মে মাস থেকে ভারতীয় আমের প্রবেশ আটকাতে সীমান্ত চেকপয়েন্টগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, গুণগত কারণে ভারতীয় কৃষি পণ্য নিষিদ্ধকারী দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান তালিকায় নেপালও যুক্ত হলো।   কী বলছে নেপাল সরকার?   এই প্রসঙ্গে নেপাল সরকার জানিয়েছে যে, ভোক্তার স্বাস্থ্যই তাদের অগ্রাধিকার এবং খাদ্যের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপোস করা হবে না। গ্রীষ্মকালে নেপালে আমের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সেখানকার মানুষের কাছে আম একটি প্রিয় ফল হিসেবে বিবেচিত। তবে, নেপালে আমের উৎপাদন সীমিত, তাই দেশের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে আম আমদানি করে। কিন্তু, ভারতীয় আমের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা নেপালি ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন যে, ভারত থেকে আম সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   নেপাল, জাপানে নিষিদ্ধ হল ভারতের আম! জাপান তো আগেই করেছিল, এবার নেপাল ভারতীয় আম আমদানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে কাঠমান্ডু-ভিত্তিক কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর। মন্ত্রকের মতে, এপ্রিল ও মে মাসে কোয়ারেন্টাইন চেকপয়েন্টগুলোতে ভারতীয় আমের বেশ কয়েকটি চালানে অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে রাসায়নিক কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে জাপান সম্প্রতি আলফনসো, কেশর, ল্যাংড়া এবং বঙ্গনপল্লীর মতো বিখ্যাত ভারতীয় আমের জাত আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারত প্রথমবার ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল

ছবি: সংগৃহীত

সি চিন পিংয়ের সফরের আগে কিম জং-উনের বোনের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনড় বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

‘ধন্যবাদ ডার্লিং’ বলে মাইক্রোফোন খুলে সাক্ষাৎকার থেকে চলে গেলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
আদালত বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের আবেদন ফির বাধ্যবাধকতা সোমবার বাতিল করেছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক। রায়ে তিনি বলেছেন, বিশেষায়িত ক্ষেত্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগে কোম্পানিগুলোর ব্যবহৃত এ কর্মসূচির ওপর নতুন নীতি আরোপ করার কোনো এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।   মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ লিও সোরোকিন বলেন, ফেডারেল অভিবাসন নীতিতে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিতে কেবল একধরনের কর। আইনপ্রণেতারা এ পরিবর্তন একতরফাভাবে করার জন্য নির্বাহী বিভাগকে কোনো অনুমতি দেননি। বোস্টনে কর্মরত এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারক সোরোকিন নতুন নীতি বাতিল করে তাঁর ৪২ পৃষ্ঠার রায়ে লিখেছেন, ‘এইচ-১বি আবেদনের ওপর কর আরোপ করার কোনো ক্ষমতা বা অর্পিত এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের ছিল না।’ এ ভিসা কর্মসূচির অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে উল্লেখ করে এর লাগাম টানার প্রচেষ্টায় ট্রাম্প ১ লাখ ডলারের এ বাধ্যবাধকতা আরোপ করেন। এর কয়েক মাস পর গত ডিসেম্বরে ‘ডেমোক্রেটিক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলদের’ একটি জোট মামলাটি করেছিল। এইচ-১বি ভিসা বিদেশি পেশাজীবীদের এমন সব পেশায় কাজ করার সুযোগ দেয়, যেগুলোকে আরও বেশি বিশেষায়িত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ভিসার আবেদনকারীদের অবশ্যই একটি স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। এ ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন বছর হয়ে থাকে এবং এটি আরও তিন বছরের জন্য নবায়ন করা যায়। অর্থনীতিবিদেরা যুক্তি দিয়ে আসছেন, এ কর্মসূচি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং ব্যবসার প্রসারে সাহায্য করে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। ট্রাম্পের নীতি বাতিল করার রায়ে সোরোকিন প্রশাসনের সেসব যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে অন্য উপায়ে মার্কিন নীতি পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ার কারণে এ বাধ্যবাধকতা কার্যকর করার ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে। বিচারক বলেন, ওই আইনগুলোর কোথাও কংগ্রেস অভিবাসনের ক্ষেত্রে কর আদায়ের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের এআই নীতির শীর্ষ উপদেষ্টা শ্রীরাম কৃষ্ণনের পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবার ব্রিটেনে ঝাড়খণ্ডের আম্রপালি আম, রপ্তানিতে নতুন ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূলের ২০ সংসদ সদস্য বিজেপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি

0 Comments