রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঢাকায় ৩ জন, নরসিংদীতে ৫ জন, নারায়ণগঞ্জে ১ জন এবং গাজীপুরে ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সারা দেশে আহত হয়েছেন সাড়ে চারশর বেশি মানুষ।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এর মাত্রা ছিল ৫.৭ এবং উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী এলাকা।
ঢাকা
পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলীতে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে তিন পথচারী নিহত হন। নিহতরা হলেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম, হাজি আব্দুর রহিম (৪৭) ও মেহরাব হোসেন রিমন (১২)। ভূমিকম্পের সময় তারা সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় রেলিং তাদের ওপর ভেঙে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে।
নরসিংদী
জেলার তিনটি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বাবা-ছেলেসহ ৫ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন— হোসেন (৩৭) ও তার ছেলে ওমর ফারুক (১০), কাজম আলী ভূঁইয়া (৭০), নাসির উদ্দিন (৫০) এবং ফুরকান মিয়া (৪০)।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলেও এক ব্যক্তির বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন; তিনি আইসিইউতে আছেন বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ
রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নবজাতকের মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম আহত হন। ভূমিকম্পের সময় সড়কের পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গাজীপুর
কালীগঞ্জে গাছ থেকে পড়ে সুজিৎ দাস (৩৮) নামে এক যুবক নিহত হন। ভূমিকম্পে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতাল তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ ছাড়া বিভিন্ন স্থাপনায় ফাটল দেখা গেছে। শাদেরগাঁও জামে মসজিদের দুটি গম্বুজ কাত হয়ে গেছে এবং পাশের নবনির্মিত চারতলা স্কুল ভবনেও ফাটল ধরা পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে হতাহতদের সহায়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণই প্রধান কাজ। ধ্বংসস্তূপে বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতার প্রয়োজন হয়নি।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৪৬১ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা দুর্বল হয়েছে এবং ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে। এক আলোচনা সভায় গভর্নর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব ছিল। এর ফলে ঋণ অনুমোদন, বিনিয়োগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বদলে ব্যক্তির ইচ্ছা ও প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমানতকারীদের আস্থায় চিড় ধরেছে। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই ছাড়াই বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পরে আদায়যোগ্য হয়নি। এতে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে টেকসই সংস্কার আনতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বোর্ড ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য, নীতিনির্ভরতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে তদারকি জোরদার করেছে এবং ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান গভর্নর। গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নিয়মভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংকিং খাত ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি আসন পরিচালনার জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি জোরদার করতেই এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত উপ-কমিটিতে দলের অভিজ্ঞ ও তৃণমূলপর্যায়ে পরিচিত নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনি এলাকার সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগ কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্বও এই উপ-কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। দলীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তারেক রহমান দলীয় কৌশল ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা সরাসরি দিয়ে আসছেন। নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তার আসনকে ঘিরে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উপ-কমিটি গঠনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উপ-কমিটি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়েও সাংগঠনিক কার্যক্রম সক্রিয় রাখবে। ভোটারদের সঙ্গে দলের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরা, দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো সংগ্রহ করা এবং সেগুলো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়াও কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কাজের অংশ হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি আসনভিত্তিক এমন উপ-কমিটি গঠন বিএনপির মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের আসনগুলোতে আলাদা করে নজর দেওয়ার মাধ্যমে দল নির্বাচনি লড়াইকে আরও সংগঠিত ও পরিকল্পিত করতে চাইছে। এদিকে, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উপ-কমিটি গঠনকে ঘিরে উৎসাহ দেখা গেছে। তারা আশা প্রকাশ করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকায় দলের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।
জাতীয় অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন দেশে সকল অঞ্চলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, ভোটের ক্ষেত্রে কোথাও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অভাব নেই এবং সব রাজনৈতিক দল সমান সুযোগে অংশগ্রহণ করতে পারবে। তিনি বলেন, “সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করছে যে ভোটের পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়মতো নেওয়া হয়েছে।” অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, নির্বাচনকালীন সকল পর্যবেক্ষণ, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটারদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রতিটি ধাপে সতর্কভাবে কাজ করছে। এছাড়া, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তারা মনে করছেন, সরকারের এমন স্পষ্ট অবস্থান ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, অনেক দল ইতিমধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং তারা আশা করছেন, সরকার সকল দলকে সমান সুযোগ প্রদান করবে। এছাড়া, তারা মনে করছেন, এমন প্রকাশিত মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে এবং নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করাচ্ছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের স্বচ্ছ নিশ্চয়তা ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। দেশের প্রতিটি ভোটার যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত হয়, তার জন্য প্রশাসনের এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মন্তব্য করেছেন।