বিশ্ব

ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে তেলের ডিপোতে আগুন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৩, ২০২৬

রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে পেনজা নগরীর একটি তেলের ডিপোতে শুক্রবার ভোরে ড্রোন হামলায় আগুন লেগে যায়। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। 

এলাকার গভর্নর এ তথ্য জানান।

সোশাল মিডিয়ার এক ভিডিওতে দেখা গেছে, পেনজার পূর্বাঞ্চলে ফ্রন্ট লাইনের থেকে প্রায় ৬১৮ কিলোমিটার (৩৮৪ মাইল) দূরে অবস্থিত শহরতলীর তেলের ডিপোর জায়গা থেকে লাল-কমলা আগুনের লম্বা স্তম্ভ উড়ে যাচ্ছে। 

মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা ড্রোনগুলোর উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতে অন্তত ১২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ড্রোন পেনজা অঞ্চলের আকাশে দেখা গেছে।

প্রায় চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ ভাণ্ডার দুর্বল করার লক্ষ্যে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

ইউক্রেন এই হামলা নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

পেনজা গভর্নর লেগ মেলনিচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা নাগাদ ড্রোন হামলায় পেনজার তেল ডিপোতে আগুন লেগেছে। প্রাথমিক তথ্যে কোনো হতাহতের খবর জানা যায়নি নেই।

তুলনামূলকভাবে সস্তা এই ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো রাশিয়ার বিদ্যুৎ ও জ্বালানী স্থাপনায় কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি সাধন করেছে। 

কিয়েভ দাবি করছে, এই হামলাগুলো রাশিয়ার ইউক্রেনের জ্বালানী অবকাঠামোর ওপর হামলার ন্যায্য প্রতিশোধ।

গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে রাশিয়ার বোমাবর্ষণের ফলে শূন্যের নীচে তাপমাত্রায় থাকা হাজার হাজার মানুষ তাপ ও বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি : সংগৃহীত
৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ০৯ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৮২ দশমিক ৫২ ডলার। দুই ধরনের তেলের দামই ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।   সোমবারও তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শান্তি চুক্তির শর্তের জবাবে পাল্টা কিছু দাবি তোলার পর বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ইরানের কাছে যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।    হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি দীর্ঘ সময় বন্ধ বা সীমিত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।   বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন এমন এক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে কে আগে ছাড় দেবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। তার ধারণা, দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা চলতে থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ থেকে ৯৫ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।   তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম আরও বাড়লে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে আবার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিভিন্ন বাজারে ওঠানামা দেখা গেছে।   সূত্র: রয়টার্স, শাফাক নিউজ এজেন্সি

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পৌনে দুই লাখ বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসকে এড়িয়ে যেভাবে গোপনে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ৩০১

সর্বোচ্চ চূড়া ছুঁয়ে টানা চার বছর নিম্নমুখী এসএসসির জিপিএ ৫

২০০১ সালে যখন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হয়, তখন সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। এ বছর মাত্র ৭৬ জন জিপিএ ৫ পায়।     দুই যুগেরও কম সময়ের মধ্যে সেই সংখ্যা হাজার গুণ বেড়ে ২০২২ সালে ঠেকে সর্বোচ্চ চূড়ায়, ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জনে। কিন্তু এর পরের গল্পটা ঠিক উল্টো। গত চার বছর ধরে ক্রমাগত কমছে জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা, চলতি বছর যা নেমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে। এটি শীর্ষ সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকেরও কম।       দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ২৫ বছরের এসএসসি ফলাফলের এ চিত্র উঠে এসেছে।     শুরুটা হয়েছিল যেভাবে পুরনো নম্বরভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি বাদ দিয়ে ২০০১ সালে গ্রেডিং সিস্টেম চালু করে বাংলাদেশ। এর আগে ৮০ বা তার বেশি নম্বরপ্রাপ্তদের দেওয়া হতো লেটার মার্কস। নতুন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ গ্রেড হিসেবে ঠিক করা হয় জিপিএ ৫।     প্রথম বছরে ফল ছিল অত্যন্ত সীমিত। মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী পেয়েছিল এ গ্রেড। ২০০২ সালে তা বেড়ে হয় ৩৩০, আর ২০০৩ সালে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৯২ জনে।     বৃদ্ধির গতি বাড়ে ২০০৪ থেকে ২০০৪ সাল থেকে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বাড়তে থাকে। সে বছর ৮ হাজার ৫৯৭ জন সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করে, ২০০৫ সালে যা বেড়ে হয় ১৭ হাজার ৬৩১ এবং ২০০৬ সালে ২৪ হাজার ৩৮৪।   পরের বছরগুলোতেও ধারাবাহিক উত্থান অব্যাহত থাকে। ২০০৭ সালে ২৫ হাজার ৭৩২ জন, ২০০৮ সালে ৪১ হাজার ৯১৭ জন এবং ২০০৯ সালে ৪৫ হাজার ৯৩৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করে।     ২০১০ সালে এ সংখ্যা এক লাফে পৌঁছায় ৫২ হাজার ১৩৪ জনে। এরপর ২০১১ সালে ৬২ হাজার ২৪৪ এবং ২০১২ সালে ৮২ হাজার ২১২ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পায়। ২০১৩ সালে সংখ্যাটি গিয়ে দাঁড়ায় ৯১ হাজার ১২২ জনে।     প্রথমবার লাখ ছাড়িয়ে যাওয়া ২০১৪ সালে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লাখের কোঠা পেরোয় জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা। এ বছর ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন জিপিএ ৫ পায়। তবে এ ধারা স্থায়ী হয়নি। ২০১৫ সালে সংখ্যাটি নেমে আসে এক লাখ ১১ হাজার ৯০১ জনে, ২০১৬ সালে আরো কমে হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১।     এরপর তিন বছর প্রায় একই পর্যায়ে ওঠানামা করে ফল। ২০১৭ সালে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১, ২০১৮ সালে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ এবং ২০১৯ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করে।     করোনাকালে পাল্টে যায় হিসাব ২০২০ সালে করোনা মহামারির প্রভাব পড়ে পরীক্ষার ফলেও। সে বছর জিপিএ ৫ পায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী। এরপর ২০২১ সালে মহামারির কারণে পরীক্ষা ছাড়াই দেওয়া হয় অটোপাস, আর সেই বছর জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জনে।     সর্বকালের রেকর্ড মহামারি পরবর্তী প্রথম স্বাভাবিক পরীক্ষায় হয় ২০২২ সালে। এ বছর নতুন রেকর্ড গড়ে জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জনে। যা এ ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু সেই রেকর্ডের পর থেকে শুরু হয় নিম্নমুখী যাত্রা। ২০২৩ সালে সংখ্যাটি কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জনে, ২০২৪ সালে আরো কমে হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯।     চলতি বছরও অব্যাহত পতন ২০২৫ সালে জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা নেমে আসে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জনে। আর চলতি বছর এ সংখ্যা আরো কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে।     এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ বলেন, ‘অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিজেদের সফলতা দেখাতে পাসের হার ও জিপিএ ৫ বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা ছিল।’     তিনি আরও বলেন, ‘মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ওভার মার্কিং বা আন্ডার মার্কিং ইস্যুতে ধিরে ধিরে একটি সঠিক জায়গায় আসার চেষ্টা করবে সরকার। এ বছর পাশের হার যতটা হয়েছে সামনের বছর এ হার এর থেকেও কম হতে পারে।’

মারিয়া রহমান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের আবেদনে আসছে অনলাইন বাধ্যবাধকতা

ছবি: সংগৃহীত

মেটার নতুন এআই মডেল ‘মিউজ গ্লিমার’, ওপেন এআই ইস্যুতে নতুন বিতর্ক

ছবি : সংগৃহীত

লিবিয়ার জাওয়িয়া তেল শোধনাগারে আগুন

ছবি : সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। খবর বিবিসির।   সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে ছিল। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৩ কিলোমিটার।   ভূমিকম্পের কম্পন কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল ও আশপাশের শহরগুলোতে।   কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ১১, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম ইউরোপে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুন-জুলাই: কপারনিকাস

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ৫০ হাজার সেনা দেবে উত্তর কোরিয়া: জেলেনস্কি

0 Comments