ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসী অনুষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সেমিনার আজ ফার্মেসী অনুষদের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়েছে।
এতে আরও জানানো হয়, জাপানের গবেষণাভিত্তিক খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব সুকুবা’র অ্যালায়েন্স ফর অন দ্য মেডিটারেনিয়ান এন্ড নর্থ আফ্রিকা ( এআরইএনএ) প্রোগ্রাম রিসার্চ -এর আওতায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করে।
ফার্মেসী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ইউনিভার্সিটি অব সুকুবা’র অধ্যাপক ড. হিরোকো ইসোডা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশীদ ও অধ্যাপক ড. মো. আল আমীন সিকদার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
জাপানের প্রতিনিধি দলের সদস্যগণ হলেন, অধ্যাপক ড. হিরোকো ইসোডা, এমিরিটাস অধ্যাপক ড. মিতসুতোশি নাকাজিমা, সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা ফেরদৌসী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী ও ফার্মাকোলজি বিভাগের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জাকির আহমেদ চৌধুরী, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শায়লা কবীর, ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছারসহ অনুষদের প্রায় ৩০ জন শিক্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে প্রাকৃতিক উৎসভিত্তিক গবেষণা, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে যৌথ সহযোগিতামূলক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদের গবেষণা সক্ষমতা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
এছাড়া, ভবিষ্যৎ যৌথ গবেষণার সুযোগ ও গবেষণা ঘাটতি বিষয়ে সেমিনারে আলোকপাত করা হয়।
সেমিনার শেষে জাপানের প্রতিনিধিদল ফার্মেসী অনুষদের বিভিন্ন গবেষণাগার পরিদর্শন করেন।
এধরনের একাডেমিক বিনিময় ও আলোচনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পুলিশ বাহিনী বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল, তবে বাহিনীকে এখন অনেকাংশে গুছিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, আমাদের (পুলিশের) একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল। সেটা অনেকাংশে আমরা গুছিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এই পুলিশ উইক (সপ্তাহে) পুলিশকে আরও সুশৃঙ্খল এবং জনবান্ধব করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকারের অন্য যাঁরা আছেন, তাঁরা আমাদের নির্দেশনা দেবেন। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম যে পুলিশ আশা করে, সবার সহযোগিতায় আমরা সেই পুলিশ গড়ে তুলতে পারব। শুক্রবার (৮ মে) ৩০০ ফিট এলাকার পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকায় খিলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি। মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, এই এলাকায় আবাসিক এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির ফলে খিলক্ষেত থানা এলাকায় গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ৩০০ ফিট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে বর্তমানে একটি দ্রুত বর্ধনশীল নগর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। খিলক্ষেত থানার বর্তমান অবস্থান এবং সম্প্রসারিত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশ সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে বরুয়া এবং আশপাশ এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যা পূর্বাচল নতুন শহরের সঙ্গে ঢাকা মহানগরী সংযোগ স্থাপন করেছে। এর আশেপাশে অবস্থিত নামাপাড়া, পাতিরা, ডুমনি, বরুয়া ও তলনা এলাকাগুলো প্রশাসনিকভাবে খিলক্ষেত থানার আওতাভুক্ত হলেও বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো থানা থেকে তুলনামূলক দূরবর্তী। এই এলাকাগুলো পূর্বাচল নতুন শহরের পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বাণিজ্যিক জোন এবং একাধিক সংযোগ সড়কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এই এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন খিলক্ষেত থানার কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণ ও কার্যকর করবে। আইজিপি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরুয়া, ডুমনি, পাতিরা, তলনা এলাকায় দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন আবাসিক প্রকল্প বসতি স্থাপন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প ঘিরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ তৎপর পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় যোগাযোগ হাব হওয়ায় এলাকাটি মাদক পরিবহন ও লেনদেনের জন্য একটি সম্ভাব্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের পাশাপাশি এসব এলাকাগুলোতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেড়েছে। ফলে অস্ত্র-মাদক ব্যবহারসহ সার্বিকভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অধিকন্তু ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশ এলাকায় রাত্রিবেলায় বিনোদনকর্মী মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। যার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক শক্তিশালী পুলিশি উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে এবং আশেপাশের এলাকাগুলোতে চুরি-ছিনতাইয়ের সুযোগ আছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে বর্তমানে একটি ব্যস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যানবাহনের দ্রুত ও বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। খিলক্ষেত থানা থেকে এই এলাকাগুলো দূরে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে এই এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয় না। আইজিপি বলেন, তাছাড়া গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা ও দূরত্বের কারণে যাতায়াত খরচ, সময়ের স্বল্পতা ও নানান কারণে ওই এলাকার বাসিন্দারা থানায় গিয়ে পুলিশি সেবা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে। যার কারণে কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। ওই এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। পুলিশি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা যাবে যাতে অপরাধ সংগঠনের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পুলিশ সপ্তাহ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় একটি গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য এবং সবার আস্থা অর্জনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনজুর আলমকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগদান এবং আসন্ন চসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার আলোচনা চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনায় রয়েছে। তবে রাজনৈতিক ও পারিবারিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো। এনসিপির একাধিক নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, দলটির পক্ষ থেকে মনজুর আলমকে চট্টগ্রাম মহানগরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি এনসিপির শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ তার বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করার পর এ গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। বৃহস্পতিবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রাম সফরে যান। বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে দলটির এক অনুষ্ঠানে মনজুর আলমকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ করানোর পরিকল্পনা ছিল বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। মনজুর আলমের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কয়েক মাস আগেও তিনি এনসিপিতে যোগদানের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। দলটির বিভিন্ন আয়োজনেও তিনি সহায়তা দিয়েছেন। বিশেষ করে রমজানে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে তার অনুদান এবং তার ছবি সংবলিত পানির বোতল বিতরণের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই দলবদলের জন্য আলোচিত মনজুর আলম প্রথমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন বলে আলোচনা ছিল। তবে বিএনপির ভেতরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় সেখানে তার অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর এনসিপির কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে তার একাধিক বৈঠকের তথ্য সামনে আসে। তবে এনসিপিতে যোগদানের সম্ভাবনা প্রকাশ্যে আসতেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। রাজনৈতিক উপদেষ্টারাও তাকে সতর্ক করেন যে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করলে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগপন্থি ভোট হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে তিনি প্রকাশ্যে দলটিতে যোগ না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের চিন্তাও করছিলেন বলে জানা গেছে। গত ১৪ এপ্রিল হাসনাত আবদুল্লাহ তার বাসায় গেলে ঘটনাটি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মনজুর আলম আরও চাপে পড়েন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। বৃহস্পতিবার দিনভর তার বাসা ও অফিসে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সূত্র। তবে তার ছেলে সরওয়ার উল আলম বলেছেন, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত তার বাবা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবেন না এবং আড়ালে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মনজুর আলম বর্তমানে মোস্তফা হাকিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং পরে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর আবারও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
রাজধানীর বনানীতে সরকারি জমিতে নির্মিত ‘বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং’ প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূর আলী এবং তার প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনুমোদনহীন ভবনে হোটেল পরিচালনার মাধ্যমে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে প্রায় ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ উপার্জন করেছে এবং সেই অর্থ বিভিন্নভাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করেছে। এ অভিযোগে গত ৭ মে বনানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বনানীতে ১৪ তলা ভবন নির্মাণের অনুমতি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরবর্তীতে ওই ভবনে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ চালু করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করেও এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়েই বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তির শর্ত সংশোধন করা হয়। সিআইডি জানিয়েছে, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্রও নেওয়া হয়নি। ভবনের উচ্চতা অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করায় বিমান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেদখল হওয়া সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর অর্থ পাচারের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।