জাতীয়

দায়িত্বে ৪৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ১০ উপদেষ্টা

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

গতকাল শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন ৪৯ জন। এর মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন, প্রতিমন্ত্রী ২৪ জন। টেকনোক্র্যাট তিনজন। জোটের শরিকদেরও মন্ত্রিসভায় রেখেছেন তারেক রহমান। গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান।

 

এবারের মন্ত্রিসভায় এক ঝাঁক নতুন মুখ রয়েছেন, যাঁরা আগে কখনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন না। অনেকে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।

 

মন্ত্রীদের তালিকায় ২৫ জনের মধ্যে ১৭ জনই নতুন মুখ। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় থাকা ২৪ জনই নতুন। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন। নতুন এ মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারির কথা। রাত ১২টা পর্যন্ত তা জারি হয়নি। 

 

গতকাল ৪টায় শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও বেলা দেড়টা থেকেই অতিথিরা আসতে শুরু করেন। বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ দেশিবিদেশি অতিথিদের পদচারণে মুখরিত হয় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা। শপথ পাঠের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের ঠিক মাঝ বরাবর পাশাপাশি রাখা হয় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির আসন। সেখানে বিছানো হয় লাল গালিচা। প্রধানমন্ত্রীর শপথমঞ্চের বামে ১৩ জন ও ডানে ১২ জন মন্ত্রীর আসন রাখা হয়। এ ছাড়া দুই পাশে ১২ জন করে প্রতিমন্ত্রীর আসন রাখা হয়।

 

৪টার দিকে অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হন বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ৪টা ৪ মিনিটে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় স্পিকারে বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত। এরপরই শপথস্থলে আসেন তারেক রহমান। শপথমঞ্চে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে আসন গ্রহণ করেন তাঁরা।

 

জাতীয় সংসদ সচিবালয় মসজিদের ইমাম হাফেজ কারি মাওলানা মুফতি মো. আবু রায়হানের কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি তারেক রহমানকে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর শপথ ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। ৪টা ১২ মিনিটে তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ৪টা ১৪ মিনিটে শপথগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী ও গোপনীয়তার শপথে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। এরপর সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের ২ দফা অনুযায়ী প্রথমে মন্ত্রীদের ও পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে মন্ত্রীদের ও পরে প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান।

 

বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস অতিথিদের সঙ্গে বসে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। শপথগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

 

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানা গেছে, মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ইকবাল হাসান মাহমুদ; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ড. খলিলুর রহমান; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আবদুল আউয়াল মিন্টু; ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ; ভূমি মন্ত্রণালয়ে মিজানুর রহমান মিনু; সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিতাই রায় চৌধুরী; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আরিফুল হক চৌধুরী; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে জহির উদ্দিন স্বপন; কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট); বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আফরোজা খানম; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আসাদুল হাবিব দুলু; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মো. আসাদুজ্জামান; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জাকারিয়া তাহের; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দীপেন দেওয়ান; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ফকির মাহবুব আনাম; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ রবিউল আলম।

 

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে মো. শরিফুল আলম; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম; কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; ভূমি মন্ত্রণালয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ; যুব ও ক্রীড়ায় (টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী) মো. আমিনুল হক; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান; জনপ্রশাসনে মো. আবদুল বারী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ে মীর শাহে আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ে মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি); মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ইশরাক হোসেন; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফারজানা শারমীন; আইন, ধর্ম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মো. নুরুল হক নুর; তথ্যে ইয়াসের খান চৌধুরী; দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে এম ইকবাল হোসেইন; স্বাস্থ্যে এম এ মুহিত; গৃহায়ন ও গণপূর্তে আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর; শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষায় ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

প্রথমবার মন্ত্রী হলেন যারা : তারেক রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মোকতাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং শেখ রবিউল আলম।

 

প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ : মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ বিশিষ্টজনকে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

 

এর মধ্যে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ উপদেষ্টা হলেন- মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টারা হলেন- হুমায়ূন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদুর রহমান, ড. মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশের নতুন নাম ‘রিপাবলিক অব নাওয়েরো’

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম পরিবর্তন করে ‘রিপাবলিক অব নাওয়েরো’ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেনিস অ্যাডিয়াং মূল ভাষার উচ্চারণ ও বানানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন।   সরকার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধার্থে ‘নাউরু’ নামটি ব্যবহৃত হলেও স্থানীয় ভাষায় দেশের ঐতিহাসিক নাম ‘নাওয়েরো’। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে পুনরায় সামনে আনা হয়েছে।   নাম পরিবর্তনের ফলে দেশটির আন্তর্জাতিক সংক্ষিপ্ত কোড ‘NRU’ পরিবর্তিত হয়ে ‘NRO’ হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের আর ‘নাউরুয়ান’ বলা হবে না; তাদের নতুন পরিচয় হবে ‘দেই-নাওয়েরো’।   গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সে সময় তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ দেশের ঐতিহ্য, ভাষা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ।   মে মাসে এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের আলোচনা থাকলেও পরে সরকার জানায়, ‘নাওয়েরো’ নামটি কখনোই রাষ্ট্রীয় ব্যবহার থেকে হারিয়ে যায়নি এবং এটি জাতীয় প্রতীকেও বিদ্যমান রয়েছে। তাই আলাদা গণভোটের প্রয়োজন হয়নি।   প্রায় ১২ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটি ও টুভালুর পর বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম স্বাধীন দেশ হিসেবে পরিচিত।   নাউরুর ইতিহাসে রয়েছে উপনিবেশিক শাসনের দীর্ঘ অধ্যায়। দেশটি একসময় জার্মান উপনিবেশ ছিল এবং পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনি থেকে বিপুল সম্পদ অর্জন করে। তবে ১৯৯০-এর দশকে সেই সম্পদ কমে গেলে দেশটি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।   বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দেশটির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যৎ পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাউরু সরকার পেইড সিটিজেনশিপ কর্মসূচিও পরিচালনা করছে।   নাম পরিবর্তনের ফলে দেশটির উড়োজাহাজ, জাহাজ ও বিভিন্ন সরকারি নথির নামও পরিবর্তন করা হবে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দূতাবাস তাদের ওয়েবসাইটে নতুন নাম ‘নাওয়েরো’ ব্যবহার শুরু করেছে।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও কয়েকটি দেশ নিজেদের ঐতিহাসিক বা স্থানীয় পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাম পরিবর্তন করেছে। ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড ‘এসওয়াতিনি’ এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিকভাবে ‘তুরকিয়ে’ নাম ব্যবহার শুরু করে।   সূত্র: এপি

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ধাপে ধাপে বন্ধ হচ্ছে প্যাডেল রিকশা, আসছে লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুটি সার্ভিস লেন খুলছে আগামী সপ্তাহে

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির

ছবি : সংগৃহীত
জনগণের চাহিদা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংবিধান সংশোধন: চিফ হুইপ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা এক বছর বা দুই বছরের জন্য সংবিধান সংশোধন করব না, আগামী প্রজন্মের জন্য করব, যাতে জনগণ এর সুফল পায়। সে জন্য সময়ের আকাঙ্ক্ষা, সময়ের পরিবর্তন এবং জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করব।     মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।     চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান একটি চলমান ও সময়োপযোগী দলিল। তাই সময়ের পরিবর্তন, জনগণের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, অংশীজন ও জনগণের গঠনমূলক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।   তিনি জানান, বর্তমান সংসদের বিশেষ করে বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস‌্য প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের গভীরভাবে অনুধাবন করে কার্যকর অবদান রাখতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে।     এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দরজা খোলা আছে। তারা যখনই আসবেন, তখনই আমরা তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করব।     আন্তর্জাতিক উদাহরণ তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, ভারতে বহুবার এবং যুক্তরাষ্ট্রেও সফলভাবে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

ছেলের হত্যার বিচার চান শহীদ রফিকের মা

ছবি: সংগৃহীত

দেবহাটায় গৃহবধূর ঘর থেকে এক ব্যক্তিকে আটক, মামলা দায়ের

ছবি: সংগৃহীত
ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি

ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, ঘন ঘন লোডশেডিং, গ্যাস সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’। এ সময় বিদ্যুৎ খাতের অনিয়মের তদন্ত, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত এবং বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাসহ চার দফা দাবি জানানো হয়।   মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সংগঠক রিয়াজুল ইসলাম জুবা লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।   তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টপেইড ও প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও নিয়মিত মিটার রিডিং নেওয়া হচ্ছে না, আবার কোথাও অনুমাননির্ভর বিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রিপেইড মিটারে রিচার্জের পর অস্বাভাবিক হারে টাকা কেটে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   রিয়াজুল ইসলাম জুবা বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং কৃষি, সেচ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তাই দেশের সব অঞ্চলে বৈষম্যহীন ও সুষম বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   সংবাদ সম্মেলনে গ্যাস সংকট এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।   একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।   শিক্ষার্থীদের ঘোষিত চার দফা দাবি হলো:    বিদ্যুৎ মিটারে কারচুপি ও অতিরিক্ত বিল আদায় বন্ধ করে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ বা বিল সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা। দেশের সব অঞ্চলে সুষম ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। বাজার সিন্ডিকেট, মজুতদার ও কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। গ্যাস, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা।   সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষার্থী সাদিক মুনওয়ার মুনেম, রিজওয়ান যুবরান মানসুরি ও মারুফ সরকার বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্যের সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত কার্যকর, টেকসই ও জনমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল ভাষণ: ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই বলে দিল্লির দাবি

ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটে ৯৮ বোতল ফেনসিডিল মামলায় ৪ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত

সমালোচনার মুখে পিছু হটল বিদ্যুৎ বিভাগ

0 Comments