সর্বশেষ

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ হলে নবীজি (সা.) কী করতেন

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ অস্বাভাবিক নয়। দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকলে মতের পার্থক্য থাকবেই। পছন্দ আলাদা হতে পারে। অভ্যাস আলাদা হতে পারে। কোনো বিষয় নিয়ে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গিও ভিন্ন হতে পারে।

 

সমস্যা মতবিরোধে নয়। সমস্যা হলো মতবিরোধের সময় আমরা কীভাবে আচরণ করি। রাসুলের ঘরেও মানবিক অনুভূতি ছিল। কখনো অভিমান হয়েছে। কখনো মন খারাপ হয়েছে। কখনো স্ত্রীদের মধ্যে ঈর্ষাও প্রকাশ পেয়েছে।

 

তবে এসব পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর আচরণ ছিল ভারসাম্যপূর্ণ, কোমল ও দূরদর্শী।

 

১. রাগের সময় অপমান করতেন না

দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষত অনেক সময় কথার মাধ্যমে তৈরি হয়। রাগের মুহূর্তে মানুষ এমন কথা বলে ফেলে, যা পরে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন গালাগালকারী নয়, অভিশাপকারী নয়, অশ্লীলভাষীও নয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৭৭)

স্বামী-স্ত্রীর মতবিরোধে এই শিক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ। মতবিরোধ হতে পারে। অপমান করা যাবে না। গালাগালি করা যাবে না।

 

২. স্ত্রীর অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতেন

একবার আয়েশা (রা.)-এর কাছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বুঝতে চাইলেন, তিনি তাঁর ওপর সন্তুষ্ট কি না। তিনি বললেন, ‘আমি জানি, তুমি কখন আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকো এবং কখন অসন্তুষ্ট থাকো।’

 

আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, কীভাবে? তিনি বললেন, যখন তুমি সন্তুষ্ট থাকো, বলো, ‘মুহাম্মদের রবের কসম।’ আর যখন অসন্তুষ্ট থাকো, বলো, ‘ইবরাহিমের রবের কসম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২২৮)

 

এখানে দাম্পত্য সম্পর্কের একটি সূক্ষ্ম দিক দেখা যায়। তা হলো সঙ্গীর অনুভূতি বুঝতে হয়। সব কথা মুখে বলতে হয় না। আচরণেও অনেক কিছু প্রকাশ পায়।

 

৩. স্ত্রীর অভিমানকে উপহাস করতেন না

আয়েশা (রা.)-এর মধ্যে স্বাভাবিক মানবিক ঈর্ষা ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা বুঝতেন। একবার তাঁর কোনো একজন স্ত্রী খাবারের পাত্র পাঠালে আয়েশা (রা.) ঈর্ষাবশত পাত্রটি ভেঙে ফেলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেননি। তিনি বললেন, ‘তোমাদের মা ঈর্ষা করেছেন।’

 

এরপর ভাঙা পাত্রের ক্ষতিপূরণ করলেন এবং বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে সামলালেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২২৫)

 

এখানে একটি শিক্ষা হলো, প্রতিটি আবেগকে অপরাধ বানিয়ে ফেললে সম্পর্ক ভারী হয়ে যায়। কখনো অনুভূতিকে বুঝতে হয়। তারপর পরিস্থিতি শান্ত করতে হয়।

 

৪. মতবিরোধকে মানুষের সামনে নিয়ে যেতেন না

দাম্পত্যের অনেক সমস্যা ব্যক্তিগত। এসব সমস্যা বন্ধু, আত্মীয় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে সমস্যা আরও বড় হয়।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মর্যাদার মানুষ হলো সে ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর কাছে যায় এবং স্ত্রীও তার কাছে আসে, তারপর সে তার স্ত্রীর গোপন কথা প্রকাশ করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৩৭)

স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় ব্যক্তিগত রাখার শিক্ষা এখানে স্পষ্ট।

 

৫. নীরবতাকেও কখনো ব্যবহার করেছেন

সব মতবিরোধের তাৎক্ষণিক সমাধান প্রয়োজন হয় না; কখনো সময় দিতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীদের একটি ঘটনায় এক মাস তাঁদের থেকে পৃথক ছিলেন। তিনি তাঁদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কোনো অশোভন আচরণ করেননি। বিষয়টি নিয়ে তিনি সময় নিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২০১)

 

রাগের সময় কথা কমানো দরকার। সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা দরকার। প্রয়োজনে স্থান পরিবর্তন করা দরকার। একটি সম্পর্ক নষ্ট করার মতো কথা বলে ফেলার চেয়ে কিছু সময় চুপ থাকা অনেক ভালো।

 

৬. আলোচনার পথ রাখতেন

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীদের মতামতকে গুরুত্ব দিতেন। হোদাইবিয়ার সময় সাহাবিরা চুক্তির বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছিলেন। তখন উম্মে সালামা (রা.)-এর পরামর্শ তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

তিনি পরামর্শ দেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যেন নিজে কোরবানি করেন এবং মাথা মুণ্ডন করেন। সাহাবিরা তাঁকে অনুসরণ করবেন। তিনি তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৭৩১–২৭৩২)

 

এখানে দাম্পত্য জীবনের একটি সুন্দর শিক্ষা পাওয়া যায়। স্ত্রীকে স্রেফ আবেগের মানুষ হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁর বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের মূল্যও আছে।

 

৭. স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের মর্যাদা দান

মতবিরোধের মধ্যেও ভালোবাসা হারিয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয়। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পাত্রের সেই জায়গা থেকে পান করতেন, যেখান থেকে তিনি পান করেছেন। (সহিহ মুসলিম: ৩০০)

 

এমন ছোট ছোট আচরণ দাম্পত্যে গভীর আপনত্ব তৈরি করে। সম্পর্ক বড় উপহারে টিকে থাকে না। অনেক সময় ছোট ছোট যত্নই সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)

 

এটি দাম্পত্য জীবনের একটি মৌলিক নীতি। মানুষ বাইরে কেমন—তা দিয়ে তার চরিত্রের পূর্ণ মূল্যায়ন হয় না। ঘরের মানুষ তার প্রকৃত আচরণ সবচেয়ে ভালো জানে। বাইরে ভদ্রতা দেখিয়ে ঘরে রূঢ় আচরণ করা নবীর আদর্শ নয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকিরকে গুলি করে হত্যা

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির, যিনি আলিফ ফকির নামেও পরিচিত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার বিরিশিরির উৎরাইল এলাকার তেলুনজিয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।   নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির সাবেক সেনাসদস্য ছিলেন। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন।   দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান সাংবাদিক হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৬

সাতক্ষীরার বস্তিতে জরিপকৃত বাস্তুচ্যুত পরিবারের ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীন; খানি বাংলাদেশ এর গবেষণা

চুরি হওয়া সেই ল্যাপটপ ফিরে পেলেন জার্মান পর্যটক

ছবি: সংগৃহীত

২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসিসহ ১১ জন

গত ৩ দিনে বাংলাদেশ-রিয়াদের ১০টি ফ্লাইট বাতিল

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে গত তিন দিনে বাংলাদেশ ও রিয়াদের মধ্যে চলাচলকারী মোট ১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)।   এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৪৩১ যাত্রী।   বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দু’টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দু’টি, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের (সৌদিয়া) তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।   সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের সংখ্যা নয়টি থেকে বেড়ে ১০টিতে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে, আগে জানানো ৩ হাজার ১২ জনের পরিবর্তে এখন ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৪৩১ হয়েছে।   রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার পর গত শনিবার থেকে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে শুরু করে।   নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় রোববার বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যাহত হয়।   গত এক সপ্তাহে অন্তত পাঁচবার হামলার শিকার হয়েছে রিয়াদ বিমানবন্দর।   ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ ও রিয়াদগামী হাজারো যাত্রী ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রীর হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে মোহাম্মদপুরে অটোরিকশাচালকদের সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে নীলক্ষেত মোড় অবরোধ চাকরিপ্রার্থীদের

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ভালোবাসা ধরে রাখার ৬ উপায়

ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন জহরত আদিব চৌধুরী

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৫৩তম অ্যাসেম্বলিতে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের পক্ষ থেকে নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী।   আজ তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি মঙ্গোলিয়ার প্রার্থীকে পরাজিত করেন।   এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের ৩৭টি সদস্যদেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে জহরত আদিব চৌধুরীর বিজয় আন্তর্জাতিক সংসদীয় পরিসরে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।   বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দলের সাথে তানজানিয়া সফররত জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুইয়া এক তথ্যবিবরণীতে এ কথা জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভাঙচুর, আহত ১০

ছবি: সংগৃহীত

রাবিতে হামলায় সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট কিনতে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের সুযোগ বাড়ল

0 Comments