রাজধানীর বাজারে নদীর মাছের দাম ছাড়েনি এখনও। সরবরাহ কম থাকায় ইলিশের বাজারও বেশ চড়া। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতাদের দাবি, ছুটির দিন তাই দাম একটু বাড়তিই থাকে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে, যোগানের সংকট। রাতে দুরপাল্লার পরিবহন কিছুটা কম এসেছে বলেও দাবি তাদের। তবে, ডিম ও মুরগির দর রয়েছে আগের মতোই।
মাছে ভাতে বাঙালির মাছের জন্য হাপিত্যেস অনুযায়ী প্রথমেই এই প্রতিবেদক ঢুঁ মারেন মাছের বাজারে। দেখা যায়, আকারভেদে কেজিপ্রতি রুই কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। আর ইলিশ তো মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরেই।
তবে, স্বস্তি রয়েছে সবচেয়ে সাশ্রয়ী পুষ্টির উৎস-ডিমের বাজারে। লাল ডিমের ডজন পাওয়া যাচ্ছে ১৩০ টাকাতে। আর সাদা ডিমের ডজন ১২০ টাকা। হাঁসের ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা করে।
ব্রয়লারের দাম সেই ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা কেজিই রয়েছে। তবে, ছুটির দিন উপলক্ষ্যে কোথাও কোথাও চাওয়া হচ্ছে বাড়তি দাম। সোনালি জাত ৩০০ আর দেশি মুরগি খরিদে কেজিপ্রতি সেই ৬০০ টাকা গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
অন্যদিকে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ আর খাসির মাংসের কেজি ১১৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নীতিগত সহায়তার দুর্বলতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের পোশাকখাত বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। জরুরি সংস্কার ও কার্যকর নীতি গ্রহণ না করা হলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান চাপে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছে, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) খাতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুযোগের পরিমাণ বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বাজারগুলোর নতুন আইন অনুযায়ী পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং পরিবেশবান্ধব সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হবে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে সার্কুলার রূপান্তর ত্বরান্বিত করা: সুইচটুসিই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিজিএমইএর পরিচালক ও কিউট ড্রেস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ বলেন, বৈশ্বিক আইন ও নীতিগত পরিবর্তন পোশাক শিল্পকে এখন অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ও টেকসই উৎপাদনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রিন ডিল এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টের (ডিপিপি) মতো উদ্যোগের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চক্রাকার পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে প্রস্তুতকারকদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে, নতুন কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে পদক্ষেপ নিতে হবে। মোস্তাফিজ জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ টন টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে পুনঃব্যবহার বা প্রক্রিয়াজাত করা হলেও এখনো তা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আসেনি। তবে এই খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে পারলে একদিকে অগ্নিকাণ্ডের মতো স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে আরও সংগঠিত ও নিরাপদ শিল্পভিত্তি গড়ে উঠবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে ১০০ শতাংশ তুলাভিত্তিক বর্জ্য যান্ত্রিকভাবে পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হলেও রাসায়নিক পুনর্ব্যবহারের সক্ষমতা এখনো সীমিত। বিশেষ করে মিশ্র কাপড় ও মানবসৃষ্ট তন্তু (এমএমএফ) পুনর্ব্যবহারে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কাঁচামালের চাহিদা বাড়বে এবং সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়বে। ফলে তুলাসহ প্রাকৃতিক বস্তুর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্পের দিকে যেতে হবে। ২০২২-২৩ সাল থেকে চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ নীতি ও আইনি কাঠামোর অভাবে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদিয়া আম্মৃত খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের পুরো বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা গেলে প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলারের সার্কুলার অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশ তুলাভিত্তিক পোশাক কারখানার বর্জ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করতে সক্ষম। তবে এই বর্জ্যের বড় অংশ ভারত ও পাকিস্তানে রপ্তানি হয়ে পরে পুনর্ব্যবহৃত সুতা হিসেবে দেশে ফিরে আসে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৭টি কারখানায় পরীক্ষামূলক এই প্রকল্প চালু রয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলার। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পথে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্কভাবে আলোচনা করছে। তবে এলডিসি উত্তরণ যেকোনো সময়েই হোক না কেন, বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, চক্রাকার অর্থনীতি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। মিলার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রবৃদ্ধি কৌশলের কেন্দ্রেই রয়েছে চক্রাকার অর্থনীতি, যার লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন। ইউরোপে প্রতিবছর ৫০ লাখ টনের বেশি টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হয়, যেখানে বাংলাদেশে এ পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ টন। সামাজিক পরিস্থিতি, ফাস্ট ফ্যাশন এবং বর্জ্য সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন টেকসই ও চক্রাকার টেক্সটাইল নীতি চালু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে পরিবেশবান্ধব নকশা, উৎপাদকদের দায়বদ্ধতা, ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট এবং বিভ্রান্তিকর পরিবেশবান্ধব প্রচারণা ঠেকাতে কঠোর বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মিলার বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার এবং তৈরি পোশাক খাত দেশের জিডিপির প্রায় ১১ শতাংশ অবদান রাখে ও প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের রূপান্তরে সহায়তা দিচ্ছে। এই প্রকল্পে এইচঅ্যান্ডএম ও বেস্টসেলারের মতো ব্র্যান্ড পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য ট্রেসেবিলিটি নিয়ে পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ইউনিডো ও চ্যাথাম হাউস নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। এ ছাড়া ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে চক্রাকার বিনিয়োগে সহায়তার জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে ৬ কোটি ইউরোর ঋণচুক্তি করেছে বলেও জানান তিনি। সূত্র : দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ ও এপ্রিল মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার ( ৭ মে) ১৫১ কোটি ডলার ডলারের সমপরিমাণ অর্থ আকুকে পরিশোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাধারণত আকুর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে লেনদেনের জন্য দুই মাস পরপর এ ধরনের বিল পরিশোধ করতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৬ মে) পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কত হয়েছে, তা জানায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে হিসাব করলে দেখা যায়, ১৫১ কোটি ডলার ডলার পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি এবং বিপিএম-৬ রিজার্ভ ২৯ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা সবসময় প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য নিট রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। প্রতি মাসে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করে এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ। আকু কী? আকু হলো- একটি আন্তর্দেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার লেনদেনের দায় পরিশোধ করা হয়। ইরানের রাজধানী তেহরানে আকুর সদর দপ্তর। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানির অর্থ পরিশোধ করে। তবে এখন আকুর সদস্য পদ নেই শ্রীলঙ্কার। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ আমদানি ব্যয় পরিশোধের বিভিন্ন শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির আকু সদস্য পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের (এসক্যাপ) ভৌগোলিক সীমারেখায় অবস্থিত সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য আকুর সদস্য পদ উন্মুক্ত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে ৭ জুন, রোববার। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এদিন বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন। এই বাজেট অধিবেশন হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন।