খেলাধুলা

ছেলেকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা মেসির মায়ের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিশ্ব মাতিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে সবশেষ আকাশী জার্সিতে নেমেছিলেন মাঠে। তবে কাপ আর ঘরে তোলা হয়নি। অবশেষে বিশ্বকাপের কয়েক মাস পর জানালেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর খেলবেন না। ক্ষুদে বিস্ময়বালক থেকে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া লিওনেল মেসির এমন ঘোষণার পর দুনিয়াজুড়ে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

 

বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা এই তারকার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন তার মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম আমেরিকা টিভিকে দেয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে তিনিবলেন, আমি চিঠি দেখছি আর এখনও কাঁদছি। যদিও আমরা আগে থেকেই জানতাম, পুরো পরিবারই খুব দুঃখিত। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে যেন সুখী থাকে।

 

এর মাধ্যমে মেসির মা তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর পরিবারের বিষণ্নতার চিত্র তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগে থেকে বিষয়টি জানলেও সেই মুহূর্তটির কঠিন বাস্তবতাকে সহজ করতে পারেনি।

 

কথা বলার একপর্যায়ে মেসির মা তার স্বামী হোর্হে মেসিকে ঘিরে একটি আবেগঘন বিষয়ও প্রকাশ করেন। তিনি স্মরণ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মেসির বাবা সেই মুহূর্তটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন—যেদিন তার ছেলে শেষবারের মতো বুটজোড়া তুলে রাখবে।

 

কুচ্চিত্তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, বাবা সবসময় বলতেন, ‘আমি আর না খেললে কী করব?’ আর সবকিছু একসঙ্গে ঘটে গেল, অবিশ্বাস্য।

 

এই আবেগের মূল কারণ ছিল লিওনেল মেসির নিজের প্রকাশ করা সেই হৃদয়স্পর্শী চিঠি, যার মাধ্যমে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলার সমাপ্তি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

 

নিজের বার্তায় এই তারকা জানান, সিদ্ধান্তটি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিলেও তিনি অনুভব করেছেন যে এখন সময় এসেছে সরে দাঁড়ানোর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
স্বপ্নের বার্সেলোনায় যোগ দিতে পারিশ্রমিক কমিয়েছেন জেসুস

কিছুদিন আগেও গাব্রিয়েল জেসুসের ভাবনায় ছিল আর্সেনালের সেরা একাদশে আবার জায়গা পাকা করার লড়াই। এরপর যখন বার্সেলোনার আগ্রহের কথা জানতে পারলেন, তার ভেতরে রোমাঞ্চের তোলপাড় শুরু হলো। আলোচনা এগিয়ে গেল। স্বপ্নের ক্লাবে যোগ দিতে নিজের পারিশ্রমিকে বড় ছাড় দিলেন। অবশেষে পা রাখলেন কাঙ্ক্ষিত সেই আঙিনায়। এখন মাঠের লড়াই শুরু করতে তর সইছে না ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের।   খুব বেশি পূর্বাভাস বা গুঞ্জনের ঝড় ছাড়াই অনেকটা নাটকীয়ভাবে আর্সেনাল থেকে বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছেন জেসুস। ‘সেল-অন’ ফিসহ দেড় কোটি ইউরো (১ কোটি সাড়ে ২৮ লাখ পাউন্ড) পর্যন্ত মূল্যের চুক্তিতে দুই ক্লাব সম্মত হওয়ার পর এই দলবদল হয়েছে।   কাতালান ক্লাবটিতে ২৯ বছর বয়সী তারকার চুক্তি তিন বছরের।   ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পাওমেইরাস ছেড়ে ২০১৭ সালে ইউরোপে এসে পাঁচ বছর ম্যানচেস্টার সিটিতে ছিলেন জেসুস। চার বছর খেললেন আর্সেনালে। কিন্তু তার মনের কোণে ছিল বার্সেলোনায় খেলার স্বপ্ন। নতুন ক্লাবে পরিচিতি অনুষ্ঠানে সেটিই তুলে ধরে তিনি বললেন, মনের ক্ষুধা মেটাতে আর্থিক ত্যাগ মেনে নিয়েছেন তিনি আনন্দেই।   “বেতনে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছি আমি, কিন্তু এখানে আসতে পারাটা স্বপ্নের মতো। তবে এই দলবদলটি সম্পন্ন করার জন্য শুধু আমাকেই চেষ্টা করতে হয়নি, বার্সাও তাদের ভূমিকা পালন করেছে।   যদি আমাকে এক মাস আগেও জিজ্ঞাসা করতেন, আমি বলতাম যে, এরকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই। এই ২৯ বছর বয়সে, ভাবতে পারিনি যে বার্সায় আসার সুযোগ পাব। বার্সেলোনার হয়ে খেলার সুযোগ এসেছে আমার, যে সুযোগটা আমি ১০ বছর আগেও পেয়েছিলাম (সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে) এবং এখন জীবন আমাকে সেই সুযোগটা আবার দিয়েছে।   বার্সেলোনার মূল আগ্রহ ছিল হুলিয়ান আলভারেসকে ঘিরে। কিন্তু আতলেতিকো মাদ্রিদ তাকে না ছাড়তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বিকল্প খুঁজতে হয় তাদের এবং শেষ মুহূর্তে জেসুসকে বেছে নেয়।   বার্সেলোনার আগ্রহের কথা এই স্ট্রাইকার জানতে পারেন মাত্র সপ্তাহখানেক আগে। আলভারেসকে না পেয়ে তাকে নিয়েছ ক্লাব, এই আলোচনাতেও কোনো সমস্যা নেই তার।   “এক সপ্তাহ আগে আমি একটি বার্তা পাই যে, এমনটা হতে পারে। যখন বুঝতে শুরু করলাম যে, এটা একটা বাস্তব সম্ভাবনা, খুবই রোমাঞ্চিত হয়ে পড়েছিলাম। এখন অনুশীলন এবং খেলা শুরু করার জন্য আর তর সইছে না আমার।   আলভারেসের বিকল্প হিসেবে এখানে আসায়) আমার মোটেও আপত্তি নেই। এটা আমাকে ভাবায় না। আমি যেটায় বিরক্ত হই, তা হলো, যদি লোকেরা আমাকে খারাপ মানুষ বলে, যা আমার জীবনে কখনও ঘটেনি — অথবা যদি আমি ফুটবল না খেলি, সেটা আমাকে ভাবায়।   ২০২২ সালে সিটি থেকে আর্সেনালে যোগ দেওয়ার পর দারুণ সূচনা করেছিলেন জেসুস। তবে পরে এক পর্যায়ে ভাটার টান পড়ে পারফরম্যান্সে এবং কোচের আস্থা হারান। গত বছর এসিএলের চোটের পড়ার পর সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা আসে তার ক্যারিয়ারে। লম্বা সময় তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়। তার ওপর কোচের ভরসা কমে যায় আরও।   চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পরও কোচের বিশ্বাস তিনি অর্জন করতে পারেননি। কাই হাভার্টজ ও ভিক্তর ইয়োকেরেশকেই বেশি প্রাধান্য দেন কোচ। বার্সেলোনায় যেতে পারাটা তাই তার জন্য এসেছে বড় স্বস্তি হয়ে।   অস্থিরতার অধ্যায় পেছনে ফেলে এখন বার্সেলোনার জার্সিতে জ্বলে উঠতে প্রস্তুত জেসুস।   “হাঁটুর ইনজুরির পর গত দুই বছর সত্যিই খুব জটিল ছিল। আমি প্রায় এক বছর খেলার বাইরে ছিলাম, কিন্তু সেটা এখন অতীত। আমি এখন শারীরিকভাবে ভালো আছি।   আমি ভালোভাবে সেরে উঠেছি, আর্সেনালের হয়ে মাঠে ফিরেছি এবং খেলতে ও নিজের সেরাটা দিতে শতভাগ প্রস্তুত।”   রবের্ত লেভানদোফস্কি এবং ফেররান তোরেসের বিদায়ে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণ করতেই আনা হয়েছে জেসুসকে। লামিন ইয়ামাল, হাফিনিয়া, অ্যান্থনি গর্ডন, কারিম আদেইয়েমির মতো উইঙ্গারদের মধ্যে ক্লাবের একমাত্র সহজাত ৯ নম্বর এখন তিনিই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইংল্যান্ডে ভরাডুবির পর পাকিস্তান দলে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’

মেসির পর এবার অবসরের ঘোষণা দিলেন রুডিগার

ছেলেকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা মেসির মায়ের

ছবি: সংগৃহীত
জয় দিয়ে শুরু হামজার শেফিল্ড অধ্যায়

শেফিল্ড ইউনাইটেডে স্থায়ীভাবে ফিরেই মাঠে নেমেছিলেন হামজা চৌধুরী। প্রথম ম্যাচেই খেললেন পুরো ৯০ মিনিট। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে খুব বেশি আলো ছড়াতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়লেন বাংলাদেশের এই ফুটবলার।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে চ্যাম্পিয়নশিপে ব্র্যামল লেনে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে শেফিল্ড। রাইটব্যাক হিসেবে খেলা হামজা গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। তবে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রোমেল ডনোভানের গোলে নাটকীয় জয় পায় তার দল।   শুরুতে অবশ্য পিছিয়ে পড়ে শেফিল্ড। মাত্র ২৩ সেকেন্ডে বোল্টনের হয়ে গোল করেন জাভিয়ের সিমন্স। চার মিনিট পর জাফেট ট্যানগ্যাঙ্গার গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা। দ্বিতীয়ার্ধে সাম ডালবির গোলে আবার এগিয়ে যায় বোল্টন। এক মিনিট পর প্যাট্রিক ব্যামফোর্ডের গোলে সমতা ফেরানোর পর শেষ মুহূর্তে ডনোভানের গোলে জয় নিশ্চিত করে শেফিল্ড।   ম্যাচটি হামজার জন্য বাড়তি আকর্ষণীয় ছিল প্রতিপক্ষের জাভিয়ের সিমন্সের কারণে। শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত এই ফুটবলারই বোল্টনের প্রথম গোলটি করেন।   তবে হামজার পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার। তাকে ১০-এর মধ্যে ৫ রেটিং দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, রাইটব্যাক পজিশনে খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না তিনি। বিরতির আগে একটি সুযোগ নষ্ট করেন হামজা।   ৩১ আগস্ট লেস্টার সিটির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনে স্থায়ীভাবে শেফিল্ডে ফেরেন হামজা। পরদিনই কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার তাকে একাদশে নামান। গত মৌসুমে ধারে শেফিল্ডের হয়ে ১৯ ম্যাচ খেলা হামজার নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো তাই ৯০ মিনিটের উপস্থিতি আর শেষ মুহূর্তের এক রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি : এক্স থেকে

প্রথমবার লন্ডনে ব্যালন ডি’অর, শুরু কাউন্টডাউন

ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির জার্সিকে বিদায় বললেন রুডিগার

ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার হয়ে ২১ বছরে মেসির যত রেকর্ড ও অর্জন

ছবি: সংগৃহীত
মেসির প্রথম আন্তর্জাতিক অবসরের ঘোষণায় কী বলেছিলেন রোনালদো?

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৬ সালের সেই বিষণ্ন রাতের কথা। সেবারও আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। আর তার সেই সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।   ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল। চিলির বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে মেসির পেনাল্টি মিস করে বসে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত চিলির কাছে হেরে আবারও শিরোপাশূন্য থাকতে হয় আলবিসেলেস্তেদের।   পরপর কয়েকটি ফাইনালে ব্যর্থতার যন্ত্রণা তখন মেসিকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই তাই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার ঘোষণা দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।   মেসির সেই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছিল ফুটবল বিশ্ব। হতাশা ছিল আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীর এমন দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রোনালদোও।   সেই সময় মেসির সিদ্ধান্ত নিয়ে রোনালদো বলেছিলেন, “মেসি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মানুষের তা বোঝা উচিত।”   মেসির পেনাল্টি মিস নিয়েও সহমর্মিতা জানিয়েছিলেন পর্তুগিজ তারকা। তার ভাষায়, “সে পরাজয় ও হতাশায় অভ্যস্ত নয়, এমনকি দ্বিতীয় হওয়াতেও নয়। পেনাল্টি মিস করলেই কেউ খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যায় না।”   মাঠে দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে কম আলোচনা হয়নি। একজন আর্জেন্টিনার, অন্যজন পর্তুগালের। ক্লাব ফুটবলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের লড়াই ছিল ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরেও মেসির প্রতি ছিল রোনালদোর শ্রদ্ধা।   তাই মেসিকে কাঁদতে দেখে কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। চেয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও যেন ফিরে আসেন এই মহাতারকা।   রোনালদো বলেছিলেন, মেসিকে কাঁদতে দেখে কষ্ট হচ্ছে। আমি আশা করি, সে তার দেশে ফিরবে, কারণ তার এটা প্রয়োজন।   রোনালদোর সেই আশা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার কয়েক মাস পরই সিদ্ধান্ত বদলে আর্জেন্টিনার হয়ে ফিরে আসেন মেসি। এরপর যেন বদলে যায় পুরো গল্প।   ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা একটির পর একটি শিরোপা জিতে পূর্ণতা দেন নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে।   তবে এবারের গল্পটা যেন ভিন্ন। উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা থেমেছে। এরপর গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যাবে না তাকে।   ২০১৬ সালে যে সিদ্ধান্তে রোনালদো বলেছিলেন, “ফিরে আসুক মেসি”-এবার সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা হয়তো আর থাকবে না।   সূত্র : এনডিটিভি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়াকে উড়িয়ে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের উড়ন্ত সূচনা

লিওনেল মেসি।

লিওনেল মেসির যত রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

0 Comments