পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগে নিজের ফিটনেস নিয়ে সব ধরনের সংশয় উড়িয়ে দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল অধিনায়ক জানিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি ফিট, আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে মুখিয়ে আছেন।
চিলি ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে শুরু থেকেই খেলেছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। যদিও গোল পাননি, তবুও নিজের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন দেখছেন না তিনি।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, “শারীরিকভাবে? আমি পুরোপুরি ভালো আছি। আপনারা কি আমার ম্যাচগুলো দেখেননি?
রোনালদো জানান, তিনি তার দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘এটি ভালো ছিল তবে ক্লান্তিকর, কারণ আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমাদের ম্যাচগুলোতে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যখন ১৭ তারিখে প্রথম ম্যাচে বল গড়াবে এবং যখন চাপ সত্যিই বাড়তে শুরু করবে — তখনই আমরা আসল চ্যাম্পিয়নদের দেখতে পাব,’ যোগ করেন ফুটবলের এ সুপারস্টার।
জাতীয় দলের হয়ে ২২৭ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৪৩ গোলের রেকর্ডধারী রোনালদো। এখন তিনি তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অধরা বড় ট্রফিটি নিজের করে নিতে মুখিয়ে আছেন।
পর্তুগাল বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার কি না জানতে চাইলে রোনালদো বলেন, ‘আমরা কেবল শেষেই তা জানতে পারব। আমরা সত্যিই এটির জন্য উন্মুখ হয়ে আছি; আমরা জানি বিশ্বকাপ সবসময়ই একটি বিশেষ টুর্নামেন্ট, ঠিক ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো, তাই আমরা পূর্ণ আশা নিয়ে সেখানে যাচ্ছি।’
পর্তুগাল কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি এবং তারা এর সবচেয়ে কাছাকাছি এসেছিল ১৯৬৬ সালে, যখন তৃতীয় স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল। তবে এবারের টুর্নামেন্টে তাদেরকে অন্যতম শক্তিশালী দল মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ব্রুনো ফার্নান্দেজ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন। তিনি এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের (২১টি) রেকর্ড ভেঙেছেন এবং প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন।
এ বিষয়ে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রোনালদো বলেন, ‘আমাদের একটি খুব ভালো প্রজন্ম রয়েছে, তবে এমন কিছু বিষয় আছে যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, যেমন ম্যাচগুলো — জয় বা পরাজয়ই এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়।’
‘আমি বিশ্বাস করি এটি এমন একটি প্রজন্ম যা পর্তুগালবাসীকে অনেক আনন্দ দেবে,’ যোগ করেন তিনি।
আশা প্রকাশ করে পর্তুগিজ এ ফরোয়ার্ড বলেন, ‘মূল লক্ষ্য হলো ভালোভাবে শুরু করা, গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করা। তারপর প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে, ধাপে ধাপে, শান্তভাবে এগিয়ে যাওয়া, আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং আমাদের ছন্দ খুঁজে নেওয়া। এটি অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে, তবে আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে সবকিছু ভালোভাবেই কাটবে।’
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে আগামী ১৭ জুন কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগাল তাদের মিশন শুরু করবে, এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মাঠের সাফল্যের জন্য ফুটবল বিশ্বে বেশ পরিচিত কার্লো আনচেলত্তি। তবে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখন বিজ্ঞাপন জগতেও বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছেন। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটি শীর্ষ ব্র্যান্ড তাকে নিয়ে প্রচারণা চালাতে আগ্রহ দেখালেও এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ইতালিয়ান এই কোচ। সম্প্রতি ব্রাজিলের একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিডিওটির শেষাংশে দেখা যায়, সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যানচেলত্তির পায়ের কাছে এসে পড়ে সংবাদপত্র দিয়ে তৈরি একটি বল। সেটি তুলে নিয়ে তিনি একটি শিরোনাম পড়েন, ‘ষষ্ঠ শিরোপায় বিশ্বাস করে ব্রাজিল।’ মাত্র ১২ সেকেন্ডের এই দৃশ্যই দর্শকদের নজর কাড়ে। কেবল ইউটিউবেই ভিডিওটি ১ কোটি ২০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। ব্রাজিলে আসার পর থেকেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পেয়েছেন আনচেলত্তি। তবে তিনি বেছে নিয়েছেন অল্প কয়েকটি ব্র্যান্ডকে। এখন পর্যন্ত ব্রাহমা, ভক্সওয়াগেন এবং অ্যামাজনের বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তিন প্রতিষ্ঠানই ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) স্পন্সর। বিজ্ঞাপন জগতে আনচেলত্তির উপস্থিতি কতটা মূল্যবান, সেটি তুলে ধরেছেন বিজ্ঞাপন নির্বাহী ও অ্যালব স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বার্নার্দো পন্তেস। তিনি বলেন, ‘অ্যানচেলত্তির মতো ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কাজ করার খরচ যে সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি হবে সেটা স্পষ্ট। এমন একজন নামের সঙ্গে কাজ করতে হলে বিনিয়োগ সক্ষমতার দিক থেকে আপনাকে বাজারের একেবারে শীর্ষ স্তরে থাকতে হবে।’ বিভিন্ন প্রচারণা মিলিয়ে আনচেলত্তিকে নিয়ে তৈরি ভিডিওগুলো ইতোমধ্যে ৮ কোটির বেশি ভিউ পেয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ এবং রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কোচের জন্য এটাও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। আনচেলত্তির পারিশ্রমিকও তার তারকাখ্যাতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্রাজিলের সাবেক কোচ তিতে যেখানে প্রায় ২০ লাখ রিয়াল মূল্যের বিজ্ঞাপনী চুক্তি করেছিলেন, সেখানে আনচেলত্তির চুক্তির পরিমাণ অনেক বেশি। বিভিন্ন প্রচারণার জন্য তিনি প্রায় ১ কোটি রিয়াল মূল্যের চুক্তি করেছেন বলে জানা গেছে। ভক্সওয়াগেনের নতুন মডেলের উদ্বোধনী প্রচারণার মুখ হওয়ার পর থেকে প্রায় নিয়মিতই প্রতিষ্ঠানটির গাড়িতে চলাচল করছেন আনচেলত্তি। অন্যদিকে ব্রাহমার প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি সাও পাওলো, সালভাদর ও রিও ডি জেনেইরোতে কার্নিভাল সফরেও অংশ নিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে মাঠের বাইরে এভাবেই ব্রাজিলে নিজের জনপ্রিয়তার নতুন অধ্যায় লিখছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।
দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে এখন এক নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—ফুটবল তারকাদের নামে নবজাতকের নাম রাখা। যেসব নাম একসময় কেবল মাঠের নায়ককে চিহ্নিত করত, এখন তা হয়ে উঠছে পরবর্তী প্রজন্মের পরিচয়ের অংশ। বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয়তার ঢেউয়ে অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের নাম রাখছেন বর্তমান ও সাবেক তারকাদের নামে। ফলে একসময় যেসব নাম কেবল খেলার মাঠে শোনা যেত, এখন সেগুলো জন্মনিবন্ধনেও জায়গা করে নিচ্ছে। এক বছরের মধ্যেই এই তালিকায় আরও নতুন নাম যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান পারফরম্যান্স বজায় থাকলে ভবিষ্যতে স্পেনের লামিনে ইয়ামাল, ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন বা পর্তুগালের ভিতিনহা—এসব তারকার নামেও শিশুদের নাম রাখা হতে পারে। লাতিনের দেশ ইকুয়েডরে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। দেশটির সিভিল রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় তারকা যেমন কেন্দ্রি পায়েজ বা পিএসজির ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচোর চেয়ে বিশ্ব তারকাদের নামেই বেশি আগ্রহ দেখা গেছে। তালিকার শীর্ষে আছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। তার নামে ইকুয়েডরে ৩,৮৪৭ জন শিশুর নাম রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ফ্রান্সের তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার নামে ২,৮০০-এর বেশি শিশু নামকরণ করা হয়েছে। তৃতীয় স্থানে আছেন কলম্বিয়ার জেমস রদ্রিগেজ, যার নামে রয়েছে ২,১৩৬ জন। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও এ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। ইকুয়েডরে ১,৫৪৯ জনের নাম লিওনেল, ১,০০৬ জন রোনালদো এবং ৩৮ জন মেসি। কলম্বিয়ায় ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, কিলিয়ান/এমবাপ্পে নামই সবচেয়ে জনপ্রিয়, যেখানে ৮৩৬ শিশু এই নামে পরিচিত। এরপর আছে নেইমার ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সংক্রান্ত নাম। ব্রাজিলেও একই প্রবণতা দেখা গেছে, সেখানে ২,৪০০-এর বেশি শিশু নেইমারের নামে নামকরণ করা হয়েছে। আর্জেন্টিনায় ২০২৩ সালে মেসির নামে নাম রাখার প্রবণতা আবারও বেড়েছিল, বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে শিরোপা জয়ের পর। চিলিতে আবার এক পরিবার আলোচনায় আসে ২০২২ বিশ্বকাপের আগে, যখন তারা তাদের নবজাতকের নাম রাখে ‘গ্রিজম্যান এমবাপ্পে’। ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের নামেও রয়েছে ফুটবল কিংবদন্তিদের ছোঁয়া—যেমন ‘জেমস মদ্রিচ’, ‘আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা’, ‘লিওনেল মেসি’ এবং ‘নেইমার রোনালদো’। সূত্র: ডেইলি সাবাহ
দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শেষ দুটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো; কিন্তু পারফরম্যান্সে আলো ছড়াতে পারেননি তিনি। নষ্ট করেছেন অনেক সুযোগ। ফলে মূল পর্বে তিনি কতটা কার্যকর হতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের উদ্দেশ্যেই যেন ‘বিশ্বকাপে দেখিয়ে দেওয়ার’ পাল্টা হুমকি ছুঁড়লেন পর্তুগিজ মহাতারকা। চিলির বিপক্ষে গত শনিবার প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে বিরতির পর রোনালদোকে আর মাঠে নামাননি পর্তুগাল কোচ। পরের ম্যাচে গত বুধবার নাইজেরিয়ার বিপক্ষেও একই স্কোরলাইনে জয় পায় পর্তুগাল এবং ওই ম্যাচে এক ঘণ্টার একটু বেশি সময় খেলে তিনটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন অধিনায়ক, যা তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। এমনকি তার ওই পারফরম্যান্সের পর আবারও সমালোচকদের অনেকে বলতে শুরু করে, রোনালদোকে ছাড়াই এই পর্তুগাল দল বেশি ভালো। তার ফিটনসে নিয়েও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। দেশে ওই দুই প্রীতি ম্যাচ খেলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে শুক্রবার বিকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রোনালদো বলেন, “শারীরিকভাবে? আমি ভালো আছি… আমার খেলা আপনারা দেখেননি।” দলের প্রস্ততি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন পর্তুগাল অধিনায়ক। একই সঙ্গে মূল লড়াইয়ে নিজের মতো করেই দুর্দান্ত কিছুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখলেন তিনি। “(অনুশীলন) ভালো হয়েছে, তবে ক্লান্তিকর ছিল, কারণ আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। ম্যাচগুলোয় আমরাই আধিপত্য করেছি। তবে আসল বিষয় হলো, আগামী ১৭ জুন যখন (আমাদের) ম্যাচ শুরু হবে, প্রথম ম্যাচে এবং চাপ সত্যিকার অর্থে বাড়তে থাকব… সেই সময় আমরা সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নদের দেখব। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলের মালিক রোনালদো, ২২৭ ম্যাচে ১৪৩ গোল করেছেন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য ট্রফি জিতেছেন তিনি, জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার আগে আল নাস্রের হয়ে পেয়েছেন সৌদি প্রো লিগে প্রথম শিরোপার স্বাদ। এত এত সাফল্যের ভীড়ে তার ক্যারিয়ারে রয়ে গেছে বড় এত অপূর্ণতাও। কখনও জিততে পারেননি বিশ্বকাপ। পর্তুগালও কখনও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায়, ৪১ বছর বয়সে এসে নিজের ও দেশের আরাধ্য স্বপ্নপূরণের শেষ চেষ্টায় নামতে যাচ্ছেন রোনালদো। পর্তুগাল কি এবার পারবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে- এমন প্রশ্নে রোনালদো বললেন, “(টুর্নামেন্টের) শেষেই আমরা তা জানতে পারব। “আমরা সেই লক্ষ্যে মুখিয়ে আছি; আমরা জানি বিশ্বকাপ সবসময়ই একটা স্পেশাল টুর্নামেন্ট, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো। তাই আমরা অনেক আশা নিয়ে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। আগামী বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে পর্তুগালের। ‘কে’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।