খেলাধুলা

ব্রাজিল ম্যাচে প্রদর্শিত হবে রানীর শয়নকক্ষে পাওয়া ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
৪০ হাজারের বেশি শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক সংগ্রহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী। ছবি : সংগৃহীথ
৪০ হাজারের বেশি শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক সংগ্রহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী। ছবি : সংগৃহীথ

ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক এবার পাড়ি জমাচ্ছে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো ফুটবল হিসেবে স্বীকৃত প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বলটি দীর্ঘদিন ধরে স্কটল্যান্ডের স্টার্লিং শহরের স্মিথ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছিল।

 

ঐতিহাসিক এই ফুটবলটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় স্টার্লিং দুর্গের রানীর শয়নকক্ষে। ওক কাঠের প্যানেলিংয়ের আড়ালে, ছাদের কড়িকাঠের মধ্যে আটকে থাকা অবস্থায় বলটি খুঁজে পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, চামড়ার তৈরি বলটি ১৫৪০ থেকে ১৫৭০ সালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে তৈরি হয়েছিল।

 

আজ আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে বলটি। মায়ামির কোরাল গেবলস মিউজিয়ামে আয়োজিত ‘ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড দ্য বিউটিফুল গেম: ফ্রম স্কটল্যান্ড টু ব্রাজিল টু হাইতি’ শীর্ষক প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এটি সেখানে প্রদর্শিত হবে।

 

শুধু প্রদর্শনীতেই নয়, আগামী ২৪ জুন ব্রাজিলের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবে এই ফুটবল। ফলে ফুটবল ইতিহাসের প্রায় পাঁচ শতকের দীর্ঘ যাত্রায় প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি ‘দেখার’ সুযোগ পাবে বলটি।

 

স্মিথ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়ামের পরিচালক ক্যারোলিন ম্যাথার্স এ সফরকে প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ম্যাথার্স বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো এই ফুটবলটি স্টার্লিংয়ের নিজস্ব সম্পদ। এটি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এটি মনে করিয়ে দেয় যে সেন্ট্রাল স্কটল্যান্ডের একটি ছোট এবং বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার থাকা জাদুঘরেও আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। বিশ্বমঞ্চে আমাদের দেশের গল্প তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত।’

 

এই বলটি তৈরি করা হয়েছিল চামড়ার মোটা প্যানেল সেলাই করে। বলটির বাইরের অংশকে আরও মসৃণ ও বায়ুগতীয় করতে সেলাইয়ের পর সেটি উল্টে নেওয়া হয়েছিল। আর ভেতরে ব্লাডার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল শুকরের মূত্রথলি।

 

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পাওয়া এই ফুটবল স্কটল্যান্ডের ইতিহাসের ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের অন্যতম হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। স্মিথ মিউজিয়ামের ৪০ হাজারের বেশি শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক সংগ্রহের মধ্যে এটিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে চার নম্বরে বাংলাদেশ

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ২৩ বছর আগে যে মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ, সেই ভেন্যুতেই এবার পূর্ণ শক্তির স্বাগতিক দলকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে টাইগাররা। এই জয়ের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও।   অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের শতকরা পয়েন্ট হার (পিসিটি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬.৬৭ শতাংশে। এর আগে বাংলাদেশের পিসিটি ছিল ৫৮.৩৩।   অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছে হারের পরও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তাদের ব্যবধান কিছুটা কমেছে। অস্ট্রেলিয়ার পিসিটি বর্তমানে ৭৭.৭৭ শতাংশ, আর দক্ষিণ আফ্রিকার ৭৫.০০ শতাংশ।   ৭২.২২ শতাংশ পিসিটি নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। এরপরই বাংলাদেশের অবস্থান। ভারতের পিসিটি ৪৮.১৫ শতাংশ, যা তাদের তালিকার পঞ্চম স্থানে রেখেছে।   অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের সামনে এখন আরও একটি টেস্ট রয়েছে। সেই ম্যাচেও জয় পেলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি পিসিটি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।   ডারউইনের ঐতিহাসিক জয় তাই শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্য নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়েও টাইগারদের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, সাফল্যের নেপথ্যে ‘দলগত সামর্থ্য’

ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্টসহ আজ টিভিতে থাকছে যেসব খেলা

নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন কবিতা (ডানে) ও জান্নাত। ছবি: সংগৃহীত
নারী অ্যাথলেটের লিঙ্গ নিয়ে বিতর্ক, বাতিল সব পদক ও আজীবন নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি জাতীয় অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়ের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুজনই নারী হিসেবেই খেলে আসলেও আদতে তারা পুরুষ, এমন অভিযোগও ওঠে। ফলে তাদের জাতীয় প্রতিযোগিতায় অর্জিত সব পদক বাতিলের পাশাপাশি আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।   এর আগে দুজনের লিঙ্গপরিচয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। জান্নাত বেগম থ্রো ইভেন্টের অ্যাথলেট এবং তার বয়স ২৮ বছর। অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী কবিতা রায় স্প্রিন্টার। দুজনই এতদিন নারী অ্যাথলেট হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আসছিলেন।   শনিবার (১৫ আগস্ট) অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন কমিটির সভায় তাদের পদক বাতিল ও আজীবন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট, কবিতা নৌবাহিনীর। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানায় অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের আগের কমিটি।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। গত ১১ মে শেষ হয় তাদের কার্যক্রম। ১৬ মে মেডিক্যাল বোর্ড তাঁদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেয়।   মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জান্নাত ও কবিতার শরীরে নারীর স্বাভাবিক হরমোনের চেয়ে বেশি হরমোন ধরা পড়েছে।   রক্তে জান্নাত বেগমের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯ দশমিক ৬৬ এনমোল/লিটার, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার (২ দশমিক ৫ এনমোল/ লিটার) প্রায় ৮ গুণ বেশি, কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ এনমোল/লিটার, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে (২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার) সাড়ে ৬ গুণের বেশি।   ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক।   এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, ওরা দুজন নারী নয়, পুরুষ। তাই দুই খেলোয়াড়ের জাতীয় প্রতিযোগিতায় সব পদক বাতিল করা হয়েছে। জান্নাতের কয়েকটি সোনাসহ ৯টি পদক রয়েছে। কবিতার পদক গোটা চারেক। পদকগুলো বডিলি শিফট হয়ে যাবে এখন।’    আলী ইমাম আরও বলেন, ‘তাদের দুজনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী হিসেবে তারা আর খেলতে পারবে না।’

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার খুব কাছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

সাতসকালে মিরাজের ঝড়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পথে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন স্মিথ

ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার ‘বুড়ো’ দল নিয়ে পন্টিংয়ের কড়া সমালোচনা, পুনর্গঠনের ডাক

বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন রিকি পন্টিং। অনেকদিন পর খেলতে নামার জড়তা তো ছিলই, তবে ব্যাটসম্যানদের টেকনিক্যাল সমস্যাটাই বেশি চোখে পড়েছে তার। দেশটির গ্রেট ব্যাটসম্যানের মতে, ‘বয়স্ক’ দলটির পুনর্গঠনে এখন মনোযোগ দেওয়া উচিত তাদের।   হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেনের চমৎকার বোলিংয়ে ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ। তিনিও ব্যক্তিগত ২ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছিলেন। দলটির আর কেউ ২৫ রানও করতে পারেননি।   ব্যাটিংয়েও দারুণ করছে বাংলাদেশ। ১ উইকেট হারিয়ে ৯৭ রান করে প্রথম দিন শেষ করে সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিন শেষে তাদের রান ৬ উইকেটে ৩৫১। এরই মধ্যে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে ফেলেছে তারা।   প্যাট কামিন্স, জশ হেইজেলউড, মিচেল স্টার্ক, ন্যাথান লায়ন; অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের এই চতুষ্টয় খেলছেন এই ম্যাচে। তাদেরকে দারুণভাবে সামলে চমৎকার এক সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন তানজিদ হাসান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান তিনি। ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।   এই ডারউইনেই প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে এক ইনিংসে ৫৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। সেখানে এখন অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির দলের বিপক্ষে দাপট দেখাচ্ছে শান্তর দল। সবকিছু মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ানদের এমন পারফরম্যান্স মানতে পারছেন না পন্টিং।   এসইএন-এর ‘ফায়ারবল’ অনুষ্ঠানে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের দিকেও আঙুল তোলেন পন্টিং।   মৌসুমের শুরুর দিকের জড়তা অনেকটাই দেখা গেছে। তারা অনেকদিন খেলেনি, তবে টেকনিক্যাল যে সমস্যা ও দুর্বলতা দেখেছি, বিশেষ করে টপ অর্ডারের, এটা নিয়ে কোনো অজুহাত দেওয়া যায় না।   “অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অবাক হয়েছিলাম। বিশেষ করে, প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও। গতকাল সকালে ওই উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠত।”   উসমান খাওয়াজার অবসরের পর, টেস্টে ওপেনিংয়ের সমস্যায় এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজ সিরিজে বড় ইনিংস খেলতে না পারা ৩১ বছর বয়সী জেইক ওয়েদেরল্ড নিজ শহরেও ভালো করতে পারেননি। এই ওপেনার আউট হয়ে যান ২৩ রান করে। লম্বা সময় ধরে ছন্দের খোঁজে থাকা আরেক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মার্নাস লাবুশেনও ছিলেন পুরোপুরি ব্যর্থ। মাত্র ১ রান করতে পারেন তিনি।   বাংলাদেশ সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে ও অলি পিকের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন পন্টিং। সেই পথে না হেঁটে অভিজ্ঞদের ওপরই আস্থা রাখে অস্ট্রেলিয়া। দুই বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক পন্টিংয়ের মতে, তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়ার একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা।   “টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, এমন একটি বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ১৯০ রানের বেশি সবাই প্রত্যাশা করবে। আমার এখনও মনে হয়, এই দুটি ম্যাচে কয়েকজন তরুণ প্রতিভাকে পরখ করে দেখার ভালো সুযোগ অস্ট্রেলিয়া হাতছাড়া করেছে। মনের ডাক শুনে এবং প্রতিভাকে প্রাধান্য দিয়ে দল নির্বাচন করা প্রয়োজন ছিল, কারণ কয়েক বছর ধরে বর্তমান দলে যারা আছে, (কয়েক জন) টেস্ট ক্রিকেটের মানদণ্ড অনুযায়ী যথেষ্ট ভালো করতে পারছে না।”   অস্ট্রেলিয়া বর্তমান টেস্ট দলের সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন (২৭)। দলের বাকি সবার বয়স ৩০-এর বেশি। চলমান এই ম্যাচসহ সামনের ১১ মাসে ২০টি টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে টেস্ট হবে ২১টি। ব্যস্ত এই সূচি সামাল দিতে দল পুনর্গঠনের প্রয়োজন মনে করেন পন্টিং।   “গতকাল যে দলটি মাঠে নেমেছে, ১৯২৮ সালের পর (অস্ট্রেলিয়ার) সবচেয়ে বেশি বয়সী দল। তাই বয়স্ক দল নিয়ে কথা হচ্ছে এবং পুনর্গঠনের আলোচনা হচ্ছে। এটাই বাস্তবতা। ক্যামেরন গ্রিন দলের সর্বকনিষ্ঠ, আর বাকি সবাই ৩০ বছরের বেশি।   “টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্র শেষ হওয়া পর্যন্ত তাদের আরও ২১টি টেস্ট খেলতে হবে। এর মধ্যে ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এবং ভারতের মাটিতে সিরিজ রয়েছে। তাই অবধারিতভাবে, সামনের সময়ে ১৬-১৮ জন খেলোয়াড় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলাতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট, তবুও জয়সওয়ালের বিরল কীর্তি

ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

আইন ভেঙে স্টার্কের ‘নো বল’, বড় লিডের পথে বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি

আজ শুরু লা লিগার নতুন মৌসুম

0 Comments