টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বদলে অন্য ভেন্যুতে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনুরোধ বিবেচনা করতে পারে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এখনো আইসিসির আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে ক্রিকবাজের সূত্র মতে, সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ সরানোর প্রস্তাব পুরোপুরি নাকচ করেনি সংস্থাটি।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের সব লিগ ম্যাচই ভারতের মাটিতে হওয়ার কথা। কলকাতায় তিনটি এবং মুম্বাইয়ে একটি ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী এক–দুই দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ঢাকায় জরুরি বৈঠক করে বিসিবি সিদ্ধান্ত নেয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় দল ভারত সফরে যাবে না। বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের ওই বৈঠক থেকেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এসব দিক পর্যালোচনা করেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বর্তমান অবস্থায় দলকে ভারতে পাঠানো হবে না।
৪ জানুয়ারি বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের আয়োজক সংস্থা হিসেবে তারা যেন ভারতের বাইরে বাংলাদেশের সব ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করে। এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিসিবি।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
বিসিসিআই বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সহিংসতার খবরের সঙ্গেই বিষয়টি যুক্ত। উল্লেখ্য, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপটি ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার আটটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ভারতীয় ক্রিকেটার। মঙ্গলবার অভিষেককে গ্রেফতার করে হুগলির মগরা থানা পুলিশ। আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ দিলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা অভিষেক এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেন। মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করে হুগলির মগরা থানার পুলিশ। আদালতের সিজেএম কোর্টে অভিষেককে পেশ করে পুলিশ। অভিষেকের বিরুদ্ধে ৬৯, ৩১১, ৩১৮, ৬৬/৭২ আইটি ও বিএনএস-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। অভিষেকের জামিনের আবেদন খারিজ করে তাকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। এই প্রসঙ্গে হুগলি জেলা মুখ্য আইনজীবী শিবাজী দাস বলেন, অভিযোগ খুবই গুরুতর। একজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ এসেছে যে, তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কিছুদিন কাটিয়েছেন। বিদেশেও নিয়ে গেছেন। পুলিশ তদন্ত করছে। প্রকৃত সত্য সকলের সামনে আসবে। তিনি আরও জানান, অভিষেকের বিরুদ্ধে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট তিন দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে পুলিশ তদন্ত করে তিন দিন পর আবার অভিষেককে সিজেএম আদালতে পেশ করবে। অভিষেকের দাদা ক্রিকেটার ঈশান পোড়েল চুঁচুড়া আদালতে এসেছিলেন। অভিষেকের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, বিচারাধীন বিষয়, তাই কিছু বলবেন না। অভিষেকের বাবাও এই ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাননি। অভিষেকের কয়েক জন বন্ধুও উপস্থিত ছিলেন আদালত চত্বরে। কিন্তু তারাও মুখ খুলতে চাননি। গত ২৩ জুন অভিষেকের বিরুদ্ধে থাকায় অভিযোগ করেন কর্নাটকের এক তরুণী। মেডিকেলে পড়ুয়া সেই তরুণীর অভিযোগ, তার সঙ্গে অভিষেকের সাড়ে তিন বছর সম্পর্ক ছিল। তারা ঠিক করেছিলেন, বিয়ে করবেন। এক সঙ্গে বিদেশেও গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু দেড় বছর আগে তাদের মধ্যে সমস্যা হয়। বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে অভিযোগ দায়ের হয়নি। এবার অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। অভিযোগ অস্বীকার করে অভিষেক বলেছেন, ‘এখন আমি ভালো খেলছি, তাই এমন নানা কথা উঠে আসছে।’
ব্যক্তিগত বিমানটি যুক্তরাজ্যে ফিরলেও ফেরেননি লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের না ফেরাটাই স্বাভাবিক। বাবাকে শেষবিদায় জানানোর পর তাই এখনো পরিবারের সঙ্গেই রোজারিওতে আছেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। মায়ামিতে কবে ফিরবেন মেসি সেটাও এখনো নির্দিষ্ট নয়। তাই ইন্টার মায়ামির হয়ে তার মাঠে নামাটাও এখন অনিশ্চিত। গত ৮ আগস্ট পরপারে পাড়ি জমান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েই শনিবার রাতে ফোর্ট লডারডেল থেকে রোজারিও পৌঁছান মেসি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও এবং চিরো। পরের দিন পেরেজের এল প্রাদো কবরস্থানে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেন মেসি। শেষকৃত্যে শেষে রোজারিওর বাসায় ফেরেন। সেখানেই মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি, ভাই রদ্রিগো ও মাতিয়াস এবং বোন মারিয়া সোলসহ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী প্লেমেকার। বাবাকে হারানোর পর তার ও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে বাবার শেষবিদায়ে ড্রোনের নজরদারিতে ক্ষুব্ধ হন মেসির পরিবার। মায়ামির পরের ম্যাচ আগামী ১৩ আগস্ট। লিগস কাপের প্রথম পর্বে মায়ামির প্রতিপক্ষ লিওন। মেসি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে না ফেরায় তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেও চলে। অবশ্য এখনো সাবেক বার্সেলোনা-পিএসজির ফরোয়ার্ডকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয়নি মায়ামি।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের। কিন্তু সেই সফর আর হয়নি। তবে সেই সিরিজ নিয়ে দুই বোর্ডের কথা চলছে মাসখানেক ধরে। ই-মেইলে আলোচনা হচ্ছিল নানা বিষয়াদি নিয়ে। ভারত স্থগিত হওয়া সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে তা আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছিল। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অপেক্ষায় ছিল সরকারের সবুজ সংকেতের। কিন্তু সেই সবুজ সংকেত সহসাই আসছে না তা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে দুই বোর্ড। বৈরিতা ভুলে প্রতিবেশী দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বরফ গলতে শুরু করলেও রাজনৈতিক উত্তেজনায় দুই দেশের সরকারের দূরত্ব আগের মতোই। বরং টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। সরকারের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। তাতে ক্রিকেটীয় কূটনীতিতেও পড়েছে প্রভাব। ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক টানাপোড়েন শুরু হয়। পরবর্তীতে অন্তবর্তী সরকার সেই সম্পর্ক ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেনি। উল্টো মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর থেকে দুই বোর্ডের সম্পর্কে আরও দূরত্ব বেড়ে যায়। বাংলাদেশ পরবর্তীতে ভারতে বিশ্বকাপও খেলতে যায়নি নিরাপত্তা ইস্যুতে। যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সরকারের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ক্রিকেটারদের কথাও শুনেনি। সব মিলিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছিল বিসিবি। নতুন সরকার পেছনের তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বুধবার নয়া দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন ও এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ার পর ব্যাপারটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই বোর্ডও এখন অনুভব করতে পারছে, এই সময়ে আর সিরিজটি সম্ভব নয়। তবে বিসিবির বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আরও এক দফা সিরিজটি স্থগিত হতে যাচ্ছে। অন্তত ছয় মাসের জন্য সিরিজটি স্থগিত হতে চলছে। আগামী বছরের শুরুর দিকে সিরিজ আয়োজনের জোর চেষ্টা চালাবে বোর্ড। মূলত ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সিরিজটি স্থগিত করা হয়েছিল। আরও একবার তা পিছিয়ে যাচ্ছে। বিসিবির বছরের শুরুতে দেয়া সূচি অনুযায়ী, এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারত বাংলাদেশে আসবে। তিন ওয়ানডে হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। তিন টি-টোয়েন্টি ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। ওয়ানডে সিরিজ হওয়ার কথা ঢাকায়। টি-টোয়েন্টি চট্টগ্রামে।