অন্যান্য

বিশ্বমঞ্চে পুরস্কার জিতল বিইউপির ‘টিম সিক্স সেভেন’

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
দ্বিতীয় রানার আপ হওয়ার সুবাদে দলটি পেয়েছে ২ হাজার মার্কিন ডলার।ছবি: এইচএসবিসি বাংলাদেশের সৌজন্যে
দ্বিতীয় রানার আপ হওয়ার সুবাদে দলটি পেয়েছে ২ হাজার মার্কিন ডলার।ছবি: এইচএসবিসি বাংলাদেশের সৌজন্যে

সময় তিন ঘণ্টা। ব্যবহার করা যাবে না মুঠোফোন, ইন্টারনেট, ল্যাপটপ বা অন্য কোনো ডিভাইস। সামনে থাকবে ব্যবসার কোনো বাস্তবিক পরিস্থিতি নিয়ে ১৫-২০ পাতার একটি বিজনেস কেস। সেটি বিশ্লেষণ করে সমস্যা চিহ্নিত করা, সমাধান খোঁজা এবং বিচারকদের সামনে উপস্থাপন—এই হলো চ্যালেঞ্জ। ‘এইচএসবিসি/এইচকেইউ বিজনেস কেস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতার প্রতি রাউন্ডে এই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়,’ বলছিলেন মো. রিদওয়ান সাকিব।


সম্প্রতি রিদওয়ানদের দল এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছে। জিতেছে ২ হাজার মার্কিন ডলার। চার বন্ধুর দলটির নাম ‘টিম সিক্স সেভেন’। রিদওয়ান ছাড়া দলের অন্য সদস্যরা হলেন মোহাম্মদ ফাইয়াদ, সাখাওয়াত সেলিম ও নাভিদ আবরার। সবাই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। এইচএসবিসির পক্ষ থেকে দলের মেন্টর হিসেবে ছিলেন ইসরাত জাহান।


এইচএসবিসি-এইচকেইউ আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে বলা হয় স্নাতক পর্যায়ে বিশ্বের অন্যতম বড় ‘বিজনেস কেস কম্পিটিশন’। অন্তবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত দলগুলো প্রথমে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়। জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীরাই পরে বৈশ্বিক পর্বে লড়েন। হংকংয়ে এবারের চার দিনের ‘গ্লোবাল রাউন্ড’-এ বিশ্বের ২০টি দেশের মোট ২৪টি দল অংশ নিয়েছে।


দলের নাম সিক্স সেভেন
দলের চার সদস্যের পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে। আগে থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। এ বছর সিএফএ ইনস্টিটিউট রিসার্চ চ্যালেঞ্জেও জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয় ফাইয়াদ ও সাখাওয়াতের একটি দল। রিদওয়ান বলছিলেন, ‘দল গঠনটা আমাদের জন্য খুব সহজ ছিল। বন্ধুদের মধ্যে আমরা চারজন খুবই ক্লোজ। ভাবলাম, এটা করা যাক, মজা হবে। আমরা ভাগ্যবান যে বিইউপি আমাদের এক জায়গায় এনেছিল।’


গত বছর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সিক্স সেভেন’ কথাটি ভাইরাল। অর্থহীন দুটি সংখ্যাই কোনো এক বিচিত্র কারণে জেনারেশন আলফার কাছে ‘মিম ম্যাটেরিয়াল’ বা ‘মজা করার বিষয়’ হয়ে উঠেছে। সেখান থেকেই রিদওয়ানরা দলের নাম ঠিক করেছেন ‘টিম সিক্স সেভেন’। সাখাওয়াত বলছিলেন, ‘খুব ভেবে না, মজা করেই নামটা দেওয়া। আর প্রতিযোগিতার কেসগুলো একটু সিরিয়াস ধরনের হয়। সেটাকেই একটু হালকা করার চেষ্টা বলতে পারেন।’


নিজেদের কাজের ধরন ব্যাখ্যা করলেন ফাইয়াদ, ‘কেসগুলো একটা ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে। প্রথমে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে করণীয় ঠিক করতে হয়। এটার দায়িত্ব থাকে নাভিদের ওপর। তারপর কৌশল নির্ধারণের কাজটা করে রিদওয়ান। আর্থিক দিকগুলো বিবেচনা করে সাখাওয়াত। সবশেষে বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করতে হয়। সেটা আমার দায়িত্ব।’


তবে এই দায়িত্বগুলো নির্দিষ্ট নয়। সবার মধ্যে আলোচনা করেই সব ঠিক হয়। রিদওয়ান বলছিলেন, ‘দলটা এমনভাবে সাজানো যে আমাদের চারজনের দলকে যদি ১০০ শতাংশ ধরেন, তাহলে এখান থেকে একজনকে হটিয়ে দিলেও ৫০ শতাংশ সক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে। এটাকে বন্ধুত্বের শক্তি বলেন আর যা-ই বলেন…’


হংকংয়ে চার দিন
এইচএসবিসির অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে টিম সিক্স সেভেনকে হংকং নিয়ে যাওয়া হয় ১ জুন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দলগুলোকে ছয়টি গ্রুপে ভাগ করা হয়। ২-৫ জুন চার ধাপে গ্রুপগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। সব শেষে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় চারটি দল। তাতে প্রথম হয় অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ইউনিভার্সিটি।


টিম সিক্স সেভেনের সদস্যরা জানালেন, হংকংয়ে চার দিনই প্রতিযোগিতা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। ইচ্ছা থাকলেও ঘোরাঘুরির সুযোগ হয়নি। তার ওপর ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হয়েছিলেন নাভিদ। বলছিলেন, ‘প্রথম রাউন্ড পর্যন্ত আমি ঠিক ছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডের আগে অসুস্থ হয়ে পড়ি। কিচ্ছু খেতে ভয় পাচ্ছিলাম। এমনও হয়েছে, রাউন্ড শুরুর আগে বমি হচ্ছিল। ওষুধ খেয়ে আবার কাজ করছি। তবে আমার মনে হয়, অসুস্থতা আমার কাজে প্রভাব ফেলতে পারেনি। এটা সম্ভব হয়েছিল আমার টিমের কারণে।’


দরকার ‘কেস ক্লাব’
প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সিক্স সেভেনকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি জানতে হয়েছে ভূরাজনীতিও। পড়তে হয়েছে ব্লুমবার্গ, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ইকোনমিস্ট-এর মতো পত্রিকা ও সাময়িকী। তবে এসবের সাবস্ক্রিপশন নিতে বেশ খরচ করতে হয়। অন্য দলগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এই সুবিধা পেয়েছে। ফয়সাল বলছিলেন, ‘ব্লুমবার্গ অরিজিনালের ইউটিউব ভিডিও দেখতে হয়েছে বসে বসে। যেটা সপ্তাহে হয়তো তিন-চারটা আসে। সাবস্ক্রিপশন থাকলে প্রতিদিনের আপডেট পেতাম।’


আরেকটা সীমাবদ্ধতার কথা বললেন রিদওয়ান, ‘প্রথম রাউন্ডে যখন দ্বিতীয় হই, তখনই কেস ক্লাবের অভাবটা বুঝতে পারছিলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো কেস ক্লাব নাই। ওদের প্রতিষ্ঠিত কেস ক্লাব আছে। সেই ক্লাবগুলোতে শেখায়, কীভাবে সমাধান বের করতে হয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এটা প্রয়োজন।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
টাকা ধার দেওয়া-নেওয়া সম্পর্কে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন প্রয়োজন পূরণে অন্যের সহযোগিতার দরকার হয়। কখনো ব্যবসার প্রয়োজনে, কখনো চিকিৎসার জন্য, আবার কখনো পারিবারিক সংকট মোকাবিলায় ঋণ বা ধার নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। ইসলাম মানবজীবনের এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করেনি; বরং ঋণ গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের জন্য সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা নির্ধারণ করেছে। একদিকে যেমন প্রকৃত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণকে বৈধ করা হয়েছে, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধে অবহেলা, তালবাহানা এবং অসততাকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঋণ দেওয়াকে সওয়াবপূর্ণ ও মহৎ আমল হিসেবে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মূল্যবান দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়— কাউকে টাকা ধার দেওয়া-নেওয়ার ইসলামি বিধান কী? শায়খ আহমাদুল্লাহ এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন— ‘শরীয়া দৃষ্টিকোন থেকে টাকা ধার নেওয়া, কারো কাছ থেকে ঋণ নেওয়া এটা জায়েজ আছে যদি কারো প্রয়োজন হয়। খোদ নবী করীম (সা.) ঋণ গ্রহণ করেছেন, সাহাবিদের মধ্যে ঋণ গ্রহণ করা দেওয়া— এগুলো প্রচলন ছিল। অতএব কারো প্রয়োজন হলে ঋণ গ্রহণ করতে কারো কাছ থেকে কোনো অসুবিধা নেই। তবে ঋণ হতে হবে প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে। যেন তেন কারণে একান্ত প্রয়োজন না হলে মানুষের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া— এটা খুব ভালো কোনো কাজ না। মানুষের কাছে ঋণের জন্য হলেও যে হাত পাতা হয়, চাওয়া হয়; সে চাওয়াটা হবে একান্ত প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে। যদিও এটা তার কাছ থেকে দান বা দক্ষিণা চাওয়া নয় বরং ঋণ চাওয়া। কিন্তু তারপরও এটা যখন প্রয়োজন হবে তখনই চাওয়া উচিত। তিনি বলেন, আজকাল দেখা যায় অনেকে ঠুনকো কোনো কারণে যেটা আসলে খুব বেশি একান্ত প্রয়োজনের সীমানায় ফেলার মতো না; সে রকম বিষয়ের জন্য যেন তেনো কারণে ঋণ করে। অতএব জরুরতের ভিত্তিতে কোনো প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে ঋণ গ্রহণ করা ঋণ নেওয়া এটা জায়েজ আছে তবে তার জন্য শর্ত হলো— সুদমুক্ত ঋণ নেওয়া। এবং সেই সাথে শর্ত হলো— ঋণ আদায়ে সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে। আজকাল অনেকে ঋণ নেন কিন্তু আদায় করার ব্যাপারে সদ্বিচ্ছা নেই। কারো কাছ থেকে সরাসরি চাইতে অসুবিধা, সে জন্য  ঋণের কথা বলে চান, ওনার নিয়ত হলো দেবেন না। যে তার অনেক আছে, ডাইরেক্ট চাই কীভাবে। এ জন্য ঋণের কথা বলে চাই। অর্থাৎ ঋণ নেওয়ার সময় নিয়তই হলো এটা আর ফেরত দেবো না। তো এ রকম উদ্দেশ্যে যদি ঋণ গ্রহণ করা হয় তাহলে সেটা জায়েজ নেই। তিনি আরও বলেন, পরিশোধ করার পাক্কা এরাদা আছে, নিয়ত আছে, প্ল্যান-পরিকল্পনা আছে এবং সুধভিত্তিক কোনো ঋণ নিচ্ছেন না এ রকম যদি হয় তাহলে সেক্ষেত্রে একান্ত জরুরতের ভিত্তিতে ঋণ গ্রহণ করা জায়েজ আছে। আর যিনি ঋণ দেবেন, তার জন্য এটা সর্বাবস্থায় প্রসংশনীয়; বিশেষ করে কাউকে যদি ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে তার কোনো বিপদ দূর হয়, তার কোনো কষ্ট দূর হয়, তার কোনো বিশেষ উপকার হয়; তাহলে সেক্ষেত্রে ঋণ দেওয়াটা এটা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি কাজ।  অনেক ওলামায়ে কেরাম ঋণ দেওয়াটাকে মুস্তাহাব বলেছেন।  বিশেষ করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দান করার চাইতেও ঋণ দেওয়ার সওয়াবের পরিমাণ বেশি বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। এখন প্রশ্ন ওঠতে পারে— দানের ক্ষেত্রে তো একটা মানুষকে পুরোপুরি দিয়ে দেওয়া হয়। আর ঋণের ক্ষেত্রে তো পুরোপুরি দেওয়া হয় না। তাহলে পুরোপুরি দিয়ে দিলে তার চাইতে আবার ঋণের ফজিলত সওয়াব বেশি কীভাবে হতে পারে। এর উত্তর হলো— এটা সব ক্ষেত্রে সাধারণ অর্থে হয়তো প্রযোজ্য না। এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা মুহাদ্দিসিনেকেরাম দিয়েছেন। এর একটা প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা হলো— কোনো ব্যক্তিকে দান করা হয়েছে; এ দানটা না হলে তার যে অনেক অসুবিধা হতো এ রকম না। এমত পরিস্থিতিতে বা এ ধরনের পরিস্থিতিতে যে দান হয়ে থাকে সেই দানের তুলনায় ওই ঋনের সওয়াব বেশি, যে ঋণ একটা মানুষের অনেক উপকার করবে। তার অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা হবে। তাহলে একজনকে আপনি দশ বিশ পঞ্চাশ একশ টাকা দান করলেন; এটা না করলেও আসলে এটা তার তেমন কিছু হতো না; এটা নেয়াতে তার উপকার হয়েছে কিন্তু আহামরি কিছু না। আর এর বিপরীতে একই পরিমাণ টাকা যদি আরেকজনকে ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে তার বিরাট উপকার হবে। এমত পরিস্থিতিতে প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে কোনো কোনো জায়গায় দানের চাইতে ঋণের, ঋণ দেওয়ার উপকারিতা ঋণ গ্রহীতার জন্য প্রযোজ্য হয়; সে রকম পরিস্থিতিতে দানের চাইতেও ঋণের সওয়াব বেশি হবে। আল্লাহই ভালো জানেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, তাহলে খোলাসা কথা হলো— জরুরত হলে কোনো বিশেষ প্রয়োজন হলে কারো কাছ থেকে ধার নেওয়া, ঋণ নেওয়া জায়েজ আছে; কিন্তু সেটা পরিশোধ করার সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে। ঋণ দেওয়ার অনেক মানুষের সদ্বিচ্ছা আছে, অনেকে ঋণ দিতে চান কিন্তু ঋণ গ্রহিতারা তালবাহানা করেন, পরিশোধ করতে চান না, ঘুরান; এ বদঅভ্যাস এবং এই খারাপ কালচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে ঋণ দেওয়ার যে আমলটা আছে, এটা সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এবং মানুষ সুদী ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যেতে হচ্ছে। তো এই জন্য যারা ঋণ নিয়ে সেটা তালবাহানা করেন, ঘুরান, দিতে চান না; তারা মূলত সুদকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে একটা ভূমিকা রাখছেন। ব্যাপারটা অনেকটা এ রকম। নবী করীম (সা.) বলেছেন— ‘একজন স্বচ্ছল মানুষ, সে ঋণ নেওয়ার পরে যদি তালবাহানা করে এবং দিতে না চায়, ঘুরাঘুরি করায়; তাহলে সেক্ষেত্রে সেটা স্পষ্ট জুলুম।’ এ জন্য কারো কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পর সেটা পরিশোধ করার জন সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে। স্পষ্ট সময় দেওয়ার জন্য নিয়ত থাকতে হবে, পরিকল্পনা থাকতে হবে; তাহলে ঋণ নেওয়াটা জায়েজ আছে। ঋণ কোনো খেলাচ্ছলে নেওয়ার বিষয় নয়; এটি মানুষের হক এবং একটি গুরুতর আমানত। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঋণ গ্রহণ করা যেমন অনুচিত, তেমনি ঋণ নিয়ে পরিশোধে গড়িমসি করাও বড় ধরনের অন্যায় ও জুলুম। একজন মুমিনের উচিত ঋণ গ্রহণের সময় তা পরিশোধের দৃঢ় নিয়ত ও বাস্তব পরিকল্পনা রাখা। অন্যদিকে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যথাসম্ভব সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে তাদের কষ্ট লাঘব করা। ব্যক্তি ও সমাজ উভয় পর্যায়ে এই ইসলামী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, মানুষের কষ্ট কমবে এবং সুদভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পাবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মানুষের হক আদায় করার, আমানত রক্ষা করার এবং ইসলামের সুন্দর অর্থনৈতিক শিক্ষার ওপর চলার তাওফিক দান করুন। আমিন। সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিডিও থেকে নেওয়া।

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় সমাবেশে সরকারের সমালোচনা শফিকুর রহমানের

ছবি : সংগৃহীত

চবি ছাত্রদল নেতা নোমানকে ডেকে খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

দ্বিতীয় রানার আপ হওয়ার সুবাদে দলটি পেয়েছে ২ হাজার মার্কিন ডলার।ছবি: এইচএসবিসি বাংলাদেশের সৌজন্যে

বিশ্বমঞ্চে পুরস্কার জিতল বিইউপির ‘টিম সিক্স সেভেন’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত
গুম-নির্যাতন মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য আজ

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আজ পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সাক্ষীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।   রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।   প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এদিন মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত ৩ জুন ওই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল তা স্থগিত করে আজকের দিন নির্ধারণ করেন।   মামলাটিতে ইতোমধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান-সহ চারজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়।   বর্তমানে মামলার ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন।   তারা হলেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।   অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশিদ এবং র‍্যাবের সাবেক পরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে মাঠে ছাত্রদল, বিক্ষোভ মিছিল

বক্তব্য রাখছেন লুৎফুর রহমান কাজল। ছবি: সংগৃহীত

পুনর্বাসন ছাড়া কোনো ভূমিহীনকেও যেন উচ্ছেদ না করা হয়: কাজল

মনিরা শারমিন ও নুরুল হক নুর। ছবি : সংগৃহীত

এনসিপি নেত্রী মনিরাকে নিয়ে গণঅধিকার নেতার ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য

ছবি: সংগৃহীত
অবসরের পরও থামেননি, গ্রামের স্কুলে পড়াচ্ছেন সাবেক উপাচার্য ড. এম এ সাত্তার

শিক্ষকতা থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর নিয়েছেন এক দশকেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু জ্ঞান বিতরণের প্রতি ভালোবাসা এবং শিকড়ের প্রতি গভীর টান এখনো তাকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তাই সুযোগ পেলেই গ্রামের স্কুলে হাজির হন তিনি, হাতে তুলে নেন চক-ডাস্টার, আর শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে শুরু করেন পাঠদান।   তিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখা এই কৃষি অর্থনীতিবিদ এখন নিয়মিত সময় দেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কৃষ্ণারডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।   এই বিদ্যালয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তার শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে দেশের অন্যতম সফল শিক্ষাবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও নিজের বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা কখনো কমেনি।   বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন। শুধু পাঠ্যবইয়ের পাঠ নয়, জীবনের লক্ষ্য, অধ্যবসায়, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং সফলতার গল্পও শোনান শিক্ষার্থীদের। তার ক্লাসে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করে, মতামত দেয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখে।   অধ্যাপক সাত্তারের মতে, গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে ইংরেজি বিষয়ে অকারণ ভয় কাজ করে। সেই ভয় দূর করতেই তিনি সহজ পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখানোর চেষ্টা করেন। ছোট ছোট প্রশ্ন, সহজ বাক্য এবং উৎসাহমূলক আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলেন।   ২০২২ সালে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। একই বছর কৃষ্ণারডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় তাকে অবৈতনিক ইমেরিটাস শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবেই বিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।   বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, তার উপস্থিতি পুরো শিক্ষাঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। শুধু উচ্চ শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই নয়, ছোট ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরাও তার ক্লাসে অংশ নিতে আগ্রহ দেখায়। অনেকেই তার জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হয়।   শিক্ষাদানের পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেও নানা উদ্যোগ নিয়েছেন ড. সাত্তার মণ্ডল। নিজের প্রয়াত মা-বাবার নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু করেছেন। একইভাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পরিবারের সদস্যের নামে বৃত্তি প্রদান কর্মসূচি চালু করেছেন।   কৃষি অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষিনীতি নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা জীবনে তিনি শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ, বই ও নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও গ্রামকে কখনো ভুলে যাননি।   তার বিশ্বাস, আজকের গ্রামের শিক্ষার্থীদের সামনে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা, আত্মবিশ্বাস এবং মানসম্মত শিক্ষা। সেই লক্ষ্যেই তিনি অবসরের পরও নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।   ড. এম এ সাত্তার মণ্ডলের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, প্রকৃত শিক্ষক কখনো অবসর নেন না। জ্ঞান বিতরণ ও মানুষ গড়ার দায়িত্ববোধই তাদের আজীবনের পরিচয় হয়ে থাকে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৪৬ শতাব্দী পেরিয়েও অটল গিজার পিরামিড, ভূমিকম্পেও ভাঙে না কেন?

ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবী তালিকাভুক্তির এমসিকিউতে পাস করলেন জাইমা রহমান, মোট উত্তীর্ণ ৯২০১

ছবি: সংগৃহীত

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জামায়াত আমিরের

0 Comments