কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে চমক দেখিয়েছিল মরক্কো। আরও একবার বিশ্বকাপের মঞ্চে অ্যাটলাস সিংহরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কো নামছে নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওহবি আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন।
এবারের বিশ্বকাপেও ডার্কহর্স মনে করা হচ্ছে মরক্কোকে। গ্রুপ 'সি'তে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও হাইতি।
মরক্কোর চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: ইয়াসিন বুনু (আল হিলাল), মুনির এল কাজুই (আরএস বারকান), আহমেদ রেদা তাগনাউতি (এএস ফার);
ডিফেন্ডার: নুসায়ের মাজরাউই (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), আনাস সালাহ-এদ্দিন (পিএসভি), ইউসেফ বেলাম্মারি (আল আহলি), নায়েফ আগুয়ের্দ (মার্শেই), শাদি রিয়াদ (ক্রিস্টাল প্যালেস), ঈসা দিওপ (ফুলহ্যাম), রেদুয়ান হালহাল (মেচালেন), আশরাফ হাকিমি (পিএসজি), জাকারিয়া এল ওয়াহদি (গেঙ্ক);
মিডফিল্ডার: সামির এল মৌরাবেত (স্ট্রাসবুর্গ), আইয়ুব বুয়াদি (লিল), নিল এল আয়নাউই (এএস রোমা), সোফিয়ান আমরাবাত (রিয়াল বেতিস), আজুদ্দিন উনাহি (জিরোনা), বিলাল এল খানুস (স্টুটগার্ট), ইসমাইল সাইবারি (পিএসভি);
ফরোয়ার্ড: আব্দে ইজ্জালজুলি (রিয়াল বেতিস), শামসউদ্দিন তালবি (সান্ডারল্যান্ড), সৌফিয়ানে রাহিমি ( আল আইন), আইয়ুব এল কাবি (অলিম্পিয়াকোস), ব্রাহিম দিয়াজ (রিয়াল মাদ্রিদ), ইয়াসিন গেসিম (স্ট্রাসবুর্গ) এবং আইয়ুব আমাইমুনি (আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট) ।
রিজার্ভ খেলোয়াড়: এল মেহদি আল হারার (রাজা কাসাব্লাঙ্কা ), আমিনে সাবি (অঁজের) এবং মারওয়ান সাদানে (আল ফাতেহ)।
আগামী ১৪ জুন ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে মরক্কো। এরপর ২০ জুন স্কটল্যান্ড ও ২৫ জুন হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বের অভিযান শেষ করবে তারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সামাজিক মাধ্যমে আর্জেন্টিনা দলকে বিদায় বললেও এখনো লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতি ঘটেনি। অক্টোবরে দেখা যাবে তার ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’। আর্জেন্টাইন তারকার বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের কৌতূহলের যেন শেষ নেই। কোন জার্সি পরে খেলবেন, সেটার ডিজাইন কেমন—অবশেষে সব আজ জানা গেল। আগামী ৬ অক্টোবর মনুমেন্তালে বেনিন ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবেন মেসি। বিদায়ী ম্যাচে বিশেষ এক জার্সি পরবেন তিনি। তিন স্ট্রাইপবিশিষ্ট জার্সিটি আজ প্রকাশ করেছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারের জার্সিতে দুটি বড় উল্লম্ব আকাশি-নীল স্ট্রাইপ থাকবে। মাঝখানে থাকবে একটি সাদা স্ট্রাইপ। কেন্দ্রে থাকবে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার সূর্যের প্রতীক। মেসির নাম, জার্সি নম্বর ১০— সব সোনালি রঙে লেখা থাকবে। নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিদায়ী ম্যাচের জার্সি নিয়ে পোস্ট করেছেন মেসি। সেই ভিডিওতে দেয়ালে পুরোনো জার্সি সরিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের জার্সি টাঙাতে দেখা গেছে। দেয়ালে বিদায়ী ম্যাচের জার্সি রেখেই মেসি বসে থাকেননি। তার সামনে রাখা একটা সোফায় রেখেছেন আকাশি-নীল রঙের এক জোড়া জুতা। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী তারকা ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘একটা মাত্র ম্যাচ। সারা জীবনের এক জার্সি।’ অ্যাডিডাস মেসির যে তিন স্ট্রাইপবিশিষ্ট জার্সি আজ প্রকাশ করেছে, সেটা এরই মধ্যে বিক্রির জন্য বাজারে এসেছে। এ ছাড়া তার বিদায়ী ম্যাচের টিকিট কাটতে গতকাল ভক্ত-সমর্থকেরা দিপোর্তিক ওয়েবসাইটে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। তাতে টিকিট বিক্রির সার্ভারটি দ্রুত ক্র্যাশ করেছে বলে আর্জেন্টিনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। দুই ঘণ্টার মধ্যে টিকিটগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। এবারের ১৬ দিনের ফিফা উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা তিন ম্যাচ খেলবে। ৩০ সেপ্টেম্বর মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে হবে আর্জেন্টিনা-বলিভিয়া ম্যাচ। লিওনেল স্কালোনির দলের পরের দুই ম্যাচের ভেন্যু মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম। আগামী ২ ও ৬ অক্টোবর আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো ও বেনিন। মেসি শুধু ৬ অক্টোবর খেলবেন। ডায়েরির তিনটি ছেঁড়া পাতা, একটি সোনালি কলম—গত ৩১ আগস্ট সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ছবিসহ আবেগঘন পোস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন মেসি। পুরো বিশ্বে যেন তখন ভূকম্পন অনুভূত হয়। গত ২১ বছরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। অ্যাসিস্ট করেছেন ৬৮ গোলে। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২৪ কোপা আমেরিকা—আর্জেন্টিনার জার্সিতে এই চার শিরোপা জিতেছেন তিনি। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার ৩৬ দিন পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ ম্যাচ খেলতে নামছেন আর্জেন্টাইন তারকা। সূত্র : গোল.কম
নিজের কোচিং দর্শনের কথা তুলে ধরে খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব ও জীবনযাপন নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন জুজে মরিনিয়ো। রেয়াল মাদ্রিদ কোচের স্পষ্ট উচ্চারণ-কোনো খেলোয়াড় প্রতারণার আশ্রয় না নিলে সবসময়ই তার পাশে থাকবেন তিনি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোচ মরিনিয়ো রেয়ালকে সাফল্যের পথে ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই মৌসুমে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ফিরে এসেছেন। ইউরোপের সফলতম ক্লাবটি গত দুই মৌসুমে কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি এবং গত মৌসুমে শাবি আলোন্সো ও আলভারো আরবেলোয়া-এই দুই কোচকে বরখাস্ত করে তারা। দ্বিতীয় দফায় রেয়ালে ফেরার পর মরিনিয়োর শুরুটা বেশ কঠিন হয়েছে। লা লিগায় সাত রাউন্ড শেষে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে তার দল ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে এবং সবশেষ ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরেছে। এখন চলছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতি। ‘বেট ইট ড্রাইভস শো’-তে কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার গুরুত্ব তুলে ধরলেন মরিনিয়ো। “আমি তাদের বলি, ‘আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না’, যখন আমি এটা বলি, তখন অবশ্যই ফুটবলের প্রসঙ্গেই বলছি। আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না, তাহলে আমি সবসময়ই তোমার পাশে থাকব-পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন।” ২০২৫-২৬ মৌসুমে মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় আলোচনায় ছিল রেয়াল। খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। যার মধ্যে রয়েছে অহেলিয়া চুয়ামেনি ও ফেদেরিকো ভালভের্দে মারামারির ঘটনা, এর জেরে ভালভের্দেকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। খেলোয়াড়দের কোনটা করা উচিত আর কোনটা উচিত নয়, বললেন মরিনিয়ো। “একজন ফুটবলার ২৪ ঘণ্টাই ফুটবলার-বিষয়টা আসলে এমনই। একজন হয়তো দিনে দুই বা তিন ঘণ্টা অনুশীলন করে, কিন্তু ২৪ ঘণ্টাই সে একজন ফুটবলার। ক্লাবের বাইরে সে কী খাচ্ছে বা পান করছে, কীভাবে ঘুমাচ্ছে, এমনকি তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয়ও- তার কাজের ওপর সবকিছুই প্রভাব ফেলে।” “দুর্ভাগ্যবশত, একজন ফুটবলার স্কি বা সাইক্লিং করতে পারে না; যদি তারা তা করে-কেউ কেউ তো ক্লাবের অগোচরে এসব করে থাকে... আমার কাছে চুক্তির শর্তের চেয়েও বড় বিষয় হলো কাজের প্রতি একজনের দৃষ্টিভঙ্গি। সাইকেল থেকে পড়ে গেলে হয়তো সে তিনটি ম্যাচ খেলতে পারবে না, অথবা আরও খারাপ কিছু ঘটতে পারে: পা ভেঙে যেতে পারে কিংবা এমন কোনো চোট পেতে পারে যা তাকে সেরাটা দেওয়া থেকে বিরত রাখবে। এ নিয়ে নিজের আরও বিস্তারিত ভাবনা তুলে ধরে টেনিস কিংবদন্তি রাফায়েল নাদালের একটি উদাহরণও দিলেন পর্তুগিজ কোচ। “একজন ফুটবলার হতে হলে অনেক কিছুই বিসর্জন দিতে হয়। তবে দিন শেষে, খেলোয়াড়ী জীবনটা কিন্তু সংক্ষিপ্ত। পঁয়ত্রিশের কোঠায় পৌঁছানোর পর জীবনের অন্যান্য দিক উপভোগ করার জন্য ওই খেলোয়াড়ের সামনে আরও অনেক বছর পড়ে থাকে। কিন্তু ফুটবল আসলে কেবল কোনো পেশা নয়, এটা একটি জীবনধারা। কেউ যদি এটাকে কেবল শখ হিসেবে দেখে, তাহলে তার ক্যারিয়ার শেষ। দিনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা নিজেকে ফুটবলার ভাবলে সে কখনোই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে পারবে না। “সম্প্রতি রাফা নাদালের ওপর একটি তথ্যচিত্র দেখেছি। তিনি অবশ্য ফুটবলার নন; তবে নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ ক্রীড়াবিদ। এমন ক্যারিয়ার গড়ার জন্য তিনি যা কিছু বিসর্জন দিয়েছেন এবং যেসব ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। দিন শেষে আপনি যা অর্জন করেন এবং তা অর্জনের জন্য যা কিছু উৎসর্গ করেন- দুটোর মধ্যে সবসময়ই একটি গভীর সম্পর্ক থাকে
প্রথমার্ধে ছন্দহীন ফুটবলে দুই গোল হজম করার পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ। কয়েকটি ভালো সুযোগও তৈরি হয়েছিল, কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় সেগুলো থেকে গোল আদায় করতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে ফিফা আসিয়ান কাপের অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আজ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্বাগতিকরা। আক্রমণের পর আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও নিজেদের অর্ধ থেকে বের হয়ে পালটা আক্রমণ সাজানোর সুযোগ পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মালয়েশিয়া। কর্নার থেকে আসা বলে গোলমুখে জোরালো শট নেন তাদের এক আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। তবে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় বলটি বাইরে পাঠিয়ে দেন। তবে বেশিক্ষণ নিজেদের গোলপোস্ট অক্ষত রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৮ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে পাওয়া বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মালয়েশিয়ার ১০ নম্বর আরিফ আইমান। তপু বর্মণ তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। গোলরক্ষক শ্রাবণও ঠেকাতে পারেননি তার নেওয়া শট। ফলে লিড পেয়ে যায় মালয়েশিয়া। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আরও একবার বাংলাদেশের রক্ষণে আঘাত হানে স্বাগতিকরা। ৩৮ মিনিটে তপু বর্মণের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান আরিফ আইমান। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। ফলে বিরতিতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে কিছুটা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে ৫২ মিনিটেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় মালয়েশিয়া। ডান দিক থেকে আসা বল বাম পায়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ে শট নেন ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড বের্গসন গুস্তাভো। শটে খুব বেশি গতি না থাকলেও সেটি ঠেকাতে পারেননি শ্রাবণ। মালয়েশিয়া এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। এরপর ম্যাচে ফেরার সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি পেয়েছিল বাংলাদেশ। ৭৬ মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন হামজা চৌধুরী। সামনে তখন কেবল গোলরক্ষক। কিন্তু হামজার প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন মালয়েশিয়ার গোলকিপার। ফিরতি বলেও শট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার, তবে সেটিও কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন তিনি। শেষদিকে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় থমাস ডুলির দলকে। শুরুতেই বড় ব্যবধানে হেরে ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের মিশন শুরু করল বাংলাদেশ।