বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে নোয়াখালীর ফ্র্যাঞ্চাইজি। দেশ ট্রাভেলসের মালিকানাধীন ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’ ইতোমধ্যেই নিজেদের স্কোয়াড গঠনের কাজ শুরু করেছে। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিলামের আগে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে দলটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় দলে নিয়েছে।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস দেশি ক্রিকেটার হিসেবে সৌম্য সরকার ও হাসান মাহমুদকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিস এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার জনসন চার্লসকে দলে নেওয়া হয়েছে।
কুশল মেন্ডিস এবার প্রথমবার বিপিএলে খেলতে আসছেন, তবে তার রয়েছে এলপিএল, পিএসএল, আইপিএল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এস২০ লিগে খেলার অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, জনসন চার্লস বিপিএলে একাধিক দলের হয়ে খেলেছেন এবং সেখানে বিপুল সফলতা অর্জন করেছেন। ৩৩ ইনিংসে তার গড় ৩১, রান ৯০৬, যার মধ্যে ২টি সেঞ্চুরি ও ৪টি ফিফটি রয়েছে।
জনসন চার্লস ২০১২ এবং ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন এবং বিপিএলে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটার তার ক্যারিয়ারে ৮১০১ টি-টোয়েন্টি রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি ৫৮টি ওয়ানডেতে ১৫৩৭ রান ও ৬৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৪৬৮ রান করেছেন। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তার ৪৬ বলের ১১৮ রানের ইনিংস এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে তাজা।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এই শক্তিশালী স্কোয়াড নিশ্চিত করছে, নতুন এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বিপিএলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবারের আসর অনুষ্ঠিত হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে। তবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয়। সোমবার এ বিষয়ে ঘোষণা আসার কথা থাকলেও রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে। একই সঙ্গে, বিশ্বকাপ না খেললে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের জন্য বাস্তব হয়েছে। বিশ্বকাপে না যাওয়ায় দেশের ক্রিকেটারদের এখন কোনো কাজ নেই। তাই তাদের জন্য আড়াই কোটি টাকার ঘরোয়া টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ইতোমধ্যেই অধিনায়ক ও কোচের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করতে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সালমান ও বাবরের মতো তারকা ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে খেলতে না পারলে পিসিবি তাদের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা করছে। সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপে না গেলে লাহোরে চার দলের অংশগ্রহণে একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তিন দলের ঘরোয়া লিগ আয়োজন করছে। পিসিবির চারটি দল হবে ‘দ্য পাকিস্তান’, ‘শাহিন্স’ এবং অনূর্ধ্ব-১৮ দল। খেলোয়াড়দের ভাগ করে এই দলগুলো অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশও একই পথে হেঁটেছে; তাদের তিন দলের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে।
আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সুপার সিক্স পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে আড়াইশ পার করা পুঁজি দাঁড় করায় জুনিয়র টাইগাররা। বোলিংয়ে নেমে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়েকে কোণঠাসা করে রেখেছিলেন টাইগার বোলাররা। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে যুবারা। এর ফলে আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া বাংলাদেশের জয় দিয়েই সমাপ্তি ঘটলো। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে ওপেনিং জুটিতে ২০ রান তোলেন রিফাত বেগ এবং জাওয়াদ আবরার। ১৪ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন রিফাত। এরপর ক্রিজে আসেন আজিজুল হাকিম তামিম। বেশ সংগ্রাম করে এগিয়েছেন তামিম এবং আবরার। ৪৮ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলে আবরার বিদায় নেন। তবে দারুণ লড়াকু ব্যাটিংয়ে চাপের মুখে ফিফটি হাঁকান তামিম। ৮৭ বলে ৫৯ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেন তিনি। তামিম ছাড়াও লড়াকু ব্যাটিংয়ে দলের হাল ধরেছিলেন রিজান হোসেন। ফিফটির আগেই থেমেছেন যদিও। ৬৮ বলে ৪৭ রান করে বিদায় নেন রিজান। মাঝে টপাটপ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যায় বাংলাদেশ। আড়াইশ তো দূর, ২৪০ করতে পারলেই মনে হচ্ছিল সন্তুষ্ট থাকা যাবে। তবে ঠিকই আড়াইশ পার করেছে বাংলাদেশ। শেষ দিকে শাহরিয়ার আহমেদের ১১ বলে ১৫ রানের ক্যামিওর সাথে ১৩ বলে ২৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছেন আল ফাহাদ। শেষ ওভারে ২২ রান নিয়ে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান তোলে বাংলাদেশ। শেষ ৩ ওভারে আসে ৩৯ রান, শেষ ১০ ওভারে এসেছে ৭৯ রান। ইকবাল হোসেন ইমন ২ বলে ৮ রান করে টিকে ছিলেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন টাটেন্ডা চিমুগোরো, শেলটন মাজভিটোরেরা এবং মাইকেল বিলগনাট। বোলিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেছেন ইকবাল হোসেন ইমন। জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনারকে দলের ৬ রানের মধ্যে ফিরিয়েছেন তিনি। তিনে নামা কিয়ান বিলগনাটকে বিদায় করেছেন আল ফাহাদ। ১৫ রানের মধ্যে হাওয়া ৩ উইকেট। এরপর আরও ২ উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। যদিও মাঝে একটা জুটি হয়েছে। অধিনায়ক সিমবারাশা মুদজেনগেরেরের সাথে লিরয় চিওয়াউলার জুটিতে এসেছে ২৭ রান। লিরয়কে বোল্ড করে জুটি ভেঙেছেন সেই ইমন। পরে মাইকেল বিলগনাটকেও ফেরান ইমন। জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের ক্রিজে দাঁড়াতেই দেননি টাইগার পেসার ইকবাল হোসেন ইমন। পরে ব্রেন্ডন এনদিওয়ানিকে ফেরান রিজান হোসেন। ৩৭ বলে ১৬ রান করে বিদায় নিয়েছেন ব্রেন্ডন। অধিনায়ক সিমবারাশা অবশ্য টিকে ছিলেন। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের ইনিংসকে টানতে থাকেন তিনি। সুযোগ বুঝে বের করছিলেন বাউন্ডারিও। রানও বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন। নিজে চলে যান ফিফটির কাছাকাছি। আরেক প্রান্তে টাটেন্ডা চিমুগোরো বেশি একটা সুবিধা করতে পারেননি। ১২ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। তাকে ফেরান অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম, দারুণ স্টাম্পিং করেছেন ফরিদ হাসান। ১১ বলে ২ রান করা পানাশে মাজাইকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন ইমন। শেষ দিকে বাংলাদেশের জয়টাও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। অধিনায়ক সিমবারাশা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন, তুলেছেন ফিফটিও। শেষ দিকে সিমবারাশার ব্যাটে চড়েই এগিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ১২১ বলে ৭০ রান করে দলের ১৭৩ রানের মাথাতে আউট হন অধিনায়ক। তাকে ফিরিয়েছেন আল ফাহাদ। শেলটন মাজভিতোরে ৪২ বলে ৪২ রান করে টিকে ছিলেন। ১৭৯ রান করে থেমেছে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন ইকবাল হোসেন ইমন ২ উইকেট তোলেন আল ফাহাদ। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন রিজান হোসেন এবং আজিজুল হাকিম তামিম। বিশ্বকাপ থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় দিয়েই আসরের সমাপ্তি টানল টাইগাররা। ১০ ওভার বল করে মাত্র ২৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতল ইকবাল হোসেন ইমন।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে এখন আর পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই বলে মনে করছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঠিক সময় ইতোমধ্যেই পার হয়ে গেছে এবং এখন পিসিবির পক্ষে বিশ্বকাপ বয়কট করা বাস্তবসম্মত নয়। সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চাইলে পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। এই মন্তব্য আসে আইসিসি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার পর, যখন নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে প্রায় ২০ দিন ধরে আলোচনা চলে। আইসিসির পক্ষ থেকে স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের মাধ্যমে জানানো হয়, ভারতে বাংলাদেশের জন্য উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তবে বিসিবি তাদের অবস্থান থেকে না সরায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে গ্রুপ সি-তে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। এই ঘটনার পর পাকিস্তানও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ভাবতে শুরু করে। নাকভি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং জানানো হয়, পাকিস্তানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ৩০ জানুয়ারি বা ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জানানো হতে পারে। তবে রশিদ লতিফ মনে করেন, এখন সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগ আর নেই। ইউটিউব চ্যানেল কট বিহাইন্ডে তিনি বলেন, ‘এখন আর আন্দোলনের সময় নেই। প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি সঠিক সময় থাকে। যখন লোহা গরম থাকে, তখনই আঘাত করতে হয়। সেই সময়টা ছিল গত সপ্তাহে আইসিসি বৈঠকের সময়।’ এর আগে লতিফ নিজেও পিসিবিকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে এখন তিনি ভিন্ন একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, পাকিস্তান চাইলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে, এমনকি ফাইনাল হলেও। পাকিস্তান ও ভারত গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে এবং দুই দল মুখোমুখি হওয়ার কথা ১৫ ফেব্রুয়ারি, কলম্বোতে। গত বছর এশিয়া কাপে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল, যার সবকটিতেই জয় পায় ভারত। মাঠের বাইরেও তখন হ্যান্ডশেক না করাসহ নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটে।