মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এতে বাজারে আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আরেক দফা সুদহার কমানো নিয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে গতকাল স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এছাড়া মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়ার পেছনে ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়াও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭৯ ডলার ৪৯ সেন্টে পৌঁছেছে। এটি আগের দিনের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি এবং গত ২৭ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। এ সময় ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৮৭ ডলার ৮০ সেন্টে পৌঁছে। এছাড়া গতকাল ডলারের বিনিময় হার কমেছে দশমিক ১ শতাংশ।
রিলায়েন্স সিকিউরিটিজের সিনিয়র বিশ্লেষক জিগার ত্রিবেদী বলেন, ‘মৌলিক সূচকগুলোর দুর্বলতায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে গতকাল স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে ডলারের বিনিময় হার হ্রাস। পাশাপাশি চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে।’
গত সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে সরকারি ও খুচরা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। ব্যয় সংকোচন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় কর্মী ছাঁটাই করছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। একই সঙ্গে ভোক্তা আস্থা নেমেছে সাড়ে তিন বছরের সর্বনিম্নে। দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অচলাবস্থার কারণে অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগই এর প্রধান কারণ বলে জরিপে জানানো হয়েছে।
রোববার মার্কিন সিনেট সরকারি অচলাবস্থা (শাটডাউন) সমাধানের প্রাথমিক পদক্ষেপে অগ্রগতি দেখিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউজের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট সতর্ক করেছেন, শাটডাউন দীর্ঘায়িত হলে চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক হতে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে বাজার বিশ্লেষকরা বর্তমানে ডিসেম্বরে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ বিবেচনা করছেন।
জিগার ত্রিবেদীর ভাষায়, ‘স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। শিগগিরই দাম পৌঁছতে পারে ৪ হাজার ১২০ থেকে ৪ হাজার ১৩০ ডলারে।’
স্পট মার্কেটে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। গতকাল রুপার দাম পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ৪৯ ডলার ৯১ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এ সময় প্লাটিনাম ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৫৭৬ ডলার ২৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪০৩ ডলার ৬৩ সেন্টে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় বজ্রপাতে এক বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত ভিনীত কুমার দুবে (৪৬) বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের একজন হেড কনস্টেবল ছিলেন। তিনি উত্তর প্রদেশের কান্নৌজ জেলার বাসিন্দা এবং মুর্শিদাবাদের বাবুরা ঘাট সীমান্ত চৌকিতে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের মধ্যে তিনি মিঠিপুর এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত অংশে টহল দিচ্ছিলেন। সীমান্তের শূন্যরেখার (জিরো লাইন) কাছে খোলা আকাশের নিচে দায়িত্ব পালন করার সময় বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যাম্পে এবং পরে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে একই দিন মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায় গঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় বজ্রপাতে আরও চারজনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
ইউরোপজুড়ে সম্প্রতি ঘন ঘন তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানছে, যার ফলে রেকর্ড ভাঙা গরমে নাকাল হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু এই তীব্র গরমেও ইউরোপের বাড়িগুলোতে এসি বা এয়ার কন্ডিশনার দেখা যায় খুবই কম। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে এসি রয়েছে, সেখানে ইউরোপে এই হার মাত্র ২০ শতাংশের কাছাকাছি। বেশির ভাগ ইউরোপীয় বৈদ্যুতিক ফ্যান, আইস প্যাক কিংবা ঠান্ডা পানিতে গোসল করেই এই অসহ্য গরম পার করছেন। ধনী ইউরোপীয় দেশগুলোর এসি ব্যবহারে এই অনিহার পেছনে কিছু ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত কারণ রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার কর্মকর্তা ব্রায়ান মাদারওয়ে জানান, ইউরোপে ঐতিহ্যগতভাবেই এসির চল নেই, কারণ এতদিন এর কোনও প্রয়োজনই ছিল না। ফলে এসিকে প্রয়োজনীয় জিনিসের চেয়ে বিলাসিতা হিসেবেই দেখা হতো। তা ছাড়া ইউরোপে জ্বালানি খরচ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি, কিন্তু গড় আয় কম। ফলে এসির খরচ চালানো অনেকের সাধ্যের বাইরে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থাপত্যশৈলীও। দক্ষিণ ইউরোপের কিছু দেশের বাড়িগুলোর দেয়াল বেশ পুরু এবং জানালা ছোট, যা প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের মতো দেশে অনেক বাড়ি ১৯০০ সালের আগে তৈরি, যেখানে সেন্ট্রাল কুলিং সিস্টেম বসানো বেশ কঠিন। যুক্তরাজ্যের এয়ার কন্ডিশনার কোম্পানি’র পরিচালক রিচার্ড স্যালমন জানান, ঐতিহ্যবাহী বা সংরক্ষিত ভবনের বাইরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ প্রায়ই এসি বসানোর অনুমতি দেয় না। এর পেছনে পরিবেশগত নীতিও বড় কারণ। ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপ ‘জলবায়ু নিরপেক্ষ’ হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। এসি প্রচুর বিদ্যুৎ অপচয় করে এবং ঘরের ভেতরের গরম বাতাস বাইরে ছাড়ে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্যারিসে এসির ব্যবহারের কারণে বাইরের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পরিবেশ সুরক্ষায় ২০২২ সালে স্পেন সরকারি স্থানে এসি ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো নিষিদ্ধ করেছিল। তবে বিশ্ব গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হতে থাকা ইউরোপের মানুষের মনোভাব এখন পাল্টাচ্ছে। শেষ ৫ বছরে এসির চাহিদা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এসির সংখ্যা বেড়ে ২৭৫ মিলিয়নে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রাধিকা খোসলা সতর্ক করেছেন, এসি সাময়িক স্বস্তি দিলেও এর জন্য ব্যবহৃত জীবাশ্ম জ্বালানি বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে এক দুষ্টচক্রের সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো পরিবেশের ক্ষতি না করে কার্যকর কুলিং সিস্টেমের সঠিক নীতিমালা তৈরি করা। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া এক সাক্ষ্যে তিন নারীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন বিল গেটস। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১০ জুন দীর্ঘ সাক্ষ্য দেন বিল গেটস। সেই সাক্ষ্যে তিনি দুই রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তাদের একজন ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং অন্যজন পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানী কারিমা নিগমাতুলিনা। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের মুখে পরে তিনি আরও এক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গে সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেন। গেটস আরও জানান, একপর্যায়ে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, তার কোনো সম্পর্কের মাধ্যমে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করে থাকতে পারেন বলেও স্বীকার করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনো যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হননি এবং কাউকে গোপনে কোনো ওষুধও দেননি। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, কংগ্রেস সদস্যরা ২০১৩ সালে এপস্টেইনের কাছে পাঠানো একটি ই-মেইল দেখান, যেখানে অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরডট নামক এক নারীর উল্লেখ ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গেটস বলেন, ‘এক সময় ড. জ্যাকবসের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। তাই বিষয়টি সেই প্রসঙ্গের সঙ্গে মিলে যেতে পারে।’ সাক্ষ্যে বিল গেটস জানান, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে প্রায় ১২ থেকে ১৪ বার সাক্ষাৎ করেছেন এবং দুবার স্কাইপে কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি প্রকাশ শুরু করার পর তার সঙ্গে বিল গেটসের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে।