গোল্ড কার্ড নামে নতুন একটি ভিসা চালুর দ্বারপ্রান্তে আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ধনী ব্যক্তিরা বিপুল অর্থ খরচ করলেই পাবেন নতুন এ ভিসা। এনডিটিভি জানিয়েছে, সেবাটি চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস) বাজেট ও ব্যবস্থাপনা অফিসের কাছে ফরম আই-১৪০জি-এর খসড়া দাখিল করেছে। অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে আগামী ১৮ ডিসেম্বর থেকে নতুন ভিসার কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এই গোল্ড কার্ড ভিসাকে ট্রাম্প গোল্ড কার্ড হিসেবেও বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে যারা উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিতে পারবে শুধু তাদের জন্যই এই ভিসা। যারা এ ভিসার আবেদন করবেন তাদের অবশ্যই দিতে হবে—অফেরতযোগ্য আবেদন ফি, সময়মতো ডকুমেন্ট। ভিসার অনুমোদন দেওয়া হলে অর্থ মন্ত্রণালয়কে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ বা গিফট দিতে হবে, যা বাংলাদেশি অর্থে ১২ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি।
ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ/উপহার দেওয়ার মাধ্যমে আবেদনকারী ব্যক্তি প্রমাণ করবেন, তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র উপকৃত হবে। ভিসার অনুমোদন দেওয়া হলে আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার বৈধ অনুমতি পাবেন। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যান্য ঝুঁকি থাকলে ভিসা বাতিল করা হবে।ব্যক্তি হিসেবে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা লাগলেও করপোরেট-স্পন্সর আবেদনকারীদের ২০ লাখ ডলার দিতে হবে। আর আবেদনের জন্য দিতে হবে ১৫ হাজার ডলার। এটি অফেরতযোগ্য।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানের রাজধানী Tehran–এ সাম্প্রতিক বিমান হামলায় দেশটির উপ-গোয়েন্দা মন্ত্রী Akbar Ghaffari নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদ সংস্থা Iranian Labour News Agency। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় তেহরানের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওই হামলায় গুরুতরভাবে আহত হয়ে পরে মারা যান উপ-গোয়েন্দা মন্ত্রী আকবর গাফফারি। ইরান দাবি করেছে, এই হামলা যৌথভাবে চালিয়েছে United States ও Israel। সরকারি সূত্র জানায়, নিহত গাফফারি এর আগে ইরানের East Azerbaijan Province–এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তাকে দেশের গোয়েন্দা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার মৃত্যুর পর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর Tabriz–এ জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Islamic Republic News Agency জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান Abdolrahim Mousavi এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী Aziz Nasirzadeh নিহত হয়েছেন। এছাড়া সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। গত ২৮ মার্চ সকালে তার বাসভবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। পরে Benjamin Netanyahu এবং Donald Trump খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও শুরুতে ইরান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। পরে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৮৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের নেতা Ruhollah Khomeini–এর মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ১৯৮০–এর দশকে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় শহর Mashhad–এ জন্মগ্রহণ করেন আলি খামেনি। ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে ওঠা খামেনি ১৯৬০–এর দশকে শাহবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পরে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাম্প্রতিক হামলা ও উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মৃত্যুর ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে ইরানের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছে তেহরান। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। তবে ইসরাইল এই হামলার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। বুধবার ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এএফপি এখনো ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার পরিস্থিতি বা ইরানি সংবাদমাধ্যমের দেওয়া প্রাণহানির সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। কারণ, তেহরানের বাইরে প্রতিবেদন তৈরির জন্য বিদেশি গণমাধ্যমগুলোকে ইরান সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। হামলাটি সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা জানা গেছে: ইরানের বক্তব্য: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব কাউন্টির গভর্নরের বরাত দিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রথম এই হামলা ও প্রাণহানির খবর জানায়। ওই দিনই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরু হয়, যাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, নিহত শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬৫ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয়, সাদা কাফনে মোড়ানো মরদেহের সামনে শোকাতুর মানুষের কান্নার দৃশ্য। এছাড়া ইরানি পতাকায় মোড়ানো ছোট ছোট কফিনের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যার কয়েকটিতে ছিল শিশুদের ছবি। তবে এএফপি ছবিগুলো কবে তোলা হয়েছে তা যাচাই করতে পারেনি এবং সরেজমিনে যেতেও পারেনি। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকেই দায়ী করেছেন। ওয়াশিংটনের বক্তব্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে এই হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছিলেন। তবে পরে তিনি জানান, তদন্তে যা আসবে তা তিনি মেনে নেবেন। বুধবার নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারনে ভুলের কারণে একটি মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলটিতে আঘাত হানে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, তদন্ত এখনো চলছে, তবে প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রই এর জন্য দায়ী। মার্কিন বাহিনী পাশের একটি ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালানোর সময় পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করায় স্কুল ভবনটিতে আঘাত লাগে। এক সময় স্কুলটি ওই ঘাঁটিরই অংশ ছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না।’ পত্রিকাটি আরও জানায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি পুরনো তথ্য ব্যবহার করায় এই ভুল হয়েছে। স্কুলটি রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনীর ব্যবহৃত ভবনের ব্লকেই অবস্থিত। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভবনটিকে মূল ঘাঁটি থেকে আলাদা করে স্কুল করা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলে হামলা চালাবে না। ইসরাইলের বক্তব্য: ইসরাইল শুরু থেকেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, ‘আমরা বারবার যাচাই করেছি এবং এই ঘটনার সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।’ স্কুলটির অবস্থান: নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগাও’ জানায়, হামলার সময় স্কুলে সকালের ক্লাস চলছিল এবং সেখানে প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী ছিল। একটি পার্কিং লট থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রঙিন দেয়ালচিত্র সংবলিত একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভিডিওর অবস্থানটি মিনাব শহরের একটি ভবনের বলে নিশ্চিত করেছে এএফপি। ভবনটি রেভল্যুশনারি গার্ডের নিয়ন্ত্রিত দুটি স্থাপনার খুব কাছে অবস্থিত। এর মাত্র ২৩৮ মিটার দূরে একটি ক্লিনিক এবং ২৮৬ মিটার দূরে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, তা এএফপি নিশ্চিত করতে পারেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী Abu Dhabi-এর পুরোনো বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আকাশে একটি অজ্ঞাত বস্তু প্রতিহত করার সময় তার ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে Abu Dhabi Media Office জানায়, জরুরি সেবা দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আশপাশের এলাকা নিরাপদ করেন। ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। Islamic Revolutionary Guard Corps-এর ওই কর্মকর্তা উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের আশপাশে বসবাসকারী ও কর্মরত মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের Jebel Ali Port, Khalifa Port ও Port Rashid বন্দরের পাশাপাশি বাহরাইনের Khalifa Bin Salman Port বন্দরের কিছু বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম চলছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।