বিশ্ব

ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকা হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহর

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ২৬, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি ভূমিকম্পের কবলে পড়া রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা বড় আতঙ্কে আছেন। বিপদের ঝুঁকি বাড়ছে বলেই মত দিয়েছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একটি সমীক্ষা বলছে, পার্শ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্ট বা ফাটলরেখায় ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহরের ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। এতে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা আছে।

এই আশঙ্কার মধ্যেই জাতিসংঘের নতুন ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্সটস-২০২৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহরে পরিণত হবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ৩ কোটি ৬৬ লাখ, যা বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। খবর আলজাজিরার।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্রুত নগরায়ণ, গ্রাম থেকে মানুষের ব্যাপক আগমন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরই ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

জাতিসংঘ জানায়, ঢাকার বর্তমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে এটি বিশ্বে শীর্ষস্থান দখল করবে। ফলে আগামীতে ঢাকার জনসংখ্যা আরও কয়েক কোটি বাড়তে পারে।

নতুন তালিকায় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ৪ কোটি ১৯ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে প্রথম স্থানে আছে। তবে ২০৫০ সালের মধ্যে জাকার্তা উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি ও ডুবে যাওয়ার আশঙ্কার কারণে জনসংখ্যা হ্রাসের মুখে পড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।


এশিয়া এখনো মেগাসিটির প্রধান কেন্দ্র। বিশ্বে বিদ্যমান ৩৩ মেগাসিটির মধ্যে ১৯টি এশিয়ায় এবং শীর্ষ ১০-এর ৯টিই এই অঞ্চলে। ১৯৭৫ সালে এশিয়ায় মেগাসিটির সংখ্যা ছিল মাত্র ৮টি।

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের এই গতির কারণে ঢাকার সামনে অবকাঠামো সংকট, পানি-জলাবদ্ধতা, ট্রাফিক ও বাসযোগ্যতার চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হবে বলে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন পদ্ধতিতে শহরের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ ১ কিমি গ্রিডে প্রতি বর্গকিলোমিটারে অন্তত ১,৫০০ জন থাকলেই সেটিকে শহর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এ ছাড়া, মোট জনসংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হাজার হতে হবে।

জাকার্তা ও ঢাকা ছাড়া তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে টোকিও (৩ কোটি ৩৪ লাখ)। এ ছাড়া রয়েছে নয়াদিল্লি (৩ কোটি ২ লাখ), সাংহাই (২ কোটি ৯৬ লাখ), গুয়াংজু (২ কোটি ৭৬ লাখ), ম্যানিলা (২ কোটি ৪৭ লাখ), কলকাতা (২ কোটি ২৫ লাখ) ও সিউল (২ কোটি ২৫ লাখ)।

এশিয়ার বাইরে একমাত্র শহর মিশরের কায়রো, যার জনসংখ্যা ৩ কোটি ২০ লাখ। লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে বড় শহর ব্রাজিলের সাও পাওলো (১ কোটি ৮৯ লাখ)। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে সবচেয়ে বড় শহর এখন লাগোস।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ট্রাম্পের ‌‘বোর্ড অব পিস’ কি জাতিসংঘকে দুর্বল করে তুলবে?

‘‘আমরা একসঙ্গে এমন এক অবস্থানে রয়েছি, যেখানে দশকের পর দশক ধরে চলা দুর্ভোগের অবসান ঘটানো, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জমে থাকা ঘৃণা ও রক্তপাত থামানো এবং ওই অঞ্চলসহ সারা বিশ্বের জন্য একটি সুন্দর, স্থায়ী ও গৌরবময় শান্তি গড়ে তোলা সম্ভব।’’ এই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি; যা তিনি এ সপ্তাহে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ইকোনোমিক ফোরামে নিজের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্বোধনের সময় ঘোষণা করেন। অত্যধিক দুর্ভোগ ও সংঘাতে জর্জরিত এই পৃথিবী তাকে (ট্রাম্প) ভীষণভাবে বিশ্বাস করতে চায়। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীর অনেক পর্যবেক্ষক ও কর্মকর্তার মতে, এটি ট্রাম্পের সেই উদ্যোগের আরও এক প্রমাণ; যার লক্ষ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী আন্তর্জাতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং তার জায়গায় নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা তার প্রভাবের অধীনে থাকবে। ‘‘আমরা কাউকে আমাদের নিয়ে খেলতে দেব না,’’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষেপে সতর্ক করেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। তবে ইউরোপে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সমর্থক ভিক্টর অরবান তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, ট্রাম্প থাকলে শান্তি। এই বোর্ডটি ঠিক কী করবে, যার নেতৃত্ব আজীবনের জন্য ট্রাম্প নিজেই দেবেন? এটি কি সত্যিই জাতিসংঘের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা? • বোর্ড চেয়ারম্যানের ক্ষমতা গত বছর গাজা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় জন্ম নেওয়া এই ধারণা, যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছিল; এখন আরও বৃহত্তর, মহাকায় এবং বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগোচ্ছে। আর সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাঁস হওয়া খসড়া সনদের তথ্যে দেখা যায়, ট্রাম্প পদ ছাড়ার পরও আজীবনের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন। ওই সনদ অনুযায়ী তার ক্ষমতা হবে ব্যাপক; কোনো দেশকে সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে নাকি হবে না, উপ-সংস্থা বা সহায়ক সংস্থা গঠন বা বিলুপ্ত করা, এমনকি তিনি যখন ইচ্ছা পদত্যাগ করলে কিংবা অক্ষম হলে নিজ উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষমতাও থাকবে তার হাতে। অন্য কোনো দেশ যদি স্থায়ী সদস্য হতে চায়, তার মূল্য ধরা হয়েছে চোখ কপালে তোলার মতো; ১০০ কোটি ডলার (৭৪ কোটি পাউন্ড)। এই নতুন বোমা ফাটানো তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন সময়টি ইতোমধ্যে ঘটনাবহুল। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটেছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায় নেওয়া, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি ও প্রস্তুতি, আর গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ট্রাম্পের দাবি; যা ইউরোপজুড়ে এবং তার বাইরেও আলোড়ন তুলেছে। দাভোসে বোর্ডের উদ্বোধনে দিগ্বিদিক থেকে ১৯টি দেশ উপস্থিত ছিল; আর্জেন্টিনা থেকে আজারবাইজান, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র থেকে উপসাগরীয় রাজতন্ত্র পর্যন্ত। আরও বহু দেশ যোগ দিতে সম্মত হয়েছে বলেও জানা গেছে। ‘‘এই দলে আমি প্রত্যেককে পছন্দ করি,’’ ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেন, যখন তিনি বোর্ডের সদস্য কিংবা এর অধীনস্থ নির্বাহী স্তরগুলোর তালিকায় থাকা নেতা ও কর্মকর্তাদের দিকে তাকান। সম্ভাব্য আরও অনেক সদস্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি। ‘‘এটি এমন একটি চুক্তির বিষয়; যা আরও বিস্তৃত প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং শান্তি সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি নিয়ে আমাদেরও উদ্বেগ রয়েছে,’’ ব্যাখ্যা করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। ট্রাম্প বলছেন, রাশিয়া এতে যুক্ত আছে, যদিও মস্কো থেকে বার্তা এসেছে, তারা এখনো অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করছে। বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী সুইডেন যোগ দিচ্ছে না বলে জানিয়েছে। প্রস্তাবটি এমন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যার উত্তর পেতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আরও সংলাপ প্রয়োজন; এভাবেই কূটনৈতিক ভাষায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে নরওয়ে। এমনকি মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের একটি জোট—যার মধ্যে ছয়টি আরব দেশ, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া রয়েছে—স্পষ্ট করেছে যে তারা এতে যুক্ত হচ্ছে গাজায় ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য, যার মধ্যে বিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠনও রয়েছে। তবে বোর্ডের সনদের ফাঁস হওয়া তথ্যে গাজার কোনো উল্লেখ নেই। কিছু সমালোচকের কাছে, যাদের মধ্যে যোগ দিতে অনিচ্ছুক দেশও রয়েছে; এটি এমন এক প্রেসিডেন্টের আত্মগৌরবের প্রকল্প যিনি সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের আকাঙ্ক্ষা লুকান না। এই পুরস্কারটি ২০০৯ সালে হোয়াইট হাউসে প্রথম মেয়াদের শুরুতে পেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিশ্বনেতারা জানেন, এই নতুন ক্লাবে যোগ না দিলে তার মূল্য দিতে হতে পারে। আমি তার ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব, তখন সে যোগ দেবে। তবে তাকে যোগ দিতেই হবে এমন নয়। এভাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প, তার পছন্দের অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়ে। শুধু স্লোভেনিয়া প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানায়। প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব স্পষ্ট করে বলেন, এটি বিপজ্জনকভাবে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছে। এই উদ্বেগের জবাব ট্রাম্প সরাসরি দেন। তিনি বলেন, এই বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেলে আমরা প্রায় যা ইচ্ছা তাই করতে পারব এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করেই তা করব। ভিড় ঠাসা হলের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেন। সেখানে উপস্থিত সবাই তার প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। তবে তিনি বিশ্বকে ধাঁধায় রাখতেই পছন্দ করেন। এই মন্তব্যের একদিন আগে ফক্স টিভির এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার বোর্ড কি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপন করবে। তিনি জবাব দেন, হয়তো করবে। জাতিসংঘ খুব একটা সহায়ক হয়নি। এরপর তিনি যোগ করেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনার আমি বড় ভক্ত, কিন্তু সংস্থাটি কখনোই সেই সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহার করতে পারেনি। আমি যে যুদ্ধগুলোর মীমাংসা করেছি, সেগুলো জাতিসংঘেরই মিটিয়ে ফেলা উচিত ছিল। • শান্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারীর নতুন দাবিদার? ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ বহু আগেই কার্যত শান্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা হারিয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের প্রথম মেয়াদের একেবারে প্রথম দিনেই; নিরাপত্তা পরিষদের প্রায় নজিরবিহীন সর্বসম্মত সমর্থন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর—আমি যখন তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তিনি শান্তির জন্য কূটনীতির জোয়ার আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত এক দশকে জাতিসংঘের প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হয়েছে; অচল নিরাপত্তা পরিষদ, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধে শান্তি ব্যাহতকারী পক্ষ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ার কারণে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিগুলোর তুলনায় সংস্থাটির নিজস্ব অবস্থান ক্রমাগত ক্ষয়ে যাওয়ার কারণেও। যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্পের সক্রিয়তাকে আমাদের সবাইকে স্বাগত জানানো উচিত, বলেন জাতিসংঘের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথস। তিনি মনে করেন, নতুন উদ্যোগটি স্পষ্টতই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং বৃহত্তর জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রতিফলন। তবে মানবিক বিষয়ক ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল সতর্ক করে বলেন, গত ৮০ বছরে অসংখ্য ব্যর্থতা ও জড়তার মধ্য দিয়ে আমরা যা শিখেছি, তা হলো অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব। অর্থাৎ, এটি কেবল ট্রাম্পের বন্ধুদের জন্য নয়, বরং বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রতিনিধিত্বশীল থাকা সম্পর্কেও প্রযোজ্য। গুতেরেস নিজেও সম্প্রতি আক্ষেপ করে বলেন, এমন মানুষও আছেন যারা মনে করেন আইনের শাসনের জায়গায় শক্তির শাসন আসা উচিত। ট্রাম্প ক্রমাগত দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের ইতি টেনেছেন। এ বিষয়ে বিবিসির টুডে অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেসের কাছে জানতে চাওয়া হলে বাস্তববাদী ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ওগুলো যুদ্ধবিরতি। এর কিছু ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে। রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মধ্যে অস্থায়ী শান্তি চুক্তি দ্রুত ভেস্তে যায়, সীমান্তে পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ফের শুরু করে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, আর পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে ট্রাম্পের কেন্দ্রীয় ভূমিকার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। তবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের দৃঢ় মধ্যস্থতাই কার্যকর হয়েছিল। গাজায় বিধ্বংসী সংঘাতের অবসানে গত অক্টোবরে তার (ট্রাম্প) ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে; যা একদিকে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমায়, অন্যদিকে ইসরায়েলি জিম্মিদের যন্ত্রণা লাঘব করে। আরব মিত্রদের অনুরোধ ও শোকাহত ইসরায়েলি পরিবারগুলোর চাপে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে এই বিপর্যয়ের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেন ট্রাম্প। তখন তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও হামাসের মধ্যে সমঝোতার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তবু বোর্ডের প্রথম পরীক্ষা—গাজা যুদ্ধের অবসানে চুক্তির প্রথম ধাপ থেকে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া অত্যন্ত কঠিন। এমনকি এই নতুন বোর্ড যখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে এই সময়টাতেও। কারণ বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নেতানিয়াহু ও আরব নেতারা। নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে অঙ্গীকার করেছেন এবং আরব নেতারা মনে করেন, টেকসই শান্তির একমাত্র পথ হলো ফিলিস্তিনিদের স্বশাসন ও ইসরায়েলি দখলদারির অবসান। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের এজেন্ডায় থাকা আরেক বড় যুদ্ধ হলো ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কো ও মিনস্কের সঙ্গে একই টেবিলে বসতে অনীহা দেখিয়েছেন। এই বোর্ডের অধীনে রয়েছে তিনটি স্তর; যার বেশিরভাগই গাজা-কেন্দ্রিক। সেগুলো হল নির্বাহী বোর্ড, গাজার একটি নির্বাহী বোর্ড ও গাজা প্রশাসনের জন্য জাতীয় কমিটি। এগুলোতে একত্রিত হয়েছেন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ও বিলিওনিয়াররা, পাশাপাশি গাজা সম্পর্কে অভিজ্ঞ সাবেক রাজনীতিক ও সাবেক জাতিসংঘ দূত, আরব মন্ত্রী ও গোয়েন্দা প্রধান এবং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটরা। কিছু সমালোচকও স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার একটি পুরোনো বিতর্ক আলোচনায় এনেছেন; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ কাঠামোটির সংস্কারের অবিরাম দাবি। বিশেষ করে এমন একটি নিরাপত্তা পরিষদকে নিয়ে যা এখন আর বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলের প্রধান শক্তির রাজনৈতিক মানচিত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি আসলেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী কার্যকর নয়। ‘‘হয়তো ট্রাম্প যা করেছেন, তার একটি অনিচ্ছাকৃত ভালো পরিণতি হলো; এই বিষয়গুলো আবার আন্তর্জাতিক এজেন্ডার শীর্ষে উঠে আসবে,’’ মন্তব্য করেন জাতিসংঘের সাবেক উপ-মহাসচিব মার্ক মালক ব্রাউন। আমরা অত্যন্ত দুর্বল জাতিসংঘ নেতৃত্বের একটি সময়কাল থেকে বেরিয়ে আসছি এবং আমার মনে হয়, এটি হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপের একটি আহ্বান। পরিহাসের বিষয় হলো, বিশ্বকে শান্তির পথে নেতৃত্ব দেওয়ার ট্রাম্পের উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে; যখন অনেক রাজধানীতে গুতেরেসের উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। গুতেরেস এ বছরের শেষে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করবেন। একদিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন বলে একসময় মন্তব্য করেছিলেন যেই প্রেসিডেন্ট, তিনি ক্ষমতার শেষ বছরে এসে শিখেছেন; শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া। তবু আজ তিনি মধ্যপ্রাচ্যকে এমন এক অঞ্চল হিসেবে তুলে ধরেন, যেখানে এখন কেবল ছোটখাট সংঘাত চলছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইউক্রেনে একটি সমঝোতা খুব শিগগিরই আসছে। আর সম্ভাব্য প্রধান শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের নতুন ভূমিকায় ট্রাম্প দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি উচ্চস্বরে ঘোষণা করেন, এটি বিশ্বের জন্য। বিবিসি বাংলা

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
আইসিইর হাতে আটক শিশু। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর হাতে দুই বছরের শিশু আটক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনে কারচুপি হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসবে : হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

প্রতীকী ছবি ।

ইরানে হামলার আশঙ্কা, গণহারে ফ্লাইট বাতিল

ছবি : সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘নতুন জাতিসংঘ’ বানাতে চাইছেন: ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।  শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প এর মাধ্যমে আসলে একটি ‘নতুন জাতিসংঘ’ তৈরির চেষ্টা করছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের মতো প্রবীণ এই বামপন্থী নেতাও ট্রাম্পের এই নতুন সংস্থায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই সংস্থায় স্থায়ী সদস্যপদ পেতে হলে ১০০ কোটি ডলার গুণতে হবে এবং এর চেয়ারম্যান পদটি থাকবে খোদ ট্রাম্পের দখলে। লুলা বলেন, জাতিসংঘকে সংস্কার করার পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন এক নতুন জাতিসংঘ গড়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন যার মালিক হবেন তিনি নিজেই। গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এই ‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিকল্পনা উন্মোচন করেন ট্রাম্প। সেখানে ১৯টি দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা এই পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সনদে স্বাক্ষর করেন। লুলা বিশ্ব রাজনীতিতে পেশিশক্তির ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর জোর দেন। এই মন্তব্যের ঠিক এক দিন আগেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। সেই ফোনালাপে সি চিনপিং আন্তর্জাতিক বিষয়ে জাতিসংঘের ‘মূখ্য ভূমিকা’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুক্রবার তার বক্তব্যে লুলা আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মূল সনদকেই ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে গাজা পুনর্গঠনের তদারকি করার কথা থাকলেও, পরিষদের সনদ অনুযায়ী এর পরিধি কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি সরাসরি জাতিসংঘের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ফ্রান্স ও বৃটেনও এই পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এই পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করায় আপত্তি জানিয়েছে লন্ডন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তি তারা মেনে নিতে পারছে না। অন্যদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, এই পরিষদের বর্তমান সনদ তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরমুখী মার্কিন ‘নৌবহর’, ইরানের ওপর কড়া নজরদারি

ছবি : সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় কোকেন ল্যাবে বিস্ফোরণে নিহত ৯, আহত ৮

ছবি : সংগৃহীত

পানি-সামাজিক’ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এক বছর আগে এ প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।   এইচএইচএসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মতে ডব্লিউএইচও তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছে। সংস্থাটি সংস্কার ও জবাবদিহিতার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে তারা। কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচওর ভূমিকা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা রয়েছে। ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কোভিড-১৯-কে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা দিতে দেরি করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে ডব্লিউএইচও। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, চীনসহ অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওতে বেশি অনুদান দিয়ে আসছে। অথচ সংস্থাটির ইতিহাসে কখনো কোনো মার্কিন নাগরিক মহাপরিচালক হননি বলেও উল্লেখ করেন ওই কর্মকর্তা। নিয়ম অনুযায়ী, ডব্লিউএইচও ছাড়তে হলে এক বছর আগে সংস্থাকে জানাতে হয়। সেই অনুযায়ী গত বছর নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউএইচওকে বিষয়টি জানায়। ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত ১৩৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান এখনো বকেয়া রয়েছে। তবে এইচএইচএসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ডব্লিউএইচওর সংবিধান অনুযায়ী এই অর্থ পরিশোধে যুক্তরাষ্ট্র আইনগতভাবে বাধ্য নয় বলে মনে করে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওর বাইরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমে ভূমিকা রাখবে। এইচএইচএসের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের ৬৩টি দেশে তাদের দুই হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন। শতাধিক দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। রোগ পর্যবেক্ষণ, রোগনির্ণয় এবং প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এদিকে ডব্লিউএইচওর এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতে সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে আলোচনা হবে। পরিচালনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য তেল খাত খুলে দিচ্ছে ভেনেজুয়েলা

ছবি: সংগৃহীত

ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে তেলের ডিপোতে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী

0 Comments