বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) সদস্য দেশগুলো ভিসা সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিমসটেক সচিবালয়ে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ-ডিকাব সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন মহাসচিব।
ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেন, বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি ভিসা সহজীকরণ স্কিম চূড়ান্ত করার কথা ভাবছে, যেখানে বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে। যেহেতু এই স্কিমে কী কী অন্তর্ভুক্ত থাকবে সে বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখনও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তাই এই স্কিমে কী থাকতে পারে তা নিয়ে এখন কথা বলা আমার জন্য অনুচিত হবে।
মহাসচিব বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি বাণিজ্য, ভ্রমণ, পর্যটন এবং পারস্পরিক আদান-প্রদান হবে। গত বছর যখন ভিসা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দল বৈঠক করে, তখন তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমরা সদস্যদের মধ্যে ভিসা সহজীকরণের একটি স্কিম নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব।
তিনি বলেন, এখন তারা শেষ পর্যন্ত ঠিক কী ধরনের স্কিমে সম্মত হবেন, তা জানতে আমাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বিমসটেক দেশগুলোর বাণিজ্য বাড়ানোর নিয়ে মহাসচিব বলেন, আমরা বেশ আশাবাদী আগামী মাস ও বছরগুলোতে আমরা কিছু চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি দেখতে পাব। শুধু এটুকুই বলতে চাই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-এফটিএ’র অধীনে আলোচনা একটি জটিল প্রক্রিয়া। এমনকি যখন দ্বিপাক্ষিক এফটিএ নিয়ে আলোচনা হয়, তখনও অনেক সময় লেগে যায়।
সার্কের সঙ্গে বিমসটেকের তুলনার প্রশ্নে মহাসচিব বলেন, বিমসটেক ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে। এটি এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল যে, আমাদের একটি প্ল্যাটফর্ম দরকার যেখানে আমরা কৃষি এবং অর্থনৈতিক প্রকৃতি উভয় ক্ষেত্রেই সহযোগিতায় জড়িত হতে পারি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে দূরে রাখতে শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো মনে করে নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরের প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) মিলনায়তনে ‘অধিকতর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যেন তারা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তান মনে করেন। তাদের শুধু পাঠ্যজ্ঞান নয়, নৈতিক মূল্যবোধেও গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তরুণদের প্রসঙ্গে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, অনেক সময় তারা লেখাপড়া ছেড়ে মোবাইল ফোন ও মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন। আনন্দময় শিক্ষা ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি জানান, এ লক্ষ্যেই সারা দেশে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে প্রধানমন্ত্রী এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ খাতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে উন্নত প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিশুদের স্কুলমুখী করতে সরকার বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি মিডডে মিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন ছাড়া আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও থাকবে নজরদারিতে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী দিনে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও তাদের নজরদারির আওতায় আনা হবে। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থাপনা করেন।
মালদ্বীপের অনেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশে চিকিৎসা বিষয়ে লেখাপড়া করছেন। ময়মনসিংহ, সিলেট এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে তারা অধ্যয়ন করছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশিদ। তিনি বলেন, ‘‘মালদ্বীপের সেরা চিকিৎসক বাংলাদেশে তৈরি হয়।’’ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এবং জাতীয় দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয়ে পরিদর্শনে এসে ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ ও বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। শিউনীন রশিদ বলেন, ‘‘মালদ্বীপ শ্রমিক অভিবাসনের বাইরেও বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ করতে চায়। মালদ্বীপের অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে আরও অভিবাসী কর্মী নিয়োগ করার সুযোগ আছে।’’ ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে মানুষে মানুষে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং ব্যবসা, যোগাযোগ, শিক্ষা ও জলবায়ু কূটনীতির মাধ্যমে সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগ আছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ পর্যায়ের বিনিময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।’’ প্রসঙ্গত, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আহমেদ মুইজ্জু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এ বছরের শুরুতে ঢাকা সফর করেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী সপ্তাহে মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে যোগ দেবেন। হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেন যে, উচ্চ পর্যায়ের সফর, অব্যাহত বিনিময়, বাণিজ্য, পর্যটন, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি এবং জলবায়ু কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। তিনি বলেন, ‘‘প্রায় একলাখ বাংলাদেশি বর্তমানে মালদ্বীপে বসবাস এবং কাজ করেন— যা দ্বীপ রাষ্ট্রটির জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তাদের দেশের বৃহত্তম প্রবাসী সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে একটি।’’ ‘‘মালদ্বীপ সরকার অনথিভুক্ত অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়মিত করতে এবং বিদেশি-কর্মীদের আরও সঠিক ডাটাবেস তৈরি করতে দেশব্যাপী নিবন্ধন অভিযান চালাচ্ছে।’’ বাংলাদেশি শ্রমিকরা ঐতিহ্যগতভাবে নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতে নিয়োজিত থাকলেও হাইকমিশনার বলেন, ‘‘মালদ্বীপের অবকাঠামো ও পর্যটন উন্নয়ন অব্যাহত থাকায় নার্স, হিসাবরক্ষক এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞসহ দক্ষ পেশাদার কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।’’ দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান পর্যটনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ মালদ্বীপের জন্য ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ উৎস বাজারে পরিণত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে সরাসরি যোগাযোগ চালু হওয়ার পর থেকে উভয় দেশেই পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’’ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার করতে মালদ্বীপ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল, পর্যটন, আতিথেয়তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অবকাঠামোতে সুযোগ উন্মুক্ত করে দেশটির বিনিয়োগ কাঠামো সংশোধন করেছে বলেও জানান তিনি। হাইকমিশনার বলেন, ‘‘বর্তমানে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আকাশ পথের ওপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সরাসরি শিপিং লিংক নিয়ে উভয় দেশই আলোচনা করছে, যা লজিস্টিক খরচ কমাতে পারে এবং বাণিজ্যের উন্নতি করতে পারে।’’ হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুটি দেশ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ শক্তিশালী বৈশ্বিক জলবায়ু কর্মকাণ্ড এবং জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সমুদ্রের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ইতোমধ্যে মাছকে গভীর জলে ঠেলে দিয়ে টুনা মৎস্যকে প্রভাবিত করছে, যা জেলেদের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে তুলছে।’’ মালদ্বীপ নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে, সৌর শক্তিকে দেশের দীর্ঘমেয়াদী শক্তি সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেহেতু দেশটির দ্বীপগুলো ভারত মহাসাগর জড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং গভীর সমুদ্রের চ্যানেল দ্বারা পৃথক করা হয়েছে, বেশিরভাগ জনবহুল দ্বীপগুলো স্বাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালনা করে— যা দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংযোগকে প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং করে তোলে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অভ্যন্তরীণ সংস্কারের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে মালদ্বীপ ওয়ার্ক ও বিজনেস ভিসা আবেদনসহ অনেক সরকারি সেবা ডিজিটালাইজড করেছে।’’ তামাক পণ্যের বিষয়ে মালদ্বীপ সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘২০০৭ সালের ১ জানুয়ারির পর যাদের জন্ম তাদের কাছে সিগারেট কিংবা তামাক পণ্য বিক্রি করা নিষিদ্ধ।’’ হাইকমিশনার জানান, দুই দেশের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে কাজ প্রায় শেষের দিকে। তিনি আরও বলেন, ‘‘মালদ্বীপ বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিতে আগ্রহী।’’ প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, ‘‘সাংবাদিকতা আজ জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তৃত। পাঠকদের দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর বিশ্বের উন্নয়নের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ রয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের অভ্যাসের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক কভারেজ সম্প্রসারণ করেছে। পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আঞ্চলিক বোঝাপড়ার বিষয়টি প্রচারে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের গণমাধ্যমের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেছে।’’ রিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক কণ্ঠস্বরকে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।’’ বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম বলেন, ‘‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের গণমাধ্যম নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করতে পারে।’’ পরিদর্শনের অংশ হিসেবে হাইকমিশনার ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের নিউজ রুম ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত প্রিন্ট ও ডিজিটাল নিউজ কার্যক্রমের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত অবহিত করেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক এবং বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক। প্রতিকা দুটির কনটেন্ট তৈরিতে সাংবাদিক, সম্পাদক ও মাল্টিমিডিয়া টিম কীভাবে একযোগে কাজ করে, তা ব্যাখ্যা করেন তারা। এ সময় মালদ্বীপ হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব আহমেদ মাইশান, হাইকমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী ইকবাল জাহান নীলা এবং ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেছেন, শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না। শেখ হাসিনা কখনোই আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। তাকে দিল্লির ওই অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। তার লাশ ভারতও দিল্লির পানিতে ভাসিয়ে দেবে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে পিরোজপুর শহরে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভায় পিরোজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরোয়ার তুষার বলেন, এই বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আর আসা হবে না, তার জানাজা হবে না, তার কবর হবে না। একজন মুসলমানের সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় কলঙ্ক আর কিছু হতে পারে না। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, গণভোট নাকি তারাই আবিষ্কার করেছেন। এখন গণভোটের পক্ষে থাকা জনগণের ভোট নিজেদের দিকে নেওয়ার পর তিনি বলছেন, গণভোট অবৈধ। তিনি বলেন, গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে বিএনপি নামক দলটির গঠনও অবৈধ ছিল। গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে আপনারা যে সরকার গঠন করেছেন এবং ক্ষমতায় এসেছেন, সেটিও অবৈধ। সুতরাং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের ছাড় দেবে না। সরোয়ার তুষার আরও বলেন, জুলাই সনদ যেহেতু বাস্তবায়ন হচ্ছে না, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপি সরকারকে ভণ্ড ও প্রতারক সরকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হাসান জুনায়েদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. শামীম হামিদী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা এনসিপির সভাপতি হুমায়ুন কবির। সঞ্চালনা করেন জেলা সদস্যসচিব মাইনুল আহসান মুন্না।