জাতীয়

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ : প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে কেবল একটি পরিচালন ব্যয় হিসেবে না দেখে মানুষের জীবন, মূল্যবান সম্পদ এবং জাতীয় অগ্রগতি সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল শুধু দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয় নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, যাত্রীদের আস্থা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

 

আজ বুধবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬ (আইএফএসএস-২০২৬)-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের অপার সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিমানবন্দর, টার্মিনাল ও এয়ার নেভিগেশন ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।

 

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। একইসাথে জাতীয় বিমান সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

 

তিনি নিরাপত্তাকে কেবল নিয়ম মেনে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুদৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

 

এ বছরের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘টেকনোলজি, ট্রেনিং অ্যান্ড টিমওয়ার্ক: ক্রিয়েটিং আ ফিউচার-রেডি সেফটি মাইন্ডসেট.’ এই প্রতিপাদ্যের আলোকে ভবিষ্যৎ উপযোগী ফ্লাইট সেফটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, দলগত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

পাশাপাশি বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ এবং নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

সেমিনারে ২১টি দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তার বক্তব্যে বলেন, মানুষের জীবন ও মূল্যবান সম্পদের সুরক্ষা, অপারেশনাল প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নে ফ্লাইট সেফটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি প্রযুক্তির ক্রমাগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুদৃঢ় উড্ডয়ন নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা, পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

 

এছাড়া প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

 

সেমিনারে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

তিন দিনব্যাপী সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীরা ফ্লাইট সেফটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করেন। এতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, হিউম্যান ফ্যাক্টর, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানব-প্রযুক্তির সমন্বয়, দলগত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়।

 

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি চর্চা, উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

 

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ কেবল বর্তমানের প্রয়োজন মেটায় না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সমৃদ্ধ বিমান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করে। মানুষের জীবন ও জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও এ বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা, দক্ষতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য সেমিনারের মূল বার্তাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
২ লাখ ৪৫ হাজার যুবকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করল কেয়ার বাংলাদেশ

ইকোনমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন) প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ লাখ ৪৫ হাজার যুব নারী ও পুরুষের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও এর অংশীদার সংস্থাগুলো। বুধবার রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে (বিআইএম) আয়োজিত ‘ইয়ুথ অ্যান্ড এমপ্লয়ার্স মিট’-এ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে নেই (নিট) এমন যুবদের কারিগরি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সামাজিক-আবেগিক দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য তাদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়ানো। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আর্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ জন্য শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুবদের প্রয়োজনীয় দক্ষতায় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। যুবদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে তিনি , বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।  আর্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব কাজী মোকলেছুর রহমান বলেন, দক্ষতা প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে হবে কর্মসংস্থান ও আয়মুখী উদ্যোগ। যুবদের  দক্ষতা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ থেকে কর্মজগতে তাদের প্রবেশ সহজ করতে প্রকল্পটি কাজ করছে বলে জানান তিনি।  কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস বলেন, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রশিক্ষণকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে।  অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার।  তিনি বলেন, আর্ন শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; এটি যুবদের সম্ভাবনাকে টেকসই জীবিকার সুযোগে রূপান্তরের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি হিসেবে কাজ করবে। বিশ্বব্যাংকের ইমপ্লিমেন্টেশন স্পেশালিস্ট রওনক জাহান যুব নারীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানে যুব ও নিয়োগদাতারা একসঙ্গে দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যকার ব্যবধান নিয়ে আলোচনা করেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রয়োজন, তা তুলে ধরেন নিয়োগদাতারা। অন্যদিকে চাকরি খোঁজা, কর্মজীবনে প্রবেশ এবং ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের কথা জানান যুব অংশগ্রহণকারীরা। ‘ইয়ুথ টেক দ্য মাইক’, ‘এমপ্লয়ার্স কনভারসেশন’ ও ‘ইয়ুথ ক্যাফে’সহ বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক পর্ব ও প্যানেল আলোচনায় প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার সহায়তা এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে আরও কার্যকর সংযোগ কীভাবে যুবদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন যুব প্রতিনিধি ও অংশগ্রহণকারীরা। আর্ন প্রকল্পটি কেয়ার বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করছে তার যৌথ অংশীদার সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি), দ্য আর্থ সোসাইটি, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও), জাগো ফাউন্ডেশন, মিরপুর অ্যাগ্রিকালচারাল ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং স্কুল (এমএডব্লিউটিএস), তাহজিংডং, আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেপ) বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সঙ্গে। প্রকল্পটি রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস্তবায়িত হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর–প্রোগ্রামস এমেবেট মেন্না; কেয়ার ইউএসএ-এর সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার, ইয়ুথ স্কিলিং সারা জনসন; কেয়ার বাংলাদেশের ডিরেক্টর–কোঅর্ডিনেশন অ্যান্ড পার্টনারশিপ আমানুর রহমান; প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী; ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মুর্তজা আলী; মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী; এবং ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. কাওসার উদ্দিন চৌধুরী।  ফটো ক্যাপশন : আর্ন প্রকল্পের আওতায় কেয়ার বাংলাদেশ ও অংশীদার সংস্থাগুলোর যুব দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই।

বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেশ: জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক ও আইনি জবাবদিহি করতে হবে সরকারকে: মঞ্জু

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা নাহিদের, এককভাবে লড়বে এনসিপি

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ : প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে কেবল একটি পরিচালন ব্যয় হিসেবে না দেখে মানুষের জীবন, মূল্যবান সম্পদ এবং জাতীয় অগ্রগতি সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।   তিনি বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল শুধু দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয় নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, যাত্রীদের আস্থা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।   আজ বুধবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬ (আইএফএসএস-২০২৬)-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের অপার সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বিমানবন্দর, টার্মিনাল ও এয়ার নেভিগেশন ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।   তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। একইসাথে জাতীয় বিমান সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।   তিনি নিরাপত্তাকে কেবল নিয়ম মেনে চলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুদৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।   এ বছরের সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘টেকনোলজি, ট্রেনিং অ্যান্ড টিমওয়ার্ক: ক্রিয়েটিং আ ফিউচার-রেডি সেফটি মাইন্ডসেট.’ এই প্রতিপাদ্যের আলোকে ভবিষ্যৎ উপযোগী ফ্লাইট সেফটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, দলগত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।   পাশাপাশি বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ এবং নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   সেমিনারে ২১টি দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।   বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তার বক্তব্যে বলেন, মানুষের জীবন ও মূল্যবান সম্পদের সুরক্ষা, অপারেশনাল প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নে ফ্লাইট সেফটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তিনি প্রযুক্তির ক্রমাগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুদৃঢ় উড্ডয়ন নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা, পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।   উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।   এছাড়া প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।   সেমিনারে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।   তিন দিনব্যাপী সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীরা ফ্লাইট সেফটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করেন। এতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, হিউম্যান ফ্যাক্টর, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানব-প্রযুক্তির সমন্বয়, দলগত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়।   পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি চর্চা, উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।   সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ কেবল বর্তমানের প্রয়োজন মেটায় না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সমৃদ্ধ বিমান চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করে। মানুষের জীবন ও জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও এ বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা, দক্ষতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য সেমিনারের মূল বার্তাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৮, ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

ইনডেমনিটি আইন করে বিদ্যুৎ খাতে নয়-ছয় করেছে আওয়ামী লীগ সরকার : রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কর্মমুখী শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পাঁচ অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগ করতে জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।   আজ টোকিওতে স্থানীয় সময় বিকেলে জেট্রো হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমি জাপানি কোম্পানিগুলোকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’   উল্লেখ্য, খাতগুলো হলো মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেলপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্প।   দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানির কার্যক্রম চলছে। তবে বাংলাদেশে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কম।’   তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।’   উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দু’দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা নিয়ে কথা বলতে চাই।   দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল জাপান। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।   তিনি তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁরা একাধিকবার জাপান সফর করেছেন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভূমিকা রেখেছেন।   তারেক রহমান বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এটিই প্রথম এ ধরনের চুক্তি।   এর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে।   বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, ২৭ বছরের মধ্যম বয়সের উদ্যমী তরুণ শ্রমশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।   মোটরযান উৎপাদনকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে টয়োটা বাংলাদেশে একটি যানবাহন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।   ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে টয়োটাকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।   জ্বালানি খাতে তিনি জাপানি কোম্পানিগুলোকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।   জাপানি কোম্পানিগুলো এসব পরিকল্পনার আওতায় বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে। এ খাতে বাংলাদেশ জেরা (JERA)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। এতে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকেন্দ্রিক একটি উদ্ভাবনমুখী তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   তিনি বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ তার মহাকাশবিষয়ক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চায়। এ ক্ষেত্রে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ আগ্রহী।   রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরেকটি অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের প্রধান শহরগুলোকে সংযুক্ত করে দেশব্যাপী উড়ালপথে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।   এ উদ্যোগের জন্য জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ, রুটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও বিনিয়োগ সহায়তাকে স্বাগত জানান তিনি।   কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ফসল, ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদিত হয়। জাপানি কোম্পানিগুলো দেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে।   এ ছাড়া, আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।   সুমিতোমো করপোরেশন জাপানি মানদণ্ড অনুসরণ করে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তুলছে।   জাপানি কোম্পানিগুলোর উত্থাপিত উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ছাড় ও করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।   তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের উদ্বেগের কথা শুনেছি। এসব সমস্যার সমাধান এবং আরও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি, ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন আস্থা। এই দুটো নিশ্চিত করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব।’   দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং মূল্যবান দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য জাপানে আসেন। পরে দেশে ফিরে তাঁরা অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগান।   তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা শেখানোকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি লাখ লাখ তরুণকে জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা বাংলাদেশ ও জাপান—উভয় দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।   তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার সময় জাপান আমাদের পাশে ছিল। এখন আমরা আপনাদের আমাদের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তর করি। আমাদের জনগণের জন্য পারস্পরিক সুযোগ সৃষ্টি ও উভয় দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করি।’   বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা (জেট্রো) ও জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।   এতে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।   অনুষ্ঠানে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিনজি ওয়াকায়ামা।   এ সময় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় এবং বিনিয়োগ ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়।   বাংলাদেশে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহজতর করতে গৃহীত সংস্কার ও নতুন উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ।   মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের ঢাকা শাখার শাখা মহাব্যবস্থাপক ও কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনিচিরো কাওয়ামোতো ‘টুগেদার ফর আ ব্রাইটার বাংলাদেশ’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেন।   এ ছাড়া, ওয়াইকেকে কপোরেশনের গ্লোবাল সেলস হেডকোয়ার্টার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেইসুকে আরাতানি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রযাত্রা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।   অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক খাত নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৮, ২০২৬

গুলিস্তান-সদরঘাট ফুটপাত থেকে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার হাতিয়ার করা যাবে না : ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার হাতিয়ার করা যাবে না : ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

0 Comments