সর্বশেষ

বিএটির ৩০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) কম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রায় ৩০ বিলিয়ন ইউএস ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে যৌথ মূলধন কম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের নিবন্ধক ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে রেকর্ডপত্র চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. সাজিদ-উর-রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে রেকর্ডপত্রের ফটোকপি আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

 

গত ২১ মে যৌথ মূলধনী কম্পানিতে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠায় দুদক। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেডের (সাবেক পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেড, যা বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ) বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান।

 

অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেডের নামে যৌথ মূলধন কম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে যে কম্পানি বা ফার্ম নিবন্ধন করা হয়েছে, তার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহপূর্বক পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেড, পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানি লি. ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কম্পানির নিবন্ধন সম্পর্কিত রেকর্ডপত্রসহ অনুমোদিত মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন এবং আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনসহ কম্পানি ও কম্পানির মালিকানা, নিবন্ধিত অফিস, ফ্যাক্টরির তালিকা, সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন নং ও তারিখ, অথরাইজড ক্যাপিটাল, পেইড-আপ ক্যাপিটাল, শেয়ারসংখ্যা, পরিচালকবৃন্দ, পরিচালকদের সম্মতিপত্র, ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্রের ফটোকপি পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। এ ছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাধীনতাযুদ্ধের পর পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেডের বাংলাদেশ অংশের বাংলাদেশ টোব্যাকো লিমিটেডের ঢাকা ও চট্টগ্রাম ফ্যাক্টরির মালিকানা কিভাবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ পেল এসংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ডপত্রের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।

 

জানতে চাইলে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ১ জানুয়ারি এই অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

 

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর এই কম্পানির মালিক হওয়ার কথা বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু কিভাবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এই কম্পানির মালিক হলো তা জানতে হবে। কম্পানিটির মালিকানা বাংলাদেশের থাকলে স্বাভাবিকভাবে লভ্যাংশও বাংলাদেশেই থাকার কথা। লভ্যাংশ হিসেবে যে পরিমাণ টাকা বিদেশে নেওয়া হয়েছে তা হতো না। কোনো জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে কম্পানিটি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর মালিকানায় নেওয়া হয়ে থাকলে লভ্যাংশ হিসেবে এ পর্যন্ত যে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা আইন অনুসারে পাচার হিসেবে গণ্য হবে।

 

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানি লিমিটেড (পিটিসি) একটি ব্রিটিশ মালিকানাধীন সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৪৭ সালে করাচিতে তাদের প্রথম কারখানা স্থাপন করে। এরপর ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামে আরেকটি কারখানা স্থাপন করা হয়। ১৯৫৬ সালে করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে কম্পানিটি নিবন্ধিত হয়। ১৯৬৫ সালে ঢাকায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আরো একটি কারখানা স্থাপন করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কারখানা এবং তাদের কার্যক্রমকে পিটিসি পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ১৯৭২, ১৯৭৩ এবং ১৯৭৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া রিপোর্টে পিটিসি উল্লেখ করে, তারা বাংলাদেশের কাছে তাদের দুটি কারখানা হারিয়েছে এবং এ কারণে পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার ও কর কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার তাদের কর-সুবিধ (ট্যাক্স রিলিফ) প্রদান করে এবং পিটিসি ক্ষতিপূরণ আদায় করে। তারা দাবি করে, পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত কারখানাগুলো হারিয়ে গেছে এবং সেগুলো আর তাদের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এবং আইন অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত পিটিসির মালিকানাধীন ওই দুটি কারখানা, যা বর্তমানে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত, পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয় এবং আইনগতভাবে ১০০ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় পরিণত হয়।

 

অভিযোগে বলা হয়, সাবেক পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানির তৎকালীন ফাইন্যান্স ম্যানেজার (পরবর্তী সময়ে উপ-প্রধানমন্ত্রী) জামালউদ্দিন আহমেদ কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশ করে জাল নথিপত্র তৈরি করেন। পরে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট-স্টক কম্পানির কাছে বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানিকে নিবন্ধিত করান, যেখানে প্রতিষ্ঠানটিকে পাকিস্তানের পরিবর্তে বাংলাদেশের কম্পানি হিসেবে দেখানো হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর মালিকানাধীন হিসেবেই পরিচালিত হতে থাকে। জয়েন্ট-স্টক কম্পানির তৎকালীন রেজিস্ট্রার (নাম মোহাম্মদ আলী) ছিলেন একজন সৎ ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। তিনি তখন গুলিস্তানে অবস্থিত জয়েন্ট-স্টক অফিসে কর্মরত অবস্থায় এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন। এতে তাঁর চাকরি হারানোর উপক্রম হয়। মন্ত্রী ও কয়েকজন দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তার চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি ওই জাল নথিপত্র গ্রহণ করতে বাধ্য হন। দুটি কারখানাকে বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানির সম্পত্তি হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশে নিবন্ধিত করা হয়, যার সর্বাধিক শেয়ার বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানির মালিকানাধীন ছিল।

 

অভিযোগে আরো বলা হয়, গত ৫৫ বছরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। যদিও কারখানাগুলো আইনগতভাবে ১০০ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের অবৈধ কার্যক্রম, কর ফাঁকি ও ভ্যাট ফাঁকির বিষয়গুলো গোপন রাখতে বাংলাদেশ টোব্যাকো কম্পানি তিন দশক ধরে সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তা ও সচিবদের পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ দিয়ে এসেছে এবং লাভজনক এজেন্সি ব্যবসার মাধ্যমে রাজনীতিবিদদেরও সুবিধা দিয়েছে।

 

অভিযোগে আরো বলা হয়, ঢাকায় রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট-স্টক কম্পানিজের কাছে সংরক্ষিত সব নথিপত্র এবং ইসলামাবাদ ও করাচিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে করাচির নথিপত্র যাচাই করা হলে, বিশেষ করে ১৯৭২-৭৫ সময়কালের পাকিস্তান টোব্যাকো কম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সাইবার হামলার সতর্কতায় দ্বিতীয় দিনও বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ওয়েবসাইটের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট এখনো চালু করা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।   তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।   শুক্রবার রাত ৮টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি ব্যবহারকারীদের জন্য অপ্রবেশযোগ্য ছিল। ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত একটি বার্তা দেখা যায়।   এতে বলা হয়, সেবাটি বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় রয়েছে এবং শিগগিরই আবার চালু করা হবে।   বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি-তে শনাক্ত হওয়া গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এসেছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ত্রুটি শনাক্ত করে। এ পরিস্থিতিতে সরকারও বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অতীতেও বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।   ২০১৬ সালে হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয়। ওই ঘটনার পর তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন।   এর আগে ২০২৩ সালে সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবেলায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ওয়েবভিত্তিক সেবা ৩৬ ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

মানবতার সেবায় পথশিশুদের পাঠদান থেকে বৈশ্বিক অঙ্গনে মাস্তুল ফাউন্ডেশন

২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: মিশনের উদ্যোগ পর্যালোচনার দাবি মানবাধিকার ফোরামের

ছবি: সংগৃহীত

হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে প্রাণ গেল ৩ পর্যটকের, নিখোঁজ আরও ২

ছবি: সংগৃহীত
সাজেকে ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, পর্যটকদের এলাকা ছাড়ার অনুরোধ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। আগামী ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ২১ অক্টোবরের মধ্যে পর্যটনকেন্দ্রটি ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।   বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।   বিবৃতিতে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাঘাইহাট ও মাচলং বাজারের পূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে পুনরায় অবরোধ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।   এর আগে গত ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। ওই দিন বিকেলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে ১৫ অক্টোবর আবারও অবরোধ শুরু করে তারা। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।   সর্বশেষ বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। তাঁদের দাবি, ওই গোষ্ঠীর কোম্পানি কমান্ডার চিনু মারমা ও সাইমন চাকমার নেতৃত্বে মাচলং এলাকার থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িতে প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চলছে।   বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সশস্ত্র সদস্যরা শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছেন এবং গ্রামবাসীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে জুমচাষিরা জুমে গিয়ে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করতে পারছেন না বলেও দাবি করা হয়।   সংগঠন দুটির নেতারা জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষায় সশস্ত্র সদস্যদের সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।   এর আগে অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রীজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হাটের দিনেও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যায়। পরিবহন সংকটে জুমের ফসল বিক্রি করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েন স্থানীয় কৃষকেরা। অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আগের অবরোধের সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাজেক ইউনিয়নের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।   অবরোধের মধ্যে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় গাড়িবহর চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা গাড়িবহর আটকে দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার পর পর্যটকবাহী গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।   এ পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে ১৫ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তবে নতুন করে অবরোধের ঘোষণায় সাজেকের সড়ক যোগাযোগ ও পর্যটন কার্যক্রম আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।   বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অবরোধের আওতার বাইরে থাকবে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও মরদেহবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের যানবাহন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ড: ময়নাতদন্তে মাথা থেকে বের হলো গুলি

ছবি: সংগৃহীত

ইশরাকের পদত্যাগে তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের প্রশংসা সাবেক মার্কিন উপ-রাষ্ট্রদূতের

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

আলজেরিয়া দূতাবাস
ঢাকায় ১৯৬১ সালের প্যারিস গণহত্যার ৬৫তম বার্ষিকী পালন করল আলজেরিয়া দূতাবাস

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা: আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে পরিচিত ১৯৬১ সালের ১৭ অক্টোবর প্যারিসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ৬৫তম বার্ষিকী পালন করেছে ঢাকায় অবস্থিত আলজেরিয়া দূতাবাস।   শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে একটি স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   অনুষ্ঠানে দূতাবাসের শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে আলজেরিয়ার সংগ্রাম চলাকালে প্যারিসে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে এ আয়োজন করা হয়। ২০২১ সাল থেকে ১৭ অক্টোবর আলজেরিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় অভিবাসন দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।   ঔপনিবেশিক ইতিহাসের বেদনাবিধুর অধ্যায়   ১৯৬১ সালের প্যারিস হত্যাকাণ্ড আলজেরিয়ার জাতীয় স্মৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ওই বছরের ১৭ অক্টোবর প্যারিসে বসবাসরত আলজেরীয়রা ফরাসি কর্তৃপক্ষের আরোপিত বৈষম্যমূলক কারফিউয়ের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেন। আলজেরিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আলজেরীয়দের লক্ষ্য করে ওই কারফিউ জারি করা হয়েছিল।   বিক্ষোভে ফরাসি পুলিশ কঠোর দমন-পীড়ন চালায়। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন এবং বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।   হত্যাকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে এখনো মতভেদ রয়েছে। তবে ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসন ও আলজেরিয়ার স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে ঘটনাটি অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ঔপনিবেশিক শাসন, মানবাধিকার, ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে আলোচনায় এ ঘটনার তাৎপর্য আজও গুরুত্বপূর্ণ।   দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৬২ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে আলজেরিয়া। ১৯৫৪ সালে শুরু হওয়া ওই যুদ্ধে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ১৭ অক্টোবরের মর্মান্তিক ঘটনা স্বাধীনতার সংগ্রামে আলজেরীয় জনগণের আত্মত্যাগ এবং জাতীয় মুক্তির জন্য তাঁদের বহন করা অপরিসীম মানবিক মূল্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।   প্রবাসী আলজেরীয়দের অবদানের স্বীকৃতি   জাতীয় অভিবাসন দিবস পালনের মাধ্যমে বিদেশে বসবাসরত আলজেরীয় নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে স্বীকৃতি দেয় দেশটি। একই সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত আলজেরীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়।   ঢাকায় আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানটি ১৯৬১ সালের হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করার পাশাপাশি ঘটনাটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য অনুধাবনের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।   অতীতের স্মৃতি থেকে ভবিষ্যতের দিগন্তে   অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ডঃ আব্দেলওয়াহাব সাঈদানী। তিনি উপস্থিত অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান এবং স্মরণানুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৬ সালের আয়োজনের আনুষ্ঠানিক স্লোগান—‘অতীতের গভীর স্মৃতি থেকে ভবিষ্যতের দিগন্তে’। এ স্লোগান অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা ঐতিহাসিক ক্ষতকে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে মোকাবিলার মাধ্যমে অতীতের স্মৃতিকে ভবিষ্যতের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত করার বার্তা এতে প্রতিফলিত হয়েছে।   বক্তব্যের শেষে স্মরণানুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত। ১৯৬১ সালের ১৭ অক্টোবর প্যারিসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বিশিষ্ট অতিথিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।   সত্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বাধীনতার প্রতি তাঁর স্বদেশের নাগরিকদের অবিচল অঙ্গীকার শহীদদের স্মৃতি কখনো বিস্মৃত হতে দেবে না। এ আয়োজন বাস্তবায়নে নেপথ্যে নিরলস পরিশ্রমের জন্য দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬

৩০০ মিলিয়ন ডলারে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ‘এভিয়েশন হাব’ হবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর

ছবি: সংগৃহীত

ইনানীর রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কের বাজারেও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে বাংলাদেশের পোশাক

0 Comments