চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পিএলসি’র আয়োজনে আজ চট্টগ্রামস্থ সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ‘বিএসইসি (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫ : এর প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, সম্ভাবনাময় এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের(বিএসইসি) অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. মো. ইকবাল হোসেইন, ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এ মামুন এবং সিনিয়র ম্যানেজার মো. খালেদ হাসান, সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান এবং সিএসই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, বিএসইসির পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলসে সাম্প্রতিক বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, যেগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা এবং উপযুক্ত প্রয়োগ করার জন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠান এবং যেসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারের সাথে ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জানা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই যদিও ঢাকা কেন্দ্রিক, তবুও আপনাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হবেন।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নতুন আইন অনুযায়ী সব ধরনের রিকোয়ারমেন্টস পূর্ণ করলে দ্রুততম সময়ে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির উৎস হচ্ছে পুঁজিবাজার। তাই প্রতিষ্ঠানসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করানোর জন্য আরও আন্তরিক চেষ্টা করতে হবে, তা না হলে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো যে সংকটের মধ্যে রয়েছে তার আরও অবনতি হবে। আমরা আশা করবো, সবার সমন্বিত প্রয়াসে নতুন পাবলিক ইস্যু রুলসের মাধ্যমে আমরা ভালো ফান্ডামেন্টাল কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে আনতে পারবো।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. মো. ইকবাল হোসেইন।
উপস্থাপনায় তিনি নতুন আইনের প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো সকলের সামনে সহজভাবে তুলে ধরেন এবং পূর্বোক্ত আইনের সাথে নতুন আইনের মূল পার্থক্য ও সুবিধাদি তুলে ধরেন।
কর্মশালায় ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এ মামুন ও সিনিয়র ম্যানেজার মো. খালেদ হাসান যৌথভাবে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তারা তাদের উপস্থাপনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ফলে কোম্পানিগুলো যে সুবিধাদি অর্জন করবে, সে বিষয়ে এবং তালিকাভুক্তির ব্যাপারে ইস্যু ম্যানেজারদের সার্বিক সহযোগিতার ভূমিকা উল্লেখ করেন।
চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান বলেন, আজকের কর্মশালাটি সকলের জন্য এজন্য প্রয়োজন যে, কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, সেটি কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়, সেটা জানা থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে মূল্যায়ন করা সহজ হয় ও একই সাথে বিনিয়োগ নিরাপদ হয়।
তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্তির পদ্ধতি সম্পর্কে সম্প্রতি যে পরিবর্তন এসেছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি হলো কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির অনুমোদন স্টক এক্সচেঞ্জসমূহ দিতে পারবে। সিএসইর তালিকাভুক্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত দক্ষ টিম আপনাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সকলের মতে, পুঁজিবাজারে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার সঠিক প্রক্রিয়া জানা না থাকলে প্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, এমনকি তালিকাভুক্তির আবেদনও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সঠিকভাবে প্রক্রিয়াগুলো জেনে তারপর যদি তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানি নির্বাচন করা যায়, তাহলে প্রক্রিয়াটি যেমন সহজ ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে, একই সাথে পুঁজিবাজার ও সংশ্লিষ্ট সকলে এর সুফল পাবেন।
সকলের উপস্থাপনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পিএলসি’র আয়োজনে আজ চট্টগ্রামস্থ সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে ‘বিএসইসি (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫ : এর প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, সম্ভাবনাময় এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের(বিএসইসি) অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. মো. ইকবাল হোসেইন, ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এ মামুন এবং সিনিয়র ম্যানেজার মো. খালেদ হাসান, সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার, চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান এবং সিএসই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, বিএসইসির পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলসে সাম্প্রতিক বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, যেগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা এবং উপযুক্ত প্রয়োগ করার জন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠান এবং যেসব প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারের সাথে ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জানা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই যদিও ঢাকা কেন্দ্রিক, তবুও আপনাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হবেন। তিনি আরও বলেন, এই আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নতুন আইন অনুযায়ী সব ধরনের রিকোয়ারমেন্টস পূর্ণ করলে দ্রুততম সময়ে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির উৎস হচ্ছে পুঁজিবাজার। তাই প্রতিষ্ঠানসমূহকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করানোর জন্য আরও আন্তরিক চেষ্টা করতে হবে, তা না হলে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো যে সংকটের মধ্যে রয়েছে তার আরও অবনতি হবে। আমরা আশা করবো, সবার সমন্বিত প্রয়াসে নতুন পাবলিক ইস্যু রুলসের মাধ্যমে আমরা ভালো ফান্ডামেন্টাল কোম্পানিসমূহকে পুঁজিবাজারে আনতে পারবো। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ড. মো. ইকবাল হোসেইন। উপস্থাপনায় তিনি নতুন আইনের প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো সকলের সামনে সহজভাবে তুলে ধরেন এবং পূর্বোক্ত আইনের সাথে নতুন আইনের মূল পার্থক্য ও সুবিধাদি তুলে ধরেন। কর্মশালায় ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এইচ এ মামুন ও সিনিয়র ম্যানেজার মো. খালেদ হাসান যৌথভাবে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। তারা তাদের উপস্থাপনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ফলে কোম্পানিগুলো যে সুবিধাদি অর্জন করবে, সে বিষয়ে এবং তালিকাভুক্তির ব্যাপারে ইস্যু ম্যানেজারদের সার্বিক সহযোগিতার ভূমিকা উল্লেখ করেন। চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ মাহাদি হাসান বলেন, আজকের কর্মশালাটি সকলের জন্য এজন্য প্রয়োজন যে, কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, সেটি কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়, সেটা জানা থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে মূল্যায়ন করা সহজ হয় ও একই সাথে বিনিয়োগ নিরাপদ হয়। তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্তির পদ্ধতি সম্পর্কে সম্প্রতি যে পরিবর্তন এসেছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি হলো কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির অনুমোদন স্টক এক্সচেঞ্জসমূহ দিতে পারবে। সিএসইর তালিকাভুক্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত দক্ষ টিম আপনাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকলের মতে, পুঁজিবাজারে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার সঠিক প্রক্রিয়া জানা না থাকলে প্রতিষ্ঠান এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, এমনকি তালিকাভুক্তির আবেদনও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সঠিকভাবে প্রক্রিয়াগুলো জেনে তারপর যদি তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানি নির্বাচন করা যায়, তাহলে প্রক্রিয়াটি যেমন সহজ ও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে, একই সাথে পুঁজিবাজার ও সংশ্লিষ্ট সকলে এর সুফল পাবেন। সকলের উপস্থাপনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম টেক্সটাইল সোর্সিং ইভেন্ট ‘টেক্সওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক ২০২৬’-এ ১৫টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। আগামী ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কের জাভিটস কনভেনশন সেন্টারে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। ইভেন্টটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে টেকসই কাপড়, ক্যাসুয়াল কটন, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, নিটওয়্যার ও লেইসের মতো পণ্য প্রদর্শন করা হবে। মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও টেক্সওয়ার্ল্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের শত শত ফেব্রিক ও অ্যাপারেল সরবরাহকারী অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সহায়তায় দেশের ১৪টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গোল্ডেন টেক্স, ব্লু অ্যাপারেল, হেরা সোয়েটার্স, পিএম সোর্সিং, এক্সকম ফ্যাশন, এবি অ্যাপারেলস ও ডিজাইন সোর্সিং ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন। এছাড়া প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসাবে স্বীকৃত। টেক্সওয়ার্ল্ডের মতো প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি নির্মাতারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, বাজার সম্প্রসারণ এবং টেকসই সোর্সিং ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমানের কাপড়, পরিবেশবান্ধব উপকরণ এবং আধুনিক ডিজাইনের পোশাক প্রদর্শনের পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে তাদের অবদান তুলে ধরবে।
সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা করে কমানো হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের এই নতুন দাম ঘোষণা করেছে সরকার। ২ টাকা করে কমে এখন থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১০২ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১২২ টাকা ও পেট্রোল ১১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা গেজেট অনুযায়ী, নতুন এই দাম ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।